ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ডিআরইউতে সন্ত্রাসী জাকির গংদের হামলা, আহত একাধিক সাংবাদিক

কালবেলা প্রতিবেদক

  ২২ মে ২০২৫, ০৩:৩২
ছবি : সংগৃহীত

পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র, ও লাঠিসোঁটা নিয়ে রাতের আঁধারে অতর্কিতভাবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) হামলা চালিয়েছে দখলবাজ আওয়ামী দোসর সন্ত্রাসী জাকির হোসেন ও তার অনুসারীরা।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এই সময় ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, সদস্য মশিউর রহমান, মাহবুব হাসান, দেলোয়ার মহিন, মফিজুল সাদিকসহ বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বুধবার (২১ মে) রাতে হঠাৎ করে রাতে এই হামলা চালানো হয়।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সেগুনবাগিচায় ডিআরইউ কার্যালয়ের সামনে থেকে চেয়ারম্যান টি স্টল নামে একটি দোকানের মালামাল তারা লুট করে নিয়ে যায়। ৫০ হাজার টাকার মালামালসহ দোকানটি গায়েব করে দেয় জাকির হোসেন গং।

দোকান লুটের বিষয়ে ডিআরইউ-এর সিনিয়র সদস্য মশিউর রহমান জানতে চাইলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার উপর আক্রমণ চালানো হয়। ডিআরইউ-এর সভাপতি এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সদস্যদের শরীরে হাত তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআরইউ-এর সভাপতির শরীরে হাত তোলা হয়।

শুধু সভাপতি নয় এতে বেশ কিছু সাংবাদিক নেতা-সদস্য আহত হয়েছেন। জাকির ও জাকিরের স্ত্রী, কন্যা, ভাগনেসহ শতাধিক লোকজন সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়।

হামলা প্রসঙ্গে ডিআরইউ সভাপতি বলেন, জাকিরের অনুসারীরা হঠাৎ করেই আমাদের উপর হামলা করেছে। এর আগে একটা দোকান লুট করে নেয়া হয়েছে। গরিব মানুষের একটা দোকান যেটা লুট করা কাম্য হয়নি।

বিষয়টি জানতে চাইলে আমাদের সদস্যদের উপর হামলা চালানো হয়। সদস্যদের উপরে হামলা চালিয়ে তারা ক্ষান্ত হয়নি। পরে ডিআরইউ-এর সদস্যদের উপরে রাতের আধারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।

রাতের আধারে কাপুরোষিত এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত করে এর সঠিক বিচারের দাবি জানাই।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল জানান, সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার আমরা মামলা করব।

জাকির গংরা গত ১৬ বছর সাংবাদিক ও এলাকার নিরীহ মানুষের উপরে নির্যাতন ও রামরাজত্ব কায়েম করেছে। ভুক্তভোগী আজিমের স্ত্রী জানান, জাকিরের লোকজন আমাদের দোকানের ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করেছে এবং দোকান ভাঙচুর করে তুলে নিয়ে গেছে।

পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্র অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে অনেক জনকে আহত করেছে। জাকির আমার জায়গা জোর করে দখল করে রেখেছে। সেখানে তারা মাদক ব্যবসা করে। আমি এর বিচার চাই।

