ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ঢাকা দক্ষিণ সিটির সব নাগরিক সেবা বন্ধ

কালবেলা প্রতিবেদক

  ২১ মে ২০২৫, ১৮:৩৭
নগর ভবন। ছবি : কালবেলা

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের সমর্থক ও কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর কর্মবিরতির কারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সব নাগরিক সেবা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নগর ভবন তালাবদ্ধ থাকায় ভবনের ভেতরের সব সেবা বন্ধের পাশাপাশি যে ৮টি আঞ্চলিক অফিস নগর ভবনের বাইরে রয়েছে সেগুলোও বন্ধ রয়েছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বুধবার (২১ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরেই নগর ভবনের ভেতরকার সব নাগরিক সেবা বন্ধ রয়েছে। আজ নগর ভবনের বাইরের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোও বন্ধ রয়েছে। এর ফলে আমরা কোনো নাগরিক সেবা ঢাকা দক্ষিণ সিটির নাগরিকদের দিতে পারছি না।

ডিএসসিসির কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছে। তারা যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবেন।

ইশরাককে শপথ পড়ানোর দাবিতে এক সপ্তাহ ধরে নগর ভবনে চলছে অচলাবস্থা। এই দাবিতে বুধবার আন্দোলনে নেমেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিভিন্ন বিভাগের কর্মচারীরা। ১১টার পর নগর ভবনে অবস্থান নিয়ে ইশরাককে মেয়র পদে বসানোর দাবি জানান কর্মচারীরা। সে সঙ্গে অন্যান্য দিনের মতো আজও নগরভবনের বিভিন্ন বিভাগের অফিসে তালা মেরে রাখেন তারা।

তারা বলছে, সিটি করপোরেশনের প্রত্যেক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত হয়ে ঢাকাবাসীর এই আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছে। আমাদের দাবি মানা না হলে এরপর থেকে পরিচ্ছন্নতা সেবা, ময়লা পরিবহন সেবা এবং বিদ্যুৎ সেবাসহ সব ধরনের নাগরিক সেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে। সংগঠনগুলো হলো- স্ক্যাভেঞ্জার অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন, পরিবহন চালক ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন, বিদ্যুৎ কর্মচারী সমাজ কল্যাণ সমিতি ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী সমাজ কল্যাণ সমিতি।

এক মাস ধরে নিখোঁজ ৭০ বছরের বৃদ্ধা, দুশ্চিন্তায় পরিবার
প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার জুরাইনের বাসিন্দা সাজেদা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা। এতে দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে তার পরিবারের। এ বিষয়ে নিখোঁজের পরদিন গত ২৭ এপ্রিল কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নিখোঁজ বৃদ্ধার ছোট মেয়ে নাসরিন আক্তার। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ এপ্রিল বিকাল ৩টার দিকে সাজেদা বেগম জুরাইন বাগানবাড়ি এলাকা থেকে হারিয়ে যান। তার গায়ের রং শ্যামবর্ণের, তিনি মধ্যম উচ্চতার, মুখমণ্ডল গোলাকৃতি, রুগ্ণ শরীর গড়নের। তিনি গত প্রায় ৩-৪ বছর মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। হারিয়ে যাওয়ার সময় তিনি কালো-হলুদ রঙের মেক্সি পরিহিত ছিলেন।  ঘটনার দিন দুপুরে নিখোঁজ বৃদ্ধা ঢাকার জুরাইনের বাগানবাড়ি এলাকায় তার এক মেয়ের বাড়িতে ছিলেন। দুপুরে পরিবারের সদস্যরা বিশ্ৰাম নিচ্ছিলেন, ওই সময় তিনি দরজা খুলে বের হয়ে যান। এরপর বহু খোঁজাখুঁজির পরও তাকে আর পাওয়া যায়নি। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় জিডি করেন তার ছোট মেয়ে। সম্প্রতি শনিরআখড়ার পলাশপুরে নিখোঁজ সাজেদা বেগমকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা এক রিকশাওয়ালার মাধ্যমে তাকে কদমতলী থানায় পাঠান। পরে নিখোঁজের খবর জানতে পেরে নীল ওড়না এবং কালো-হলুদ কম্বিনেশনের মেক্সি পরা বৃদ্ধার একটি ছবিসহ বিষয়টি বৃদ্ধার পরিবারকে জানান স্থানীয় এক দোকানদার।   শুক্রবার (২৩ মে) নিখোঁজ বৃদ্ধার নাতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নূর আফজাল তালুকদার বলেন, নানির নিখোঁজের খবরটি জানতে পেরে এক মুদি দোকানদার রিকশায় বসা নানির একটি ছবি আমাকে পাঠান এবং রিকশাওয়ালার মাধ্যমে নাকি তাকে কদমতলী থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান। কিন্তু তৎক্ষণাৎ থানায় গিয়ে আমরা তাকে পাইনি। রিকশাওয়ালা আদৌ থানায় গিয়েছিলেন, নাকি থানার সামনে তাকে রেখেই চলে গেছেন- কিছুই জানা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি আমার নানির খোঁজ পেয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে ০১৮৬৯০৪৮৭৭৬ ও ০১৯৯১০৭৭২১৯ মোবাইল নম্বরে জানাবেন। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর কদমতলী থানার এসআই আব্দুল আউয়াল কালবেলাকে জানান, আমরা এখনো খোঁজাখুঁজি করছি। খোঁজ পেলে পরিবারকে জানানো হবে।
