ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

ব্যাংক থেকে তিন মাসে ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে চায় সরকার

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক

  ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৫
বাংলাদেশ ব্যাংক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের লোগো। ফাইল ছবি

ব্যাংক থেকে তিন মাসে ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে চায় সরকার। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাসে (এপ্রিল-জুন) নতুন ঋণের এ লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা সরকারের পুরো অর্থ বছরের ঋণের সীমা অতিক্রম করছে। পুরো অর্থ বছরে ব্যাংক ঋণে লক্ষ্য নির্ধারণ করা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি। আর গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মোট ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকার প্রতি বছরই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। এবার যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে খরচ বাড়লেও রাজস্ব আয় সেভাবে বাড়েনি। আবার বিদেশি উৎস থেকেও আশানুরূপ ঋণ মিলছে না। ফলে সরকারের ঋণ চাহিদা মেটাতে ট্রেজারি বিল, বন্ডে আগ্রাসী কায়দায় নিলাম ঋণ নিচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের মাত্র ৪৪ দিনে ৪১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এভাবে ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণ কমে যাবে। এতে উৎপাদন কমবে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। যা বেকারত্ব বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ড-বিলের তথ্য বলছে, সরকার ট্রেজারি বন্ড-বিলের মাধ্যমে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র ৩ মাসে নতুন করে ১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তার মধ্যে বিলের মাধ্যমে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের মাধ্যমে ৩৯ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। আর বিলের ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার মধ্যের ৯১ দিন মেয়াদি ঋণ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, ১৮২ দিনের জন্য ৩৬ হাজার কোটি টাকা, এবং ৩৬৪ দিন মেয়াদের ৩০ হাজার কোটি নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে বন্ডের মাধ্যমে ৩৯ হাজার কোটি ঋণের মধ্যে ২ বছর মেয়াদের লক্ষ্য হলো ১১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, ৩ বছর মেয়াদি ১ হাজার ৫০০ কোটি, ৫ বছর মেয়াদি ৯ হাজার ৫০০ কোটি, ১০ বছর মেয়াদি ৯ হাজার ৫০০ কোটি, ১৫ বছর মেয়াদি ৩ হাজার ৫০০ কোটি, এবং ২০ বছর মেয়াদি সরকারে ঋণের লক্ষ্য ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, তিন মাস বাকী থাকতেই যেহেতু ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। আর নতুন ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিশাল লক্ষ্য নির্ধারণ সরকারের ঋণকে আরো উস্কে দেবে। এর মূল কারণ হলো রাজস্ব আদায় না হওয়া এবং ভর্তুকি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। আর ব্যাংকগুলো তো এখন ঝুঁকিমুক্ত ঋণ দিতে চায়। সরকারকে ১০ শতাংশ সুদে ঋণ দিলেও তাদের লাভ। কারণ এখানে ঝুঁকি নাই। আর ব্যক্তি খাতে ১৪ শতাংশ সুদেও এখন তারা ঋণ দিতে চায় না। কারণ ফেরত না আসারও আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। তবে সংশোধিত বাজেটে ৯৯ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল মাত্র ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। আর গত অর্থ বছরের পুরে সময় সরকার ব্যাঙক ঋণ নেয় মাত্র ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। অথচ চলতি অর্থবছরের গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকার নিয়েছে এক লাখ ৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণ স্থিতি ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুন করে ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ৩০ মার্চ পর্যন্ত নেওয়া ঋণের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করেছে ৩২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকে সরকারের ঋণ স্থিতি বেড়ে এক লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা হয়েছে। আর বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকার ৯ মাসে নিয়েছে ৭৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। এতে ঋণ স্থিতি ঠেকেছে ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের শুরুর দিকেও সরকারের ঋণ চাহিদা কম ছিল। গত অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধ বেশি ছিল ৫০৩ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক সময়ে সর্বনিম্ন পর্যায়ের। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদহার, খেলাপি ঋণের চাপ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার কারণে এই খাতে গতি ফিরছে না।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা ভালো নয়। তাই এখনই বড় চাপ নাও পড়তে পারে। তবে সরকার যদি ধারাবাহিকভাবে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে তা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রথম আট মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় শুল্ক-কর আদায় কম হয়েছে ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। আর গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৮ হাজার ৯৮৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। এই টাকার মধ্যে ৬৮ হাজার ২২৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা নিয়েছিল ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। আর বাকী ৪০ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা নিয়েছে বিএনপি সরকার।

