ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

বাংলাদেশকে দুঃসংবাদ দিল জাতিসংঘ

কালবেলা ডেস্ক

  ২৩ মে ২০২৫, ১৯:৩৪
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন আমদানি শুল্ক ঘোষণার ফলে বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের বাণিজ্য খরচ অনেকটা বাড়বে। এ কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বৈষম্যের ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো। এ সময় উন্নয়নশীল দেশের রপ্তানি সম্ভাবনা কমবে পোশাক ও কৃষি খাতে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রায় এক শতাব্দী ধরে অপরিবর্তিত বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ট্রাম্পের শুল্ক আরোপে বড় ধাক্কার মুখোমুখি পড়ছে। তবে শুল্ক বাস্তবায়নে ৯০ দিনের স্থগিতাদেশ অর্থনীতির পালে কিছুটা হাওয়া দিলেও দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির সম্ভাবনা থেকেই যায়।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আংকটাড প্রকাশিত ‘স্প্যারিং দ্য ভালনারেবল : দ্য কস্ট অব নিউ ট্যারিফ বার্ডেনস’ প্রতিবেদন এমনটি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের জন্য দায়ী হলেও, রপ্তানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এসব দেশের নতুন শুল্কনীতি। ফলে মার্কিন বাজারে প্রবেশ কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে পোশাক ও কৃষিপণ্যের মতো খাতগুলোতে রপ্তানি সম্ভাবনা কমবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমদানির ওপর ১০ শতাংশ হারে সর্বজনীন শুল্ক আরোপ করলেও জুলাইয়ে দেশভিত্তিক অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হবে। এতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর আমদানি শুল্ক বেড়ে ৪৪ শতাংশ হতে পার, যা দেশগুলোর অর্থনীতিকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে বলেও প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ট্যারিফ রিলিফ নীতিমালা ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাজারে প্রবেশে সহজ শর্ত নিশ্চিত করা জরুরি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তা না হলে নতুন ধরনের বৈষম্য তৈরি হতে পারে বিশ্ব বাণিজ্যে, যা দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য জোরদার এবং দেশটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক কমাতে আসন্ন বাজেটে ১০০টি মার্কিন পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

ব্যাংকে ব্যাংকে পুলিশ পাঠিয়ে ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণ আর নয় : গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংক সকাল বিকাল প্রতিটা ব্যাংক থেকে ডলারের দামের আপডেট এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এখন আর ব্যাংকে ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা বা পুলিশ পাঠিয়ে এ দাম নিয়ন্ত্রণ করব না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে ‘বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের প্রয়োগ ও প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গভর্নর আরও বলেন, ডলারের দাম এখন থেকে বাংলাদেশে নির্ধারিত হবে। দুবাই বা পৃথিবীর অন্যকোনো দেশে নয়। আমরা বলব আপনারা অস্থির হবেন না। বাজার অস্থিতিশীলতার দিকে কান দেবেন না। চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে বাজারে ডলারের দাম নির্ধারণ হবে।  তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই আলোচানা হচ্ছে আইএমএফসহ নানা আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছিল আমাদের বিনিময় হার বাজার ভিত্তিক করার জন্য। কিন্তু কখন এটা করব? এটা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত আলোচনা হচ্ছিল। অনেকেই বলেছেন আইএমএফ-এর প্রোগ্রামগুলো আমরা মিট করতে পারব না। আগের সরকার একটাও মিট করতে পারেনি, এটা সত্য। কিন্তু আমরা সবগুলো মিট করেছি। সেপ্টেম্বর জানুয়ারি এবং মার্চ প্রান্তিকে সব জায়গাতে আমরা সফল হয়েছি। এইচ মনসুর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কমোডিটির দাম কম থাকায় আমাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। লাক্সারি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকশন দেওয়ার পক্ষে আমি না। আমি ট্যাক্স বাড়িয়ে দেব। যার সামর্থ্য আছে সে কিনবে। যার নাই সে কিনবে না। যার সামর্থ্য আছে তাকে রেস্ট্রিকশন দিলে সে বিদেশে গিয়ে ওই পণ্য কিনবে। তখন আমাদের লাভ নাই। আমাদের এখানে ফরোয়ার্ড মার্কেট ডেভেলপ করেনি। এটা করলে ভালো হতো। আমরা এখন বাংলাদেশের মার্কেটে ডলার আনলে সেটার দাম পড়ে যাবে না। বিনিয়োগ করলে বিনিময় হারের কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। এটা নিশ্চিত করতে পারলে এখানে আর বাজার নিয়ে ঝুঁকি থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি ৩-৪ শতাংশে নিয়ে আসা। আমার যেটা মনে হচ্ছে আগস্টের মধ্যে আমাদের মূল্যস্ফীতি ৭ এর মধ্যে চলে আসবে। বছর শেষে এটা ৫ শতাংশের মধ্যে চলে আসবে বলে আমি মনে করি।  গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের মানুষের শত শত কোটি ডলার বিদেশে আছে। কেন সম্পদ তারা বাংলাদেশের রাখে না? কারণ তারা ভাবে বাংলাদেশে তাদের সম্পদ নিরাপদ নয়। বিদেশে তাদের সম্পদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় না। এজন্য দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে হলে এবং পাচার বন্ধ করতে হলে অবশ্যই সম্পদের নিরাপত্তা দিতে হবে। সম্পদের নিরাপত্তা না দিয়ে পাচার ঠেকানো সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের আমাদের অর্থনীতিকে ঠিক করতে হলে রাজনীতিকে ঠিক করতে হবে।  গভর্নর আরও বলেন, আমরা আমাদের বিনিময় হার আরও লিবারেলাইজ করব। যার যত পাওনা আছে সেগুলা পরিশোধ করা হয়েছে। বিদেশিরা বিনিয়োগ করে তাদের প্রফিট যখন ইচ্ছে নিয়ে যেতে পারবে। আমরা আটকাব না। এজন্য তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকেও আসতে হবে না। আমরা শুধু কর নীতি নিয়ে কথা বলব। এর বাইরে না। মাস্টার কার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, প্রবাসী ভাইবোনদের একটু জানানো দরকার যে ডলারের দাম বেড়ে যাবে না। এটা স্থির থাকবে। কারণ অনেকেই ভাবছেন ডলারের দাম বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়ায় দাম হয়তো বাড়বে। আসলে সেটি হবে না। কারণ বর্তমানে সময়টা খুব ভালো অর্থনীতির জন্য। প্রবাসীরা সামনে ঈদ উপলক্ষে টাকা পাঠানো শুরু করবেন। তখন অর্থনীতি আরো সুবিধাজনক স্থানে চলে আসবে।  জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আর্থিকখাতে বড় একটা সংস্কার প্রয়োজন ছিল। যেটা বিনিময় হার বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে হয়েছে। আমরা যে বিগত সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছি, সেটা বিনিময় হার ফিক্সড থাকার কারণে হয়েছে। বর্তমান সময়টা এই কাজের জন্য ঠিক আছে। প্রতিটা জিনিস আমরা যদি আজকে খেয়াল করি জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটা আইটেমের দাম কম। এর মাঝে আইএমএফ, এডিবি, ওয়াল্ড ব্যাংক ফান্ড দিচ্ছে। ফলে আমি মনে করি আগামী কয়েকদিন বিনিময় হার নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, আশঙ্কার কথা হচ্ছে, ২০২০-২১ সালেও যখন ৪৭ বিনিয়ন ডলার রিজার্ভ ছিল। কিন্তু সেটা হঠাৎ করেই ২২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসলো। কারণ জ্বালানি এবং কমোডিটির দাম ডাবল বা তারও বেশি হয়ে গিয়েছিল। তখন আমাদের রিজার্ভের উপর প্রভাব পড়েছিল। এখন যদি আগামী দিনে যদি কোন বড় দুর্যোগ আসে, তাহলে আমাদের ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে আমরা উতরাতে পারব না। এটা খুবই ছোট অংক। এটাকে ৫-৬ বিলিয়নে নিয়ে যেতে হবে। বাজারের উপর দর ছাড়ার পর সঠিক সময়ে যেন দাম পরিবর্তন করা হয়। না হলে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রেমিট্যান্সএর উপর ৫ শতাংশ কর বসিয়েছে। এটা হুন্ডি বাড়িয়ে দেবে। যেটা আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। ফলে এখানে কাজ করতে হবে, যেন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা আসে। পলেসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, আমাদের বিনিময় হারকে ২০১৮-১৯ সাল থেকে চেপে ধরা হয়েছিল। সেখান থেকে একটা ফিক্সড জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে বিনিময় হারকে চাপিয়ে রাখা যায় না। এটা বেশি দিন রাখার কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে বেশি দিন চলা যায় না। বর্তমানে বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বড় পরিবর্তনের কোনো সময় নেই। যত দ্রুত এ ধরণের সংস্কার করা যায় ততই ভালো। তিনি বলেন, এটার কারণে আইএমএফের চাপ দূর হয়েছে। ওয়াল্ড ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক যেসব চাপ বা আপত্তির জায়গা ছিল সেগুলাও দূর হয়ে গেছে। এই সংস্কারের সময়টা খুবই ভালো হয়েছে। কারণ সামনে কোরবানি। এই সময়ে রেমিট্যান্স আসবে অনেক বেশি। যেটা রিজার্ভ বাড়াবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কমোডিটির দাম কমেছে। ফলে আমদানি বাবদ ডলার খরচ বেশি হবে না আগের তুলনায়। আভ্যন্তরীণ বাজারেও এখন চাহদা কম। তবে, জ্বালানির জন্য বড় একটা অংকের ডলার খরচ হয়। তবে, কাতারে বড় একটি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার হয়েছে। তারা বাজারে সাপ্লাই বাড়ালে গ্যাসের দাম কমবে বলে আশা করা যায়। ফলে জ্বালানি আমদানির জন্য ডলারের চাহিদাও কমবে।