এক মাস ধরে নিখোঁজ ৭০ বছরের বৃদ্ধা, দুশ্চিন্তায় পরিবার
রাজউকের সার্ভারে ঢুকে ভবনের অনুমোদন করিয়ে নিয়েছিল হ্যাকার নিজেই
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদনের সার্ভারে (ইসিপিএস) হ্যাকার বা অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ঝুঁকিতে পড়ে যায় রাজউকের সম্পূর্ণ প্ল্যান অনুমোদন প্রক্রিয়া। কিছু সময়ের জন্য সম্পূর্ণ রূপে থমকে ছিল ভবন অনুমোদনের কাজ। রাজউকের অভ্যন্তরীণ প্ল্যান অনুমোদনের কাজও আটকে ছিল। এ সুযোগে অনুপ্রবেশকারীরা সিস্টেমে ঢুকে বেশ কয়েকটি ভবনের অনুমোদন কার্যক্রম পরিচালনা করে। গত ১৯ মে ইসিপিএস সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে মাত্র ১৭ মিনিটে একটি ভবনের অনুমোদন পাশের ঘটনাটি পরে নজরে আসে রাজউকের। জলাভূমি ও হাইট রেস্ট্রিকশন থাকা ভূমিতে ১৫ তলা বিশিষ্ট ১৮৫ ইউনিটের এই সুউচ্চ ভবনটির নকশা সকল বিধিকে পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পাশ করিয়ে নেয় হ্যাকার বা অনুপ্রবেশকারীরা। রাজউকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল) আব্দুল্লাহ আল মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরবর্তীতে রাজউক ওই ঘটনা জানতে পারার পর প্রাথমিক তদন্তে একই উপায়ে আরও তিনটি ভবনের নকশা অনুমোদন শেষ পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় পায়। তাৎক্ষণিক সার্ভারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, রাজউকের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় সেদিনই একটি জিডি দায়ের করা হয়। উক্ত পাশকৃত নকশার সূত্র ধরে রাবেয়া বারী নামক এক প্রকৌশলীর সন্ধান পায় রাজউক, যার স্বাক্ষর নকশাগুলোতে পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে মতিঝিলের নীল নকশা নামক একটি কম্পিউটারের দোকানের এবং সেখানকার এক কর্মচারী স্বপনের নাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনির হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় মতিঝিলের নীল নকশা নামক দোকানটিতে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে দোকানটির সঙ্গে অননুমোদিত নকশা অনুমোদনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। একইসঙ্গে দোকানটির মালিক এনামুলের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে রাজউকের নির্ধারিত ফি পরিশোধের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া দোকানের কয়েকটি কম্পিউটারে অবৈধ ভবনগুলোর নকশা পাওয়া যায়। যা থেকে দোকানের মালিক এনামুল ও কর্মচারী স্বপনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। রাজউকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল) আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, মোবাইল কোর্ট চলাকালীন তাদের কাউকেই পাওয়া না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মচারীদের পুলিশের আওতায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাজউকের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।  রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই অনভিপ্রেত। কঠোর তদন্ত করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো ঘটনা না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গেছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুসারে ব্যবস্থা নিবে রাজউক। ইতিমধ্যে অবৈধভাবে অনুমোদন নেওয়া ভবনটির নকশা বাতিল করে মালিকপক্ষকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজউকের সার্ভারে ঢুকে ভবনের অনুমোদন করিয়ে নিয়েছিল হ্যাকার নিজেই
এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন অব্যাহত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ বাতিল ও চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে কর্মকর্তারা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। প্রধান উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।  স্মারকলিপিতে এনবিআরের কর্মকর্তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলো- এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে জারিকৃত অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করা, অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা, রাজস্ব সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ কর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তাবিত খসড়া ও পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আলোচনা-পর্যালোচনাপূর্বক প্রত্যাশী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে উপযুক্ত ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করা। