
অধিনায়কের দায়িত্বটা আনুষ্ঠানিকভাবে পাওয়ার পর এমন কিছু দেখতে হবে—হয়তো চিন্তাও করেননি লিটন দাস। প্রতিপক্ষ সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেই সেরকম কোনো চিন্তা মাথায় আসারও কথা ছিল না তার; কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শক্তি, সামর্থ্য কিংবা পরিসংখ্যানের হিসেব ভুলে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখাল আমিরাত। দুই ম্যাচের সিরিজ তিন ম্যাচে যেতেই বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে দিল তারা। দেশের মাটিতে সম্প্রতি সময়ে আমিরাত যে কতটা ভয়ংকর, সেটা টের পেলেন লিটনরা। ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণীতে বাংলাদেশ অধিনায়ক হতাশাচ্ছন্ন কণ্ঠে বললেন, সিরিজ হার ‘জীবনের অংশ’।
টি-টোয়েন্টিতে কখনোই ভারসাম্যপূর্ণ দল ছিল না বাংলাদেশ। কিন্তু এতটাও খারাপ পারফরম্যান্স প্রত্যাশিত ছিল না। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২০৫ রান করেও হেরেছিল তারা। তৃতীয় ম্যাচে ৮৪ রানেই ফেরেন আট ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত টেলের ব্যাটারদের চেষ্টায় মোটামুটি লড়াইয়ের পুঁজি মেলে তাদের। কিন্তু বোলারদের পক্ষে শারজাহর উইকেটে ১৬২ রান নিয়ে জয় নিশ্চিত করা আর সম্ভব হয়নি। টি-টোয়েন্টির র্যাঙ্কিংয়ের ১৫তম দলের কাছে এমন হার! লিটন বললেন অপ্রত্যাশিত, ‘অবশ্যই প্রত্যাশিত নয়। যখন এখানে এসেছি, সব সময় ম্যাচ জেতার কথাই ভেবেছি। এটা (সিরিজ হেরে যাওয়া) জীবনের অংশ।’ প্রতিপক্ষকে কোনোভাবে ছোট করে দেখতে চান না লিটন। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে তাদের সম্মান দেওয়ার কথা বললেন তিনি, ‘যখন আপনি ক্রিকেট খেলবেন, প্রতিপক্ষ ভালো খেলবে—তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে।’
সিরিজে বাংলাদেশের চিন্তার জায়গায় ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং। তিন বিভাগেই অস্বস্তির ছবি দেখা গেছে। ক্যাচ ছেড়ে ছক্কা দেওয়া, আলগা বলে উইকেট উপহার দেওয়া কিংবা প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের দুর্বলতা অনুযায়ী বোলিং করতে না পারা। সবকিছুই যেন এক সিরিজে ফুটে উঠল। যদিও লিটন ব্যাটারদের ভুলগুলোই সামনে আনলেন, ‘আজ আমরা ব্যাটিংয়ে
কিছু ভুল করেছি। আমার মনে হয় এমন কিছু আমরা
এই উইকেট, কন্ডিশনে করতে চাইনি। তিন ম্যাচেই আমরা পরে ব্যাট করেছি, শিশিরই মেইন ফ্যাক্টর ছিল।’ শিশিরকে দোষ দিলেও প্রতিপক্ষ যে বাংলাদেশের চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল, তা মাঠেই দেখা গেছে। ক্যালকুলেটিভ ক্রিকেট খেলেছে আমিরাত। বাংলাদেশের ব্যাটার ও বোলারদের দুর্বলতাগুলো নিখুঁতভাবে খুঁজে নিতে পেরেছিল তারা। সেজন্য মোহাম্মদ ওয়াসিমদের প্রশংসায়ও ভাসালেন লিটন, ‘তারা সত্যিই ভালো খেলেছে। আজকে প্রথম ভাগে তারা ভালো খেলেছে। ভালো বোলিং করেছে তারা, এজন্য বেশি রান করতে পারিনি আমরা।’
সিরিজজুড়ে ব্যাটারদের ব্যর্থতার মধ্যেও ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংস খেলেন পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, জাকের আলি অনিকরা। ইমন প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করলেও শেষ ম্যাচে ফেরেন গোল্ডেন ডাকে। তার পরও অধিনায়কের কণ্ঠে প্রশংসিত হন, ‘যারা ব্যাট করেছে, তাদেরও কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা অস্থির হয়নি। যেভাবে পারভেজ ইমন, তানজিদ তামিম, হৃদয় ব্যাট করেছে—জাকের সত্যিই ভালো ব্যাট করেছে। দু-একজন ভালো বোলিংও করেছে। তবে আমাদের আরও শিখতে হবে এবং প্রয়োগ করতে হবে ম্যাচে।’ এখনো শেখার তাগিদ বাংলাদেশ অধিনায়কের কণ্ঠে। এই সংস্করণে যুগের বেশি সময় কাটিয়েও যেন শেখাই হচ্ছে না তাদের! কবে হবে—সে উত্তর এখনো অজানা।




