ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

এনসিপিকে নিয়ে হতাশা

রাজনীতি

আমজাদ হোসেন হৃদয়

  ২৪ মে ২০২৫, ০০:০০

জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি শুরুতে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল সীমাহীন। দিন যত গড়াচ্ছে মানুষের সেই প্রত্যাশায় ভাটা পড়েছে। বিশেষ করে দল গঠনের পর থেকেই এনসিপির অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা, নেতাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, কোনো কোনো নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ—এসব নানা কারণে দলটি যেমন ইমেজ সংকটে পড়েছে, তাদের প্রতি সাধারণের আবেদনও দিন দিন কমছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যতটা প্রত্যাশা নিয়ে গঠন করা হয়েছে তরুণদের এ দল, ততটাই হতাশা উপহার দিয়েছে তারা।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। পরে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন দলটির নেতাকর্মীরা। সর্বশেষ এনসিপির জ্যেষ্ঠ মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন ‘চাঁদাবাজ’ নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসে সমালোচনায় বিদ্ধ হন। নিজ দল থেকে শোকজও করা হয় তাকে। এর আগে মোংলা সমুদ্রবন্দর ইস্যুতে জড়িয়ে সমালোচিত হন তিনি।

আত্মপ্রকাশের পর এনসিপির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীর। তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক নিয়োগ ও এনসিটিবির বই ছাপার কাজে ‘কমিশন বাণিজ্য’ ও ‘হস্তক্ষেপ’ করার বড় অভিযোগ রয়েছে। তানভীরের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে বেশ আলোচনা চলছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতিও দেওয়া হয়। তাকে এখনো স্থায়ী বহিষ্কার না করায় নানা মহলে এনসিপিকে নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনসিপির শৃঙ্খলা কমিটি তাকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে। এরই মধ্যে গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে তাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

নিজ দলের মধ্যেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন ছাত্রলীগ ছেড়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটানো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যোগ দিয়ে আলোচিত হওয়া সারজিস আলম। এনসিপির এ মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ঈদের আগে নিজ এলাকা পঞ্চগড়ে ৪০০ গাড়ির বহর নিয়ে শোডাউন করে সমালোচিত হন। এমন কর্মকাণ্ডে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ‘আমার দাদা যে সম্পদ রেখে গেছেন, তা দিয়ে নির্বাচনটাও করে ফেলা যায়’ মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসির পাত্রও হন তিনি।

আরেক মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সেনা প্রধানসহ স্পর্শকাতর কিছু বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচিত হন। এছাড়া হাসনাত ও সারজিস দুদক কার্যালয়ে গিয়ে দল এবং দলের বাইরে সমালোচিত হলেও কেন তারা দুদকে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে আজও মুখ খোলেননি।

অন্যদিকে, রেল ভবনে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের (ডিজি) একান্ত সচিবের কক্ষে তদবির করার অভিযোগ ওঠে এনসিপির সংগঠক (হবিগঞ্জ) নাহিদ উদ্দিন তারেকের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। ভিডিওতে তারেকের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক সিনথিয়া জাহিন আয়েশাকেও দেখা গেছে।

এদিকে স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সাবেক ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) ছাত্র প্রতিনিধি তুহিন ফারাবি, বর্তমান ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তারা সরাসরি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না হলেও এনসিপি সমর্থিত হিসেবে পরিচিত। তাদের এসব অভিযোগও এনসিপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এ তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গণমাধ্যমের কাছে তারা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

এনসিপির পদে না থাকলেও ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সরকারে থাকা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তার বাবার ঠিকাদারি লাইসেন্স করা নিয়ে বিতর্কিত হন। পরে অবশ্য সমালোচনার মুখে সেই লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এ ছাড়া ভিডিও বার্তায় সেনাপ্রধান এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিতর্কিত প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তোলেন এ উপদেষ্টা।

আবার মাহফুজ আলম সরকারের অংশ হলেও তাকে এনসিপির প্রতিনিধিত্ব মনে করা হয়। তার বিভিন্ন ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে আবার মুছে ফেলা এবং দুঃখপ্রকাশ করার বিষয়টি নিয়েও নানা সময় বেশ হাস্যরসের জন্ম দেয়।

এর আগে ওয়াসার আউটসোর্সিংয়ের নিয়োগে সুপারিশ নিয়ে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমকে নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। সে সময় এটিকে মিডিয়া ট্রায়াল, চরিত্র হননের অপচেষ্টা বলে দাবি করেছিলেন এনসিপি নেতারা।

গত ৪ মে বকেয়া বেতনের দাবিতে জনকণ্ঠ কার্যালয়ে আন্দোলনরত একদল সাংবাদিকের ওপর হামলা করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ ওঠে এনসিপির সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশিরের বিরুদ্ধে। পরে এ ঘটনায় চিঠি দিয়ে তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে তার দল এনসিপি।

এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করে তোপের মুখে পড়েছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এমনকি এ নিয়ে নিজ দলেও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন তিনি। সেই পোস্টেই এনসিপির দুই শীর্ষ নেতা সারজিস এবং হাসনাত প্রকাশ্যে দ্বিমত পোষণ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। পরে সমালোচনার মুখে অবশ্য পোস্টটি মুছে দেন নাসির। অপর এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন এই এনসিপি নেতা।

