ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE
অনলাইন ডেস্ক
  ২৪ মে ২০২৫, ০০:০০

গ্রীষ্মের ফল কাঁঠাল পাকতে শুরু করেছে। সুমিষ্ট এ ফলটি পুষ্টিগুণে ভরপুর। এক কাপ কাঁঠালে মেলে ১৫৭ ক্যালরি, ৩৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৪০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ২ গ্রাম ফ্যাট, ৩ গ্রাম ফাইবার ও ৩ গ্রাম প্রোটিন। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, কপার ও ম্যাঙ্গানিজেরও উৎস কাঁঠাল। কাঁঠালের মৌসুমে নিয়মিত ফলটি খেলে পাওয়া যাবে অনেক উপকার। মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপাদান যেমন বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, সি, বি-১, বি-২, থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফাইবার, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ম্যাঙ্গানিজ, কপার আয়রনসহ নানা রকমের পুষ্টি ও খনিজ উপাদান পাওয়া যায়। এ ছাড়া আমিষ, শর্করা ও বিভিন্ন রকম ভিটামিনের ভান্ডার হচ্ছে এই কাঁঠাল।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

n কাঁঠালে থাকা প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করে।

n কাঁঠালে থাকা ভিটামিন-সি চুল, দাঁত ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া ক্যান্সার ও টিউমারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

n কাঁঠালে বিদ্যমান ফাইটো-নিউট্রিয়েন্টস আলসার, পাইলস ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং বার্ধক্য ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

n কাঁঠালে রয়েছে পটাশিয়াম, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

n কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ এবং বিটা ক্যারোটিন, যা চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।

n কাঁঠালে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে ও বলিরেখা কমিয়ে তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। মুখে বলিরেখা পড়তে বাধা দেয়। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে সৃষ্টিকারী ফ্রি রেডিক্যাল প্রতিরোধ করতে লড়াই করে, যা ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী।

n কাঁঠালে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্সকে ঠিক রাখে, যা উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টও ভালো রাখে।

n কাঁঠালে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি। এজন্যই কাঁঠাল খেলে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায়।

n টেনশন, নার্ভাসনেস ও বদহজম কমাতে কাঁঠালে ভূমিকা অনেক।

n কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে আঁশ থাকায় হজমের সমস্যা দূর করে; যা হজমশক্তি বাড়ায়, পেট পরিষ্কার রাখে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

n কাঁঠালে থাকা ভিটামিন-এ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।

n কাঁঠালে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম হাড় মজবুত করে ও অস্টিওপোরসিস রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

n কাঁঠালে আয়রন থাকে, যা রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণ বাড়ায়। রক্তাল্পতায় রোগীদের জন্য কাঁঠাল খুবই উপকারী, যা দেহের রক্তস্বল্পতা দূর করে।

n কাঁঠালে কোনো ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নেই এবং ক্ষতিকারক ফ্যাটের পরিমাণ কম হওয়ায় ওজন বাড়ার খুব একটা আশঙ্কা থাকে না।

n দুগ্ধদানকারী মা তাজা পাকা কাঁঠাল খেলে দুধের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

n কাঁঠালে থাকা ম্যাঙ্গানিজ ও খনিজ উপাদান রক্তে শর্করা বা চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

n কাঁঠালে থাকা ভিটামিন বি-৬ হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

মায়ের পুষ্টিতে প্রতিদিন ২০০ গ্রাম পাকা কাঁঠাল খেলে অন্তঃসত্ত্বা মা ও তার গর্ভধারণকৃত শিশুর সব ধরনের পুষ্টির অভাব দূর হয়ে যায়।

