জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ১১টা ৪০ মিনিটে তিনি রাজু ভাস্কর্যে সামনে যান এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকারসহ প্রশাসনের আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনশনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, আমি এখানে তোমাদের অভিভাবক হিসেবে এসেছি, সরকারের কেউ হিসেবে নয়। তোমাদের এই মেসেজগুলো আমি সরকারের কাছে পৌঁছে দেব। তবে আমি আবারও বলছি, এটি একটি রাজনৈতিক ইস্যু এবং এর ফয়সালা সংসদে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গনে নয়।
তিনি বলেন, আমার শিক্ষার্থীরা অসুস্থ থাকুক, সেটা আমি চাই না। তাই আমি তাদের দেখভাল করতে এসেছি এবং গতকাল ডাক্তারও পাঠিয়েছিলাম। আমি আশা করি আমার শিক্ষার্থীরা অনশন ভেঙে আমার সঙ্গে বাসায় ফিরে যাবে।
অনশনকারী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘স্যার, আমি আপনার বক্তব্য বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করছি। কারণ আপনি এটাকে রাজনৈতিক ইস্যু বলছেন, কিন্তু এটি একটি গণমানুষের দাবি। আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি। এটি মানবাধিকারের ইস্যু। আপনি আপনার নৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে আমাদের সাথে বসে থাকুন এবং সরকারকে জানান, যাতে এগুলো বাস্তবায়ন করা হয়। আপনি চলে যাবেন না।’
অনশনস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং তাদের দাবিগুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দেবেন।
উপাচার্য চলে যাওয়ার পর রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মুনেম। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৫৭-৫৮ ঘণ্টা ধরে অনশন করছি। এত সময় পর উপাচার্য ক্যাম্পাসে এলেন। তিনি আমাদের বাবার মতো, কিন্তু তিনি এখানে মাত্র দুই-তিন মিনিট অপেক্ষা করে চলে গেলেন। উনার অ্যাপ্রোচ দেখে মনে হয়েছে উনি আমাদের মৃত্যু কামনা করতে এসেছেন। উনি আমাদের দাবির প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না এবং বারবার এটাকে রাজনৈতিক দাবি বলে এড়িয়ে গেছেন।’
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রথম অনশনে বসেন ঢাবি শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম। পরে তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে অনশনে বসেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান।