অপরদিকে, আমদানিনির্ভর জ্বালানি হওয়ায় এই অতিরিক্ত ৩৯ হাজার কোটি টাকার পুরোটা বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে এ অর্থ ব্যয় করতে চায় না সরকার। তাই আগামী জুন পর্যন্ত ৩১৫ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতি গবেষক হেলাল আহমেদ খান বলেন, সংকট মোকাবেলায় সরকারের ঋণ গ্রহণ করা অনেকটাই স্বাভাবিক ঘটনা। তবে কোনোভাবেই যেন দেশ দীর্ঘ মেয়াদে ঋণের ফাঁদে না পড়ে এটি সরকারের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। তবে বর্তমান বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে সরকারকে বিভিন্ন খাত থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করা উচিত। যাতে অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করা যায়।

টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষদের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হবে। আজ সোমবার (১১ মে) থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য এ কার্যক্রম চলবে। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনের পশ্চিম পাশে টিসিবির এই ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। এতে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি (ঢাকা জেলাসহ), চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি (চট্টগ্রাম জেলাসহ), অন্য ৬ টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে সর্বমোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ছাড়া) প্রতিদিন ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের কাছে ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যে কোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। ১৩০ টাকা কেজি দরে ২ লিটার তেল, ৮০ টাকায় ১ কেজি চিনি ও ৭০ টাক কেজি দরে মিলবে ২ কেজি মসুর ডাল। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় ৭২ লাখ টিসিবির কার্ডধারী পরিবারের কাছে চলতি মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। তবে কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতিমাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার (১১ মে) থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হচ্ছে টিসিবির বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম, যা চলবে টানা ১০ দিন। রোববার (১০ মে) টিসিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে সাশ্রয়ী দামে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রির এই কর্মসূচি আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান কার্ডভিত্তিক ভর্তুকি কার্যক্রমের পাশাপাশি এবার অতিরিক্তভাবে ৭২০টি ট্রাক মাঠে নামানো হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরী ও জেলা এলাকায় থাকবে ৫০টি ট্রাক, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ২০টি। এ ছাড়া অন্য ছয় বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ১৫টি করে এবং বাকি ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাক পরিচালিত হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ ক্রেতা পণ্য কিনতে পারবেন। সেই হিসাবে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে টিসিবি। ট্রাকসেলে একজন ক্রেতা কিনতে পারবেন—প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ৮০ টাকায় এক কেজি চিনি ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল। টিসিবি আরও জানিয়েছে, মে মাসজুড়ে প্রায় ৭২ লাখ কার্ডধারী পরিবারের কাছেও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। এ জন্য প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ টন পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবে কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পণ্যের পরিমাণ ও দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ দেশের সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আমির খসরু বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কতগুলো কঠোর মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করেছে সরকার। যেকোনো প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে তার ভ্যালু, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।  তিনি বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা, আউটপুট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১৩০০ প্রকল্পের অনেকগুলোতেই কোনো রিটার্ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা হয়নি বলে সেগুলো সরকার বাতিল করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সুফল বা বেনিফিট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তৃতীয়ত যারা সবসময় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বাংলাদেশে এই কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও সরকার সাহসের সঙ্গে এই পথেই এগোচ্ছে। সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, একজন নারী সারাদিন সংসার সামলান, পরিবারের সবার দেখভাল করেন, অথচ ঘর ও সমাজ কোথাও তার যথাযথ স্বীকৃতি নেই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি তার হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। নারীরা পরিবারের বাজেট পরিচালনায় সবচেয়ে দক্ষ। তারা সীমিত আয়ের মধ্যেও সংসার চালাতে জানেন এবং সঞ্চয় করতে পারেন। তাদের হাতে অর্থ গেলে সেটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সব কৃষকের ব্যাংকঋণে প্রবেশাধিকার নেই। তাই সরাসরি কৃষকের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা ফার্মার্স কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে তারা অন্তত সার ও বীজ কেনার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক বোঝা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বয়ে নিয়েও বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কোনো একটি দলের নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। 