ব্যাংকে ব্যাংকে পুলিশ পাঠিয়ে ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণ আর নয় : গভর্নর
ঈদের আগেই বাজারে মিলবে যেসব নতুন নোট
ঈদুল ফিতরের আগে টাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকায় বাজারে নতুন নোট ছাড়েনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবার আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ২০, ৫০ ও ১০০০ টাকার নতুন নকশার নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গাজীপুরের দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (টাঁকশাল) এরই মধ্যে এসব নোট ছাপার কাজ শুরু করেছে।  জানা গেছে, নতুন নোটে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকছে না। তার পরিবর্তে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি ও আগের নকশা ফিরে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঈদের আগেই নতুন নকশার নোট বাজারে আসবে। এ নিয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। নোট ছাপানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে ঠিক কোন নোট কবে আসবে, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, টাঁকশালে ২০ টাকার নোটের ছাপানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহে এ নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরের সপ্তাহে হস্তান্তর করা হবে ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট। এসব নোট কবে বাজারে ছাড়া হবে তা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করবে। তিনি জানান, প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস ও অন্য শাখাগুলো এবং পরে ব্যাংকগুলোকে এই নতুন নোট দেওয়া হবে। ঈদের ছুটি শুরুর আগে সীমিত সংখ্যক নোট ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন টাকার যে চাহিদা, তার তুলনায় ছাপা কম হচ্ছে। এর আগে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসহ নোট নিয়ে বিতর্ক ওঠায় গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চিঠি দিয়ে নতুন নোট বিনিময় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের শাখায় যেসব নতুন নোট গচ্ছিত আছে, তা বিনিময় না করে সংশ্লিষ্ট শাখায় সংরক্ষণের কথা বলা হয়।  এরপর থেকে নতুন নোটের বিনিময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাজারে ছেঁড়া-ফাটা নোট বাড়তে থাকে।
ঈদের আগেই বাজারে মিলবে যেসব নতুন নোট
আবারও বেড়েছে সোনার দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি কত
আবারও বেড়েছে সোনার দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ৮২৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ মে) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে। বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯২১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬২ হাজার ২০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। সবশেষ গত ১৭ মে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ১ হাজার ৩৬৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ১২ হাজার ৯৭৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল গত ১৮ মে থেকে। এ নিয়ে চলতি বছর ৩৬ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো সোনার দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ২৪ বার, আর কমেছে মাত্র ১২ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার। সোনার দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮১১ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭২৬ টাকায়।
আবারও বেড়েছে সোনার দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি কত
দুটি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেলো কাজী অ্যান্ড কাজী টি 
ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ, উৎপাদন, বিপণনকে উৎসাহিত করতে পঞ্চম ‘জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান করেছে সরকার। আটটি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর ‘বৈচিত্র্যময় চা’ বাজারজাত এবং ‘দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা’ মোড়ক ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হিসেবে দুটি পুরস্কার পেয়েছে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে পুরস্কার দুটি গ্রহণ করেন কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ। বুধবার (২১ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের হাত থেকে পুরস্কার দুটি গ্রহণ করেন কাজী ইনাম আহমেদ। এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অন্য ছয়টি ক্যাটাগরি ছাড়াও দুটি বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। একর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে ডিনস্টন চা বাগান। সর্বোচ্চ গুণগত চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে মধুপুর চা বাগান। শ্রেষ্ঠ চা রফতানিকারক হয়েছে দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড ফিনলে। শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী হয়েছেন পঞ্চগড়ের এবিএম আখতারুজ্জামান। শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান নির্বাচিত হয়েছে মির্জাপুর চা বাগান। শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী (শ্রমিক সম্পর্কিত পুরস্কার) পেয়েছেন নেপচুন চা বাগানের শ্রমিক জেসমিন আক্তার। এছাড়া এ বছর সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরি এবং সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে দুটি বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আট ক্যাটাগরিতে জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করা হয়। এছাড়াও জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে এ বছর সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী কারখানা ক্যাটাগরিতে দুটি বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন। এর আগে বেলুন উড়িয়ে পঞ্চম জাতীয় চা দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পরে তিনি চা মেলায় বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মইনুদ্দিন হাসান, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৪ বিজয়ী চা শ্রমিক জেসমিন আক্তার এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নৃপেন পাল।
দুটি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেলো কাজী অ্যান্ড কাজী টি 
টিসিবির কার্ডধারীদের জন্য দুঃসংবাদ
সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকিমূল্যে বৃহস্পতিবার (২২ মে) থেকে পণ্য বিক্রি শুরু করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।  তবে ঈদুল আজহার আগে অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে তেল, ডাল ও চিনির দাম। এক মাস ব্যবধানে প্রতি লিটার তেলে ৩৫ টাকা, প্রতি কেজি মসুর ডালে ২০ টাকা ও চিনির দাম ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার (২১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়ে, বৃহস্পতিবার থেকে ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকিমূল্যে টিসিবির পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। আগে যেখানে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের কাছে ১০০ টাকা লিটারে তেল বিক্রি করা হতো সেটা এখন ১৩৫ টাকা, ডালের দাম ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা ও চিনির দাম ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা করা হয়েছে। স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারীদের পাশাপাশি যে কোনো সাধারণ ভোক্তা ঈদের পণ্য কিনতে পারবেন বিশেষ ট্রাকসেলে। তবে সব ক্ষেত্রেই গুনতে হবে বাড়তি টাকা। টিসিবি জানিয়েছে, দেশব্যাপী প্রতিদিন ৬৯০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে ওই সব পণ্য বিক্রি হবে। ভোজ্য তেল, চিনি ও মসুর ডাল থাকবে প্রতিটি ট্রাকে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে এ কার্যক্রমের পাশাপাশি যেকোনো ভোক্তার কাছে সারা দেশে প্রতিদিন ৬৯০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্যাগুলো বিক্রি হবে। ঢাকায় ৫০টি, চট্টগ্রামে ২০টি, ৬টি বিভাগীয় শহরে ১০টি করে অবশিষ্ট ৫৬ জেলা শহরে ১০টি করে ট্রাক থাকবে। ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে বিক্রয় কার্যক্রম ২২ মে থেকে শুরু হয়ে ৩ জুন পর্যন্ত (শুক্রবার ও ছুটির দিনসহ) চলবে।
টিসিবির কার্ডধারীদের জন্য দুঃসংবাদ
ব্যাংকে ব্যাংকে পুলিশ পাঠিয়ে ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণ আর নয় : গভর্নর
