এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর উন্নয়ন ও সংকট মোকাবিলায় ২০২৫ সালে রেকর্ড ২৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংস্থাটির প্রকাশিত ‘অ্যানুয়াল রিপোর্ট ২০২৫’ থেকে এ তথ্য জানা গেছে, যা আগের ২০২৪ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, এডিবির নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া এই ২৯ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে আরও ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। যার ফলে ৩৩ লাখেরও বেশি মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে। এই অর্থায়নের প্রকল্প থেকে সরাসরি সুবিধা পাবেন ১৮ কোটিরও বেশি মানুষ। ২০২৫ সালে এডিবির অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল বেসরকারি খাতের উন্নয়ন। এ খাতে এডিবি ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সরাসরি বিনিয়োগ করেছে।
এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেন, ‘২০২৫ সালে এডিবি নজিরবিহীন সহায়তা দিয়েছে। এটি এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এডিবির দ্রুত ও বড় পরিসরে কাজ করার সক্ষমতা প্রমাণ করে।’
বেসরকারি খাতের উন্নয়ন
২০২৫ সালে এডিবির অন্যতম অগ্রাধিকার ছিল বেসরকারি খাতের উন্নয়ন। এ খাতে এডিবি ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সরাসরি বিনিয়োগ করেছে। এ ছাড়া সরকারি খাতের অর্ধেক বিনিয়োগই ব্যয় করা হয়েছে এমন অবকাঠামো ও সংস্কার কাজে, যা পরোক্ষভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।
আঞ্চলিক ভিত্তিতে বরাদ্দের চিত্র
এডিবির অর্থায়নের একটি বড় অংশ দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ৯ বিলিয়ন ডলার, মধ্য-পশ্চিম এশিয়া ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার, পূর্ব এশিয়া ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ৬৮০ মিলিয়ন ডলার এবং আঞ্চলিক প্রকল্প ৩০২ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অর্থায়ন করা হয়েছে ফিন্যান্স (অর্থ), পরিবহন এবং পাবলিক সেক্টর ম্যানেজমেন্ট খাতে।
যুগান্তকারী প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
সহায়তার মান বাড়াতে ২০২৫ সালে এডিবি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এনেছে। সেগুলো হলো-
চার্টার সংশোধন: ব্যাংকটির ঋণের সীমাবদ্ধতা তুলে দিতে সনদে সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে শেয়ারহোল্ডারদের থেকে নতুন মূলধন না নিয়েই ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
জ্বালানি নীতি হালনাগাদ: সদস্য দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ক্রিটিক্যাল মিনারেলস ভ্যালু চেইন: নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদের টেকসই ব্যবহারের নতুন কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
ক্রয় প্রক্রিয়া: কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কেনাকাটা বা প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশের মালিকানাধীন, যার মধ্যে ৫০টি দেশই এই অঞ্চলের। সংস্থাটি এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।