কোরবানির আগে-পরের প্রস্তুতি
ব্যস্ত সময় কাটে কোরবানি ঈদে। একদিকে বাড়িতে অতিথি, আরেকদিকে রান্নাঘর মাংসে পরিপূর্ণ। অনেক সাবধানতা অবলম্বন করার পরও বাড়িঘর আর চারপাশে অগোছালো আর অপরিচ্ছন্ন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু পরিকল্পনামতো কিছু পদক্ষেপ নিলে সহজেই এড়ানো যায় তা। পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই, মাংস বণ্টন আর সংরক্ষণ—সব কাজ যেমন ধাপে ধাপে করা হয়, ঠিক সেভাবে পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোকেও ধাপে ধাপে করাই শ্রেয়। চলুন জেনে নিই কোরবানির আগে ও পরে আপনার গৃহকোণ আর চারপাশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কিছু কার্যকর টিপস। ফলো করুন চলে এলো ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ। অসম্ভব ব্যস্ত সময় কাটে এ ঈদে। একদিকে বাড়িতে অতিথি, আরেকদিকে রান্নাঘর মাংসে পরিপূর্ণ। অনেক সাবধানতা অবলম্বন করার পরও বাড়িঘর আর চারপাশে অগোছালো-অপরিচ্ছন্ন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু পরিকল্পনামতো কিছু পদক্ষেপ নিলে সহজেই এড়ানো যায় তা। পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই, মাংস বণ্টন আর সংরক্ষণ—সব কাজ যেমন ধাপে ধাপে করা হয়, ঠিক সেভাবে পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোকেও ধাপে ধাপে করাই শ্রেয়। কোরবানির পশু রাখার ব্যবস্থা কোরবানির পশু কিনে আনার পর তার নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করুন। এরপর কোথায় জবাই হবে, কে জবাই করবেন এসবকিছু আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। এতে কাজ অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। জবাইয়ের পর কাটাকুটির জন্য যদি কাউকে দরকার হয়, তাকেও আগে থেকে বলে রাখুন। প্রয়োজনের সময় মানুষ না পাওয়া গেলে মুশকিলে পড়তে হতে পারে। তাই এমন কাউকে বলে রাখুন, যিনি আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন। মাংস কাটার যন্ত্রপাতির প্রস্তুতি পশু কোরবানির জন্য নির্ধারিত ছুরিটি ভালোভাবে ধার করে নিন, যেন কোরবানির প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এ ছাড়া বঁটি-দা, চাপাতি, মিট হ্যামার, কিমার মেশিন, ব্লেন্ডার বা চপার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কোরবানির আগেই ধুয়েমুছে প্রস্তুত করে রাখুন। মাংস কাটার কাজ শেষ হয়ে গেলে এগুলো গরম পানি ও ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তবে সবকিছু তখনই তুলে ফেলা ঠিক হবে না। কেননা ইস্পাত এবং লোহার মিশ্রণে তৈরি এ জিনিসগুলোতে সামান্য পানি থেকে গেলেই ধীরে ধীরে মরচে পড়ে যাবে। এর পাশাপাশি এও মনে রাখতে হবে, ধুয়ে শুকিয়ে রাখা ধারালো জিনিসগুলো শিশুদের হাতের নাগালের বাইরেই রাখতে হবে সবসময়। মসলা ঈদের দিনের অন্যতম অংশ হলো রান্না। রান্নার কাজ অনেকটাই গুছিয়ে রাখা যায় যদি আগে থেকে কিছু কাজ সেরে রাখতে পারেন। যেমন ধরুন, রান্নার জন্য যেসব মসলাপাতি দরকার, তা আগে থেকে গুছিয়ে বা তৈরি করে রাখতে পারেন। যেসব মসলা গুঁড়া করা দরকার সেগুলো গুঁড়া করে, যেগুলো বেটে রাখা দরকার সেগুলো বেটে কিংবা ব্লেন্ড করে রাখতে পারেন। এতে প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে সব মসলা পেয়ে যাবেন। রান্না হবে অনেকটাই সহজ। অতিথি আপ্যায়ন ঈদের দিনে অতিথি আপ্যায়নের একটি পর্ব থাকে। বাড়িতে অতিথি এলে তাদের আপ্যায়ন করতে হবে। এ ছাড়া উৎসবের দিন নিজেদের জন্যও ভালো খাবারের ব্যবস্থা থাকে। তাই কিছু খাবার আগের দিনই তৈরি করে রাখুন। যেমন ফিরনি, পায়েস, পুডিং আগের দিন তৈরি করে ফ্রিজে রাখতে পারেন। যেসব পাত্রে পরিবেশন করা হবে সেগুলো আগে থেকেই ধুয়েমুছে রাখুন। ঘর থাকুক পরিপাটি ঘর গোছানো, পরিপাটি করে সাজানোও উৎসবের অংশ। ঈদের উৎসবে সবচেয়ে ভালো