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
পিরোজপুরে উৎপাদিত ঘৃত্তকুমারী জাতের মরিচ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ জাতের এই মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। মরিচ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ পরিবার নিজেদের চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় বোম্বাই মরিচ গাছ রোপণ করে থাকে। তবে নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এটি এখন বাণিজ্যিক আকার ধারণ করেছে। প্রথমে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য চাষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এর লাভজনক দিক বিবেচনায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে এ মরিচের চাষ হচ্ছে। আল আমিন ও বাবু হালদার নামে দুই কৃষক জানান, একটি গাছ উৎপাদন মৌসুমে টানা সাত থেকে আট মাস ফল দেয়। প্রতিটি গাছে চারশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়। মৌসুমভেদে প্রতিটি মরিচ ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ফলে অল্প জায়গায় অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। জিয়ারুল নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বিদেশে মরিচ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে এর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘বোম্বাই মরিচ’ নামে পরিচিত ঘৃত্তকুমারী জাতের এই মরিচে রয়েছে তীব্র ঝাল ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে পিরোজপুর থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচের স্বাদ ও ঝালের বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এ খাত থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, বোম্বাই মরিচ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
আখাউড়া স্থলবন্দর / ত্বরিত রপ্তানি, মন্থর আমদানি
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট আখাউড়া স্থলবন্দর। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের পণ্য আনা-নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হয় অর্থ। কিন্তু এই বন্দর প্রতিষ্ঠার ৩০ বছরেও রপ্তানি ও আমদানিতে উল্লেখযোগ্য ভারসাম্য ফেরেনি। নানা সময়ে জটিলটা দেখা দিলেও রপ্তানির গতি বলা চলে এখনও ত্বরিত। আমদানিতে মন্থরতার কারণে অবৈধপথে চোরাই পণ্য কারবারিদের দৌরাত্ম্য লাগামহীন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিগত সীমাবদ্ধতা, নিষেধাজ্ঞা এবং আমদানি সংকুচিত হওয়ায় বন্দরের সামগ্রিক বাণিজ্যপ্রবাহকে অনেকটা ব্যাহত করছে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে নীতিগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ জন্য বন্দর দিয়ে আমাদানিতে জোর দিতে হবে। এতে চোরাকারবারিদের অবৈধ বাজারের সিন্ডিকেট স্তিমিত করা সম্ভব হবে। কমে আসবে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি। আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া এশিয়া পোস্টকে বলেন, ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে তারা চান—নিষিদ্ধ ছাড়া সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়া হোক। এতে বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে। রপ্তানিতেও ধাক্কা বন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দেয়। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির সরাসরি প্রভাব পড়ে এই বন্দরে। পরিস্থিতি জটিল হয় গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়; ভারত সরকার বাংলাদেশের কয়েকটি স্থলবন্দর দিয়ে কিছু উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাৎক্ষণিক আখাউড়া স্থলবন্দরের রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। ব্যবসায়ী ও আখাউড়া শুল্ক স্টেশনের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন দেখা গেছে। বাড়তে শুরু করেছে পণ্য রপ্তানি। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, পাথর, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রাজিব ভূঁইয়া বলেন, কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে রপ্তানি আবার বাড়ছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলো শুরু না হলে পূর্ণ সম্ভাবনা আসবে না। এসব পণ্য রপ্তানির অনুমতি মিললে আয় যেমন বাড়বে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও বৃদ্ধি পাবে। নেতিবাচক প্রভাব ১৯৯৪ সাল থেকে চালু হওয়া এই বন্দর দিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য হয়ে থাকে। আমদানির নিম্নগতি বন্দর অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে ভারত থেকে যেসব পণ্য আনার অনুমতি রয়েছে, তার বেশিরভাগই ত্রিপুরার বাইরে থেকে আনতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা কমে যাচ্ছে, ফলে আমদানিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে। ব্যবসায়ীদের