ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

সরকারকে আরও ২ মাস ‘দেখবে’ বিএনপি

জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ

রাজকুমার নন্দী

  ২১ মে ২০২৫, ০০:০০

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের ৯ মাস পরও আগামী জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষিত না হওয়া এবং এটা নিয়ে সরকারের সময়ক্ষেপণে কার্যত অসন্তুষ্ট বিএনপি। তার পরও সরাসরি রাজপথের কর্মসূচিতে নেমে সরকারের সঙ্গে কোনো বিরোধ বা দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না দলটি। তারা কমপক্ষে আরও দুই মাস সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করবে। এ সময় পেরোলে নির্বাচন নিয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা না হলে কিংবা নির্বাচন প্রলম্বিত করার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট হলে তখন রাজপথের কর্মসূচির কথা ভাববে বিএনপি। সেক্ষেত্রে মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

বিএনপি এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের যৌক্তিকতার বিষয়টি বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরছে, আগামী আরও বেশ কিছুদিন ঠিক একইভাবে তা অব্যাহত রেখে সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখবে। দলটির নীতিনির্ধারকদের অভিমত, যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকারকে তারা ব্যর্থ হতে দিতে চান না এবং শুরু থেকেই সরকারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে আসছেন; সুতরাং সরকারের ওপর এখনো তাদের প্রত্যাশা, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। বিরাজমান হযবরল পরিস্থিতিসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সামনের দিকে অগ্রসর হবে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

গত সোমবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। রাত সাড়ে ৮টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে সাড়ে ১১টার দিকে শেষ হয়। বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস (অনলাইন), গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (অনলাইন), আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান (অনলাইন), ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু (অনলাইন), হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (অনলাইন) এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

জানা গেছে, বৈঠকে বিভিন্ন এজেন্ডা থাকলেও মূলত দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিএনপি নেতারা মনে করেন, বিভিন্ন পক্ষ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে হঠাৎ করে মাঠে নামায় এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতিশীল। কেউ কেউ মনে করেন, সরকারকে বিপদে ফেলতে নানা চক্রান্ত চলছে। সম্প্রতি অতীব গুরুত্বপূর্ণ নয়, এমন কিছু ইস্যু নিয়ে হঠাৎ করে নানা পক্ষের মাঠে আন্দোলনে নামার ঘটনাকে সন্দেহের চোখে দেখছেন তারা। পতিত স্বৈরাচারের লোকজনও হঠাৎ হঠাৎ করে রাজপথে মিছিল করছে। এর মধ্য দিয়ে তারা সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। কিন্তু সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।

বৈঠকে বিএনপির এক নেতা বলেন, ছাত্রদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা যে থেমে থেমে নিত্যনতুন দাবি তুলছে এবং দাবি আদায়ে রাজপথে নামছে, এর মধ্য দিয়েও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। বিএনপির কারও কারও শঙ্কা, রাষ্ট্রপতি অপসারণ, সংবিধান বাতিল, গণভোট, স্থানীয় সরকার নির্বাচন—এই ইস্যুগুলোতে তারা (এনসিপি) সামনে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। সরকার সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে কি না, কিংবা সরকারের অবস্থান তখন কী হয়, সেটি নিয়েও তাদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কেউ কেউ বলেন, বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো ক্রমাগতভাবে দ্রুততম সময়ে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার এখনো সেটাকে সেভাবে আমলে নিচ্ছে না। বরং সংস্কার ও নির্বাচনকে তারা মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে সরকার আসলে কী করতে চায় কিংবা সরকার আদৌ নির্বাচন দেবে কি না, বৈঠকে সেটা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন নেতারা।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, সরকারের একটি প্রভাবশালী অংশ বিরাজনীতিকরণ বা তাদের মদদপুষ্ট একটি দলকে প্রতিষ্ঠিত করতে নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চাইছে। তাদের এ চেষ্টা সফল হলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি পতিত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেবে, যা দেশকে গণতন্ত্রে উত্তোরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি আদায়ে সরকারকে চাপে রাখতে আন্দোলনের পক্ষেও মত দেন দু-একজন। তবে এই ইস্যুতে এখনই মাঠে নামার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে অভিমত দেন অন্যরা। নানামুখী আলোচনার পর বিএনপি নেতারা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল। সরকারের ওপর এখনো তাদের প্রত্যাশা, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং দ্রুত রোডম্যাপ দিয়ে দেশকে নির্বাচনমুখী করবে।