চাদরটি বিছানায় শোভা পাক, সবচেয়ে ভালো পর্দাগুলো টানিয়ে দিন দরজা-জানালায়। বাড়ির সব জায়গা থাকুক পরিচ্ছন্ন। যেন ঘরের দিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়। পশুর রক্ত ও বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা পশু জবাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে রক্ত ও পশুর বর্জ্য মাটিচাপা দিয়ে ফেলা জরুরি। সেটা সম্ভব না হলে পানি দিয়ে স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিলে সে স্থানে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা কম হয়। ব্লিচিং পাউডারের পরিবর্তে চুন ব্যবহার করা যেতে পারে। পশুর বর্জ্যগুলো কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্থানে ফেলা হলে কোরবানি-পরবর্তী দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ হয়। টুকরো করা মাংস ঘরে এনে ধুয়ে নেওয়ার সময় হাড় এবং চর্বির প্রলেপ পড়ে কিচেন সিঙ্কের ড্রেন আটকে যেতে পারে, যা পরে তীব্র দুর্গন্ধ তৈরি করে। তাই গরম পানি দিয়ে ড্রেনের পথটি পরিষ্কার করুন। কোরবানির পরের দিনেও একইভাবে ড্রেনগুলো বারবার পরিষ্কার করলে রান্নাঘরে আর দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। মাংস রাখার জন্য আলাদা পাত্র বাড়িতে কোরবানির মাংস রাখার জন্য বড় বড় বারকোশ, প্লাস্টিকের বোল, অ্যালুমিনিয়ামের ডিশ ও ডেকচির ব্যবহার হয়। এ পাত্রগুলোকে ডিশওয়াশিং লিকুইড দিয়ে গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। রান্নাঘরের মেঝে থেকে তেল চিটচিটে ভাব দূর করা যায় না প্রথম দিনেই। তাই সব কাজ শেষে মেঝে গরম পানি এবং ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলা হলেও পরদিন পুনরায় মেঝেটি একই নিয়মে মুছে ফেলুন। ফ্লোর মপগুলোকেও সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে বারবার ধুয়ে নেওয়া জরুরি। কোরবানির পরের পরিচ্ছন্নতা লিকুইড এবং সলিড ডিশওয়াশ, ব্লিচিং পাউডার, চুন, ঈষদুষ্ণ পানি, ফ্লোর ক্লিনার, মপ, ঝাড়ু, পানি দিয়ে কোরবানি দেওয়ার স্থান পরিষ্কার করার জন্য হোসপাইপ ইত্যাদি উপকরণ হাতের কাছে আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন। এতে আপনার কোরবানি ক্লিনিং দ্রুততার সঙ্গে হবে। নিজের দিকে খেয়াল রাখুন সবকিছুর দিকে খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজের দিকে খেয়াল রাখার কথা ভুলে যাবেন না। নিজে পরিপাটি থাকুন, ঈদের দিন সতেজ ও সুস্থ থাকুন। সব কাজ সামলাতে গিয়ে খাওয়ার ব্যাপারে বেখেয়ালি হবেন না। সময়মতো খাবার খান। উৎসবে যেহেতু ভারী খাবার বেশি থাকে, তাই স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। শরীরের জন্য ক্ষতি ডেকে আনতে পারে এমন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
কোরবানির আগে-পরের প্রস্তুতি
সাজবেলা / ঈদের সাজের খুঁটিনাটি
ঈদের দিনটি সুন্দর করে সেজেগুজে উদযাপন করার থেকে ভালো আর কী হতে পারে? কিন্তু সাধারণ দিনের সাজ ও ঈদের দিনের সাজের মধ্যে রয়েছে কিছুটা পার্থক্য। সেগুলো কী—তাই নিয়ে লিখেছেন বৃষ্টি শেখ খাদিজা সাধারণ দিনের জন্য আমরা যে মেকআপ করি, তা বিভিন্ন সময় এবং বিভিন্ন আয়োজনের জন্য হয়ে থাকে। যেমন যারা কর্মজীবী নারী তারা করপোরেট লুক, যারা ব্যবসায়ী তারা এক ধরনের আর যাদের প্রতিনিয়ত বাইরে বের হতে হচ্ছে, তারা ড্রেসের সঙ্গে মানানসই লুক নিয়ে থাকেন। তাই সাধারণ দিন এবং ঈদের মেকআপের মধ্যে পার্থক্য তো রয়েছেই। ঈদে দুই বা তিনবেলা কীভাবে সাজব? নতুন ড্রেস পরে কোথায় যাব, সে অনুযায়ী মেকআপ করা হয়। তা ছাড়া ঈদের রাতে একটু জমকালো মেকআপ লুক নিতে পছন্দ করেন অনেকেই। সারা বছর যেমন হোক না কেন, ঈদের ড্রেস একটু জাঁকজমক হয়ে থাকে। তাই ড্রেসের প্যাটার্নের সঙ্গে মিলিয়েই মেকআপ হয়ে থাকে। হতে পারে সেটি বোল্ড, সফট