দাবির একটা হিসাব পাওয়া যায় শুল্ক স্টেশনের তথ্য থেকে। দেখা যাচ্ছে চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এই বন্দর দিয়ে শুধু চাল, জিরা ও আগরবাতি আমদানি হয়েছে; যা মোট এক কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকার পণ্য। এর মাধ্যমে সরকার রাজস্ব পেয়েছে ৭১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল সাত কোটি ৩১ লাখ টাকার পণ্য। বিষয়টি স্বীকার করে শুল্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও নিষেধাজ্ঞার বাধা দূর করা গেলে বন্দরটি আবারও দেশের অন্যতম কার্যকর বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে পারবে। আখাউড়া স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার কাজী আল মাসুম বলেন, যেসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলোই আগে বেশি রপ্তানি হতো। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আশা করা হচ্ছে।
ত্বরিত রপ্তানি, মন্থর আমদানি
টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
টিসিবির ট্রাকসেল শুরু আজ, কম দামে মিলবে যেসব পণ্য
ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিম্ন আয়ের মানুষদের ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হবে। আজ সোমবার (১১ মে) থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য এ কার্যক্রম চলবে। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় আগারগাঁওয়ে পিএসসি ভবনের পশ্চিম পাশে টিসিবির এই ট্রাকসেল কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিসিবি। এতে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনায় টিসিবির কার্ডধারী নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমের পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি (ঢাকা জেলাসহ), চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২০টি (চট্টগ্রাম জেলাসহ), অন্য ৬ টি বিভাগীয় শহর এবং সংশ্লিষ্ট জেলায় প্রতিটিতে ১৫টি করে এবং অবশিষ্ট ৫৬টি জেলায় ১০টি করে সর্বমোট ৭২০টি ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য (ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল) বিক্রির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকে ২১ মে পর্যন্ত ১০ দিন (শুক্রবার ছাড়া) প্রতিদিন ট্রাক প্রতি ৪০০ জন সাধারণ জনগণের কাছে ট্রাকসেলের মাধ্যমে প্রায় ২৮ দশমিক ৮০ লাখ উপকারভোগীর কাছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৩৯ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। যে কোনো ভোক্তা ট্রাক থেকে পণ্য কিনতে পারবেন। ১৩০ টাকা কেজি দরে ২ লিটার তেল, ৮০ টাকায় ১ কেজি চিনি ও ৭০ টাক কেজি দরে মিলবে ২ কেজি মসুর ডাল। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রায় ৭২ লাখ টিসিবির কার্ডধারী পরিবারের কাছে চলতি মে মাসে প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ মেট্রিক টন পণ্য বিক্রি করা হবে। তবে কার্ডধারী পরিবারের কাছে প্রতিমাসে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডালের পরিমাণ ও মূল্য অপরিবর্তিত থাকবে।
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
ঈদে কত টাকায় মিলবে টিসিবির তেল-চিনি-ডাল
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। সোমবার (১১ মে) থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হচ্ছে টিসিবির বিশেষ ট্রাকসেল কার্যক্রম, যা চলবে টানা ১০ দিন। রোববার (১০ মে) টিসিবির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদ উপলক্ষে সাশ্রয়ী দামে ভোজ্যতেল, চিনি ও মসুর ডাল বিক্রির এই কর্মসূচি আগামী ২১ মে পর্যন্ত চলবে। শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলমান কার্ডভিত্তিক ভর্তুকি কার্যক্রমের পাশাপাশি এবার অতিরিক্তভাবে ৭২০টি ট্রাক মাঠে নামানো হচ্ছে। এরমধ্যে ঢাকা মহানগরী ও জেলা এলাকায় থাকবে ৫০টি ট্রাক, চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলায় ২০টি। এ ছাড়া অন্য ছয় বিভাগীয় শহর ও সংশ্লিষ্ট জেলায় ১৫টি করে এবং বাকি ৫৬ জেলায় ১০টি করে ট্রাক পরিচালিত হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ ক্রেতা পণ্য কিনতে পারবেন। সেই হিসাবে প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় সুবিধা পাবেন বলে জানিয়েছে টিসিবি। ট্রাকসেলে একজন ক্রেতা কিনতে পারবেন—প্রতি লিটার ১৩০ টাকা দরে ২ লিটার ভোজ্যতেল, ৮০ টাকায় এক কেজি চিনি ও ৭০ টাকা দরে দুই কেজি মসুর ডাল। টিসিবি আরও জানিয়েছে, মে মাসজুড়ে প্রায় ৭২ লাখ কার্ডধারী পরিবারের কাছেও ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি অব্যাহত থাকবে। এ জন্য প্রায় ৩৪ হাজার ৮৪৮ টন পণ্য সরবরাহ করা হবে। তবে কার্ডধারীদের জন্য নির্ধারিত পণ্যের পরিমাণ ও দাম আগের মতোই অপরিবর্তিত থাকবে।
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে: অর্থমন্ত্রী