টিকটক ভিডিও করতে ফটোগ্রাফারকে খুন করে ক্যামেরা ছিনতাই : পুলিশ
রাজধানীর হাজারীবাগের জাফরাবাদ পুলপার এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ফটোগ্রাফার নূরুল ইসলামকে খুন করে ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম। গ্রেপ্তাররা হলো-  মো. নাঈম আহম্মেদ (২০),  মো. শাহীন অকন্দ ওরফে শাহিনুল (২০),  মো. শাহীন চৌকিদার (২২), মো. রহিম সরকার (১৯),  মো. নয়ন আহম্মেদ (১৯),  রিদয় মাদবর (১৮), মো. আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজা (১৯), মো. আনোয়ার হোসেন (১৯), মো. শহিদুল ইসলাম (২০) ও  মো. আরমান (১৮)। মঙ্গলবার (২০ মে) ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া তাদের দেওয়া তথ্য মতে ছিনতাইকৃত ২টি ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি রামদা ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়। রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, নিহত ফটোগ্রাফার নুরুল ইসলাম (২৬) “Nurislam Photographer” নামে একটি ফেসবুক পেইজ পরিচালনা করতেন। গত ১৫ মে নূরুল ইসলামের মোবাইলে একটা কল আসে। সেখানে একটি বিয়ের ইভেন্টে ছবি তোলার জন্য তাকে বুকিং স্বরূপ বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠানো হয়। তিনি বলেন, গত শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে তার একই নম্বর থেকে কল আসে। তখন তাকে শংকর চৌরাস্তায় অপেক্ষা করতে বলা হয়। এরপর নূরুল ইসলাম তার সহযোগী মো. ইমন ওরফে নুরে আলমসহ মতিঝিলের এজিবি কলোনির বাসা থেকে বের হয়ে সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওইদিন সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি শংকর বাসস্ট্যান্ডে তাদের সঙ্গে দেখা করে। সে সময় তারা একটি অটোরিকশা নিয়ে জাফরাবাদ পুলপার ব্লুমিং চাইল্ড স্কুলের কাছে বিয়ের অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা করে। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে জাফরাবাদ পুলপার ঋষিপাড়া এলাকায় পৌঁছামাত্র অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাদের রিকশার গতিরোধ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় ইমন রিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায় কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা নুরুল ইসলামকে ধরে ফেলে। তারা ধারালো চাপাতি দিয়ে নুরুল ইসলামের মাথা, ঘাড়, বাহু ও হাতের আঙুলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তার কাছে থাকা দুটি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। নুরুল ইসলামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুষ্কৃতকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অতঃপর ভিকটিম নূরুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নূরুল ইসলামের বড় ভাই মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার (২০ মে) অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার শংকর ও রায়েরবাজার এবং ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া ও তারাকান্দা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  গ্রেপ্তার সবার বয়স ১৮-২০ বছর। তারা টিকটকে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করত। উন্নতমানের ও আকর্ষণীয় ছবি এবং ভিডিও করার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা সংগ্রহের পরিকল্পনা করে তারা। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী খেলার মাঠে ফুটবল খেলার পর নাঈম আহম্মেদের নেতৃত্বে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। তারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নাম করে ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে কৌশলে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।  গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টিকটক ভিডিও করতে ফটোগ্রাফারকে খুন করে ক্যামেরা ছিনতাই : পুলিশ
জিগাতলায় চাঞ্চল্যকর আলভি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪ 
রাজধানীর হাজারবাগের জিগাতলা এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চাঞ্চল্যকর আলভি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম।  গ্রেপ্তাররা হলেন-  মো. রায়হান (২০), মো. হাবিবুর রহমান মুন্না (২৬), সমতি পাল (২৩) ও কাউসার (২১)। ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম জানান, জিগাতলায় নিহত সামিউর রহমান খান আলভী হাজারীবাগে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। আলভী ড. মালেকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।  তিনি জানান, গত শুক্রবার (১৬ মে) সামিউর তার তিন বন্ধু আশরাফুল ইসলাম, জাকারিয়া এবং ইসমাঈল হোসেনের সঙ্গে ধানমন্ডি লেক পাড়ের একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে বাসার সামনে নিয়ে তাদের গতিরোধ করেন। এ সময় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।  তিনি আরও বলেন, তারা সামিউর ও তার বন্ধুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিউরকে রাত ৯টা ০৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন। সামিউরের তিন বন্ধু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  এ ঘটনায় মো. সামিউল রহমান খান আলভীর বাবা মো. মশিউর রহমান খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার আসামিদের শনাক্ত করে ১৮ মে বিকেলে রায়হানকে ও ১৯ মে বিকেল ৩টায় সমতি পালকে হাজারীবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ মে) রাত ১২টা ২০ মিনিটে হাবিবুর রহমান মুন্না ও কাউসারকে গ্রেপ্তার করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে আসামিরা। গত ১৫ মে রাত ৯টায় মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে বাগানবাড়ী লেকে ভিকটিম ও তার বন্ধুদের সাথে আসামিদের কথা কাটাকাটি হয়।  এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।  গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। 
জিগাতলায় চাঞ্চল্যকর আলভি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪ 
৩০ টাকার জন্য বন্ধুকে খুন
ত্রিশ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীর মতিঝিলে এক বন্ধুকে আরেক বন্ধু খুন করে। মঙ্গলবার (২০ মে) এ ঘটনায় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের পাশে পীর জঙ্গী মাজার এলাকা থেকে আসামি রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার কারণ বেরিয়ে এসেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, হত্যার শিকার হয়েছেন মমিন। রাকিব ও মমিন বন্ধু। রাকিব পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও মমিন একটি দোকানের কর্মচারী। গত ১২ মে সন্ধ্যায় রাকিব, মমিন ও আরেক বন্ধু আলামিন মিলে এজিবি কলোনি ও আল হেলাল জোনের আম গাছ থেকে আম পেড়ে এজিবি কলোনি কাঁচা বাজারে ৩৯০ টাকায় বিক্রি করে।  তিন ভাগের একভাগ ১৩০ টাকা আলামিনকে দিয়ে দিলে আলামিন চলে যায়। অবশিষ্ট ২৬০ টাকার মধ্য থেকে রাকিব ৮০ টাকা খরচ করে ফেলে। রাত ৯টার দিকে মতিঝিল পোস্টাল অফিসার্স কলোনির সামনে রাস্তার ওপর ময়লার ডাস্টবিনের পাশে রাকিব ভুক্তভোগী মমিনকে আম বিক্রির ১০০ টাকা দেয়। ১০০ টাকা পেয়ে মমিন আরও ৩০ টাকা দাবি করলে রাকিব ও মমিনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।  পরে দুজন বাড়ি চলে যায়। পরদিন ১৩ মে সকাল ১০টার দিকে মতিঝিল পোস্টাল অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনে ময়লার ডাস্টবিনের পাশে দুজনের দেখা হলে আবার তাদের মধ্যে ঐ টাকা নিয়ে তর্ক হয়। তর্কের একপর্যায়ে রাকিব মমিনকে থাপ্পড় দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মমিন রাকিবকে ইট দিয়ে আঘাত করার প্রস্তুতি নিলে রাকিব তার হাতে থাকা আম কাটার ছুরি দিয়ে মমিনের গলার নিচে ডান পাশে আঘাত করে। এতে মমিন মাটিতে পড়ে গেলে রাকিব রিকশা ডেকে এনে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মমিনকে মৃত ঘোষণা করলে রাকিব কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।  এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি  মামলা হয়। এ মামলায় রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে রাকিব। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।
৩০ টাকার জন্য বন্ধুকে খুন
টিকটক ভিডিও করতে ফটোগ্রাফারকে খুন করে ক্যামেরা ছিনতাই : পুলিশ
টিকটক ভিডিও করতে ফটোগ্রাফারকে খুন করে ক্যামেরা ছিনতাই : পুলিশ