গ্ল্যাম, ন্যাচার, পাকিস্তানি বা সাউথ ইন্ডিয়ান লুক। মেকআপ কেমন হবে তার অনেকাংশ নির্ভর করে পোশাকের ওপরই। কারণ পোশাকের প্যাটার্ন, রং ও কাট অনুযায়ী দেওয়া হয় লুক। তাই ঈদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখার প্রয়োজন। ঈদ যেমন সামনে, ঠিক একইভাবে কিছুদিন ধরে তাপমাত্রাও অনেক বেশি। তাই বলা যায় ঈদের দিনটিতেও কিছুটা ভ্যাপসা গরম থাকার সম্ভাবনা আছে। আর ঈদুল আজহা হচ্ছে এমন একটি উৎসব, যেখানে মানুষ পোশাকের থেকে কোরবানির পশু, মাংস কাটাকাটি ও রান্না নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। আর এ গরমে সবাই যেন সুতি কাপড় বেছে নেয়। পাশাপাশি হালকা রং এবং হালকা কাজও। কারণ পোশাক পরে যদি আরাম না পায় তাহলে কোরবানির ঈদের যেসব কাজ আছে, তা শান্তিতে করা যাবে না। ঈদের সকালে ছেলেরা তো অবশ্যই পাঞ্জাবি পরবে। তবে সেটি যেন আরামদায়ক হয়। এ ক্ষেত্রে সুতির থেকে ভালো আর কিছু নেই। এরপর যদি কোথাও যেতে হয়, তখন বাচ্চা এবং তরুণ যারা আছে তারা বেছে নিতে পারে টি-শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া। মেয়েরা বেছে পরতে পারে কুর্তি বা সালোয়ার কামিজ। স্কার্ট ও টপসের জুটিও মেয়েদের জন্য বেশ উপযোগী পোশাক হতে পারে এ ঈদে। সকাল বা দুপুরের জন্য এ পোশাক একদম মানানসই। কোরবানির কাজ শেষে যখন কোথাও ঘুরতে যাবেন, এজন্য হাফসিল্ক ম্যাটারিয়ালের তৈরি পোশাক পরা যেতে পারে। তবে এ সময় ছেলেদের পাঞ্জাবি এড়িয়ে চলাই ভালো। শার্ট বা ফতুয়া পরতে পারেন। আর রাতের পোশাকের ক্ষেত্রে গাঢ় রং বেছে নিতে পারেন। যে পোশাকই পরুন না কেন, আবহাওয়াটা একটু বিবেচনায় রাখা উচিত। এবার আসা যাক মেকআপে বোল্ড ও গ্ল্যামারাস: যেহেতু ঈদের মেকআপ বলে কথা, তাই বোল্ড ও গ্ল্যামারাস লুক হওয়া চাই। এজন্য একটি ফ্ললেস বেইস করে চোখ দুটি সাজিয়ে নিন রঙিন আইশ্যাডো দিয়ে। হতে পারে ইলেকট্রিক ব্লু বা গোলাপি রং। আইলাইনার দিয়ে টানতে পারেন উইং আর ঠোঁট সাজাতে পারেন লাল বা যে কোনো গাঢ় রং। সফট লুক: অনেকেই আছেন যারা বোল্ড বা গ্ল্যামার লুক পছন্দ করেন না। তবে তাদের জন্যও আছে একটি অপশন আর সেটি হলো সফট লুক। এ ক্ষেত্রে ত্বকের বেইস একদম লাইট রাখতে হবে। চোখে দিতে পারেন হালকা গোলাপি বা পিট কালার। এরপর একটি ব্রাউন আইলাইনার এবং ন্যুড লিপস্টিক দিয়ে শেষ করতে পারেন সাজ। তাই যারা একদম সফট লুক চান, তাদের জন্য এ লুকটি ঈদের দিনের জন্য একদম পারফেক্ট। গ্লিটার ও সাইন: চারদিকে দ্যুতি ছড়ানোর জন্য ঈদের থেকে ভালো আর কী হতে পারে? তাই এ ঈদে বেছে নিতে পারেন গ্লিটার ও সাইন মেকআপ লুক। এজন্য বেছে নিন গ্লিটারি আইশ্যাডো। চোখের ইনার কর্নারে ভালোভাবে দিয়ে নিন আইশ্যাডো। তবে যদি বোল্ড লুক চান তাহলে মেটালিক আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি বোল্ড সাইনি লুক দেবে। এবার একটু বেশি সাইনের জন্য ব্যবহার করুন লিপগ্লস। রাতের জন্য এ লুক একদম পারফেক্ট। সবশেষ ঈদের জন্য যে মেকআপ লুকই বেছে নিন না কেন, তা সম্পূর্ণ উপভোগ করুন এবং নিজস্ব স্টাইলও প্রকাশ করুন। তবে অতিরিক্ত মেকআপ যেন না হয়। বর্তমান সময়ে যেভাবে মেকআপ করা হয়ে থাকে, তা খুব সুন্দর দেখায়। সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ফুল কাভারেজ মেকআপ। এজন্য অতিরিক্ত কিছু না করে অল্পতেই ফুল কাভারেজ মেকআপ লুক দেওয়া হয়। তা ছাড়া মেকআপের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ, যেটি মাথায় রাখতে হবে তা হলো রং। আমাদের স্কিন টোনের সঙ্গে যেন সবকিছু সুন্দরভাবে মিলে যায়, যেন সাদা হয়ে ভেসে না থাকে। এখন যেহেতু গ্রীষ্মকাল, তাই মেকআপ করার পর তা যেন ফেটে না যায়, এজন্য প্রয়োজন ওয়াটার বেইস। সহজে বলতে গেলে ওয়েলি বেইস এড়িয়ে ম্যাট বেইস করব। চোখে খুব বেশি রঙিন শ্যাডো ব্যবহার না করাই ভালো। মেকআপ শুরুর আগে আইস থেরাপি: মেকআপের আগে ত্বকে বরফ ঘষার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। মুখ পরিষ্কারের পর বরফের টুকরো নিয়ে মুখে আলতো ঘষুন। প্রক্রিয়াটি রক্তনালিগুলো সংকুচিত করতে সহায়ক এবং ত্বকের ফোলা ভাব কমায়। ক্লান্ত চোখ শান্ত করে এবং আপনার ত্বকের পোরস (ছিদ্র) কমাতে সাহায্য করবে। এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। টোনার: ক্লিনজিং করার পরও অনেক সময় ত্বকে কিছু ময়লা থেকে যায়। তাই ক্লিনজিংয়ের পর টোনার ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। কারণ টোনার ত্বকের উপরিভাগ থেকে যে কোনো অবশিষ্ট ময়লা দূরীকরণে সহায়ক। এটি ত্বকে থাকা ছিদ্রের আকার সংকুচিত ও ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে। আইক্রিম: টোনারের পর সাধারণত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়; কিন্তু ময়েশ্চারাইজারের আগে আইক্রিম ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এটি চোখের চারপাশে ত্বক হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। তা ছাড়া যে কোনো আই লুক করার আগে আইক্রিম ব্যবহার করলে ফ্ললেস লুক পাওয়া যায়। ময়েশ্চারাইজার: ত্বককে হাইড্রেট রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। ময়েশ্চারাইজার ত্বককে উজ্জ্বল ও নরম রাখতে সাহায্য করে। ফলে ফাউন্ডেশন ও কনসিলার প্রয়োগ করা সহজ হয়। এ ছাড়া এটি মেকআপকে দীর্ঘক্ষণ মসৃণ রাখে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। তবে ময়েশ্চারাইজার ত্বকে ঘষবেন না বরং চেপে চেপে দেবেন। লিপবাম: ত্বকের সঙ্গে ঠোঁটেরও হাইড্রেশন প্রয়োজন। শুষ্ক ঠোঁটে লিপস্টিক দিলে ফ্ল্যাকি দেখাতে পারে। এমনকি ফেটে যেতে পারে। তাই ঠোঁটের হাইড্রেশন বজায় রাখতে সবসময় লিপবাম ব্যবহার করুন। মেকআপের আগে লিপবাম ব্যবহার করলে শুকানোর জন্য পাঁচ মিনিট সময় দিন। এর ফলে ঠোঁট হাইড্রেশন, মসৃণ ও নরম হবে। মসৃণ ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহার করলে ফেটে যাওয়ার শঙ্কা থাকে না।
ঈদের সাজের খুঁটিনাটি
কোরবানির আগে-পরের প্রস্তুতি
কোরবানির আগে-পরের প্রস্তুতি
ব্যস্ত সময় কাটে কোরবানি ঈদে। একদিকে বাড়িতে অতিথি, আরেকদিকে রান্নাঘর মাংসে পরিপূর্ণ। অনেক সাবধানতা অবলম্বন করার পরও বাড়িঘর আর চারপাশে অগোছালো আর অপরিচ্ছন্ন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু পরিকল্পনামতো কিছু পদক্ষেপ নিলে সহজেই এড়ানো যায় তা। পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই, মাংস বণ্টন আর সংরক্ষণ—সব কাজ যেমন ধাপে ধাপে করা হয়, ঠিক সেভাবে পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোকেও ধাপে ধাপে করাই শ্রেয়। চলুন জেনে নিই কোরবানির আগে ও পরে আপনার গৃহকোণ আর চারপাশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে কিছু কার্যকর টিপস। ফলো করুন চলে এলো ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ। অসম্ভব ব্যস্ত সময় কাটে এ ঈদে। একদিকে বাড়িতে অতিথি, আরেকদিকে রান্নাঘর মাংসে পরিপূর্ণ। অনেক সাবধানতা অবলম্বন করার পরও বাড়িঘর আর চারপাশে অগোছালো-অপরিচ্ছন্ন একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু পরিকল্পনামতো কিছু পদক্ষেপ নিলে সহজেই এড়ানো যায় তা। পশু কেনা থেকে শুরু করে জবাই, মাংস বণ্টন আর সংরক্ষণ—সব কাজ যেমন ধাপে ধাপে করা হয়, ঠিক সেভাবে পরিচ্ছন্নতার কাজগুলোকেও ধাপে ধাপে করাই শ্রেয়। কোরবানির পশু রাখার ব্যবস্থা কোরবানির পশু কিনে আনার পর তার নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করুন। এরপর কোথায় জবাই হবে, কে জবাই করবেন এসবকিছু আগে থেকেই ঠিক করে রাখুন। এতে কাজ অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। জবাইয়ের পর কাটাকুটির জন্য যদি কাউকে দরকার হয়, তাকেও আগে থেকে বলে রাখুন। প্রয়োজনের সময় মানুষ না পাওয়া