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন। এতে স্বাক্ষর করেন কর পরিদর্শক মুতাসিম বিল্লাহ, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শফিউল বসর, উপকর কমিশনার শিহাবুল ইসলাম কুশল, অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা এবং কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার। জারিকৃত অধ্যাদেশের বিষয়ে ৫টি আপত্তি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। প্রথমত; তাদের দাবি, রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তির অধ্যাদেশটি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে গত ১২ মে মধ্যরাতে জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার আগে  খসড়া অধ্যাদেশে গোপনে কাটা-ছেঁড়া করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী মহলের সুবিধামতো তৈরি করা হয়েছে।  দ্বিতীয়ত; জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রমের প্রকৃতি অত্যন্ত বিশেষায়িত এবং আইননির্ভর। কিন্তু জারিকৃত অধ্যাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি।  তৃতীয়ত; অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত রাজস্ববিষয়ক পরামর্শক কমিটির দাখিলকৃত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন অনলাইন-অফলাইন কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে রাজস্ব সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নের জন্য সরকারের বিভাগ পদমর্যাদায় রাজস্ব কমিশন নামক একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত সংস্থা গঠনের গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে মর্মে জানা গেছে। কিন্তু জারিকৃত অধ্যাদেশে পরামর্শক কমিটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের এই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়নি।  চতুর্থত; জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত সংস্কার সময়ের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে বাস্তবমুখী, সকল অংশীজনের মতামতভিত্তিক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মানদণ্ড অনুযায়ী। তদানুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত নিয়মনীতির ভিত্তিতে রাজস্ব প্রশাসনের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারিত হতে হবে। জারিকৃত অধ্যাদেশটি এ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।  পঞ্চমত; এনবিআর বিলুপ্ত করে সরকার অধ্যাদেশটির মাধ্যমে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বিভাগ গঠন করেছে। কিন্তু অধ্যাদেশটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতি সুকৌশলে রাজস্ব নীতি বিভাগ কর্তৃক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কার্যপরিধি তৈরি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যে ধরনের সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন তাতে তারা উল্লেখ করেন, প্রথমত; আমরা রাজস্ব ব্যবস্থার সামগ্রিক এবং টেকসই সংস্কার চাই। শুধুমাত্র কাঠামোগত বিভাজন নয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান রয়েছে, যেমন রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব, দ্বি-স্তর বিশিষ্ট প্রশাসন, সীমিত জনবল, অপ্রতুল অবকাঠামো ও লজিস্টিকস, পরস্পরসংযুক্ত অটোমেশনের ঘাটতি, বিপুল অংকের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ইত্যাদি জায়গাগুলোতে সংস্কার চাই।  দ্বিতীয়ত; সরকার কর্তৃক গঠিত রাজস্ব সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির দাখিলকৃত মধ্যবর্তী প্রতিবেদনে সুপারিশকৃত মডেলকে রাজস্ব নীতি প্রণয়নের জন্য একটি রাজস্ব কমিশন এবং রাজস্ব নীতি বাস্তবায়নের জন্য পুনর্গঠিত শক্তিশালী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিবেচনায় নিয়ে দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, প্রত্যাশী সংস্থাসহ দেশের অন্যান্য অংশীজনদের সাথে আলোচনা মোতাবেক আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে সর্বজনগ্রাহ্য রাজস্ব ব্যবস্থাপনা মডেল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।  তৃতীয়ত; আমরা এমন সংস্কার চাই যেখানে যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার মূল্যায়ন থাকবে, আমলাতান্ত্রিকতা নয়, যোগ্যতা ও বিশেষায়িত জ্ঞান অগ্রাধিকার পাবে। চতুর্থত; আমরা চাই আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে সংগতিপূর্ণ টেকসই সংস্কার। বিশ্বের উন্নত এবং বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম স্বাধীন ও স্বতন্ত্র এজেন্সি বা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।  