দেশজুড়ে হামে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। প্রতিদিনই এই রোগের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা। এর মধ্যেই নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে এইডস নিয়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে সারা দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ২৩টি এইচআইভি এইডস চিকিৎসাকেন্দ্র (এআরটি সেন্টার) রয়েছে। এগুলোতে আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগীর এইচআইভি শনাক্তে পরীক্ষা করা হয়। অথচ প্রায় দেড় বছর ধরে বেতন নেই এসব কেন্দ্রের কর্মীদের। পরীক্ষার হারও নেমে এসেছে অর্ধেকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে হামের মতো নীরবে ছড়িয়ে পড়তে পারে এইডস। বাড়তে পারে যক্ষ্মা ও ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রকোপ।
এই পরিস্থিতির মূলে রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। ২০২৪ সালের জুনে স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অর্থায়ন কাঠামো অপারেশন প্ল্যান (ওপি) আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিকল্প হিসেবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনও পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন পায়নি। এই শূন্যতায় যেন থমকে গেছে পুরো স্বাস্থ্য খাত।
নীরবে ছড়াচ্ছে এইডস
জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনএএসসি) তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে তাদের ২৩টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও একজন কাউন্সিলর কর্মরত থাকার কথা। কিন্তু এই জনবলের প্রায় সবাই ছিলেন ওপির আওতায়। ওপি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেড় বছর ধরে তাদের বেতন বন্ধ।
এনএএসসির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেতন না পাওয়ায় কর্মীরা ঠিকমতো কাজ করছে না। সংকট সামলাতে কেন্দ্রগুলোয় একজন করে নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যে কেন্দ্রে আগে মাসে ১০০টি পরীক্ষা হতো, সেখানে এখন হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০টি। অথচ এইডসের জন্য শনাক্তকরণ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শনাক্ত না হলে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্যের সঙ্গে মিশে নীরবে সংক্রমণ ছড়াবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশের ১৬টি মেডিকেল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে বর্তমানে ৮ হাজার ৫০০ জন এইডসের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে নতুন রোগী শনাক্তকরণই এখন সবচেয়ে বড় জটিলতা।
এনএএসসি সূত্রে জানা গেছে, দেশে ৮২ হাজার সমকামী ও হিজড়া, ৩০ হাজার সুই-সিরিঞ্জের মাদকসেবী এবং ২৫ হাজার যৌনকর্মী রয়েছেন। এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মাদকসেবীদের মধ্যে। এরপর রয়েছেন হিজড়া ও যৌনকর্মীরা।
এইডস প্রতিরোধের কার্যক্রম মূলত চলে গ্লোবাল ফান্ডের অর্থে। কিন্তু আগামী তিন বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ফান্ড ঘোষণা করেছে ১৮ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০২৫-২৬ মিলিয়ে দুই বছরের বরাদ্দ ছিল প্রায় ২৮ মিলিয়ন ডলার। নতুন শর্ত দেওয়া হয়েছে, যাদের মাধ্যমে রোগ বেশি ছড়াচ্ছে তাদের ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে, ২০৩২ সালের পর থেকে স্থায়ীভাবে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এনএএসসি কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, ডিপিপি থাকুক বা না থাকুক, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণির সেবা কার্যক্রমে অর্থ দেবে গ্লোবাল ফান্ড।
বিপদ ডেকে এনেছে যে সিদ্ধান্ত
১৯৯৮ সাল থেকে দাতা সংস্থার সহায়তায় স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টিখাত কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) চলে আসছিল। স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে এটি সেক্টর প্রোগ্রাম নামে পরিচিত। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন হতো ওপির মাধ্যমে। খাদ্য-পুষ্টি, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, সংক্রামক-অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, ওষুধ সরবরাহ, যক্ষ্মা ও ম্যালেরিয়া নির্মূল, জনবল নিয়োগসহ মোট ৩২টি কর্মসূচি চলত এর আওতায়। পাঁচ বছরের বরাদ্দ ছিল প্রায় ২২ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ এ বছরই স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২২ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ওপি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। বিকল্প ব্যবস্থার সময় নিতে মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুনে চূড়ান্তভাবে ওপি বন্ধ করা হয়। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই জুলাই অভ্যুত্থানে পালিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।
