বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে ব্যাপক লোকসমাগম দেখা গেছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
রোববার (১২ এপ্রিল) এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিনতে মুস্তাফা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘নববর্ষের দিন বিকেল ৫টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ পুনরায় বন্ধ থাকবে। এ সময়ে বহিরাগতরা ক্যাম্পাস থেকে শুধু বের হতে পারবেন, প্রবেশ করতে পারবে না। এ নির্দেশনা রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।’
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকেল ৫টার পর বহিরাগতরা শাহবাগ দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছে। ফলে বিকেল ৫টার পরও ক্যাম্পাসে ব্যাপক লোকসমাগম চোখে পড়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ফুয়াদ ইসলাম বলেন, আজ ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক ভিড়। আমার টিউশনে যেতে অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাছাড়া বহিরাগতরা ক্যাম্পাসের যেখানে-সেখানে ময়লা-আর্বজনা ফেলে ক্যাম্পাসের পরিবেশও নষ্ট করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমাদের সিডিউল হলো ১২টার পর আমাদের টিম আর থাকবে না। ১২টার পর পুলিশ টেকওভার করবে। আমাদের টিম আবার ৫টায় যাবে। ১২টার পর পুলিশ আসেনি। বিকেল ৫টায় পুলিশ আসেনি। আমি একটু আগে মেসেজ দিয়েছি। এখন তারা না আসলে আমাদের জন্য সমস্যা।’
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘গতকাল রাত ২টা পযর্ন্ত আমরা ছিলাম। ২টার পর পুলিশ আসার কথা থাকলেও তারা আসেনি। আমরা কাজগুলো করে থাকি পুলিশ এবং ভলেন্টিয়ারদের সহযোগিতায়। কিন্তু ১২টার পর পুলিশদের আসতে দেখা যাইনি। তারা বলেছে, ফোর্স পাঠিয়েছি। চেকপোস্টগুলো যথারীতি ছিল। কিন্তু পুলিশের কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। আমি জানতে পেরেছি, সোহরাওয়ার্দী ও রমনার প্রবেশপথগুলো দিয়ে বহিরাগতদের ঢুকতে দেওয়া হবে না। ওখানে যেহেতু পুলিশ আটকাচ্ছে না, তাই শুধু আমাদের দ্বারা এই ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না।’
বহিরাগতদের প্রবেশে পুলিশ অসহযোগিতা করেছে বলে জানান প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ সার্বজনীন উৎসব। এ দিনে সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে। এটা নতুন কোনো বিষয় নয়। এ দিনে তরুণ-তরুণীরা ক্যাম্পাসে আসে। এদের বহিরাগত বলা ঠিক নয়। আমাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কথা হয়েছে। আমাদের লোকজন ভোর ৪টা থেকে কাজ করে যাচ্ছে। সন্ধ্যার দিকে তারা একটু ক্লান্ত হয়ে গেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই আছি। এই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের দিনে স্বাভাবিকভাবে টিউশন বন্ধ থাকে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছি।’