পঞ্চমত; আমরা একটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা চাই যেখানে তিন বিভাগ আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট এর সকল ফাংশন অটোমেটেড হবে, তাদের পরস্পরের মধ্যে ইন্টিগ্রেশন থাকবে, সেই ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত থাকবে, যা রাজস্ব ব্যবস্থায় গতিময়তা, স্বচ্ছতা আনবে এবং বাণিজ্য সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সবশেষে সরকারের সর্বোচ্চ সদিচ্ছায় রাজস্ব ব্যবস্থাপনা উপযুক্ত সংস্কারের মাধ্যমে আমরা অটোমেটেড, ইন্টিগ্রেটেড ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে চাই। এদিকে গত মঙ্গলবারের আলোচনার পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।  বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০ মে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা, রাজস্ব নীতি সংস্কার সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সদস্যরা এবং এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ১৩ জন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ১ ঘণ্টার বেশী সময় ধরে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয় যে, ‘রাজস্ব নীতি সংস্কার সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটিসহ সকল অংশীজনের সাথে বিশদ আলোচনাক্রমে জারীকৃত অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার পর উক্ত অধ্যাদেশটি বাস্তবায়ন করা হবে।’ এমন ফলপ্রসূ আলোচনার পর যে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে তা মেনে না নিয়ে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ পুনরায় অসহযোগ আন্দোলনের যে  কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন বক্তব্যকে প্রতারণামূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা। গতকাল সন্ধ্যায় আন্দোলনরত একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালবেলাকে সঙ্গে বলেন, এ বিজ্ঞপ্তি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার নামান্তর। আন্দোলনকারীরা জানান, মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আলোচনার নামে প্রহসন করা হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তাদের কথা শোনা হয়নি। এমনকি অর্থ উপদেষ্টা শুরুতেই বলেন, যে তিনি মাত্র সাত মিনিট সময় দিতে পারবেন এবং একেক জনকে মাত্র এক মিনিট কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। কর ও কাস্টমস ক্যাডারের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে আলোচনায় কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কাজেই অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের বিজ্ঞপ্তিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানান এবং তারা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও আসবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন অব্যাহত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান
বৃষ্টিতেও চলছে ছাত্রদলের শাহবাগ মোড় অবরোধ 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল ১০টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। অবস্থানের কারণে শাহবাগের আশপাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থান কর্মসূচিতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ছাড়াও ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত রয়েছেন।  এ সময় ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সাম্য হত্যার বিচার চাই’, ‘এক দফা এক দাবি, ভিসির পদত্যাগ’, ‘ভিসি প্রক্টরের অনেক গুণ, নয় মাসে দুই খুন’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। আজ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে গতকাল বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল সংগঠনটি।
বৃষ্টিতেও চলছে ছাত্রদলের শাহবাগ মোড় অবরোধ 
ঢাকা বোট ক্লাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান
সাভারের বড়কাকর মৌজায় সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে বিতর্কিত ঢাকা বোট ক্লাব লিমিটেড ও আশপাশের এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বুধবার (২১ মে) দুপুর থেকে বেশ কয়েকটি বুলডোজার ও এস্কেভেটর নিয়ে এ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এম এল সৈকত। তিনি জানান, বড়কাকর এলাকায় একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। ওই বাঁধ সংলগ্ন প্রায় পৌনে ১১ একর সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখল করে নানা স্থাপনা গড়ে তোলে ঢাকা বোট ক্লাব। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি ক্লাব কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের নোটিশ দিয়ে সরকারি জমি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই সরকারি জমি উদ্ধার করতে আমরা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছি। অভিযান চলাকালে ক্লাবের পক্ষ থেকে কেউ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। যোগাযোগ করা হলেও ঢাকা বোট ক্লাব কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নিরবতা পালন করেছে। প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা অভিজাত ক্লাবটি গড়ে তোলা হয় একুশ শতকের আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনোদন সুবিধা নিয়ে। রুবেল আজিজ, শওকত আজিজ রাসেল, বখতিয়ার আহমেদ, শাহেদুল ইসলাম, জহির আহমেদ, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও নাসির উদ্দিন আহমেদ ক্লাবটি প্রতিষ্ঠা করেন। অভিযোগ রয়েছে, শুরুতে কিছু জমি বৈধভাবে কেনা হলেও পরে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও সরকারি জমি দখল করে ক্লাবের পরিসর বাড়ানো হয়। তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে থাকায় অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বর্তমানে ক্লাবটির সদস্য সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। ২০২১ সালের ৯ জুন ঢালিউড অভিনেত্রী পরী মণি-র অভিযোগের ঘটনায় ক্লাবটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ঘটনায় তিনি অভিযোগ করেন, ক্লাবের ভেতরে তাকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল।
ঢাকা বোট ক্লাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্ছেদ অভিযান
এক মাস ধরে নিখোঁজ ৭০ বছরের বৃদ্ধা, দুশ্চিন্তায় পরিবার
এক মাস ধরে নিখোঁজ ৭০ বছরের বৃদ্ধা, দুশ্চিন্তায় পরিবার
প্রায় এক মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ঢাকার জুরাইনের বাসিন্দা সাজেদা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা। এতে দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে তার পরিবারের। এ বিষয়ে নিখোঁজের পরদিন গত ২৭ এপ্রিল কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন নিখোঁজ বৃদ্ধার ছোট মেয়ে নাসরিন আক্তার। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ এপ্রিল বিকাল ৩টার দিকে সাজেদা বেগম জুরাইন বাগানবাড়ি এলাকা থেকে হারিয়ে যান। তার গায়ের রং শ্যামবর্ণের, তিনি মধ্যম উচ্চতার, মুখমণ্ডল গোলাকৃতি, রুগ্ণ শরীর গড়নের। তিনি গত প্রায় ৩-৪ বছর মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। হারিয়ে যাওয়ার সময় তিনি কালো-হলুদ রঙের মেক্সি পরিহিত ছিলেন।  ঘটনার দিন দুপুরে নিখোঁজ বৃদ্ধা ঢাকার জুরাইনের বাগানবাড়ি এলাকায় তার এক মেয়ের বাড়িতে ছিলেন। দুপুরে পরিবারের সদস্যরা বিশ্ৰাম নিচ্ছিলেন, ওই সময় তিনি দরজা খুলে বের হয়ে যান। এরপর বহু খোঁজাখুঁজির পরও তাকে আর পাওয়া যায়নি। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে থানায় জিডি করেন তার ছোট মেয়ে। সম্প্রতি শনিরআখড়ার পলাশপুরে নিখোঁজ সাজেদা বেগমকে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয়রা এক রিকশাওয়ালার মাধ্যমে তাকে কদমতলী থানায় পাঠান। পরে নিখোঁজের খবর জানতে পেরে নীল ওড়না এবং কালো-হলুদ কম্বিনেশনের মেক্সি পরা বৃদ্ধার একটি ছবিসহ বিষয়টি বৃদ্ধার পরিবারকে জানান স্থানীয় এক দোকানদার।   শুক্রবার (২৩ মে) নিখোঁজ বৃদ্ধার নাতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নূর আফজাল তালুকদার বলেন, নানির নিখোঁজের খবরটি জানতে পেরে এক মুদি দোকানদার রিকশায় বসা নানির একটি ছবি আমাকে পাঠান এবং রিকশাওয়ালার মাধ্যমে নাকি তাকে কদমতলী থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান। কিন্তু তৎক্ষণাৎ থানায় গিয়ে আমরা তাকে পাইনি। রিকশাওয়ালা আদৌ থানায় গিয়েছিলেন, নাকি থানার সামনে তাকে রেখেই চলে গেছেন- কিছুই জানা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি আমার নানির খোঁজ পেয়ে থাকেন তাহলে দয়া করে ০১৮৬৯০৪৮৭৭৬ ও ০১৯৯১০৭৭২১৯ মোবাইল নম্বরে জানাবেন। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা রাজধানীর কদমতলী থানার এসআই আব্দুল আউয়াল কালবেলাকে জানান, আমরা এখনো খোঁজাখুঁজি করছি। খোঁজ পেলে পরিবারকে জানানো হবে।
রাজউকের সার্ভারে ঢুকে ভবনের অনুমোদন করিয়ে নিয়েছিল হ্যাকার নিজেই
রাজউকের সার্ভারে ঢুকে ভবনের অনুমোদন করিয়ে নিয়েছিল হ্যাকার নিজেই