ওই বছরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় নতুন অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের মেয়াদে গত বছরের মার্চে ওপি বাতিল করে ডিপিপি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু দফায় দফায় সংশোধনের পরও পুরো ডিপিপি এখনও অনুমোদন করাতে পারেনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এই বিলম্বের মাশুল দিচ্ছে পুরো স্বাস্থ্য খাত।
ফুরিয়ে আসছে যক্ষ্মা নির্ণয়ের উপকরণ
হামের প্রকোপ সামলাতে সরকার যখন হিমশিম খাচ্ছে, তখন নতুন বিপদের ইঙ্গিত আসছে যক্ষ্মা পরিস্থিতি থেকে। চলতি বছরের মার্চের স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য বলছে, জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) চতুর্থ প্রান্তিকে জাতীয় কেস নোটিফিকেশন রেট (সিএনআর) গত দুই বছরের তুলনায় আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে শনাক্তের হার ছিল প্রতি লাখে যথাক্রমে ২০১ ও ১৯৬ জন। ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১৬৯ জনে। সব বিভাগেই এই নিম্নমুখী ধারা দেখা গেছে।
শিশুদের মধ্যে শনাক্তের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। মোট যক্ষ্মা রোগীর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু হলেও বড় অংশই শনাক্তের বাইরে থাকে। ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে শিশুদের মধ্যে শনাক্তের হার মাত্র চার থেকে পাঁচ শতাংশে নেমেছে। সংখ্যায় ২ হাজার ৯৯৫ জন। অথচ ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে চার হাজার ৩২৮ ও চার হাজার ৩৩১।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে যক্ষ্মার প্রকোপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যেখানে বছরে প্রায় তিন লাখ ৭৫ হাজার মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। বছরে মারা যান ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষ। ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মা নির্মূলের লক্ষ্য রয়েছে বাংলাদেশের।
বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তের হারে হঠাৎ পতন রোগ কমার নয়, বরং শনাক্তকরণ ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন। মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে ঘুরেও এর সত্যতা মিলেছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের দুটি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রেফারেন্স ল্যাবসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন ল্যাবে অ্যাবসরবেন্ট পেপার, ডিজইনফেকট্যান্ট (অ্যালকোহল), ডিএসটি ড্রাগ (বিডাকুইলিন) এবং রেজিস্ট্রেশন ফর্ম (ডিআর টিবি ০৬) ফুরিয়ে আসছে। ওপির অর্থে কেনা হতো এসব উপকরণ। মাঠকর্মীরা জানিয়েছেন, হাতে যা আছে তাতে আগামী মে মাস পর্যন্ত চলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট কাটছাঁটের প্রভাব
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশটির বৈশ্বিক কর্মসূচিতে অর্থায়নে লাগাম টানে হোয়াইট হাউস। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতেও।
বিশ্বজুড়ে এইডস, যক্ষ্মা এবং ম্যালেরিয়া নির্মূলে কাজ করা দুই বড় প্রতিষ্ঠান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডি এবং গ্লোবাল ফান্ড। এর মধ্যে গতবছর ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তবে যক্ষ্মায় গ্লোবাল ফান্ডের সঙ্গে সরকারের কো-ফাইন্যান্সিংয়ের শর্ত থাকায় সংস্থাটি দ্রুত ডিপিপি অনুমোদনের তাগিদ দিয়েছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন যক্ষ্মা নির্ণয়ে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টরা। তবে মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প যাচাই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি প্রস্তাবনায় ৬৫৮ জন দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে (ল্যাব ও রেডিওলজি) বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে মাঠে কর্মরত ৪৯৩ জনের মধ্যে ১৬৮ জনের চুক্তি জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বাকি ৩২৭ জন গত জানুয়ারি থেকে বিনা বেতনে কাজ করে যাচ্ছেন ডিপিপি অনুমোদনের আশায়।
দাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ
যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচির মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান হাবিব বলেন, ‘শনাক্ত কম কিংবা বেশি হয়েছে সেটি এক প্রান্তিকের তথ্য দেখে বলা সম্ভব নয়। পুরো বছরের তথ্য প্রকাশিত হলে বোঝা যাবে। এই মুহূর্তে যক্ষ্মার ওষুধের কোনো সংকট নেই। মেডিকেল উপকরণে কিছু সংকট ছিল, দূর করার চেষ্টা চলছে।’
তিনি বলে, ‘যক্ষ্মা শুধু বাংলাদেশের সংকট নয়, এটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। ডিপিপি অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় কর্মসূচি যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তারা এগিয়ে আসায় সংকট মোকাবিলা করা গেছে। তবে যক্ষ্মা বাড়বে কি না সেটি টিকা কভারেজের সঙ্গেও যুক্ত। কভারেজ ঠিক রাখা না গেলে মূল কর্মসূচি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। জনবলের বড় ধরনের সংকট রয়েছে। আমরা সব ধরনের দক্ষ জনবলের চাকরি নিয়মিত করার সুপারিশ করেছি।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি
প্রতিবছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) অধীনে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হতো। সিডিসির কর্মকর্তা, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ববিদদের নিয়ে এই কমিটি পর্যালোচনা করত কোন জটিলতায় রোগীদের মৃত্যু হচ্ছে। ওপি বন্ধের পর ২০২৫ সালে আর কোনো কমিটি হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন। মারা গেছেন ৪১৩ জন। এ বছর মূল মৌসুম শুরু না হলেও সংক্রমণ থামছে না। গত ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ২ হাজার ১৮৪ জন ভর্তি হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে চারজনের।
জাতীয় ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির এপিডেমিওলজিস্ট মশফিকুর রহমান বিটু বলেন, ‘ম্যালেরিয়ার সঙ্গে ডেঙ্গু একই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হলেও ম্যালেরিয়ার কার্যক্রমের ৯০ ভাগই হয় গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে। অন্যদিকে ডেঙ্গু সংক্রান্ত কার্যক্রম চলে ওপির মাধ্যমে। সেটি বন্ধ হওয়ায় ডেঙ্গু সচেতনতায় সভা-সেমিনার করা যাচ্ছে না। ডেঙ্গুতে মৃত্যু পর্যালোচনায় আগে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি হতো, তারা এক টেবিলে বসে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিতেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেটি করা যাচ্ছে না। তাদের যে এক কাপ চা খাওয়ানো হবে, সেই অবস্থাও নেই। তাই নিজেরা নমুনা সংগ্রহ করছি, আবার নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দিচ্ছি।’
সিডিসির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশীদ বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো কমিটি হয়নি।’ গত বছরের ১৮ জুন আইইডিসিআরে ডেঙ্গু বাহকের কীটতত্ত্ব জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানেও এ নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ওই অনুষ্ঠানে ডা. মো. হালিমুর রশীদ বলেন, ‘২০২৪ সালে যারা ডেঙ্গুতে মারা গেছে, তার মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ১২৪ জন রোগীর ফাইল নিয়ে একটি কমিটি করেছিলাম। অনেক মিটিং করে মোটামুটি একটা স্ট্রাকচার দাঁড় করেছিলাম যে, কী কী কারণে মৃত্যু হচ্ছে। এরপর থেকে আর এগোতে পারিনি। কারণ, আমাকে যদি ৮-১০ জনের একটি কমিটির মিটিং করতে হয়, সেটা পকেটের টাকা দিয়ে খুব বেশি কন্টিনিউ করা যায় না।’
জবাবদিহির দাবি বিশেষজ্ঞদের
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর মনে করেন, এই অচলাবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) ডা. সায়েদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এখনও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মারা যাচ্ছে। এর সম্পূর্ণ দায়ভার ডা. সায়েদুর রহমানের। একজন চিকিৎসক হয়েও কেন তিনি এমন জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে দিলেন? এখন টিকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যেসব শিশু মারা গেছে, তারা কি ফিরে আসবে? তাই বিশেষ সহকারীসহ অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেককে জবাবদিহির মধ্যে আনা উচিত।’
ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, ‘অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চম সেক্টর প্রোগ্রাম প্রণয়ন করে গিয়েছিল। সেটি পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। আমি নিজেই তার একজন সদস্য ছিলাম। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশন মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইলে তারা ২০২৫ সালের মার্চে এসে জানায়, ওপি থেকে বেরিয়ে আসবে। তাহলে এতদিন কী করেছে? আর বেরই যদি হয়, তাহলে সবকিছু যাতে স্বাভাবিকভাবে চলে সেই ব্যাকআপ রাখা হলো না কেন? কাজেই যেসব শিশু মারা গেছে, তার দায়ভার ওই সমস্ত ব্যক্তির নিতে হবে।’
সংকট যে হামেই সীমাবদ্ধ নেই, সেই সতর্কবার্তাও দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তার ভাষায়, ‘সংকট যেখানে গিয়ে ঠেকেছে, তাতে হামের মতো যক্ষ্মা, এইডসসহ অন্যান্য রোগের ব্যাপক বিস্তার ঘটতে পারে। এ ছাড়া অর্থাভাবে উপজেলার গাড়িগুলো ব্যবহার করতে পারছেন না কর্মকর্তারা। তারা ঠিকমতো কাজ করতে পারছেন না। বাইকে করে যাওয়ায় পটুয়াখালীতে এক চিকিৎসক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।’
সংকট সহজে কাটবে বলেও মনে করেন না ডা. মুহাম্মদ আব্দুস সবুর। তিনি বলেন, ‘গত দেড় বছরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটি বর্তমান সরকারের পক্ষেও সহজে সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকার এখনও নিশ্চিত না ডিপিপি চালু করবে, নাকি ওপিতেই ফিরে যাবে। আবার যেগুলো পাস হয়েছে, সেগুলোও বাস্তবায়ন করতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে যাই করুক, প্রাণ বাঁচাতে ও মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
সংকট উত্তরণে আশাবাদী সচিব
সরকারের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘পুরো স্বাস্থ্য খাতেই একধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছিল। তবে সেটি থেকে ক্রমেই বেরিয়ে আসছে সরকার। ইতোমধ্যেই ডিপিপির কয়েকটিতে অনুমোদন হয়েছে। বাকিগুলোও দ্রুত হয়ে যাবে। বর্তমানে টিকার সংকুলান হয়েছে। জনবল নিয়োগে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।’




