শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল)। ব্যাংকটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা চেয়েছে ব্যাংকটির সাবেক পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে বর্তমান রেজুলেশন স্কিমও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসআইবিএলের সাবেক চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা শেয়ারধারী মেজর (অব.) ডা. মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সোমবার (২৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আবেদন জমা দেয়। তাদের দাবি, সঠিক নীতিগত ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এসআইবিএলকে আবারও একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।
আবেদনকারীরা এসআইবিএলকে পুনরায় স্বাধীনভাবে পরিচালনার সুযোগ চেয়েছেন। এক্ষেত্রে ব্যাংক রেজুলেশন আইন-২০২৬-এর কথা উল্লেখ করেন তারা। তাদের দাবি, অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্তে এসআইবিএলের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এতে করে ব্যাংকের স্পন্সর ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদেরও আস্থা কমেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত করে প্রকৃত মালিক ও যোগ্য পরিচালকদের মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা গেলেই বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠা সম্ভব।
ঘুরে দাঁড়ানোর রোডম্যাপ
ব্যাংকটিকে পুনরুদ্ধারের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা ও কৌশলগত রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এতে সম্পদ পুনরুদ্ধার, গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং টেকসই ব্যাংকিং কাঠামো গড়ার একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে ঋণ আদায় জোরদার করে ২০২৬ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। এছাড়া ৩০ শতাংশ মন্দ ঋণ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিতে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সম্পদ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি মানসম্পন্ন সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে তারল্য বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবেশ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (এসএমই) বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরোনো রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের পুনরায় ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে ছোট আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। অন্যদিকে বড় আমানতকারীদের জন্য নির্দিষ্ট পেমেন্ট শিডিউল ও নতুন আকর্ষণীয় সঞ্চয় স্কিম চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্র্যান্ড ইমেজ পুনর্গঠনে গ্রাহক সমাবেশ ও সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ঋণ সহায়তা ও নতুন বোর্ড
কৌশলগত রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ সহায়তা চেয়েছে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই ঋণ পরিশোধে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট আট বছর সময় চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বর্তমান রেজুলেশন স্কিম স্থগিত করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের অনুমোদন এবং বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি জানান প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। তারা বলছেন, প্রশাসক-নির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে বোর্ড-চালিত সুশাসনই গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।