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নকশা অনুমোদনের সার্ভারে (ইসিপিএস) হ্যাকার বা অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে ঝুঁকিতে পড়ে যায় রাজউকের সম্পূর্ণ প্ল্যান অনুমোদন প্রক্রিয়া। কিছু সময়ের জন্য সম্পূর্ণ রূপে থমকে ছিল ভবন অনুমোদনের কাজ। রাজউকের অভ্যন্তরীণ প্ল্যান অনুমোদনের কাজও আটকে ছিল। এ সুযোগে অনুপ্রবেশকারীরা সিস্টেমে ঢুকে বেশ কয়েকটি ভবনের অনুমোদন কার্যক্রম পরিচালনা করে। গত ১৯ মে ইসিপিএস সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে মাত্র ১৭ মিনিটে একটি ভবনের অনুমোদন পাশের ঘটনাটি পরে নজরে আসে রাজউকের। জলাভূমি ও হাইট রেস্ট্রিকশন থাকা ভূমিতে ১৫ তলা বিশিষ্ট ১৮৫ ইউনিটের এই সুউচ্চ ভবনটির নকশা সকল বিধিকে পাশ কাটিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পাশ করিয়ে নেয় হ্যাকার বা অনুপ্রবেশকারীরা। রাজউকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল) আব্দুল্লাহ আল মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরবর্তীতে রাজউক ওই ঘটনা জানতে পারার পর প্রাথমিক তদন্তে একই উপায়ে আরও তিনটি ভবনের নকশা অনুমোদন শেষ পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় পায়। তাৎক্ষণিক সার্ভারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, রাজউকের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় সেদিনই একটি জিডি দায়ের করা হয়। উক্ত পাশকৃত নকশার সূত্র ধরে রাবেয়া বারী নামক এক প্রকৌশলীর সন্ধান পায় রাজউক, যার স্বাক্ষর নকশাগুলোতে পাওয়া যায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে মতিঝিলের নীল নকশা নামক একটি কম্পিউটারের দোকানের এবং সেখানকার এক কর্মচারী স্বপনের নাম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনির হোসেন হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় মতিঝিলের নীল নকশা নামক দোকানটিতে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে দোকানটির সঙ্গে অননুমোদিত নকশা অনুমোদনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। একইসঙ্গে দোকানটির মালিক এনামুলের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে রাজউকের নির্ধারিত ফি পরিশোধের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ ছাড়া দোকানের কয়েকটি কম্পিউটারে অবৈধ ভবনগুলোর নকশা পাওয়া যায়। যা থেকে দোকানের মালিক এনামুল ও কর্মচারী স্বপনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। রাজউকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল) আব্দুল্লাহ আল মারুফ বলেন, মোবাইল কোর্ট চলাকালীন তাদের কাউকেই পাওয়া না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মচারীদের পুলিশের আওতায় নেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাজউকের পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।  রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা খুবই অনভিপ্রেত। কঠোর তদন্ত করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এমন কোনো ঘটনা না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গেছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুসারে ব্যবস্থা নিবে রাজউক। ইতিমধ্যে অবৈধভাবে অনুমোদন নেওয়া ভবনটির নকশা বাতিল করে মালিকপক্ষকে চিঠি প্রদান করা হয়েছে এবং এ ব্যাপারে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন অব্যাহত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান
এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন অব্যাহত, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুই ভাগ করার অধ্যাদেশ বাতিল ও চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে কর্মকর্তারা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর স্মারক লিপি দিয়েছেন।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। প্রধান উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।  স্মারকলিপিতে এনবিআরের কর্মকর্তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। এগুলো হলো- এনবিআর বিলুপ্ত করে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের লক্ষ্যে জারিকৃত অধ্যাদেশ অবিলম্বে বাতিল করা, অবিলম্বে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা, রাজস্ব সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সুপারিশ জনসাধারণের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ কর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রস্তাবিত খসড়া ও পরামর্শক কমিটির সুপারিশ আলোচনা-পর্যালোচনাপূর্বক প্রত্যাশী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠন, সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নিয়ে