ব্যাংকে ব্যাংকে পুলিশ পাঠিয়ে ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণ আর নয় : গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংক সকাল বিকাল প্রতিটা ব্যাংক থেকে ডলারের দামের আপডেট এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এখন আর ব্যাংকে ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা বা পুলিশ পাঠিয়ে এ দাম নিয়ন্ত্রণ করব না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।  বৃহস্পতিবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে ‘বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের প্রয়োগ ও প্রভাব’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। গভর্নর আরও বলেন, ডলারের দাম এখন থেকে বাংলাদেশে নির্ধারিত হবে। দুবাই বা পৃথিবীর অন্যকোনো দেশে নয়। আমরা বলব আপনারা অস্থির হবেন না। বাজার অস্থিতিশীলতার দিকে কান দেবেন না। চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে বাজারে ডলারের দাম নির্ধারণ হবে।  তিনি বলেন, অনেক দিন ধরেই আলোচানা হচ্ছে আইএমএফসহ নানা আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছিল আমাদের বিনিময় হার বাজার ভিত্তিক করার জন্য। কিন্তু কখন এটা করব? এটা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত আলোচনা হচ্ছিল। অনেকেই বলেছেন আইএমএফ-এর প্রোগ্রামগুলো আমরা মিট করতে পারব না। আগের সরকার একটাও মিট করতে পারেনি, এটা সত্য। কিন্তু আমরা সবগুলো মিট করেছি। সেপ্টেম্বর জানুয়ারি এবং মার্চ প্রান্তিকে সব জায়গাতে আমরা সফল হয়েছি। এইচ মনসুর বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কমোডিটির দাম কম থাকায় আমাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে। লাক্সারি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে রেস্ট্রিকশন দেওয়ার পক্ষে আমি না। আমি ট্যাক্স বাড়িয়ে দেব। যার সামর্থ্য আছে সে কিনবে। যার নাই সে কিনবে না। যার সামর্থ্য আছে তাকে রেস্ট্রিকশন দিলে সে বিদেশে গিয়ে ওই পণ্য কিনবে। তখন আমাদের লাভ নাই। আমাদের এখানে ফরোয়ার্ড মার্কেট ডেভেলপ করেনি। এটা করলে ভালো হতো। আমরা এখন বাংলাদেশের মার্কেটে ডলার আনলে সেটার দাম পড়ে যাবে না। বিনিয়োগ করলে বিনিময় হারের কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। এটা নিশ্চিত করতে পারলে এখানে আর বাজার নিয়ে ঝুঁকি থাকবে না। তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি ৩-৪ শতাংশে নিয়ে আসা। আমার যেটা মনে হচ্ছে আগস্টের মধ্যে আমাদের মূল্যস্ফীতি ৭ এর মধ্যে চলে আসবে। বছর শেষে এটা ৫ শতাংশের মধ্যে চলে আসবে বলে আমি মনে করি।  গভর্নর বলেন, বাংলাদেশের মানুষের শত শত কোটি ডলার বিদেশে আছে। কেন সম্পদ তারা বাংলাদেশের রাখে না? কারণ তারা ভাবে বাংলাদেশে তাদের সম্পদ নিরাপদ নয়। বিদেশে তাদের সম্পদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় না। এজন্য দেশের বিনিয়োগ বাড়াতে হলে এবং পাচার বন্ধ করতে হলে অবশ্যই সম্পদের নিরাপত্তা দিতে হবে। সম্পদের নিরাপত্তা না দিয়ে পাচার ঠেকানো সম্ভব নয়। এজন্য আমাদের আমাদের অর্থনীতিকে ঠিক করতে হলে রাজনীতিকে ঠিক করতে হবে।  গভর্নর আরও বলেন, আমরা আমাদের বিনিময় হার আরও লিবারেলাইজ করব। যার যত পাওনা আছে সেগুলা পরিশোধ করা হয়েছে। বিদেশিরা বিনিয়োগ করে তাদের প্রফিট যখন ইচ্ছে নিয়ে যেতে পারবে। আমরা আটকাব না। এজন্য তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকেও আসতে হবে না। আমরা শুধু কর নীতি নিয়ে কথা বলব। এর বাইরে না। মাস্টার কার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, প্রবাসী ভাইবোনদের একটু জানানো দরকার যে ডলারের দাম বেড়ে যাবে না। এটা স্থির থাকবে। কারণ অনেকেই ভাবছেন ডলারের দাম বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়ায় দাম হয়তো বাড়বে। আসলে সেটি হবে না। কারণ বর্তমানে সময়টা খুব ভালো অর্থনীতির জন্য। প্রবাসীরা সামনে ঈদ উপলক্ষে টাকা পাঠানো শুরু করবেন। তখন অর্থনীতি আরো সুবিধাজনক স্থানে চলে আসবে।  জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আর্থিকখাতে বড় একটা সংস্কার প্রয়োজন ছিল। যেটা বিনিময় হার বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়ার মাধ্যমে হয়েছে। আমরা যে বিগত সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছি, সেটা বিনিময় হার ফিক্সড থাকার কারণে হয়েছে। বর্তমান সময়টা এই কাজের জন্য ঠিক আছে। প্রতিটা জিনিস আমরা যদি আজকে খেয়াল করি জ্বালানি তেল থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটা আইটেমের দাম কম। এর মাঝে আইএমএফ, এডিবি, ওয়াল্ড ব্যাংক ফান্ড দিচ্ছে। ফলে আমি মনে করি আগামী কয়েকদিন বিনিময় হার নিয়ে কোন সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, আশঙ্কার কথা হচ্ছে, ২০২০-২১ সালেও যখন ৪৭ বিনিয়ন ডলার রিজার্ভ ছিল। কিন্তু সেটা হঠাৎ করেই ২২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসলো। কারণ জ্বালানি এবং কমোডিটির দাম ডাবল বা তারও বেশি হয়ে গিয়েছিল। তখন আমাদের রিজার্ভের উপর প্রভাব পড়েছিল। এখন যদি আগামী দিনে যদি কোন বড় দুর্যোগ আসে, তাহলে আমাদের ৫০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে আমরা উতরাতে পারব না। এটা খুবই ছোট অংক। এটাকে ৫-৬ বিলিয়নে নিয়ে যেতে হবে। বাজারের উপর দর ছাড়ার পর সঠিক সময়ে যেন দাম পরিবর্তন করা হয়। না হলে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রেমিট্যান্সএর উপর ৫ শতাংশ কর বসিয়েছে। এটা হুন্ডি বাড়িয়ে দেবে। যেটা আমাদের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। ফলে এখানে কাজ করতে হবে, যেন ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা আসে। পলেসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, আমাদের বিনিময় হারকে ২০১৮-১৯ সাল থেকে চেপে ধরা হয়েছিল। সেখান থেকে একটা ফিক্সড জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। এভাবে বিনিময় হারকে চাপিয়ে রাখা যায় না। এটা বেশি দিন রাখার কারণে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে বেশি দিন চলা যায় না। বর্তমানে বাজারের উপর ছেড়ে দেওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। বড় পরিবর্তনের কোনো সময় নেই। যত দ্রুত এ ধরণের সংস্কার করা যায় ততই ভালো। তিনি বলেন, এটার কারণে আইএমএফের চাপ দূর হয়েছে। ওয়াল্ড ব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক যেসব চাপ বা আপত্তির জায়গা ছিল সেগুলাও দূর হয়ে গেছে। এই সংস্কারের সময়টা খুবই ভালো হয়েছে। কারণ সামনে কোরবানি। এই সময়ে রেমিট্যান্স আসবে অনেক বেশি। যেটা রিজার্ভ বাড়াবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে কমোডিটির দাম কমেছে। ফলে আমদানি বাবদ ডলার খরচ বেশি হবে না আগের তুলনায়। আভ্যন্তরীণ বাজারেও এখন চাহদা কম। তবে, জ্বালানির জন্য বড় একটা অংকের ডলার খরচ হয়। তবে, কাতারে বড় একটি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার হয়েছে। তারা বাজারে সাপ্লাই বাড়ালে গ্যাসের দাম কমবে বলে আশা করা যায়। ফলে জ্বালানি আমদানির জন্য ডলারের চাহিদাও কমবে।
ঈদের আগেই বাজারে মিলবে যেসব নতুন নোট
ঈদের আগেই বাজারে মিলবে যেসব নতুন নোট
ঈদুল ফিতরের আগে টাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকায় বাজারে নতুন নোট ছাড়েনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবার আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে ২০, ৫০ ও ১০০০ টাকার নতুন নকশার নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গাজীপুরের দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (টাঁকশাল) এরই মধ্যে এসব নোট ছাপার কাজ শুরু করেছে।  জানা গেছে, নতুন নোটে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি থাকছে না। তার পরিবর্তে জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি ও আগের নকশা ফিরে আসছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঈদের আগেই নতুন নকশার নোট বাজারে আসবে। এ নিয়ে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে। নোট ছাপানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে ঠিক কোন নোট কবে আসবে, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, টাঁকশালে ২০ টাকার নোটের ছাপানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী সপ্তাহে এ নোটটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরের সপ্তাহে হস্তান্তর করা হবে ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট। এসব নোট কবে বাজারে ছাড়া হবে তা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করবে। তিনি জানান, প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস ও অন্য শাখাগুলো এবং পরে ব্যাংকগুলোকে এই নতুন নোট দেওয়া হবে। ঈদের ছুটি শুরুর আগে সীমিত সংখ্যক নোট ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন টাকার যে চাহিদা, তার তুলনায় ছাপা কম হচ্ছে। এর আগে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসহ নোট নিয়ে বিতর্ক ওঠায় গত ১০ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চিঠি দিয়ে নতুন নোট বিনিময় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের শাখায় যেসব নতুন নোট গচ্ছিত আছে, তা বিনিময় না করে সংশ্লিষ্ট শাখায় সংরক্ষণের কথা বলা হয়।  এরপর থেকে নতুন নোটের বিনিময় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাজারে ছেঁড়া-ফাটা নোট বাড়তে থাকে।
আবারও বেড়েছে সোনার দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি কত