গেলে মুশকিলে পড়তে হতে পারে। তাই এমন কাউকে বলে রাখুন, যিনি আপনাকে সাহায্য করতে পারবেন। মাংস কাটার যন্ত্রপাতির প্রস্তুতি পশু কোরবানির জন্য নির্ধারিত ছুরিটি ভালোভাবে ধার করে নিন, যেন কোরবানির প্রক্রিয়া খুব দ্রুত সম্পন্ন করা যায়। এ ছাড়া বঁটি-দা, চাপাতি, মিট হ্যামার, কিমার মেশিন, ব্লেন্ডার বা চপার ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কোরবানির আগেই ধুয়েমুছে প্রস্তুত করে রাখুন। মাংস কাটার কাজ শেষ হয়ে গেলে এগুলো গরম পানি ও ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। তবে সবকিছু তখনই তুলে ফেলা ঠিক হবে না। কেননা ইস্পাত এবং লোহার মিশ্রণে তৈরি এ জিনিসগুলোতে সামান্য পানি থেকে গেলেই ধীরে ধীরে মরচে পড়ে যাবে। এর পাশাপাশি এও মনে রাখতে হবে, ধুয়ে শুকিয়ে রাখা ধারালো জিনিসগুলো শিশুদের হাতের নাগালের বাইরেই রাখতে হবে সবসময়। মসলা ঈদের দিনের অন্যতম অংশ হলো রান্না। রান্নার কাজ অনেকটাই গুছিয়ে রাখা যায় যদি আগে থেকে কিছু কাজ সেরে রাখতে পারেন। যেমন ধরুন, রান্নার জন্য যেসব মসলাপাতি দরকার, তা আগে থেকে গুছিয়ে বা তৈরি করে রাখতে পারেন। যেসব মসলা গুঁড়া করা দরকার সেগুলো গুঁড়া করে, যেগুলো বেটে রাখা দরকার সেগুলো বেটে কিংবা ব্লেন্ড করে রাখতে পারেন। এতে প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে সব মসলা পেয়ে যাবেন। রান্না হবে অনেকটাই সহজ। অতিথি আপ্যায়ন ঈদের দিনে অতিথি আপ্যায়নের একটি পর্ব থাকে। বাড়িতে অতিথি এলে তাদের আপ্যায়ন করতে হবে। এ ছাড়া উৎসবের দিন নিজেদের জন্যও ভালো খাবারের ব্যবস্থা থাকে। তাই কিছু খাবার আগের দিনই তৈরি করে রাখুন। যেমন ফিরনি, পায়েস, পুডিং আগের দিন তৈরি করে ফ্রিজে রাখতে পারেন। যেসব পাত্রে পরিবেশন করা হবে সেগুলো আগে থেকেই ধুয়েমুছে রাখুন। ঘর থাকুক পরিপাটি ঘর গোছানো, পরিপাটি করে সাজানোও উৎসবের অংশ। ঈদের উৎসবে সবচেয়ে ভালো চাদরটি বিছানায় শোভা পাক, সবচেয়ে ভালো পর্দাগুলো টানিয়ে দিন দরজা-জানালায়। বাড়ির সব জায়গা থাকুক পরিচ্ছন্ন। যেন ঘরের দিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যায়। পশুর রক্ত ও বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা পশু জবাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে রক্ত ও পশুর বর্জ্য মাটিচাপা দিয়ে ফেলা জরুরি। সেটা সম্ভব না হলে পানি দিয়ে স্থানটি ভালোভাবে ধুয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিলে সে স্থানে জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কা কম হয়। ব্লিচিং পাউডারের পরিবর্তে চুন ব্যবহার করা যেতে পারে। পশুর বর্জ্যগুলো কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্থানে ফেলা হলে কোরবানি-পরবর্তী দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ হয়। টুকরো করা মাংস ঘরে এনে ধুয়ে নেওয়ার সময় হাড় এবং চর্বির প্রলেপ পড়ে কিচেন সিঙ্কের ড্রেন আটকে যেতে পারে, যা পরে তীব্র দুর্গন্ধ তৈরি করে। তাই গরম পানি দিয়ে ড্রেনের পথটি পরিষ্কার করুন। কোরবানির পরের দিনেও একইভাবে ড্রেনগুলো বারবার পরিষ্কার করলে রান্নাঘরে আর দুর্গন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। মাংস রাখার জন্য আলাদা পাত্র বাড়িতে কোরবানির মাংস রাখার জন্য বড় বড় বারকোশ, প্লাস্টিকের বোল, অ্যালুমিনিয়ামের ডিশ ও ডেকচির ব্যবহার হয়। এ পাত্রগুলোকে ডিশওয়াশিং লিকুইড দিয়ে গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। রান্নাঘরের মেঝে থেকে তেল চিটচিটে ভাব দূর করা যায় না প্রথম দিনেই। তাই সব কাজ শেষে মেঝে গরম পানি এবং ফ্লোর ক্লিনার দিয়ে মুছে ফেলা হলেও পরদিন পুনরায় মেঝেটি একই নিয়মে মুছে ফেলুন। ফ্লোর মপগুলোকেও সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে বারবার ধুয়ে নেওয়া জরুরি। কোরবানির