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার বড় প্রকল্পের বদলে সামাজিক কর্মসূচিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ দেশের সাধারণ মানুষকে অর্থনীতির মূলধারায় সম্পৃক্ত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত একটি প্রকল্পের উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আমির খসরু বলেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কতগুলো কঠোর মানদণ্ড বা বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করেছে সরকার। যেকোনো প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে তার ভ্যালু, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা এবং পরিবেশগত প্রভাবকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।  তিনি বলেন, সরকারি টাকা মানেই জনগণের ট্যাক্সের টাকা, তাই প্রতিটি প্রকল্পের পেছনে সুনির্দিষ্ট চিন্তাভাবনা, আউটপুট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে থাকা প্রায় ১৩০০ প্রকল্পের অনেকগুলোতেই কোনো রিটার্ন বা কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই এবং পরিবেশগত দিক বিবেচনা করা হয়নি বলে সেগুলো সরকার বাতিল করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল স্লোগান হলো অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণ বা ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি। শুধু রাজনীতিতে গণতন্ত্র থাকলে চলবে না, অর্থনীতিতেও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমির তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত, বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, অর্থনীতির সুফল বা বেনিফিট সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং তৃতীয়ত যারা সবসময় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বাইরে ছিল তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। যদিও বাংলাদেশে এই কাজ করা অত্যন্ত কঠিন, তবুও সরকার সাহসের সঙ্গে এই পথেই এগোচ্ছে। সরকার এখন মেগা প্রকল্পের বদলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। যাতে বিশেষ গোষ্ঠীর বদলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হয় বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু বলেন, একজন নারী সারাদিন সংসার সামলান, পরিবারের সবার দেখভাল করেন, অথচ ঘর ও সমাজ কোথাও তার যথাযথ স্বীকৃতি নেই। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি তার হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে পরিবার ও সমাজে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। নারীরা পরিবারের বাজেট পরিচালনায় সবচেয়ে দক্ষ। তারা সীমিত আয়ের মধ্যেও সংসার চালাতে জানেন এবং সঞ্চয় করতে পারেন। তাদের হাতে অর্থ গেলে সেটি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ কর্মসূচির কথাও তিনি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সব কৃষকের ব্যাংকঋণে প্রবেশাধিকার নেই। তাই সরাসরি কৃষকের হাতে সহায়তা পৌঁছে দিতে আমরা ফার্মার্স কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে তারা অন্তত সার ও বীজ কেনার মতো মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক বোঝা এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব বয়ে নিয়েও বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়ন কোনো একটি দলের নয় বরং সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়। 
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
পিরোজপুরের মরিচের ঝাঁজ চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে
পিরোজপুরে উৎপাদিত ঘৃত্তকুমারী জাতের মরিচ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশের বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ জাতের এই মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। মরিচ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কয়েক হাজার পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। জেলার অধিকাংশ পরিবার নিজেদের চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় বোম্বাই মরিচ গাছ রোপণ করে থাকে। তবে নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এটি এখন বাণিজ্যিক আকার ধারণ করেছে। প্রথমে পারিবারিক চাহিদা পূরণের জন্য চাষ শুরু হলেও ধীরে ধীরে এর লাভজনক দিক বিবেচনায় কৃষকরা ব্যাপকভাবে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহামুদকাঠি ও কামারকাঠি এবং নাজিরপুর উপজেলার বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে এ মরিচের চাষ হচ্ছে। আল আমিন ও বাবু হালদার নামে দুই কৃষক জানান, একটি গাছ উৎপাদন মৌসুমে টানা সাত থেকে আট মাস ফল দেয়। প্রতিটি গাছে চারশ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মরিচ পাওয়া যায়। মৌসুমভেদে প্রতিটি মরিচ ৩ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ফলে অল্প জায়গায় অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ চাষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। জিয়ারুল নামে এক ব্যবসায়ী জানান, ২০১২ সালে প্রথমবারের মতো পিরোজপুর থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রপ্তানি করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে বিদেশে মরিচ পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে এর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘বোম্বাই মরিচ’ নামে পরিচিত ঘৃত্তকুমারী জাতের এই মরিচে রয়েছে তীব্র ঝাল ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে পিরোজপুর থেকে প্রতি বছর প্রায় ৩০০ টন বোম্বাই মরিচ বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা। কৃষি বিভাগ বলছে, অনুকূল আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণের কারণে পিরোজপুরের বোম্বাই মরিচের স্বাদ ও ঝালের বিশেষত্ব তৈরি হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে এ খাত থেকে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে। পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, বোম্বাই মরিচ একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। উৎপাদন আরও বাড়ানো গেলে বিদেশি বাজারের সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।