পলাতক আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে মামলা করে এরপর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্নজনের কাছ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মানিকগঞ্জ জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব মেহেরাব খান ও আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ‘মানিকগঞ্জ নিউজ’ নামে একটি ফেক আইডির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকায় এই দুই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল মানিকগঞ্জ সদর থানার পুলিশ।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বিরোধ: ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একই ব্যানারে থাকলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে এনসিপির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বিরোধ সামনে আসে। সর্বশেষ বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রের শপথ গ্রহণ কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। এনসিপির নেতারা সরাসরি বিএনপিকে ঘিরে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। ছেড়ে কথা বলেনি বিএনপিও। বিএনপি নেতারাও সরকারে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছেন। এনসিপি সম্পর্কে বিএনপির মধ্যম সারির নেতাদের ‘নাবালক’, ‘অর্বাচীন’সহ নানা মন্তব্য করতে শোনা যায়। বিএনপি ইশরাক ইস্যুতে দলীয়ভাবে সমর্থন দিলেও এনসিপি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও স্থানীয় নির্বাচনের দাবিতে পাল্টা মাঠে নামে। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনীতির মাঠে এনসিপি বনাম বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে একে অন্যের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে দেখা যায়।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনে বড় ধরনের সমর্থন জানায় জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের ছাত্র সংগঠন ছাত্রশিবির। তবে গত ১১ মে রাতে শাহবাগ থেকে ‘গোলাম আযমের বাংলায় আওয়ামী লীগের ঠাঁই নাই’ স্লোগান এবং জাতীয় সংগীত গাইতে বাধা দেওয়ায় ডানপন্থি দলগুলোর সমালোচনায় সরব হন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে লেখেন, ‘একাত্তরের প্রশ্ন মীমাংসা করতেই হবে। যুদ্ধাপরাধের সহযোগীদের ক্ষমা চাইতে হবে। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে পাকিস্তানপন্থা বাদ দিতে হবে।’ বক্তব্য জামায়াত ও শিবিরকে উদ্দেশ করেই দেওয়া, তা স্পষ্ট। এরপর এনসিপি বিবৃতি দিয়ে একাত্তরের অবস্থান ব্যাখ্যা করার আহ্বান জানায়। এ ছাড়া এনসিপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদও এ ইস্যুতে সরব হয়। এরপর জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক শীতল হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগযুদ্ধে জড়ায়। বিশেষ করে মাহফুজ আলমকে তার জন্য দায়ী করে তার সমালোচনা করেন তারা। এর আগে দল গঠনের আগেও শিবিরপন্থিদের ‘মাইনাস’ করার অভিযোগ আছে এনসিপির বিরুদ্ধে।

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের একাধিক নেতাকর্মী কালবেলাকে বলেন, সেই জুলাই থেকেই ছাত্র সমন্বয়কদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছে জামায়াত এবং শিবিরের নেতাকর্মীরা। সব বড় জমায়েতে আমাদের অংশগ্রহণ ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের আন্দোলনের পর তারা আমাদের সরাসরি মাইনাস করে দেয়। এরপর থেকে আমাদের নেতাকর্মীরা আর তাদের কোনো কর্মসূচিতে যেতে রাজি নয়। বিএনপির সঙ্গে তাদের বিরোধ স্পষ্ট হলেও আমরা তাদের ডাকে যেতে এখন দুইবার ভাবব।

শুধু জানায়াত-বিএনপি নয়, এনসিপি নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের মিত্র গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গেও বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিএনপি নেতা ইশরাকের আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ায় এবং দুই ছাত্র উপদেষ্টা ও এনসিপি সমর্থিত ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক এজাজ আহমেদের পদত্যাগ চাওয়া কেন্দ্র করে এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতি হয়। একে অন্যের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে আসেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুপক্ষের কর্মী-সমর্থকরা পরস্পরকে আক্রমণ শুরু করেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কর্মসূচিতে হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গেও এনসিপির বিরোধ দেখা যায়।

এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান কালবেলাকে বলেন, মানুষ এনসিপির প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কারণ, তারা প্রতিটি দলের সঙ্গে অনৈক্য সৃষ্টি করেছে। যাকে যখন দরকার কাছে টেনেছে, কাজ শেষে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে। সবাইকে মাইনাস করে গণঅভ্যুত্থানের একক শক্তি হিসেবে নিজেদের আবির্ভূত করেছে। বিভিন্ন নেতাকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র এবং কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছে। আমাদের দল ভাঙার ষড়যন্ত্রের সঙ্গেও তারা জড়িত।

ইউনাইটেড ইয়াং ফোর্সের আহ্বায়ক মো. শাকিল মিয়া কালবেলাকে বলেন, আত্মপ্রকাশ করার পর থেকেই এনসিপি নয়া রাজনৈতিক বন্দোবস্তের নামে সেই পুরোনো ধারায় ফিরে যাচ্ছে। রাজপথের পরীক্ষিত বিপ্লবীরা যেমন হতাশ হয়ে তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, তেমনি জনগণ তাদের নিয়ে বিব্রত। যেসব কারণে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, সেই একই বিষয় তাদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। তরুণদের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য যেখানে ঐক্য ও সংহতি ধরে রাখা দায়িত্ব সেখানে তারা নিজেরাই নানা ইস্যু তৈরি করে ঐক্য ও সংহতি নষ্ট করছে।

আত্মপক্ষ সমর্থন এনসিপি নেতাদের: এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার কালবেলাকে বলেন, যে মাত্রায় প্রত্যাশা ছিল, সে মাত্রায় আমরা জনগণের কাছে পৌঁছাতে পারিনি। সে চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি। কিন্তু যেভাবে আমাদের বিরুদ্ধে নানা সময়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়, যার সঙ্গে এনসিপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তাকেও এনসিপি হিসেবে দেখানো হয়—এসব ঘটনা আমরা চিহ্নিত করেছি। যেসব সমালোচনা আছে, সেসব আমরা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।

যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বড় ধরনের বিতর্কে জড়িয়েছেন, এ সংখ্যাটা খুব কম। কিছুটা ঘটেছে তা স্বীকার করেই বলছি, দেশপ্রেমিক এবং আগ্রাসনবিরোধী শক্তি হিসেবে এনসিপিকে বিতর্কিত করার জন্য বিভিন্ন গোষ্ঠী বারবার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া যেসব ঘটনা ঘটছে, এনসিপি ব্যবস্থা নিচ্ছে, নিরুৎসাহিত করছে। যার সর্বশেষ উদাহরণ হান্নান মাসউদ। দলীয় শৃঙ্খলা ও বিতর্ক তৈরি না করতে কঠোর হচ্ছে আমাদের দল।

মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করার নানা কার্যক্রমও চলমান। এ চক্রান্ত কয়েকটি দিক থেকে পরিচালিত হচ্ছে। তারপর আমরা যেন নিজেরাই বিভাজনের পথ বেছে নিয়ে অন্য কাউকে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ না দিই, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞ মত: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা কালবেলাকে বলেন, যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের অগ্রণী ভূমিকা ছিল, সেহেতু তাদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে অনেকে বিবেচনা করেছে এনসিপিকে। কিন্তু যে প্রত্যাশা নিয়ে তড়িঘড়ি করে দুই মাস আগে দলটা গঠিত হয়েছিল, সে রকম দ্রুতই দলটা সম্পর্কে নানা আলোচনা, সমালোচনা, বিতর্ক, দুর্নীতির খবর চাউর হয়েছে। এর সবকিছু যেমন সত্য নয়, সবকিছু উড়িয়েও দেওয়া যাবে না। ফলে এ দল সম্পর্কে মানুষের আবেদনও কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গড় বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছর। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার চেয়ে বেশি বয়সী অনেকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন, দিচ্ছেন। দলকে সাসটেইনেবল করার জন্য কাঠামো তারা তৈরি করতে পারেনি এনসিপি। এটা বয়সের জন্য হতে পারে, অভিজ্ঞতার জন্য হতে পারে। এ ছাড়া এ দলটা আবার কিংস পার্টি হতে যাচ্ছে না তো, এ ধরনের ধারণাও আছে মানুষের মাঝে। সবমিলিয়ে মানুষের মনে জায়গা তৈরি করে নেওয়া তাদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, রাজপথে গত এক সপ্তাহে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সরকারকে একটি বার্তা মাত্র। নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা হলে আগামী দিনে যে কোনো সময় একই ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। বিএনপি চায় না, সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক। দলটির নেতারা বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে এখনো প্রত্যাশা করেন তারা। তারা এ-ও মনে করেন, বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন, সংস্কার এবং আওয়ামী লীগের বিচার ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে। তবে তারা বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা বিএনপির জন্য কঠিন হবে। নির্বাচন নিয়ে এটিও সরকারের প্রতি বিএনপির এক ধরনের বার্তা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের যৌক্তিকতার বিষয়টি বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরছে, আগামী আরও বেশ কিছুদিন ঠিক একইভাবে তা অব্যাহত রেখে সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখবে। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে বিভাগীয় শহরে তারুণ্যের সমাবেশ চলছে। আগামী ২৮ মে ঢাকায় বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশ থেকে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের দাবিতে বিএনপির অবস্থান আরও স্পষ্ট করা হবে। এ ছাড়া ঈদুল আজহার পর দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিও থাকবে। সেখান থেকেও নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলে ধরা হবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এটা ক্রমেই বাড়বে। অবশ্য দলটি মনে করছে, আগামী জুলাই নাগাদ সরকারের তরফ থেকে নির্বাচনের দিনক্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হতে পারে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে নিজের মতামত জানান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান তার যে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন, সেটিকে যৌক্তিক বলছে বিএনপি। সরকার এটিও আমলে নেবে বলে মনে করে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৃহস্পতিবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। এই জনআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াটাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত বলে জনগণ মনে করে। এর অন্যথা হলে জনগণের দল হিসেবে বিএনপির পক্ষে এই সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। গত সপ্তাহে অন্তত দুটি ইস্যুতে বিএনপিকে হার্ডলাইনে দেখা গেছে। ঢাকার দক্ষিণে মেয়র পদে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের শপথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে দলটির নেতাকর্মীরা। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির যে শঙ্কা সেটিই মূলত দলটিকে হঠাৎ করে রাজপথে এমন সিদ্ধান্ত নিতে কিংবা তাদেরকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে বলে দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি এই অবস্থান নিয়েছিল। বিএনপি মনে করে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। এমন অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে বার বার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের দাবি জানানো হলেও সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। একইসঙ্গে নানান ধরনের শঙ্কা, গুজব সামনে চলে আসায় সরকারকে একটি বার্তা দেওয়ার জন্য রাজপথে তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করে দলটি। নেতারা বলছেন, এই সরকার ব্যর্থ হোক, সেটা তারা চান না। তারা শুরু থেকেই সরকারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তবে তাদের নির্বাচনের দিনক্ষণের দাবি বারবার উপেক্ষিত হওয়ায় রাজপথে হঠাৎ বিশাল জমায়েতে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা সরকারকে এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, বিএনপি চাইলে সরকারকে যে কোনো সময়ই অসহযোগিতা করতে পারে। জানা গেছে, রাজপথে এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা বিএনপির সিদ্ধান্ত নয়। কারণ, তারা এই সরকারকে কোনোভাবেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চায় না। সর্বশেষ গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ইস্যুতে তারা কমপক্ষে আরও দুই মাস সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময় পরে নির্বাচন নিয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা না হলে কিংবা নির্বাচন প্রলম্বিত করার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট হলে তখন রাজপথের কর্মসূচির কথা ভাববে বিএনপি। এদিকে এই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, ঐক্যের স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা ছিল। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে, কোনো কোনো মহলের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই যেন সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার নানান বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সরকারের নির্দলীয়-নিরপেক্ষ পরিচিতিকে যেমন ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছে, তেমনি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবি তুলেছে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, দেশে বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শিগগির সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। এমনটা না হলে বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে। সেখানে এই বিষয়গুলো তারা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। একই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে দলের ‘ক্লিয়ার-কাট’ অবস্থানের কথাও জানাবে। বিএনপি মনে করে, আগামী নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর একটি কাটঅফ টাইম। দলটি এই ব্যাপারে এখন আরও বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন অস্থায়ী সরকারের একমাত্র ম্যান্ডেট হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কিন্তু সরকারকে এই দায়িত্ব থেকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে সরকারের ভেতরেরই কোনো কোনো শক্তি কিংবা ভেতরের একটি মহল কাজ করছে বলে মনে করে দলটি। বিএনপি এও মনে করছে, নির্বাচন বিলম্বিত করতে অথবা দেশকে গণতন্ত্রে উত্তোরণের পথ ঠেকিয়ে রাখতে কিংবা নতুন কোনো রাজনৈতিক ‘খায়েশ’ পূরণের জন্য যদি সরকার বিকল্প চিন্তা করে থাকে, সেটা বিপদ ডেকে আনবে।
সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি
বড় হচ্ছে দেশীয় খেলনার বাজার
বাংলাদেশের দেশীয় খেলনা শিল্প এখন আর শুধু শিশুর বিনোদনের খাত নয়, এটি রূপ নিয়েছে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাতে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যেমন দেশীয় খেলনার চাহিদা বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি খেলনার জন্য তৈরি হচ্ছে বিস্তৃত সুযোগ। একসময় দেশের খেলনার বাজারে চীনের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও দৃশ্যপট বদলেছে। আনুমানিক ৭ হাজার কোটি টাকার বাজারের মধ্যে দেশীয় নির্মাতাদের দখলে রয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজার। রাজধানী ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪৭টি কারখানা এখন দেশের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করছে। এর মধ্যে অধিকাংশই কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, ইসলামবাগ, চকবাজার, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, পুরান ঢাকা, ইপিজেড ও ইজেড এলাকায়। বর্তমানে দেশেই এক হাজারেরও বেশি ধরনের খেলনা উৎপাদন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে— শিক্ষামূলক খেলনা, প্রাণীর রঙিন মডেল, প্যাডেল কার, ট্রাইসাইকেল, রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, বৈদ্যুতিক পুতুল, প্লাস্টিক দোলনা ও দেয়াল। নতুন সংযোজিত খেলনার মধ্যে রয়েছে—কিবোর্ড, গিটার, ড্রামস, মিনি গাড়ি, অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রতিরূপ। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৩ সালে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যখন খেলনা উৎপাদনে আসে, তখন এ খাতের পেশাদারিত্বে নতুন ধারা সূচিত হয়। তাদের ‘প্লেটাইম’ ব্র্যান্ডের আওতায় এখন পাওয়া যায় শতাধিক ধরনের শিক্ষামূলক খেলনা, যেমন—পাজল, বর্ণমালা বোর্ড, গাণিতিক গেমস। আর ‘জিম অ্যান্ড জলি’ ব্র্যান্ডের অধীনে তৈরি হচ্ছে বিগ টয় ক্যাটাগরির পণ্য, যেমন—বেবি ওয়াকার, রাইডিং কার, স্লাইডার ও ট্রাইসাইকেল। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় খেলনা: বর্তমানে বাংলাদেশের খেলনা রপ্তানি হচ্ছে ভারতের সেভেন সিস্টার্স, নেপাল, ভুটান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সসহ ইউরোপ ও অন্যান্য উন্নত দেশে। ভবিষ্যতে লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারেও প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশি খেলনার মান, নিরাপত্তা ও মূল্য সংযোজনের দিকটি ক্রমেই উন্নত হওয়ায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এর চাহিদা বেড়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, চাহিদা আরও বাড়ানো সম্ভব, যদি সরকার রপ্তানি প্রণোদনা, কাঁচামালে শুল্ক ছাড় ও মান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দেয়। চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা: যদিও খেলনা শিল্পের সম্ভাবনা বিশাল, তবুও উদ্যোক্তাদের সামনে রয়েছে কিছু প্রতিবন্ধকতা। কাঁচামাল আমদানিতে প্রায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া আধুনিক ছাঁচ নির্মাণ প্রযুক্তি, নিরাপত্তা পরীক্ষার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খেলনা সনদায়নের সুযোগ এখনো সীমিত। শিল্প মালিকরা বলছেন, খেলনা শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, বিশ্বমানের প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা এবং গার্মেন্টস শিল্পের মতো সুবিধা প্রদান জরুরি। উদ্যোক্তারা বলছেন, খেলনা শিল্পকে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের উপযোগী করতে হলে সরকারকে সহজ শর্তে ঋণ, অবকাঠামোগত সহায়তা এবং কার্যকর নীতিমালার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে পেট্রোকেমিক্যাল, সাইক্লিং, অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিকস শিল্পে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়বে, যা এই খাতের সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে। তবে গার্মেন্টস খাতের মতো সুবিধা এখনো প্লাস্টিক খেলনা শিল্প পাচ্ছে না। শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সহায়ক নীতি ও সরকারি সহায়তা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভূমিকা: দেশীয় খেলনার বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা শুধু ঐতিহ্যবাহী খেলনা তৈরি করছেন না, বরং সেগুলোকে আধুনিক নকশা এবং ধারণার সঙ্গে মিশিয়ে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছেন, যা শহুরে ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দারাজ, ইভ্যালির মতো ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলো দেশীয় খেলনার প্রচার ও বিক্রির জন্য শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে উৎপাদকরা সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছতে পারছেন, যা তাদের পণ্য বিপণন এবং বাজার সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা বিদেশি খেলনার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য তাদের পণ্যের গুণগত মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। রঙের স্থায়িত্ব, কারুকার্যের সূক্ষ্মতা এবং উপকরণের দৃঢ়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সোহান টয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী কালবেলাকে বলেন, দেশীয় খেলনার বাজার ক্রমশ বড় হচ্ছে এবং এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা এই শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় খেলনার প্রচার ও প্রসারে নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ এবং অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগলাইন ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে। এই শিল্পকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। সহজ শর্তে ঋণ, কর মওকুফ এবং অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই খাতের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা উচিত।’ ছোট খেলনার বাজারও বড় হচ্ছে: দেশের অন্যান্য খেলনার পাশাপাশি ছোট খেলনার বাজারও বড় হচ্ছে। এই ছোট খেলনার বাজারে এমন কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বছরে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি বিক্রি করে। এগুলো গত এক দশকে ছোট কারখানা থেকে বড় শিল্পকারখানায় রূপ নিয়েছে। দেশে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে এ আর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ এন্টারপ্রাইজ, আমরোজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আজিজ প্লাস্টিক টয় ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকাইয়া টয় ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এভারেস্ট টয় ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দেশে উৎপাদনের ফলে খেলনার দাম অনেক কমেছে গত কয়েক বছরে। কম দামে ভালো খেলনা মিলছে। আগে যা বিদেশ থেকে আনতে হতো, তা এখন দেশেই বানানো হচ্ছে। চীন থেকে ধারণা নিয়ে দেশে এসব তৈরি হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশ টয় মার্চেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক জাহিদ কালবেলাকে বলেন, দেশের খেলনা বাজারের উদ্ভব বেশিদিন হয়নি। এই বাজার বছর দশেক আগেও চীনের দখলে ছিল। যেটা এখন আমরা দেশে তৈরি করেছি। বাজারটি ভালোভাবে ধরতে পারায় দ্রুত এ খাতের বিকাশ হয়েছে। জাহিদুল হক বলেন, ‘দেশীয় খেলনা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে মোট বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে নিয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের খেলনা চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদন হয়। এ ছাড়া বাইরে বিভিন্ন মেটাল, কাপড়ের বা পুরো যন্ত্র টাইপের খেলনা আমদানি হচ্ছে।’ দেশে উৎপাদনের ফলে গত কয়েক বছরে খেলনার দাম অনেক কমেছে জানিয়ে এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘কম দামে ভালো খেলনা মিলছে। আগে যা বিদেশ থেকে আনতে হতো, তা এখন আমরাই বানাচ্ছি। চীন থেকে ধারণা নিয়ে দেশে এসব তৈরি হচ্ছে। একসময় দেশে এ খেলনা আমদানির প্রয়োজন থাকবে না। উল্টো দেশের এসব কোম্পানি রপ্তানি করবে বহুগুণ। খেলনা হবে দেশের আয়ের বড় উৎস। কারণ আমাদের খেলনা অনেক দেশের তুলনায় অনন্য।’ যা বলছে বিপিজিএমইএ: রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে দুই দিনের প্লাস্টিক খেলনা প্রদর্শনী মেলা। মেলাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্প। বিপিজিএমইএর সভাপতি শামিম আহমেদ বলেন, সেভেন সিস্টার্স এলাকায় পণ্য পাঠাতে হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিবহনে বেশি খরচ হয়। ফলে সেখানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য পাঠানো ছিল অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। কিন্তু এখন যদি ঘুরপথে পণ্য পাঠাতে হয়, তাহলে রপ্তানিতে লাভ থাকবে না। ভারতে পণ্য রপ্তানি নিয়ে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেটি তারা মেনে নেবেন। সদ্য সমাপ্ত দুই দিনের প্লাস্টিক খেলনা প্রদর্শনী মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে শামিম আহমেদ বলেন, ‘এই মেলা পেশাদার ক্রেতা ও খেলনা শিল্পের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি এটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বিনিময়ের সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশে তৈরি খেলনার রপ্তানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ খেলনা রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হবে ২৪ শতাংশ। সরকারের নীতিসহায়তা ও কাঁচামাল আমদানিতে কর সুবিধা পেলে দেশের খেলনা শিল্প এগিয়ে যাবে।’
বড় হচ্ছে দেশীয় খেলনার বাজার
নাহিদ ইসলাম / আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে
দেশকে বিভাজিত করে আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিকে সব ধরনের আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করে স্বাধীন ও সার্বভৌমভাবে পরিচালনা করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশকে বারবার বিভাজিত করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করা হয়েছে বাংলাদেশকে দুর্বল করে রাখার লক্ষ্যে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে আবারও দিল্লি থেকে ছক আঁকা হচ্ছে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার, দেশকে বিভাজিত করার। গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করে আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে।’ এনসিপির এই নেতা ফেসবুকে লেখেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশপন্থি ও ধর্মপ্রাণ ছাত্র-জনতাকে সার্বভৌমত্ব, সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার ও সৈনিকদের সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশ রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি লেখেন, ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জনগণকে দেওয়া সংস্কার, বিচার ও ভোটাধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। উনাকে দায়িত্বে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দিতে হবে। ঘোষিত টাইমফ্রেমের মধ্যেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কারের জুলাই সনদ রচিত হবে। নির্বাচনের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হবে এবং বিচারের রোডম্যাপ আসতে হবে। নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ ও আইনসভার নির্বাচন একই সঙ্গে দিতে হবে।’ এদিকে সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হোটেলে এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির সারা দেশের সংগঠকদের নিয়ে পরিচিতি ও সাধারণ সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি বাস্তবায়নে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের পথে যত বড় শক্তিই বাধা হয়ে দাঁড়াক, আমরা তার মোকাবিলা করব। জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র শহীদ ও আহতদের উপহার হিসেবে দিতে যুবশক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নাহিদ।
আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে
ফরহাদ মজহার / পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে ‘ভুল করেছেন’ মন্তব্য করে কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, তার জন্য আত্মঘাতী। কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, তার উচিত জনগণের ঐতিহাসিক অভিপ্রায়কে সম্মান করা, কোনো দল বা গোষ্ঠীর চাপে বিভ্রান্ত না হয়ে জনগণের ওপর আস্থা রাখা।’ গতকাল শুক্রবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নয়, রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূসকে নির্বাচিত করেছে বলে পোস্টে মন্তব্য করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘তাকে (ড. ইউনূস) অবশ্যই খুনিদের বিচার করতে হবে, নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, খোলাবাজার ব্যবস্থার জবরদস্তি দ্বারা বৈশ্বিক করপোরেট দখলদারি কায়েমের বিপরীতে গণবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর করতে হবে, সর্বোপরি দিল্লি, মিয়ানমারসহ শত্রু দেশের বিরুদ্ধে লড়ে জেতার ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করতে হবে; কারণ রোহিঙ্গাদের তাদের নিজের দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং তাদের পুনর্বাসনের হিম্মত বাংলাদেশকেই অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশের সৈনিকরা এ দেশের সন্তান, বাংলাদেশের জনগণের সামষ্টিক ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের সঙ্গে তারা অঙ্গাঙ্গি জড়িত। জনগণের স্বার্থ তাদেরও স্বার্থ। কারণ, তারাও জনগণের অংশ—আমরা কেউই মঙ্গলগ্রহ থেকে আসিনি।’ ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনগণ চায় প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ড. ইউনূসের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক। নির্বাচন অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হতে হবে, কিন্তু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে সেনাপ্রধান তার এখতিয়ারের বাইরে নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণিকে আবার ক্ষমতায় বসানোর যুক্তি। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনগণ তা মেনে নেবে না। দেশকে বিভিন্ন শক্তির ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতার ময়দান ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার দায় তখন সেনাপ্রধানের ওপর বর্তাবে।’
পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
সালাহউদ্দিন আহমেদ / আবেগের বশে পদত্যাগ করলে বিকল্প বেছে নেবে জাতি
বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ চায় না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে ড. ইউনূস আবেগের বশবর্তী হয়ে পদত্যাগ করলে জাতি নতুন বিকল্প বেছে নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সালাহউদ্দিন কালবেলাকে এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি ড. ইউনূসের পদত্যাগ চায় না। বিএনপি চায় নির্বাচনী সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে সংস্কারের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। তবুও তিনি কোনো কারণে আবেগের বশবর্তী হয়ে পদত্যাগ করলে জাতি নতুন বিকল্প বেছে নেবে।’ সালাহউদ্দিন বলেন, ড. ইউনূসের পদত্যাগে কোনো শূন্যতা তৈরি হবে না। তবে বিএনপি চায় সম্মানের সঙ্গে ড. ইউনূস থাকুন এবং নির্বাচনী রোডম্যাপ দিয়ে জাতিকে সংকট থেকে মুক্ত করুন। নির্বাচনী রোডম্যাপই বর্তমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ। সংস্কার দেড়-দুই মাসের মধ্যে করা সম্ভব মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে। নির্বাচন আয়োজনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি, বরং উনারা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, বিএনপি গত ১৯ মে থেকে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাতের চেষ্টা করেও পায়নি। সরকারের ভেতরের আওয়ামী দোসর এবং উচ্চাভিলাষী কেউ কেউ বিএনপিকে প্রতিপক্ষ ভাবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপির আন্দোলনের চাপে ড. ইউনূস পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সালাহউদ্দিন বলেন, বিএনপি ড. ইউনূসের পদত্যাগের জন্য আন্দোলন করেনি। মেয়র হিসেবে রায় পাওয়ার পরও ইশরাককে কেন শপথ পড়ানো হচ্ছে না, সেই কারণে ঢাকাবাসী আন্দোলন করেছে। এ বিষয়টি অন্য দৃষ্টিতে নেওয়ার কিছু নেই। রাস্তায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনগণকে নামতে হলো কেন?
আবেগের বশে পদত্যাগ করলে বিকল্প বেছে নেবে জাতি
সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি
সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, রাজপথে গত এক সপ্তাহে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সরকারকে একটি বার্তা মাত্র। নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা হলে আগামী দিনে যে কোনো সময় একই ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। বিএনপি চায় না, সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক। দলটির নেতারা বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে এখনো প্রত্যাশা করেন তারা। তারা এ-ও মনে করেন, বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন, সংস্কার এবং আওয়ামী লীগের বিচার ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে। তবে তারা বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা বিএনপির জন্য কঠিন হবে। নির্বাচন নিয়ে এটিও সরকারের প্রতি বিএনপির এক ধরনের বার্তা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের যৌক্তিকতার বিষয়টি বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরছে, আগামী আরও বেশ কিছুদিন ঠিক একইভাবে তা অব্যাহত রেখে সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখবে। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে বিভাগীয় শহরে তারুণ্যের সমাবেশ চলছে। আগামী ২৮ মে ঢাকায় বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশ থেকে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের দাবিতে বিএনপির অবস্থান আরও স্পষ্ট করা হবে। এ ছাড়া ঈদুল আজহার পর দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিও থাকবে। সেখান থেকেও নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলে ধরা হবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এটা ক্রমেই বাড়বে। অবশ্য দলটি মনে করছে, আগামী জুলাই নাগাদ সরকারের তরফ থেকে নির্বাচনের দিনক্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হতে পারে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে নিজের মতামত জানান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান তার যে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন, সেটিকে যৌক্তিক বলছে বিএনপি। সরকার এটিও আমলে নেবে বলে মনে করে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৃহস্পতিবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। এই জনআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াটাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত বলে জনগণ মনে করে। এর অন্যথা হলে জনগণের দল হিসেবে বিএনপির পক্ষে এই সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। গত সপ্তাহে অন্তত দুটি ইস্যুতে বিএনপিকে হার্ডলাইনে দেখা গেছে। ঢাকার দক্ষিণে মেয়র পদে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের শপথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে দলটির নেতাকর্মীরা। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির যে শঙ্কা সেটিই মূলত দলটিকে হঠাৎ করে রাজপথে এমন সিদ্ধান্ত নিতে কিংবা তাদেরকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে বলে দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি এই অবস্থান নিয়েছিল। বিএনপি মনে করে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। এমন অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে বার বার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের দাবি জানানো হলেও সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। একইসঙ্গে নানান ধরনের শঙ্কা, গুজব সামনে চলে আসায় সরকারকে একটি বার্তা দেওয়ার জন্য রাজপথে তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করে দলটি। নেতারা বলছেন, এই সরকার ব্যর্থ হোক, সেটা তারা চান না। তারা শুরু থেকেই সরকারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তবে তাদের নির্বাচনের দিনক্ষণের দাবি বারবার উপেক্ষিত হওয়ায় রাজপথে হঠাৎ বিশাল জমায়েতে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা সরকারকে এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, বিএনপি চাইলে সরকারকে যে কোনো সময়ই অসহযোগিতা করতে পারে। জানা গেছে, রাজপথে এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা বিএনপির সিদ্ধান্ত নয়। কারণ, তারা এই সরকারকে কোনোভাবেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চায় না। সর্বশেষ গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ইস্যুতে তারা কমপক্ষে আরও দুই মাস সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময় পরে নির্বাচন নিয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা না হলে কিংবা নির্বাচন প্রলম্বিত করার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট হলে তখন রাজপথের কর্মসূচির কথা ভাববে বিএনপি। এদিকে এই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, ঐক্যের স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা ছিল। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে, কোনো কোনো মহলের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই যেন সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার নানান বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সরকারের নির্দলীয়-নিরপেক্ষ পরিচিতিকে যেমন ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছে, তেমনি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবি তুলেছে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, দেশে বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শিগগির সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। এমনটা না হলে বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে। সেখানে এই বিষয়গুলো তারা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। একই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে দলের ‘ক্লিয়ার-কাট’ অবস্থানের কথাও জানাবে। বিএনপি মনে করে, আগামী নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর একটি কাটঅফ টাইম। দলটি এই ব্যাপারে এখন আরও বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন অস্থায়ী সরকারের একমাত্র ম্যান্ডেট হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কিন্তু সরকারকে এই দায়িত্ব থেকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে সরকারের ভেতরেরই কোনো কোনো শক্তি কিংবা ভেতরের একটি মহল কাজ করছে বলে মনে করে দলটি। বিএনপি এও মনে করছে, নির্বাচন বিলম্বিত করতে অথবা দেশকে গণতন্ত্রে উত্তোরণের পথ ঠেকিয়ে রাখতে কিংবা নতুন কোনো রাজনৈতিক ‘খায়েশ’ পূরণের জন্য যদি সরকার বিকল্প চিন্তা করে থাকে, সেটা বিপদ ডেকে আনবে।
বড় হচ্ছে দেশীয় খেলনার বাজার
বড় হচ্ছে দেশীয় খেলনার বাজার
বাংলাদেশের দেশীয় খেলনা শিল্প এখন আর শুধু শিশুর বিনোদনের খাত নয়, এটি রূপ নিয়েছে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাতে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যেমন দেশীয় খেলনার চাহিদা বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি খেলনার জন্য তৈরি হচ্ছে বিস্তৃত সুযোগ। একসময় দেশের খেলনার বাজারে চীনের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও দৃশ্যপট বদলেছে। আনুমানিক ৭ হাজার কোটি টাকার বাজারের মধ্যে দেশীয় নির্মাতাদের দখলে রয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজার। রাজধানী ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪৭টি কারখানা এখন দেশের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করছে। এর মধ্যে অধিকাংশই কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, ইসলামবাগ, চকবাজার, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, পুরান ঢাকা, ইপিজেড ও ইজেড এলাকায়। বর্তমানে দেশেই এক হাজারেরও বেশি ধরনের খেলনা উৎপাদন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে— শিক্ষামূলক খেলনা, প্রাণীর রঙিন মডেল, প্যাডেল কার, ট্রাইসাইকেল, রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, বৈদ্যুতিক পুতুল, প্লাস্টিক দোলনা ও দেয়াল। নতুন সংযোজিত খেলনার মধ্যে রয়েছে—কিবোর্ড, গিটার, ড্রামস, মিনি গাড়ি, অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রতিরূপ। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৩ সালে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যখন খেলনা উৎপাদনে আসে, তখন এ খাতের পেশাদারিত্বে নতুন ধারা সূচিত হয়। তাদের ‘প্লেটাইম’ ব্র্যান্ডের আওতায় এখন পাওয়া যায় শতাধিক ধরনের শিক্ষামূলক খেলনা, যেমন—পাজল, বর্ণমালা বোর্ড, গাণিতিক গেমস। আর ‘জিম অ্যান্ড জলি’ ব্র্যান্ডের অধীনে তৈরি হচ্ছে বিগ টয় ক্যাটাগরির পণ্য, যেমন—বেবি ওয়াকার, রাইডিং কার, স্লাইডার ও ট্রাইসাইকেল। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় খেলনা: বর্তমানে বাংলাদেশের খেলনা রপ্তানি হচ্ছে ভারতের সেভেন সিস্টার্স, নেপাল, ভুটান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সসহ ইউরোপ ও অন্যান্য উন্নত দেশে। ভবিষ্যতে লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারেও প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশি খেলনার মান, নিরাপত্তা ও মূল্য সংযোজনের দিকটি ক্রমেই উন্নত হওয়ায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এর চাহিদা বেড়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, চাহিদা আরও বাড়ানো সম্ভব, যদি সরকার রপ্তানি প্রণোদনা, কাঁচামালে শুল্ক ছাড় ও মান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দেয়। চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা: যদিও খেলনা শিল্পের সম্ভাবনা বিশাল, তবুও উদ্যোক্তাদের সামনে রয়েছে কিছু প্রতিবন্ধকতা। কাঁচামাল আমদানিতে প্রায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া আধুনিক ছাঁচ নির্মাণ প্রযুক্তি, নিরাপত্তা পরীক্ষার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খেলনা সনদায়নের সুযোগ এখনো সীমিত। শিল্প মালিকরা বলছেন, খেলনা শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, বিশ্বমানের প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা এবং গার্মেন্টস শিল্পের মতো সুবিধা প্রদান জরুরি। উদ্যোক্তারা বলছেন, খেলনা শিল্পকে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের উপযোগী করতে হলে সরকারকে সহজ শর্তে ঋণ, অবকাঠামোগত সহায়তা এবং কার্যকর নীতিমালার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে পেট্রোকেমিক্যাল, সাইক্লিং, অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিকস শিল্পে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়বে, যা এই খাতের সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে। তবে গার্মেন্টস খাতের মতো সুবিধা এখনো প্লাস্টিক খেলনা শিল্প পাচ্ছে না। শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সহায়ক নীতি ও সরকারি সহায়তা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভূমিকা: দেশীয় খেলনার বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা শুধু ঐতিহ্যবাহী খেলনা তৈরি করছেন না, বরং সেগুলোকে আধুনিক নকশা এবং ধারণার সঙ্গে মিশিয়ে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছেন, যা শহুরে ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দারাজ, ইভ্যালির মতো ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলো দেশীয় খেলনার প্রচার ও বিক্রির জন্য শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে উৎপাদকরা সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছতে পারছেন, যা তাদের পণ্য বিপণন এবং বাজার সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা বিদেশি খেলনার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য তাদের পণ্যের গুণগত মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। রঙের স্থায়িত্ব, কারুকার্যের সূক্ষ্মতা এবং উপকরণের দৃঢ়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সোহান টয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী কালবেলাকে বলেন, দেশীয় খেলনার বাজার ক্রমশ বড় হচ্ছে এবং এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা এই শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় খেলনার প্রচার ও প্রসারে নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ এবং অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগলাইন ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে। এই শিল্পকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। সহজ শর্তে ঋণ, কর মওকুফ এবং অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই খাতের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা উচিত।’ ছোট খেলনার বাজারও বড় হচ্ছে: দেশের অন্যান্য খেলনার পাশাপাশি ছোট খেলনার বাজারও বড় হচ্ছে। এই ছোট খেলনার বাজারে এমন কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বছরে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি বিক্রি করে। এগুলো গত এক দশকে ছোট কারখানা থেকে বড় শিল্পকারখানায় রূপ নিয়েছে। দেশে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে এ আর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ এন্টারপ্রাইজ, আমরোজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আজিজ প্লাস্টিক টয় ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকাইয়া টয় ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এভারেস্ট টয় ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দেশে উৎপাদনের ফলে খেলনার দাম অনেক কমেছে গত কয়েক বছরে। কম দামে ভালো খেলনা মিলছে। আগে যা বিদেশ থেকে আনতে হতো, তা এখন দেশেই বানানো হচ্ছে। চীন থেকে ধারণা নিয়ে দেশে এসব তৈরি হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশ টয় মার্চেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক জাহিদ কালবেলাকে বলেন, দেশের খেলনা বাজারের উদ্ভব বেশিদিন হয়নি। এই বাজার বছর দশেক আগেও চীনের দখলে ছিল। যেটা এখন আমরা দেশে তৈরি করেছি। বাজারটি ভালোভাবে ধরতে পারায় দ্রুত এ খাতের বিকাশ হয়েছে। জাহিদুল হক বলেন, ‘দেশীয় খেলনা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে মোট বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে নিয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের খেলনা চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদন হয়। এ ছাড়া বাইরে বিভিন্ন মেটাল, কাপড়ের বা পুরো যন্ত্র টাইপের খেলনা আমদানি হচ্ছে।’ দেশে উৎপাদনের ফলে গত কয়েক বছরে খেলনার দাম অনেক কমেছে জানিয়ে এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘কম দামে ভালো খেলনা মিলছে। আগে যা বিদেশ থেকে আনতে হতো, তা এখন আমরাই বানাচ্ছি। চীন থেকে ধারণা নিয়ে দেশে এসব তৈরি হচ্ছে। একসময় দেশে এ খেলনা আমদানির প্রয়োজন থাকবে না। উল্টো দেশের এসব কোম্পানি রপ্তানি করবে বহুগুণ। খেলনা হবে দেশের আয়ের বড় উৎস। কারণ আমাদের খেলনা অনেক দেশের তুলনায় অনন্য।’ যা বলছে বিপিজিএমইএ: রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে দুই দিনের প্লাস্টিক খেলনা প্রদর্শনী মেলা। মেলাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্প। বিপিজিএমইএর সভাপতি শামিম আহমেদ বলেন, সেভেন সিস্টার্স এলাকায় পণ্য পাঠাতে হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিবহনে বেশি খরচ হয়। ফলে সেখানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য পাঠানো ছিল অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। কিন্তু এখন যদি ঘুরপথে পণ্য পাঠাতে হয়, তাহলে রপ্তানিতে লাভ থাকবে না। ভারতে পণ্য রপ্তানি নিয়ে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেটি তারা মেনে নেবেন। সদ্য সমাপ্ত দুই দিনের প্লাস্টিক খেলনা প্রদর্শনী মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে শামিম আহমেদ বলেন, ‘এই মেলা পেশাদার ক্রেতা ও খেলনা শিল্পের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি এটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বিনিময়ের সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশে তৈরি খেলনার রপ্তানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ খেলনা রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হবে ২৪ শতাংশ। সরকারের নীতিসহায়তা ও কাঁচামাল আমদানিতে কর সুবিধা পেলে দেশের খেলনা শিল্প এগিয়ে যাবে।’
আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে
নাহিদ ইসলাম / আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে
দেশকে বিভাজিত করে আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিকে সব ধরনের আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করে স্বাধীন ও সার্বভৌমভাবে পরিচালনা করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশকে বারবার বিভাজিত করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করা হয়েছে বাংলাদেশকে দুর্বল করে রাখার লক্ষ্যে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে আবারও দিল্লি থেকে ছক আঁকা হচ্ছে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার, দেশকে বিভাজিত করার। গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করে আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে।’ এনসিপির এই নেতা ফেসবুকে লেখেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশপন্থি ও ধর্মপ্রাণ ছাত্র-জনতাকে সার্বভৌমত্ব, সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার ও সৈনিকদের সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশ রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি লেখেন, ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জনগণকে দেওয়া সংস্কার, বিচার ও ভোটাধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। উনাকে দায়িত্বে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দিতে হবে। ঘোষিত টাইমফ্রেমের মধ্যেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কারের জুলাই সনদ রচিত হবে। নির্বাচনের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হবে এবং বিচারের রোডম্যাপ আসতে হবে। নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ ও আইনসভার নির্বাচন একই সঙ্গে দিতে হবে।’ এদিকে সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হোটেলে এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির সারা দেশের সংগঠকদের নিয়ে পরিচিতি ও সাধারণ সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি বাস্তবায়নে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের পথে যত বড় শক্তিই বাধা হয়ে দাঁড়াক, আমরা তার মোকাবিলা করব। জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র শহীদ ও আহতদের উপহার হিসেবে দিতে যুবশক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নাহিদ।
পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
ফরহাদ মজহার / পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে ‘ভুল করেছেন’ মন্তব্য করে কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, তার জন্য আত্মঘাতী। কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, তার উচিত জনগণের ঐতিহাসিক অভিপ্রায়কে সম্মান করা, কোনো দল বা গোষ্ঠীর চাপে বিভ্রান্ত না হয়ে জনগণের ওপর আস্থা রাখা।’ গতকাল শুক্রবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নয়, রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূসকে নির্বাচিত করেছে বলে পোস্টে মন্তব্য করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘তাকে (ড. ইউনূস) অবশ্যই খুনিদের বিচার করতে হবে, নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, খোলাবাজার ব্যবস্থার জবরদস্তি দ্বারা বৈশ্বিক করপোরেট দখলদারি কায়েমের বিপরীতে গণবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর করতে হবে, সর্বোপরি দিল্লি, মিয়ানমারসহ শত্রু দেশের বিরুদ্ধে লড়ে জেতার ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করতে হবে; কারণ রোহিঙ্গাদের তাদের নিজের দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং তাদের পুনর্বাসনের হিম্মত বাংলাদেশকেই অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশের সৈনিকরা এ দেশের সন্তান, বাংলাদেশের জনগণের সামষ্টিক ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের সঙ্গে তারা অঙ্গাঙ্গি জড়িত। জনগণের স্বার্থ তাদেরও স্বার্থ। কারণ, তারাও জনগণের অংশ—আমরা কেউই মঙ্গলগ্রহ থেকে আসিনি।’ ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনগণ চায় প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ড. ইউনূসের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক। নির্বাচন অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হতে হবে, কিন্তু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে সেনাপ্রধান তার এখতিয়ারের বাইরে নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণিকে আবার ক্ষমতায় বসানোর যুক্তি। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনগণ তা মেনে নেবে না। দেশকে বিভিন্ন শক্তির ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতার ময়দান ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার দায় তখন সেনাপ্রধানের ওপর বর্তাবে।’