ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ইউনিয়ন ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, ১৪৮ কর্মকর্তা চিহ্নিত

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক

  ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫৬
ছবি: সংগৃহীত

কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ২০ হাজার ৮৩১ দশমিক ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। ২৮৯টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এই ঋণ ছাড় করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, যাচাই-বাছাই না হওয়ায় এটি এখন খেলাপি ঋণ।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে এ ঘটনায় দায়ী ১৪৮ কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন ব্যাংকটির সাবেক বেশ কয়েকজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। সেই তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

এ ছাড়া ক্ষমতার পালাবদলে ইউনিয়ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনেও (দুদক) জমা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই দুদক থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়দায়িত্ব খুঁজতে মাঠে নেমেছে একটি অনুসন্ধানকারী দল।

জানতে চাইলে অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউনিয়ন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একটা অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দিয়েছে। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ইতোমধ্যেই প্রকাশ্য অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান শেষে কমিশনের অনুমোদক্রমে দায়ী কর্মকর্তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

দুদকে পাঠানো ওই চিঠির সংক্ষিপ্ত বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদন এবং ইউনিয়ন ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখিত বিনিয়োগ ও অন্যান্য বিষয়ে সংঘটিত গুরুতর অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তালিকা।

দায়ী কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমডি এ বি এম মোকাম্মেল হক চৌধুরী, সাবেক এমডি আলী নেওয়াজ, সাবেক এফএভিপি মো. মুনিরুল ইসলাম, সাবেক এসভিপি কাজী আবুল মনজুর, সাবেক ভিপি আবু কাউছার, সাবেক এভিপি মো. শাহরিয়ার রউফ, সাবেক এভিপি মোহাম্মাদ সিরাজুল কবির, সাবেক এসভিপি সাজ্জাদ করিম, সাবেক ভিপি রিয়াদ মোহাম্মদ চৌধুরী, সাবেক এসভিপি মো. আলী নওশাদ চৌধুরী, সাবেক এফএভিপি মো. এরফান আলী, সাবেক এসভিপি এম রেজাউল করিম, সাবেক ভিপি মোহাম্মাদ আবুল কাসেম, সাবেক এফএভিপি মো. এনামুল ইসলাম, সাবেক এফএভিপি সৈয়দ আবদুল্লাহ আল মাসুম, সাবেক এভিপি এরফানুল হক হাক্কানি, সাবেক এভিপি এনামুল ইলাহী, সাবেক এসভিপি ফৌজিয়া রহমান, সাবেক এসপিও ফাতেমা নাসরিন, সাবেক পিও মো. আব্দুল কাদের, সাবেক এসইভিপি মো. নজরুল ইসলাম মুন্সি, সাবেক এসএভিপি মো. বশির উদ্দিন সিকদার, সাবেক এভিপি কাজী মো. ইয়াকুব, সাবেক এফএভিপি শাহ মো. গোলাম সরোয়ার চৌধুরী, সাবেক এভিপি রেজাউল হক, সাবেক এভিপি নন্দিত রহমান তাজবী, সাবেক এফএভিপি নিয়াজ মোহাম্মাদ খান, সাবেক এসএভিপি মো. মনসুর আহমেদ, সাবেক এসএভিপি মো. হাসান রাশেদুর রহমান, সাবেক এসপিও সুমিত দাস, সাবেক এভিপি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাবেক এসপিও বিলকিস আক্তার, সাবেক পিও আরাফাত আহমেদ, সাবেক জেও মো. ইউসুফ আলী, সাবেক এফএভিপি তৌহিদুল ইসলাম, সাবেক এসপিও মো. কামরুল ইসলাম, সাবেক এভিপি মো. নুরুল কবীর, সাবেক এসপিও মো. সালেকুর রহমান, সাবেক এসএভিপি মো. আবু মুছা, সাবেক এসপিও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, সাবেক এফএভিপি মো. রফিকুল ইসলাম ইসলামাবাদী, সাবেক এভিপি মো. আব্দুল মজিদ, সাবেক এসও মো. সোহানুর রহমান খান, সাবেক সিনিয়র অফিসার শাহ মো. মাহতাবুদ্দিন আল–মামুন, সাবেক এসইভিপি সাইফুল আজম, সাবেক এভিপি মুহাম্মদ রাশিদ সহিদ, সাবেক এভিপি আবুল হাসান মো. তারেক, সাবেক অফিসার মো. আব্দুর রহিম, সাবেক এভিপি নাহিয়ান রহমান, সাবেক পিও সুধি সুলতানা।