উপযুক্ত ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা সংস্কার নিশ্চিত করা। এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কর্মকর্তারা প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন। এতে স্বাক্ষর করেন কর পরিদর্শক মুতাসিম বিল্লাহ, রাজস্ব কর্মকর্তা মো. শফিউল বসর, উপকর কমিশনার শিহাবুল ইসলাম কুশল, অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা এবং কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার হাছান মুহম্মদ তারেক রিকাবদার। জারিকৃত অধ্যাদেশের বিষয়ে ৫টি আপত্তি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। প্রথমত; তাদের দাবি, রাজস্ব বোর্ড বিলুপ্তির অধ্যাদেশটি কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে গত ১২ মে মধ্যরাতে জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হওয়ার আগে  খসড়া অধ্যাদেশে গোপনে কাটা-ছেঁড়া করে একটি বিশেষ গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী মহলের সুবিধামতো তৈরি করা হয়েছে।  দ্বিতীয়ত; জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রমের প্রকৃতি অত্যন্ত বিশেষায়িত এবং আইননির্ভর। কিন্তু জারিকৃত অধ্যাদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তাদের দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতার কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি।  তৃতীয়ত; অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত রাজস্ববিষয়ক পরামর্শক কমিটির দাখিলকৃত অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন অনলাইন-অফলাইন কোনো মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি। অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্ত প্রতিবেদনে রাজস্ব সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নের জন্য সরকারের বিভাগ পদমর্যাদায় রাজস্ব কমিশন নামক একটি স্বাধীন ও স্বশাসিত সংস্থা গঠনের গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে মর্মে জানা গেছে। কিন্তু জারিকৃত অধ্যাদেশে পরামর্শক কমিটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের এই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়নি।  চতুর্থত; জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামোগত সংস্কার সময়ের দাবি। তবে এই সংস্কার হতে হবে বাস্তবমুখী, সকল অংশীজনের মতামতভিত্তিক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মানদণ্ড অনুযায়ী। তদানুযায়ী আন্তর্জাতিকভাবে অনুসৃত নিয়মনীতির ভিত্তিতে রাজস্ব প্রশাসনের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারিত হতে হবে। জারিকৃত অধ্যাদেশটি এ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।  পঞ্চমত; এনবিআর বিলুপ্ত করে সরকার অধ্যাদেশটির মাধ্যমে রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ নামে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুটি বিভাগ গঠন করেছে। কিন্তু অধ্যাদেশটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতি সুকৌশলে রাজস্ব নীতি বিভাগ কর্তৃক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কার্যপরিধি তৈরি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা যে ধরনের সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছেন তাতে তারা উল্লেখ করেন, প্রথমত; আমরা রাজস্ব ব্যবস্থার সামগ্রিক এবং টেকসই সংস্কার চাই। শুধুমাত্র কাঠামোগত বিভাজন নয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান রয়েছে, যেমন রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনভিজ্ঞ নেতৃত্ব, দ্বি-স্তর বিশিষ্ট প্রশাসন, সীমিত জনবল, অপ্রতুল অবকাঠামো ও লজিস্টিকস, পরস্পরসংযুক্ত অটোমেশনের ঘাটতি, বিপুল অংকের অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি ইত্যাদি জায়গাগুলোতে সংস্কার চাই।  দ্বিতীয়ত; সরকার কর্তৃক গঠিত রাজস্ব সংস্কারবিষয়ক পরামর্শক কমিটির দাখিলকৃত মধ্যবর্তী প্রতিবেদনে সুপারিশকৃত মডেলকে রাজস্ব নীতি প্রণয়নের জন্য একটি রাজস্ব কমিশন এবং রাজস্ব নীতি বাস্তবায়নের জন্য পুনর্গঠিত শক্তিশালী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিবেচনায় নিয়ে দেশের প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, প্রত্যাশী সংস্থাসহ দেশের অন্যান্য অংশীজনদের সাথে আলোচনা মোতাবেক আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার আলোকে দেশের স্বার্থে, দশের স্বার্থে সর্বজনগ্রাহ্য রাজস্ব ব্যবস্থাপনা মডেল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।  