পরের পরিচ্ছন্নতা লিকুইড এবং সলিড ডিশওয়াশ, ব্লিচিং পাউডার, চুন, ঈষদুষ্ণ পানি, ফ্লোর ক্লিনার, মপ, ঝাড়ু, পানি দিয়ে কোরবানি দেওয়ার স্থান পরিষ্কার করার জন্য হোসপাইপ ইত্যাদি উপকরণ হাতের কাছে আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন। এতে আপনার কোরবানি ক্লিনিং দ্রুততার সঙ্গে হবে। নিজের দিকে খেয়াল রাখুন সবকিছুর দিকে খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজের দিকে খেয়াল রাখার কথা ভুলে যাবেন না। নিজে পরিপাটি থাকুন, ঈদের দিন সতেজ ও সুস্থ থাকুন। সব কাজ সামলাতে গিয়ে খাওয়ার ব্যাপারে বেখেয়ালি হবেন না। সময়মতো খাবার খান। উৎসবে যেহেতু ভারী খাবার বেশি থাকে, তাই স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। শরীরের জন্য ক্ষতি ডেকে আনতে পারে এমন খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
ঈদের সাজের খুঁটিনাটি
সাজবেলা / ঈদের সাজের খুঁটিনাটি
ঈদের দিনটি সুন্দর করে সেজেগুজে উদযাপন করার থেকে ভালো আর কী হতে পারে? কিন্তু সাধারণ দিনের সাজ ও ঈদের দিনের সাজের মধ্যে রয়েছে কিছুটা পার্থক্য। সেগুলো কী—তাই নিয়ে লিখেছেন বৃষ্টি শেখ খাদিজা সাধারণ দিনের জন্য আমরা যে মেকআপ করি, তা বিভিন্ন সময় এবং বিভিন্ন আয়োজনের জন্য হয়ে থাকে। যেমন যারা কর্মজীবী নারী তারা করপোরেট লুক, যারা ব্যবসায়ী তারা এক ধরনের আর যাদের প্রতিনিয়ত বাইরে বের হতে হচ্ছে, তারা ড্রেসের সঙ্গে মানানসই লুক নিয়ে থাকেন। তাই সাধারণ দিন এবং ঈদের মেকআপের মধ্যে পার্থক্য তো রয়েছেই। ঈদে দুই বা তিনবেলা কীভাবে সাজব? নতুন ড্রেস পরে কোথায় যাব, সে অনুযায়ী মেকআপ করা হয়। তা ছাড়া ঈদের রাতে একটু জমকালো মেকআপ লুক নিতে পছন্দ করেন অনেকেই। সারা বছর যেমন হোক না কেন, ঈদের ড্রেস একটু জাঁকজমক হয়ে থাকে। তাই ড্রেসের প্যাটার্নের সঙ্গে মিলিয়েই মেকআপ হয়ে থাকে। হতে পারে সেটি বোল্ড, সফট গ্ল্যাম, ন্যাচার, পাকিস্তানি বা সাউথ ইন্ডিয়ান লুক। মেকআপ কেমন হবে তার অনেকাংশ নির্ভর করে পোশাকের ওপরই। কারণ পোশাকের প্যাটার্ন, রং ও কাট অনুযায়ী দেওয়া হয় লুক। তাই ঈদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখার প্রয়োজন। ঈদ যেমন সামনে, ঠিক একইভাবে কিছুদিন ধরে তাপমাত্রাও অনেক বেশি। তাই বলা যায় ঈদের দিনটিতেও কিছুটা ভ্যাপসা গরম থাকার সম্ভাবনা আছে। আর ঈদুল আজহা হচ্ছে এমন একটি উৎসব, যেখানে মানুষ পোশাকের থেকে কোরবানির পশু, মাংস কাটাকাটি ও রান্না নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়। আর এ গরমে সবাই যেন সুতি কাপড় বেছে নেয়। পাশাপাশি হালকা রং এবং হালকা কাজও। কারণ পোশাক পরে যদি আরাম না পায় তাহলে কোরবানির ঈদের যেসব কাজ আছে, তা শান্তিতে করা যাবে না। ঈদের সকালে ছেলেরা তো অবশ্যই পাঞ্জাবি পরবে। তবে সেটি যেন আরামদায়ক হয়। এ ক্ষেত্রে সুতির থেকে ভালো আর কিছু নেই। এরপর যদি কোথাও যেতে হয়, তখন বাচ্চা এবং তরুণ যারা আছে তারা বেছে নিতে পারে টি-শার্ট, ফতুয়া, কাতুয়া। মেয়েরা বেছে পরতে পারে কুর্তি বা সালোয়ার কামিজ। স্কার্ট ও টপসের জুটিও মেয়েদের জন্য বেশ উপযোগী পোশাক হতে পারে এ ঈদে। সকাল বা দুপুরের জন্য এ পোশাক একদম মানানসই। কোরবানির কাজ শেষে যখন কোথাও ঘুরতে যাবেন, এজন্য হাফসিল্ক ম্যাটারিয়ালের তৈরি পোশাক পরা যেতে পারে। তবে এ সময় ছেলেদের পাঞ্জাবি এড়িয়ে চলাই ভালো। শার্ট বা ফতুয়া পরতে পারেন। আর রাতের পোশাকের ক্ষেত্রে গাঢ় রং বেছে নিতে পারেন। যে পোশাকই পরুন না কেন, আবহাওয়াটা একটু বিবেচনায় রাখা উচিত। এবার আসা যাক মেকআপে বোল্ড ও গ্ল্যামারাস: যেহেতু ঈদের মেকআপ বলে কথা, তাই বোল্ড ও গ্ল্যামারাস লুক হওয়া চাই। এজন্য একটি ফ্ললেস বেইস করে চোখ দুটি সাজিয়ে নিন রঙিন আইশ্যাডো দিয়ে। হতে পারে ইলেকট্রিক ব্লু বা গোলাপি রং। আইলাইনার দিয়ে টানতে পারেন উইং আর ঠোঁট সাজাতে