সাবেক এফএভিপি মাহফুজুর রহমান খান, সাবেক এসও কে এ বি এম ওয়াহিদ ইকবাল সামি, সাবেক এভিপি মাহবুব ইমরান চৌধুরী, সাবেক এসপিও আমিন জামায়েল খন্দকার, সাবেক এসপিও মোস্তফা মাহমুদ মাহিন, সাবেক জেও মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সাবেক ভিপি আব্দুল মালেক, সাবেক ভিপি মো. আব্দুল হালিম, সাবেক এফএভিপি আয়েশা হুমায়ারা, সাবেক পিও জাকির হোসাইন, সাবেক এভিপি শওকত ওসমান চৌধুরী, সাবেক ভিপি মোহাম্মদ খালেদ হোসেন, সাবেক এসএভিপি মো. আবুল খায়ের, সাবেক পিও মো. আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী, সাবেক এসও ফরিদুল হক চৌধুরী, সাবেক এসভিপি ফিরোজ মাহমুদ, সাবেক এভিপি শিল্পি দত্ত, সাবেক এফএভিপি মনিকা চৌধুরী, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শওকতুর রহমান, সাবেক এসিও মুসতাক আহমেদ, সাবেক জেও মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম, সাবেক এসপিও মোহাম্মদ জহিরুল আলম, সাবেক এসএভিপি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সাবেক এসপিও আবু সায়েম মো. নাঈম উদ্দীন, সাবেক অফিসার এ এস এম নুরুল আফসার, সাবেক অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক পিও সৈকত দাস, সাবেক অফিসার মো. আলমগীর, সাবেক সিনিয়র অফিসার আহমেদ শাফা, সাবেক এভিপি শফিকুল আলম শফিক, সাবেক এসপিও শাহনেওয়াজ চৌধুরী, সাবেক এসও মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক এসপিও মো. মইনুল হাসান, সাবেক পিও মকসুদ করিম চৌধুরী, সাবেক কর্মকর্তা মো. সাইফুদ্দীন চৌধুরী, সাবেক অফিসার মো. ফখরুদ্দীন, সাবেক এসও জসিম উদ্দীন, সাবেক এসপিও মো. কামরুল আজাদ, সাবেক এসপিও মো. আল মুসতানসির, সাবেক এসও মো. হাসান শহীদ সরওয়ার উদ্দিন, সাবেক এফএভিপি এএইচএম আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, সাবেক এসও মোহাম্মদ মিছবাহুল হক, সাবেক পিও মো. বোরহান উদ্দিন, সাবেক অফিসার মো. ফারুখ খান চৌধুরী, সাবেক এসও সাইফুল আলম চৌধুরী, সাবেক এসপিও ইমরান দিদার, সাবেক এসপিও মোসলেই উদ্দীন, সাবেক পিও আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক পিও রয়েল বড়ুয়া, সাবেক এসও মো. আবু নাইম চৌধুরী।

