
যেসব মায়ের সন্তান সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে, এমন ১১ মাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে ‘গরবিনী মা’ সম্মাননা ১১ মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আয়োজন করে রাজধানীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এবার ছিল এ আয়োজনের ত্রয়োদশ আসর।
সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন, প্রশাসন ক্যাটাগরিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের মা বেগম ফরহাত ইসলাম, আইন ও বিচার ক্যাটাগরিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, বরিশালের বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মোহা. রকিবুল ইসলামের মা বেগম রোকেয়া রশীদ, আইনশৃঙ্খলা ক্যাটাগরিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার-গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলামের (ডিআইজি) মা মোসা. রাজিফা আজাদ, শিক্ষা ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হকের মা সেলিমা হক, সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক এ.কে.এম. মনজুরুল ইসলামের মা রাজিয়া আহমেদ, চিকিৎসা ক্যাটাগরিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিৎ প্রসাদের মা সরস্বতী প্রসাদ, প্রকৌশল ক্যাটাগরিতে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-স্থপতি ও ডিজাইন পেশাজীবী অমিতি কুন্ডুর মা ফাল্গুনী কুন্ডু, সংগীত ক্যাটাগরিতে চ্যানেল আই-সেরাকণ্ঠ ২০০৯ চ্যাম্পিয়ন এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী সোমনূর মনির কোনালের মা সায়মা মনির মিনু, অভিনয় (নারী) ক্যাটাগরিতে নন্দিত অভিনেত্রী সংগীত শিল্পী ও মডেল এবং চলচ্চিত্র তারকা তাসনিয়া ফারিণের মা সৈয়দা শারমিন, অভিনয় (পুরুষ) ক্যাটাগরিতে নন্দিত নাট্য অভিনেতা মডেল ও পরিচালক এবং সমাজকর্মী (ডাকবাক্স ফাউন্ডেশন) জিয়াউল হক পলাশের মা ফাতেমা আক্তার কাজল এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ও প্রথম আলো ট্রাস্ট অদম্য মেধাবী তহবিল থেকে শিক্ষাবৃত্তি প্রাপ্ত অদম্য মেধাবী খাইরুম ইসলামের মা শিরিন আক্তার (পিয়া)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে গরবিনী মায়েদের উত্তরীয় ও মেডেল পরিয়ে দেন ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও ইউনিভার্সেল নার্সিং কলেজের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সম্মাননাপ্রাপ্তদের সম্মাননা ক্রেস্ট, মেডেল, ফ্রি মাস্টার হেল্থ চেক-আপ প্যাকেজ, উডেন পিকচার ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। এবারের সম্মাননার প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন হাসপাতালের হেড অব ব্র্যান্ড সি. এফ. জামান।
বিপাশা মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘একটি শিশুর প্রথম পাঠশালা যেমন তার মা, তেমনি জীবনের কঠিনতম সময়ে তার শেষ ভরসাস্থলও তিনি। মায়ের এই যে নিরন্তর ত্যাগ, তা কোনো প্রতিদানের আশা রাখে না। আমাদের কর্তব্য শুধু সারাজীবন শ্রদ্ধা আর মমতায় তাকে আগলে রাখা।’
ডা. জাহিদ উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের পাশাপাশি এমন সামাজিক আয়োজনের জন্য ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও বিসিআইয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও গরবিনী মা সম্মাননার প্রধান উদ্যোক্তা ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) এর সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল।
আয়োজকরা জানান, হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্ত্তী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তীর মায়ের অসুস্থতায় রোগ মুক্তি কামনায় তারা ২০১৪ সাল থেকে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে আসছেন। শুরুতে পাঁচজন গরবিনী মাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। গতবছর এই সম্মাননার এক যুগপূর্তি পালন করা হয়।