রাজধানীর হাজারীবাগের জাফরাবাদ পুলপার এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ফটোগ্রাফার নূরুল ইসলামকে খুন করে ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম। গ্রেপ্তাররা হলো-  মো. নাঈম আহম্মেদ (২০),  মো. শাহীন অকন্দ ওরফে শাহিনুল (২০),  মো. শাহীন চৌকিদার (২২), মো. রহিম সরকার (১৯),  মো. নয়ন আহম্মেদ (১৯),  রিদয় মাদবর (১৮), মো. আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রাজা (১৯), মো. আনোয়ার হোসেন (১৯), মো. শহিদুল ইসলাম (২০) ও  মো. আরমান (১৮)। মঙ্গলবার (২০ মে) ঢাকা ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া তাদের দেওয়া তথ্য মতে ছিনতাইকৃত ২টি ডিএসএলআর ক্যামেরা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাপাতি, একটি রামদা ও একটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়। রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, নিহত ফটোগ্রাফার নুরুল ইসলাম (২৬) “Nurislam Photographer” নামে একটি ফেসবুক পেইজ পরিচালনা করতেন। গত ১৫ মে নূরুল ইসলামের মোবাইলে একটা কল আসে। সেখানে একটি বিয়ের ইভেন্টে ছবি তোলার জন্য তাকে বুকিং স্বরূপ বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠানো হয়। তিনি বলেন, গত শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে তার একই নম্বর থেকে কল আসে। তখন তাকে শংকর চৌরাস্তায় অপেক্ষা করতে বলা হয়। এরপর নূরুল ইসলাম তার সহযোগী মো. ইমন ওরফে নুরে আলমসহ মতিঝিলের এজিবি কলোনির বাসা থেকে বের হয়ে সেই অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ওইদিন সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি শংকর বাসস্ট্যান্ডে তাদের সঙ্গে দেখা করে। সে সময় তারা একটি অটোরিকশা নিয়ে জাফরাবাদ পুলপার ব্লুমিং চাইল্ড স্কুলের কাছে বিয়ের অনুষ্ঠানের উদ্দেশে রওনা করে। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে জাফরাবাদ পুলপার ঋষিপাড়া এলাকায় পৌঁছামাত্র অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাদের রিকশার গতিরোধ করে। ঘটনার আকস্মিকতায় ইমন রিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায় কিন্তু দুষ্কৃতকারীরা নুরুল ইসলামকে ধরে ফেলে। তারা ধারালো চাপাতি দিয়ে নুরুল ইসলামের মাথা, ঘাড়, বাহু ও হাতের আঙুলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তার কাছে থাকা দুটি ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। নুরুল ইসলামের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুষ্কৃতকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অতঃপর ভিকটিম নূরুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নূরুল ইসলামের বড় ভাই মো. ওসমান গনি বাদী হয়ে হাজারীবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্তে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়। এরপর মঙ্গলবার (২০ মে) অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার শংকর ও রায়েরবাজার এবং ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া ও তারাকান্দা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।  গ্রেপ্তার সবার বয়স ১৮-২০ বছর। তারা টিকটকে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও তৈরি করে পোস্ট করত। উন্নতমানের ও আকর্ষণীয় ছবি এবং ভিডিও করার জন্য ডিএসএলআর ক্যামেরা সংগ্রহের পরিকল্পনা করে তারা। ঘটনার এক সপ্তাহ আগে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী খেলার মাঠে ফুটবল খেলার পর নাঈম আহম্মেদের নেতৃত্বে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। তারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নাম করে ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে কৌশলে ক্যামেরা ছিনতাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।  গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিগাতলায় চাঞ্চল্যকর আলভি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪ 
জিগাতলায় চাঞ্চল্যকর আলভি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪ 