পারেন লাল বা যে কোনো গাঢ় রং। সফট লুক: অনেকেই আছেন যারা বোল্ড বা গ্ল্যামার লুক পছন্দ করেন না। তবে তাদের জন্যও আছে একটি অপশন আর সেটি হলো সফট লুক। এ ক্ষেত্রে ত্বকের বেইস একদম লাইট রাখতে হবে। চোখে দিতে পারেন হালকা গোলাপি বা পিট কালার। এরপর একটি ব্রাউন আইলাইনার এবং ন্যুড লিপস্টিক দিয়ে শেষ করতে পারেন সাজ। তাই যারা একদম সফট লুক চান, তাদের জন্য এ লুকটি ঈদের দিনের জন্য একদম পারফেক্ট। গ্লিটার ও সাইন: চারদিকে দ্যুতি ছড়ানোর জন্য ঈদের থেকে ভালো আর কী হতে পারে? তাই এ ঈদে বেছে নিতে পারেন গ্লিটার ও সাইন মেকআপ লুক। এজন্য বেছে নিন গ্লিটারি আইশ্যাডো। চোখের ইনার কর্নারে ভালোভাবে দিয়ে নিন আইশ্যাডো। তবে যদি বোল্ড লুক চান তাহলে মেটালিক আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। এটি একটি বোল্ড সাইনি লুক দেবে। এবার একটু বেশি সাইনের জন্য ব্যবহার করুন লিপগ্লস। রাতের জন্য এ লুক একদম পারফেক্ট। সবশেষ ঈদের জন্য যে মেকআপ লুকই বেছে নিন না কেন, তা সম্পূর্ণ উপভোগ করুন এবং নিজস্ব স্টাইলও প্রকাশ করুন। তবে অতিরিক্ত মেকআপ যেন না হয়। বর্তমান সময়ে যেভাবে মেকআপ করা হয়ে থাকে, তা খুব সুন্দর দেখায়। সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ফুল কাভারেজ মেকআপ। এজন্য অতিরিক্ত কিছু না করে অল্পতেই ফুল কাভারেজ মেকআপ লুক দেওয়া হয়। তা ছাড়া মেকআপের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ, যেটি মাথায় রাখতে হবে তা হলো রং। আমাদের স্কিন টোনের সঙ্গে যেন সবকিছু সুন্দরভাবে মিলে যায়, যেন সাদা হয়ে ভেসে না থাকে। এখন যেহেতু গ্রীষ্মকাল, তাই মেকআপ করার পর তা যেন ফেটে না যায়, এজন্য প্রয়োজন ওয়াটার বেইস। সহজে বলতে গেলে ওয়েলি বেইস এড়িয়ে ম্যাট বেইস করব। চোখে খুব বেশি রঙিন শ্যাডো ব্যবহার না করাই ভালো। মেকআপ শুরুর আগে আইস থেরাপি: মেকআপের আগে ত্বকে বরফ ঘষার বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। মুখ পরিষ্কারের পর বরফের টুকরো নিয়ে মুখে আলতো ঘষুন। প্রক্রিয়াটি রক্তনালিগুলো সংকুচিত করতে সহায়ক এবং ত্বকের ফোলা ভাব কমায়। ক্লান্ত চোখ শান্ত করে এবং আপনার ত্বকের পোরস (ছিদ্র) কমাতে সাহায্য করবে। এটি সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী। টোনার: ক্লিনজিং করার পরও অনেক সময় ত্বকে কিছু ময়লা থেকে যায়। তাই ক্লিনজিংয়ের পর টোনার ব্যবহারের চেষ্টা করবেন। কারণ টোনার ত্বকের উপরিভাগ থেকে যে কোনো অবশিষ্ট ময়লা দূরীকরণে সহায়ক। এটি ত্বকে থাকা ছিদ্রের আকার সংকুচিত ও ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে। আইক্রিম: টোনারের পর সাধারণত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা হয়; কিন্তু ময়েশ্চারাইজারের আগে আইক্রিম ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এটি চোখের চারপাশে ত্বক হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। তা ছাড়া যে কোনো আই লুক করার আগে আইক্রিম ব্যবহার করলে ফ্ললেস লুক পাওয়া যায়। ময়েশ্চারাইজার: ত্বককে হাইড্রেট রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। ময়েশ্চারাইজার ত্বককে উজ্জ্বল ও নরম রাখতে সাহায্য করে। ফলে ফাউন্ডেশন ও কনসিলার প্রয়োগ করা সহজ হয়। এ ছাড়া এটি মেকআপকে দীর্ঘক্ষণ মসৃণ রাখে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। তবে ময়েশ্চারাইজার ত্বকে ঘষবেন না বরং চেপে চেপে দেবেন। লিপবাম: ত্বকের সঙ্গে ঠোঁটেরও হাইড্রেশন প্রয়োজন। শুষ্ক ঠোঁটে লিপস্টিক দিলে ফ্ল্যাকি দেখাতে পারে। এমনকি ফেটে যেতে পারে। তাই ঠোঁটের হাইড্রেশন বজায় রাখতে সবসময় লিপবাম ব্যবহার করুন। মেকআপের আগে লিপবাম ব্যবহার করলে শুকানোর জন্য পাঁচ মিনিট সময় দিন। এর ফলে ঠোঁট হাইড্রেশন, মসৃণ ও নরম হবে। মসৃণ ঠোঁটে লিপস্টিক ব্যবহার করলে ফেটে যাওয়ার শঙ্কা থাকে না।