আবারও বেড়েছে সোনার দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি কত
আবারও বেড়েছে সোনার দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ৮২৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ মে) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে। বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯২১ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬২ হাজার ২০০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৯ হাজার ২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ১৪ হাজার ৯৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস আরও জানায়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে। সবশেষ গত ১৭ মে দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ১ হাজার ৩৬৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭১৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ১২ হাজার ৯৭৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যা কার্যকর হয়েছিল গত ১৮ মে থেকে। এ নিয়ে চলতি বছর ৩৬ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো সোনার দাম। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ২৪ বার, আর কমেছে মাত্র ১২ বার। আর ২০২৪ সালে দেশের বাজারে মোট ৬২ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৭ বার। সোনার দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮১১ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭২৬ টাকায়।
দুটি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেলো কাজী অ্যান্ড কাজী টি 
দুটি শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেলো কাজী অ্যান্ড কাজী টি 
ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ, উৎপাদন, বিপণনকে উৎসাহিত করতে পঞ্চম ‘জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৫’ প্রদান করেছে সরকার। আটটি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এ বছর ‘বৈচিত্র্যময় চা’ বাজারজাত এবং ‘দৃষ্টিনন্দন ও মানসম্পন্ন চা’ মোড়ক ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ হিসেবে দুটি পুরস্কার পেয়েছে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে পুরস্কার দুটি গ্রহণ করেন কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদ। বুধবার (২১ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের হাত থেকে পুরস্কার দুটি গ্রহণ করেন কাজী ইনাম আহমেদ। এ সময় বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এবং বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অন্য ছয়টি ক্যাটাগরি ছাড়াও দুটি বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। একর প্রতি সর্বোচ্চ উৎপাদনকারী চা বাগান ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে ডিনস্টন চা বাগান। সর্বোচ্চ গুণগত চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে মধুপুর চা বাগান। শ্রেষ্ঠ চা রফতানিকারক হয়েছে দি কনসোলিডেটেড টি অ্যান্ড ল্যান্ডস কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড ফিনলে। শ্রেষ্ঠ ক্ষুদ্রায়তন চা উৎপাদনকারী হয়েছেন পঞ্চগড়ের এবিএম আখতারুজ্জামান। শ্রমিক কল্যাণের ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠ চা বাগান নির্বাচিত হয়েছে মির্জাপুর চা বাগান। শ্রেষ্ঠ চা-পাতা চয়নকারী (শ্রমিক সম্পর্কিত পুরস্কার) পেয়েছেন নেপচুন চা বাগানের শ্রমিক জেসমিন আক্তার। এছাড়া এ বছর সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরি এবং সর্বোচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন চা উৎপাদনকারী বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে দুটি বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আট ক্যাটাগরিতে জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৫ প্রদান করা হয়। এছাড়াও জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে এ বছর সর্বোচ্চ চা উৎপাদনকারী কারখানা ক্যাটাগরিতে দুটি বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন। এর আগে বেলুন উড়িয়ে পঞ্চম জাতীয় চা দিবসের কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পরে তিনি চা মেলায় বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি শাহ মইনুদ্দিন হাসান, বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি কামরান টি রহমান, জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৪ বিজয়ী চা শ্রমিক জেসমিন আক্তার এবং চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নৃপেন পাল।