তৃতীয়ত; আমরা এমন সংস্কার চাই যেখানে যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতার মূল্যায়ন থাকবে, আমলাতান্ত্রিকতা নয়, যোগ্যতা ও বিশেষায়িত জ্ঞান অগ্রাধিকার পাবে। চতুর্থত; আমরা চাই আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে সংগতিপূর্ণ টেকসই সংস্কার। বিশ্বের উন্নত এবং বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম স্বাধীন ও স্বতন্ত্র এজেন্সি বা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়।  পঞ্চমত; আমরা একটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা চাই যেখানে তিন বিভাগ আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট এর সকল ফাংশন অটোমেটেড হবে, তাদের পরস্পরের মধ্যে ইন্টিগ্রেশন থাকবে, সেই ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম দেশের ব্যাংকিং সিস্টেমের সাথে সংযুক্ত থাকবে, যা রাজস্ব ব্যবস্থায় গতিময়তা, স্বচ্ছতা আনবে এবং বাণিজ্য সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং সবশেষে সরকারের সর্বোচ্চ সদিচ্ছায় রাজস্ব ব্যবস্থাপনা উপযুক্ত সংস্কারের মাধ্যমে আমরা অটোমেটেড, ইন্টিগ্রেটেড ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে চাই। এদিকে গত মঙ্গলবারের আলোচনার পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে আজ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।  বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০ মে অর্থ উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা, রাজস্ব নীতি সংস্কার সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটির সদস্যরা এবং এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ১৩ জন প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ১ ঘণ্টার বেশী সময় ধরে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয় যে, ‘রাজস্ব নীতি সংস্কার সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটিসহ সকল অংশীজনের সাথে বিশদ আলোচনাক্রমে জারীকৃত অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনার পর উক্ত অধ্যাদেশটি বাস্তবায়ন করা হবে।’ এমন ফলপ্রসূ আলোচনার পর যে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে তা মেনে না নিয়ে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ পুনরায় অসহযোগ আন্দোলনের যে  কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তার কোন যৌক্তিক কারণ নেই। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এমন বক্তব্যকে প্রতারণামূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা। গতকাল সন্ধ্যায় আন্দোলনরত একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালবেলাকে সঙ্গে বলেন, এ বিজ্ঞপ্তি শাক দিয়ে মাছ ঢাকার নামান্তর। আন্দোলনকারীরা জানান, মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে আলোচনার নামে প্রহসন করা হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তাদের কথা শোনা হয়নি। এমনকি অর্থ উপদেষ্টা শুরুতেই বলেন, যে তিনি মাত্র সাত মিনিট সময় দিতে পারবেন এবং একেক জনকে মাত্র এক মিনিট কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়। কর ও কাস্টমস ক্যাডারের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে আলোচনায় কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কাজেই অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের বিজ্ঞপ্তিতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানান এবং তারা তাদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও আসবে বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
বৃষ্টিতেও চলছে ছাত্রদলের শাহবাগ মোড় অবরোধ 
বৃষ্টিতেও চলছে ছাত্রদলের শাহবাগ মোড় অবরোধ 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিতের দাবিতে তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল ১০টার দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। অবস্থানের কারণে শাহবাগের আশপাশের রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অবস্থান কর্মসূচিতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ছাড়াও ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত রয়েছেন।  এ সময় ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, সাম্য হত্যার বিচার চাই’, ‘এক দফা এক দাবি, ভিসির পদত্যাগ’, ‘ভিসি প্রক্টরের অনেক গুণ, নয় মাসে দুই খুন’ ইত্যাদি স্লোগান দিচ্ছেন তারা। এর আগে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। আজ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে গতকাল বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল সংগঠনটি।