এ ছাড়া রয়েছেন সাবেক পিও ফোরকান উদ্দীন, সাবেক পিও মোহাম্মদ মাসুদ, সাবেক এসপিও মো. ইকবাল হোসাইন, সাবেক এসও মোহাম্মাদ বেলাল হোসেন চৌধুরী, সাবেক এসপিও মো. মিনহাজুর রহমান, সাবেক পিও হেলাল আহমেদ খান, সাবেক এসপি মোহাম্মাদ মোরশেদুল আলম, সাবেক পিও মো. বেলাল চৌধুরী, সাবেক পিও মো. বাহারুল ইসলাম, সাবেক এসও মোহাম্মদ আকরামুল হক, সাবেক এভিপি মো. বায়োজিদ হাসান, সাবেক সিনিয়র অফিসার মো. জামাল উদ্দিন, সাবেক পিও মুহাম্মদ আলী, সাবেক এফএভিপি ওমর ফারুক, সাবেক এমডি আব্দুল হামিদ মিয়া, সাবেক এমডি সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সালেহ, সাবেক এএমডি এসএএম সলিমুল্লাহ, সাবেক ডিএমডি মো. হাবিবুর রহমান, সাবেক এএমডি হাছান ইকবাল, সাবেক ডিএমডি শফিউদ্দীন আহমেদ, সাবেক ডিএমডি মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক ডিএমডি মো. জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক ডিএমডি মো. আজাদুর রহমান, সাবেক ইভিপিও হেড অবআরএমডি এন্ড আইএডি গোলাম মোস্তাফা, সাবেক এসইভিপিও হেড অব আইসিসিডি জয়ন্ত কুমার মন্ডল, সাবেক এসভিপিও হেড অব ট্রেজারি আব্দুল হান্নান খান, সাবেক এসভিপিও কোম্পানি সেক্রেটারি এন্ড হেড অব এইসআরডি মনছুর আহমদ, সাবেক ভিপিও হেড অব আইএডি গাজী মাহমুদ হাছান, সাবেক ভিপিও হেড অব আইডি মো. রুহুল আমিন, সাবেক হেড অব এফএডি এন্ড সিএফও ইস্কান্দর পারভেজ, সাবেক ভিপিও হেড অব আইডি মো. সালাহ উদ্দীন, সাবেক এসএভিপিও ইন-চার্জ অব আরএমডি মোহাম্মেদ মাহফুজুর রহমান, সাবেক এভিপি নুরুল ইসলাম, সাবেক এভিপি মো. মাহবুব আলম, সাবেক এভিপি (আইএডি) আব্দুল মতিন, সাবেক এভিপি মোহাম্মাদ তৌহিদুল মাওলা, সাবেক এভিপি মো. মাহবুবুল আলম, সাবেক এফএভিপি একেএম মোরশেদ আলম, সাবেক এফএভিপি শঙ্কর কুমার রায়, সাবেক এফএভিপি মো. নুরুজ্জামান শুভ্র, সাবেক এসপিও মো. আরিফুজ্জামান, সিডিসিএস; সাবেক এসপিও মো. আবছারুল আলম, সাবেক সিনিয়র অফিসার নিশাত নাসরিন, সাবেক সিনিয়র অফিসার তাহমিনা আকতার, সাবেক সিনিয়র অফিসার নাজিয়া আমিন, সাবেক অফিসার ছোটন সিং, সাবেক অফিসার ওয়াহিদ হোসাইন সিফাত, সাবেক অফিসার মো. আবু হুরায়রা চৌধুরী।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে যা আছে

প্রতিবেদনে ১৪৮ কর্মকর্তা পরস্পর যোগসাজশ ও সহযোগিতায় সংঘবদ্ধভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসিরপ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া প্রাপ্ত তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুমিত হয় যে তারা আইনি প্রক্রিয়া এড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশত্যাগের প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকতে পারেন, যা তদন্ত কার্যক্রম ও অর্থ উদ্ধারের প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, তাদের অর্জিত সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করা একান্ত জরুরি। অন্যথায়, তছরুপ করা অর্থ গোপন, স্থানান্তর বা বেহাত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে রাষ্ট্র, ব্যাংক ও সাধারণ আমানতকারী অপূরণীয় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

চিঠিতে দুদককে বেশ কয়েকটি অনুরোধ করে ইউনিয়ন ব্যাংক বলেছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও দায়িত্বে চরম অবহেলার মাধ্যমে ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসির প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত) এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে তছরুপকৃত অর্থ উদ্ধারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ; তদন্তের স্বার্থে ও অর্থ উদ্ধারের নিশ্চয়তার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সব ব্যাংক হিসাবসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দ্রুত জব্দ/ক্রোক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; গুরুতর অনিয়ম ও আর্থিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যাতে আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে বিদেশে পালাতে না পারেন, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ।

টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষদের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হবে। আজ সোমবার (১১ মে) থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য এ কার্যক্রম চলবে। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনের পশ্চিম পাশে টিসিবির এই ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। এতে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি (ঢাকা জেলাসহ), চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি (চট্টগ্রাম জেলাসহ), অন্য ৬ টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে সর্বমোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ছাড়া) প্রতিদিন ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের কাছে ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যে কোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। ১৩০ টাকা কেজি দরে ২ লিটার তেল, ৮০ টাকায় ১ কেজি চিনি ও ৭০ টাক কেজি দরে মিলবে ২ কেজি মসুর ডাল। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় ৭২ লাখ টিসিবির কার্ডধারী পরিবারের কাছে চলতি মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। তবে কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতিমাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার (১১ মে) থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হচ্ছে টিসিবির বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম, যা চলবে টানা ১০ দিন। রোববার (১০ মে) টিসিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে সাশ্রয়ী দামে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রির এই কর্মসূচি আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান কার্ডভিত্তিক ভর্তুকি কার্যক্রমের পাশাপাশি এবার অতিরিক্তভাবে ৭২০টি ট্রাক মাঠে নামানো হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরী ও জেলা এলাকায় থাকবে ৫০টি ট্রাক, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ২০টি। এ ছাড়া অন্য ছয় বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ১৫টি করে এবং বাকি ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাক পরিচালিত হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ ক্রেতা পণ্য কিনতে পারবেন। সেই হিসাবে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে টিসিবি। ট্রাকসেলে একজন ক্রেতা কিনতে পারবেন—প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ৮০ টাকায় এক কেজি চিনি ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল। টিসিবি আরও জানিয়েছে, মে মাসজুড়ে প্রায় ৭২ লাখ কার্ডধারী পরিবারের কাছেও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। এ জন্য প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ টন পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবে কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পণ্যের পরিমাণ ও দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ দেশের সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আমির খসরু বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কতগুলো কঠোর মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করেছে সরকার। যেকোনো প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে তার ভ্যালু, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।  তিনি বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা, আউটপুট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১৩০০ প্রকল্পের অনেকগুলোতেই কোনো রিটার্ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা হয়নি বলে সেগুলো সরকার বাতিল করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সুফল বা বেনিফিট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তৃতীয়ত যারা সবসময় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বাংলাদেশে এই কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও সরকার সাহসের সঙ্গে এই পথেই এগোচ্ছে। সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, একজন নারী সারাদিন সংসার সামলান, পরিবারের সবার দেখভাল করেন, অথচ ঘর ও সমাজ কোথাও তার যথাযথ স্বীকৃতি নেই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি তার হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। নারীরা পরিবারের বাজেট পরিচালনায় সবচেয়ে দক্ষ। তারা সীমিত আয়ের মধ্যেও সংসার চালাতে জানেন এবং সঞ্চয় করতে পারেন। তাদের হাতে অর্থ গেলে সেটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সব কৃষকের ব্যাংকঋণে প্রবেশাধিকার নেই। তাই সরাসরি কৃষকের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা ফার্মার্স কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে তারা অন্তত সার ও বীজ কেনার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক বোঝা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বয়ে নিয়েও বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কোনো একটি দলের নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। 
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