রাজধানীর হাজারবাগের জিগাতলা এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চাঞ্চল্যকর আলভি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২১ মে) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম।  গ্রেপ্তাররা হলেন-  মো. রায়হান (২০), মো. হাবিবুর রহমান মুন্না (২৬), সমতি পাল (২৩) ও কাউসার (২১)। ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম জানান, জিগাতলায় নিহত সামিউর রহমান খান আলভী হাজারীবাগে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। আলভী ড. মালেকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।  তিনি জানান, গত শুক্রবার (১৬ মে) সামিউর তার তিন বন্ধু আশরাফুল ইসলাম, জাকারিয়া এবং ইসমাঈল হোসেনের সঙ্গে ধানমন্ডি লেক পাড়ের একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডে বাসার সামনে নিয়ে তাদের গতিরোধ করেন। এ সময় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।  তিনি আরও বলেন, তারা সামিউর ও তার বন্ধুদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি ও চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিউরকে রাত ৯টা ০৫ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন। সামিউরের তিন বন্ধু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  এ ঘটনায় মো. সামিউল রহমান খান আলভীর বাবা মো. মশিউর রহমান খানের অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাজারীবাগ থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার আসামিদের শনাক্ত করে ১৮ মে বিকেলে রায়হানকে ও ১৯ মে বিকেল ৩টায় সমতি পালকে হাজারীবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ মে) রাত ১২টা ২০ মিনিটে হাবিবুর রহমান মুন্না ও কাউসারকে গ্রেপ্তার করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছে আসামিরা। গত ১৫ মে রাত ৯টায় মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে বাগানবাড়ী লেকে ভিকটিম ও তার বন্ধুদের সাথে আসামিদের কথা কাটাকাটি হয়।  এর জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।  গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। 
৩০ টাকার জন্য বন্ধুকে খুন
৩০ টাকার জন্য বন্ধুকে খুন
ত্রিশ টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে রাজধানীর মতিঝিলে এক বন্ধুকে আরেক বন্ধু খুন করে। মঙ্গলবার (২০ মে) এ ঘটনায় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের পাশে পীর জঙ্গী মাজার এলাকা থেকে আসামি রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর হত্যার কারণ বেরিয়ে এসেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, হত্যার শিকার হয়েছেন মমিন। রাকিব ও মমিন বন্ধু। রাকিব পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও মমিন একটি দোকানের কর্মচারী। গত ১২ মে সন্ধ্যায় রাকিব, মমিন ও আরেক বন্ধু আলামিন মিলে এজিবি কলোনি ও আল হেলাল জোনের আম গাছ থেকে আম পেড়ে এজিবি কলোনি কাঁচা বাজারে ৩৯০ টাকায় বিক্রি করে।  তিন ভাগের একভাগ ১৩০ টাকা আলামিনকে দিয়ে দিলে আলামিন চলে যায়। অবশিষ্ট ২৬০ টাকার মধ্য থেকে রাকিব ৮০ টাকা খরচ করে ফেলে। রাত ৯টার দিকে মতিঝিল পোস্টাল অফিসার্স কলোনির সামনে রাস্তার ওপর ময়লার ডাস্টবিনের পাশে রাকিব ভুক্তভোগী মমিনকে আম বিক্রির ১০০ টাকা দেয়। ১০০ টাকা পেয়ে মমিন আরও ৩০ টাকা দাবি করলে রাকিব ও মমিনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।  পরে দুজন বাড়ি চলে যায়। পরদিন ১৩ মে সকাল ১০টার দিকে মতিঝিল পোস্টাল অফিসার্স কোয়ার্টারের সামনে ময়লার ডাস্টবিনের পাশে দুজনের দেখা হলে আবার তাদের মধ্যে ঐ টাকা নিয়ে তর্ক হয়। তর্কের একপর্যায়ে রাকিব মমিনকে থাপ্পড় দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মমিন রাকিবকে ইট দিয়ে আঘাত করার প্রস্তুতি নিলে রাকিব তার হাতে থাকা আম কাটার ছুরি দিয়ে মমিনের গলার নিচে ডান পাশে আঘাত করে। এতে মমিন মাটিতে পড়ে গেলে রাকিব রিকশা ডেকে এনে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক মমিনকে মৃত ঘোষণা করলে রাকিব কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।  এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় একটি  মামলা হয়। এ মামলায় রাকিবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতে সোপর্দ করা হলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে রাকিব। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।