
সরকার পরিচালনার ব্যস্ততার মধ্যেও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটাতে দৃশ্যত সক্রিয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও কৃষক দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে আসতে আগ্রহী নেতাদের তৎপরতা কয়েক গুণ বেড়েছে।
শনিবার (৯ মে) ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তারেক রহমান। এরপর কৃষক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে তার।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৈঠকগুলো সংগঠন পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দলীয় অঙ্গসংগঠনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং নতুন নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। দ্রুতই এ বিষয়ে অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের নির্দেশনায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কৃষক দলেও নতুন নেতৃত্ব আসছে।
সর্বশেষ ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে সভাপতি এবং সাবেক ছাত্রনেতা শহিদুল ইসলাম বাবুলকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এতে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুকে সিনিয়র সহসভাপতি, অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীকে সহসভাপতি, প্রকৌশলী টিএস আইয়ুবকে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, মোশারফ হোসেনকে যুগ্ম সম্পাদক এবং মো. শফিকুল ইসলামকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়। পরে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর ২৩১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।
বর্তমান সভাপতি হাসান জাফির তুহিন সচিব পদমর্যাদায় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় সংগঠনে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না। একইভাবে সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলও সংসদ সদস্য হিসেবে ব্যস্ত থাকায় সাংগঠনিক কাজে সময় সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে সংগঠনকে গতিশীল রাখতে নতুন নেতৃত্ব আনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হবে।
জাতীয়তাবাদী কৃষক দল বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। অতীতে এই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়া ও বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়াও আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর মতো শীর্ষ নেতারা।
নতুন নেতৃত্বে যারা আলোচনায়
কৃষকদলের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন—বর্তমান কৃষক দলের সিনিয়র সহসভাপতি হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামীম এবং বর্তমান কমিটির সহসভাপতি খলিলুর রহমান (ভিপি ইব্রাহিম)।
অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন—বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ এবং এ্যাবের সাধারণ সম্পাদক এবং কৃষকদলের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদত হোসেন বিপ্লব।
তবে সাধারণ সম্পাদক পদে কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের নাম বেশি আলোচনায় রয়েছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ বাঞ্ছারামপুর আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। পরে সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত বিএনপি জোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকিকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এ ছাড়া ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকেও কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
নতুন কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার কাছে অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। তবে সংগঠনের গতিশীলতার স্বার্থে পরিবর্তন আসতেই পারে—এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি এখন সরকার পরিচালনা করছে, তাই জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা বেড়েছে। যেসব কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে পুনর্গঠন করা হবে এবং সেখানে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারাই স্থান পাবেন।’
সব মিলিয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠন পুনর্গঠনের এই উদ্যোগকে ঘিরে দলীয় রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারের আভাস মিলছে। বিশেষ করে কৃষক দলের নতুন কমিটি যে কোনো সময় ঘোষণা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।