পিরোজপুরে উৎপাদিত ঘৃত্তকুমারী জাতের মরিচ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ জাতের এই মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। মরিচ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ পরিবার নিজেদের চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় বোম্বাই মরিচ গাছ রোপণ করে থাকে। তবে নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এটি এখন বাণিজ্যিক আকার ধারণ করেছে। প্রথমে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য চাষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এর লাভজনক দিক বিবেচনায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে এ মরিচের চাষ হচ্ছে। আল আমিন ও বাবু হালদার নামে দুই কৃষক জানান, একটি গাছ উৎপাদন মৌসুমে টানা সাত থেকে আট মাস ফল দেয়। প্রতিটি গাছে চারশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়। মৌসুমভেদে প্রতিটি মরিচ ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ফলে অল্প জায়গায় অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। জিয়ারুল নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বিদেশে মরিচ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে এর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘বোম্বাই মরিচ’ নামে পরিচিত ঘৃত্তকুমারী জাতের এই মরিচে রয়েছে তীব্র ঝাল ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে পিরোজপুর থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচের স্বাদ ও ঝালের বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এ খাত থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, বোম্বাই মরিচ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
আখাউড়া স্থলবন্দর / ত্বরিত রপ্তানি, মন্থর আমদানি
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট আখাউড়া স্থলবন্দর। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয় অর্থ। কিন্তু এই বন্দর প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরেও রপ্তানি ও আমদানিতে উল্লেখযোগ্য ভারসাম্য ফেরেনি। নানা সময়ে জটিলটা দেখা দিলেও রপ্তানির গতি বলা চলে এখনও ত্বরিত। আমদানিতে মন্থরতার কারণে অবৈধপথে চোরাই পণ্য কারবারিদের দৌরাত্ম্য লাগামহীন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিগত সীমাবদ্ধতা, নিষেধাজ্ঞা এবং আমদানি সংকুচিত হওয়ায় বন্দরের সামগ্রিক বাণিজ্যপ্রবাহকে অনেকটা ব্যাহত করছে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে নীতিগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ জন্য বন্দর দিয়ে আমাদানিতে জোর দিতে হবে। এতে চোরাকারবারিদের অবৈধ বাজারের সিন্ডিকেট স্তিমিত করা সম্ভব হবে। কমে আসবে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি। আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তারা চান—নিষিদ্ধ ছাড়া সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হোক। এতে বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। রপ্তানিতেও ধাক্কা বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির সরাসরি প্রভাব পড়ে এই বন্দরে। পরিস্থিতি জটিল হয় গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়; ভারত সরকার বাংলাদেশের কয়েকটি স্থলবন্দর দিয়ে কিছু উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাৎক্ষণিক আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। ব্যবসায়ী ও আখাউড়া শুল্ক স্টেশনের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা গেছে। বাড়তে শুরু করেছে পণ্য রপ্তানি। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, পাথর, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রাজিব ভূঁইয়া বলেন, কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে রপ্তানি আবার বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলো শুরু না হলে পূর্ণ সম্ভাবনা আসবে না। এসব পণ্য রপ্তানির অনুমতি মিললে আয় যেমন বাড়বে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বৃদ্ধি পাবে। নেতিবাচক প্রভাব ১৯৯৪ সাল থেকে চালু হওয়া এই বন্দর দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়ে থাকে। আমদানির নিম্নগতি বন্দর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে ভারত থেকে যেসব পণ্য আনার অনুমতি রয়েছে, তার বেশিরভাগই ত্রিপুরার বাইরে থেকে আনতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা কমে যাচ্ছে, ফলে আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে। ব্যবসায়ীদের দাবির একটা হিসাব পাওয়া যায় শুল্ক স্টেশনের তথ্য থেকে। দেখা যাচ্ছে চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে শুধু চাল, জিরা ও আগরবাতি আমদানি হয়েছে; যা মোট এক কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকার পণ্য। এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ টাকার পণ্য। বিষয়টি স্বীকার করে শুল্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও নিষেধাজ্ঞার বাধা দূর করা গেলে বন্দরটি আবারও দেশের অন্যতম কার্যকর বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারবে। আখাউড়া স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার কাজী আল মাসুম বলেন, যেসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলোই আগে বেশি রপ্তানি হতো। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
ত্বরিত রপ্তানি, মন্থর আমদানি
টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষদের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হবে। আজ সোমবার (১১ মে) থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য এ কার্যক্রম চলবে। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনের পশ্চিম পাশে টিসিবির এই ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। এতে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি (ঢাকা জেলাসহ), চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি (চট্টগ্রাম জেলাসহ), অন্য ৬ টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে সর্বমোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ছাড়া) প্রতিদিন ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের কাছে ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যে কোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। ১৩০ টাকা কেজি দরে ২ লিটার তেল, ৮০ টাকায় ১ কেজি চিনি ও ৭০ টাক কেজি দরে মিলবে ২ কেজি মসুর ডাল। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় ৭২ লাখ টিসিবির কার্ডধারী পরিবারের কাছে চলতি মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। তবে কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতিমাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার (১১ মে) থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হচ্ছে টিসিবির বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম, যা চলবে টানা ১০ দিন। রোববার (১০ মে) টিসিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে সাশ্রয়ী দামে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রির এই কর্মসূচি আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান কার্ডভিত্তিক ভর্তুকি কার্যক্রমের পাশাপাশি এবার অতিরিক্তভাবে ৭২০টি ট্রাক মাঠে নামানো হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরী ও জেলা এলাকায় থাকবে ৫০টি ট্রাক, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ২০টি। এ ছাড়া অন্য ছয় বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ১৫টি করে এবং বাকি ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাক পরিচালিত হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ ক্রেতা পণ্য কিনতে পারবেন। সেই হিসাবে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে টিসিবি। ট্রাকসেলে একজন ক্রেতা কিনতে পারবেন—প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ৮০ টাকায় এক কেজি চিনি ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল। টিসিবি আরও জানিয়েছে, মে মাসজুড়ে প্রায় ৭২ লাখ কার্ডধারী পরিবারের কাছেও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। এ জন্য প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ টন পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবে কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পণ্যের পরিমাণ ও দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ দেশের সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আমির খসরু বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কতগুলো কঠোর মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করেছে সরকার। যেকোনো প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে তার ভ্যালু, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।  তিনি বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা, আউটপুট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১৩০০ প্রকল্পের অনেকগুলোতেই কোনো রিটার্ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা হয়নি বলে সেগুলো সরকার বাতিল করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সুফল বা বেনিফিট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তৃতীয়ত যারা সবসময় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বাংলাদেশে এই কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও সরকার সাহসের সঙ্গে এই পথেই এগোচ্ছে। সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, একজন নারী সারাদিন সংসার সামলান, পরিবারের সবার দেখভাল করেন, অথচ ঘর ও সমাজ কোথাও তার যথাযথ স্বীকৃতি নেই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি তার হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। নারীরা পরিবারের বাজেট পরিচালনায় সবচেয়ে দক্ষ। তারা সীমিত আয়ের মধ্যেও সংসার চালাতে জানেন এবং সঞ্চয় করতে পারেন। তাদের হাতে অর্থ গেলে সেটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সব কৃষকের ব্যাংকঋণে প্রবেশাধিকার নেই। তাই সরাসরি কৃষকের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা ফার্মার্স কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে তারা অন্তত সার ও বীজ কেনার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক বোঝা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বয়ে নিয়েও বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কোনো একটি দলের নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। 
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
পিরোজপুরে উৎপাদিত ঘৃত্তকুমারী জাতের মরিচ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ জাতের এই মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। মরিচ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ পরিবার নিজেদের চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় বোম্বাই মরিচ গাছ রোপণ করে থাকে। তবে নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এটি এখন বাণিজ্যিক আকার ধারণ করেছে। প্রথমে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য চাষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এর লাভজনক দিক বিবেচনায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে এ মরিচের চাষ হচ্ছে। আল আমিন ও বাবু হালদার নামে দুই কৃষক জানান, একটি গাছ উৎপাদন মৌসুমে টানা সাত থেকে আট মাস ফল দেয়। প্রতিটি গাছে চারশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়। মৌসুমভেদে প্রতিটি মরিচ ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ফলে অল্প জায়গায় অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। জিয়ারুল নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বিদেশে মরিচ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে এর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘বোম্বাই মরিচ’ নামে পরিচিত ঘৃত্তকুমারী জাতের এই মরিচে রয়েছে তীব্র ঝাল ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে পিরোজপুর থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচের স্বাদ ও ঝালের বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এ খাত থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, বোম্বাই মরিচ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।