বৈঠকে আদালতের রায় এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ পড়াতে সরকারের গড়িমসি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দলটি নীতিগতভাবে মনে করে, এমন অবস্থায় ইশরাককে মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। মেয়র হিসেবে ইশরাককে শপথ পড়ানোর দাবিতে তার কর্মী-সমর্থক, দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং ঢাকাবাসী যে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ করছে, সেটিকে ‘যৌক্তিক ও সংগত’ মনে করে বিএনপি।

সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, রাজপথে গত এক সপ্তাহে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সরকারকে একটি বার্তা মাত্র। নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা হলে আগামী দিনে যে কোনো সময় একই ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। বিএনপি চায় না, সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক। দলটির নেতারা বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে এখনো প্রত্যাশা করেন তারা। তারা এ-ও মনে করেন, বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন, সংস্কার এবং আওয়ামী লীগের বিচার ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে। তবে তারা বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা বিএনপির জন্য কঠিন হবে। নির্বাচন নিয়ে এটিও সরকারের প্রতি বিএনপির এক ধরনের বার্তা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের যৌক্তিকতার বিষয়টি বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরছে, আগামী আরও বেশ কিছুদিন ঠিক একইভাবে তা অব্যাহত রেখে সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখবে। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে বিভাগীয় শহরে তারুণ্যের সমাবেশ চলছে। আগামী ২৮ মে ঢাকায় বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশ থেকে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের দাবিতে বিএনপির অবস্থান আরও স্পষ্ট করা হবে। এ ছাড়া ঈদুল আজহার পর দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিও থাকবে। সেখান থেকেও নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলে ধরা হবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এটা ক্রমেই বাড়বে। অবশ্য দলটি মনে করছে, আগামী জুলাই নাগাদ সরকারের তরফ থেকে নির্বাচনের দিনক্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হতে পারে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে নিজের মতামত জানান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান তার যে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন, সেটিকে যৌক্তিক বলছে বিএনপি। সরকার এটিও আমলে নেবে বলে মনে করে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৃহস্পতিবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। এই জনআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াটাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত বলে জনগণ মনে করে। এর অন্যথা হলে জনগণের দল হিসেবে বিএনপির পক্ষে এই সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। গত সপ্তাহে অন্তত দুটি ইস্যুতে বিএনপিকে হার্ডলাইনে দেখা গেছে। ঢাকার দক্ষিণে মেয়র পদে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের শপথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে দলটির নেতাকর্মীরা। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির যে শঙ্কা সেটিই মূলত দলটিকে হঠাৎ করে রাজপথে এমন সিদ্ধান্ত নিতে কিংবা তাদেরকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে বলে দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি এই অবস্থান নিয়েছিল। বিএনপি মনে করে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। এমন অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে বার বার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের দাবি জানানো হলেও সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। একইসঙ্গে নানান ধরনের শঙ্কা, গুজব সামনে চলে আসায় সরকারকে একটি বার্তা দেওয়ার জন্য রাজপথে তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করে দলটি। নেতারা বলছেন, এই সরকার ব্যর্থ হোক, সেটা তারা চান না। তারা শুরু থেকেই সরকারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তবে তাদের নির্বাচনের দিনক্ষণের দাবি বারবার উপেক্ষিত হওয়ায় রাজপথে হঠাৎ বিশাল জমায়েতে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা সরকারকে এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, বিএনপি চাইলে সরকারকে যে কোনো সময়ই অসহযোগিতা করতে পারে। জানা গেছে, রাজপথে এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা বিএনপির সিদ্ধান্ত নয়। কারণ, তারা এই সরকারকে কোনোভাবেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চায় না। সর্বশেষ গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ইস্যুতে তারা কমপক্ষে আরও দুই মাস সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময় পরে নির্বাচন নিয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা না হলে কিংবা নির্বাচন প্রলম্বিত করার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট হলে তখন রাজপথের কর্মসূচির কথা ভাববে বিএনপি। এদিকে এই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, ঐক্যের স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা ছিল। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে, কোনো কোনো মহলের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই যেন সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার নানান বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সরকারের নির্দলীয়-নিরপেক্ষ পরিচিতিকে যেমন ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছে, তেমনি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবি তুলেছে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, দেশে বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শিগগির সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। এমনটা না হলে বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে। সেখানে এই বিষয়গুলো তারা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। একই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে দলের ‘ক্লিয়ার-কাট’ অবস্থানের কথাও জানাবে। বিএনপি মনে করে, আগামী নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর একটি কাটঅফ টাইম। দলটি এই ব্যাপারে এখন আরও বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন অস্থায়ী সরকারের একমাত্র ম্যান্ডেট হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কিন্তু সরকারকে এই দায়িত্ব থেকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে সরকারের ভেতরেরই কোনো কোনো শক্তি কিংবা ভেতরের একটি মহল কাজ করছে বলে মনে করে দলটি। বিএনপি এও মনে করছে, নির্বাচন বিলম্বিত করতে অথবা দেশকে গণতন্ত্রে উত্তোরণের পথ ঠেকিয়ে রাখতে কিংবা নতুন কোনো রাজনৈতিক ‘খায়েশ’ পূরণের জন্য যদি সরকার বিকল্প চিন্তা করে থাকে, সেটা বিপদ ডেকে আনবে।
সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি
বড় হচ্ছে দেশীয় খেলনার বাজার
বাংলাদেশের দেশীয় খেলনা শিল্প এখন আর শুধু শিশুর বিনোদনের খাত নয়, এটি রূপ নিয়েছে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাতে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যেমন দেশীয় খেলনার চাহিদা বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি খেলনার জন্য তৈরি হচ্ছে বিস্তৃত সুযোগ। একসময় দেশের খেলনার বাজারে চীনের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও দৃশ্যপট বদলেছে। আনুমানিক ৭ হাজার কোটি টাকার বাজারের মধ্যে দেশীয় নির্মাতাদের দখলে রয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজার। রাজধানী ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪৭টি কারখানা এখন দেশের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করছে। এর মধ্যে অধিকাংশই কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, ইসলামবাগ, চকবাজার, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, পুরান ঢাকা, ইপিজেড ও ইজেড এলাকায়। বর্তমানে দেশেই এক হাজারেরও বেশি ধরনের খেলনা উৎপাদন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে— শিক্ষামূলক খেলনা, প্রাণীর রঙিন মডেল, প্যাডেল কার, ট্রাইসাইকেল, রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, বৈদ্যুতিক পুতুল, প্লাস্টিক দোলনা ও দেয়াল। নতুন সংযোজিত খেলনার মধ্যে রয়েছে—কিবোর্ড, গিটার, ড্রামস, মিনি গাড়ি, অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রতিরূপ। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৩ সালে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যখন খেলনা উৎপাদনে আসে, তখন এ খাতের পেশাদারিত্বে নতুন ধারা সূচিত হয়। তাদের ‘প্লেটাইম’ ব্র্যান্ডের আওতায় এখন পাওয়া যায় শতাধিক ধরনের শিক্ষামূলক খেলনা, যেমন—পাজল, বর্ণমালা বোর্ড, গাণিতিক গেমস। আর ‘জিম অ্যান্ড জলি’ ব্র্যান্ডের অধীনে তৈরি হচ্ছে বিগ টয় ক্যাটাগরির পণ্য, যেমন—বেবি ওয়াকার, রাইডিং কার, স্লাইডার ও ট্রাইসাইকেল। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় খেলনা: বর্তমানে বাংলাদেশের খেলনা রপ্তানি হচ্ছে ভারতের সেভেন সিস্টার্স, নেপাল, ভুটান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সসহ ইউরোপ ও অন্যান্য উন্নত দেশে। ভবিষ্যতে লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারেও প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশি খেলনার মান, নিরাপত্তা ও মূল্য সংযোজনের দিকটি ক্রমেই উন্নত হওয়ায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এর চাহিদা বেড়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, চাহিদা আরও বাড়ানো সম্ভব, যদি সরকার রপ্তানি প্রণোদনা, কাঁচামালে শুল্ক ছাড় ও মান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দেয়। চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা: যদিও খেলনা শিল্পের সম্ভাবনা বিশাল, তবুও উদ্যোক্তাদের সামনে রয়েছে কিছু প্রতিবন্ধকতা। কাঁচামাল আমদানিতে প্রায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া আধুনিক ছাঁচ নির্মাণ প্রযুক্তি, নিরাপত্তা পরীক্ষার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খেলনা সনদায়নের সুযোগ এখনো সীমিত। শিল্প মালিকরা বলছেন, খেলনা শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, বিশ্বমানের প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা এবং গার্মেন্টস শিল্পের মতো সুবিধা প্রদান জরুরি। উদ্যোক্তারা বলছেন, খেলনা শিল্পকে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের উপযোগী করতে হলে সরকারকে সহজ শর্তে ঋণ, অবকাঠামোগত সহায়তা এবং কার্যকর নীতিমালার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে পেট্রোকেমিক্যাল, সাইক্লিং, অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিকস শিল্পে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়বে, যা এই খাতের সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে। তবে গার্মেন্টস খাতের মতো সুবিধা এখনো প্লাস্টিক খেলনা শিল্প পাচ্ছে না। শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সহায়ক নীতি ও সরকারি সহায়তা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভূমিকা: দেশীয় খেলনার বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা শুধু ঐতিহ্যবাহী খেলনা তৈরি করছেন না, বরং সেগুলোকে আধুনিক নকশা এবং ধারণার সঙ্গে মিশিয়ে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছেন, যা শহুরে ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দারাজ, ইভ্যালির মতো ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলো দেশীয় খেলনার প্রচার ও বিক্রির জন্য শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে উৎপাদকরা সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছতে পারছেন, যা তাদের পণ্য বিপণন এবং বাজার সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা বিদেশি খেলনার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য তাদের পণ্যের গুণগত মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। রঙের স্থায়িত্ব, কারুকার্যের সূক্ষ্মতা এবং উপকরণের দৃঢ়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সোহান টয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী কালবেলাকে বলেন, দেশীয় খেলনার বাজার ক্রমশ বড় হচ্ছে এবং এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা এই শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় খেলনার প্রচার ও প্রসারে নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ এবং অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগলাইন ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে। এই শিল্পকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। সহজ শর্তে ঋণ, কর মওকুফ এবং অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই খাতের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা উচিত।’ ছোট খেলনার বাজারও বড় হচ্ছে: দেশের অন্যান্য খেলনার পাশাপাশি ছোট খেলনার বাজারও বড় হচ্ছে। এই ছোট খেলনার বাজারে এমন কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বছরে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি বিক্রি করে। এগুলো গত এক দশকে ছোট কারখানা থেকে বড় শিল্পকারখানায় রূপ নিয়েছে। দেশে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে এ আর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ এন্টারপ্রাইজ, আমরোজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আজিজ প্লাস্টিক টয় ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকাইয়া টয় ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এভারেস্ট টয় ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দেশে উৎপাদনের ফলে খেলনার দাম অনেক কমেছে গত কয়েক বছরে। কম দামে ভালো খেলনা মিলছে। আগে যা বিদেশ থেকে আনতে হতো, তা এখন দেশেই বানানো হচ্ছে। চীন থেকে ধারণা নিয়ে দেশে এসব তৈরি হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশ টয় মার্চেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক জাহিদ কালবেলাকে বলেন, দেশের খেলনা বাজারের উদ্ভব বেশিদিন হয়নি। এই বাজার বছর দশেক আগেও চীনের দখলে ছিল। যেটা এখন আমরা দেশে তৈরি করেছি। বাজারটি ভালোভাবে ধরতে পারায় দ্রুত এ খাতের বিকাশ হয়েছে। জাহিদুল হক বলেন, ‘দেশীয় খেলনা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে মোট বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে নিয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের খেলনা চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদন হয়। এ ছাড়া বাইরে বিভিন্ন মেটাল, কাপড়ের বা পুরো যন্ত্র টাইপের খেলনা আমদানি হচ্ছে।’ দেশে উৎপাদনের ফলে গত কয়েক বছরে খেলনার দাম অনেক কমেছে জানিয়ে এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘কম দামে ভালো খেলনা মিলছে। আগে যা বিদেশ থেকে আনতে হতো, তা এখন আমরাই বানাচ্ছি। চীন থেকে ধারণা নিয়ে দেশে এসব তৈরি হচ্ছে। একসময় দেশে এ খেলনা আমদানির প্রয়োজন থাকবে না। উল্টো দেশের এসব কোম্পানি রপ্তানি করবে বহুগুণ। খেলনা হবে দেশের আয়ের বড় উৎস। কারণ আমাদের খেলনা অনেক দেশের তুলনায় অনন্য।’ যা বলছে বিপিজিএমইএ: রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে দুই দিনের প্লাস্টিক খেলনা প্রদর্শনী মেলা। মেলাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্প। বিপিজিএমইএর সভাপতি শামিম আহমেদ বলেন, সেভেন সিস্টার্স এলাকায় পণ্য পাঠাতে হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিবহনে বেশি খরচ হয়। ফলে সেখানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য পাঠানো ছিল অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। কিন্তু এখন যদি ঘুরপথে পণ্য পাঠাতে হয়, তাহলে রপ্তানিতে লাভ থাকবে না। ভারতে পণ্য রপ্তানি নিয়ে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেটি তারা মেনে নেবেন। সদ্য সমাপ্ত দুই দিনের প্লাস্টিক খেলনা প্রদর্শনী মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে শামিম আহমেদ বলেন, ‘এই মেলা পেশাদার ক্রেতা ও খেলনা শিল্পের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি এটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বিনিময়ের সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশে তৈরি খেলনার রপ্তানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ খেলনা রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হবে ২৪ শতাংশ। সরকারের নীতিসহায়তা ও কাঁচামাল আমদানিতে কর সুবিধা পেলে দেশের খেলনা শিল্প এগিয়ে যাবে।’
বড় হচ্ছে দেশীয় খেলনার বাজার
নাহিদ ইসলাম / আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে
দেশকে বিভাজিত করে আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিকে সব ধরনের আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করে স্বাধীন ও সার্বভৌমভাবে পরিচালনা করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশকে বারবার বিভাজিত করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করা হয়েছে বাংলাদেশকে দুর্বল করে রাখার লক্ষ্যে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে আবারও দিল্লি থেকে ছক আঁকা হচ্ছে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার, দেশকে বিভাজিত করার। গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করে আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে।’ এনসিপির এই নেতা ফেসবুকে লেখেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশপন্থি ও ধর্মপ্রাণ ছাত্র-জনতাকে সার্বভৌমত্ব, সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার ও সৈনিকদের সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশ রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি লেখেন, ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জনগণকে দেওয়া সংস্কার, বিচার ও ভোটাধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। উনাকে দায়িত্বে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দিতে হবে। ঘোষিত টাইমফ্রেমের মধ্যেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কারের জুলাই সনদ রচিত হবে। নির্বাচনের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হবে এবং বিচারের রোডম্যাপ আসতে হবে। নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ ও আইনসভার নির্বাচন একই সঙ্গে দিতে হবে।’ এদিকে সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হোটেলে এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির সারা দেশের সংগঠকদের নিয়ে পরিচিতি ও সাধারণ সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি বাস্তবায়নে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের পথে যত বড় শক্তিই বাধা হয়ে দাঁড়াক, আমরা তার মোকাবিলা করব। জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র শহীদ ও আহতদের উপহার হিসেবে দিতে যুবশক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নাহিদ।
আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে
ফরহাদ মজহার / পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে ‘ভুল করেছেন’ মন্তব্য করে কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, তার জন্য আত্মঘাতী। কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, তার উচিত জনগণের ঐতিহাসিক অভিপ্রায়কে সম্মান করা, কোনো দল বা গোষ্ঠীর চাপে বিভ্রান্ত না হয়ে জনগণের ওপর আস্থা রাখা।’ গতকাল শুক্রবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নয়, রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূসকে নির্বাচিত করেছে বলে পোস্টে মন্তব্য করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘তাকে (ড. ইউনূস) অবশ্যই খুনিদের বিচার করতে হবে, নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, খোলাবাজার ব্যবস্থার জবরদস্তি দ্বারা বৈশ্বিক করপোরেট দখলদারি কায়েমের বিপরীতে গণবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর করতে হবে, সর্বোপরি দিল্লি, মিয়ানমারসহ শত্রু দেশের বিরুদ্ধে লড়ে জেতার ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করতে হবে; কারণ রোহিঙ্গাদের তাদের নিজের দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং তাদের পুনর্বাসনের হিম্মত বাংলাদেশকেই অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশের সৈনিকরা এ দেশের সন্তান, বাংলাদেশের জনগণের সামষ্টিক ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের সঙ্গে তারা অঙ্গাঙ্গি জড়িত। জনগণের স্বার্থ তাদেরও স্বার্থ। কারণ, তারাও জনগণের অংশ—আমরা কেউই মঙ্গলগ্রহ থেকে আসিনি।’ ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনগণ চায় প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ড. ইউনূসের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক। নির্বাচন অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হতে হবে, কিন্তু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে সেনাপ্রধান তার এখতিয়ারের বাইরে নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণিকে আবার ক্ষমতায় বসানোর যুক্তি। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনগণ তা মেনে নেবে না। দেশকে বিভিন্ন শক্তির ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতার ময়দান ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার দায় তখন সেনাপ্রধানের ওপর বর্তাবে।’
পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
সালাহউদ্দিন আহমেদ / আবেগের বশে পদত্যাগ করলে বিকল্প বেছে নেবে জাতি
বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ চায় না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে ড. ইউনূস আবেগের বশবর্তী হয়ে পদত্যাগ করলে জাতি নতুন বিকল্প বেছে নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার সালাহউদ্দিন কালবেলাকে এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিএনপি ড. ইউনূসের পদত্যাগ চায় না। বিএনপি চায় নির্বাচনী সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ। কিন্তু সেদিকে না গিয়ে সংস্কারের কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে। তবুও তিনি কোনো কারণে আবেগের বশবর্তী হয়ে পদত্যাগ করলে জাতি নতুন বিকল্প বেছে নেবে।’ সালাহউদ্দিন বলেন, ড. ইউনূসের পদত্যাগে কোনো শূন্যতা তৈরি হবে না। তবে বিএনপি চায় সম্মানের সঙ্গে ড. ইউনূস থাকুন এবং নির্বাচনী রোডম্যাপ দিয়ে জাতিকে সংকট থেকে মুক্ত করুন। নির্বাচনী রোডম্যাপই বর্তমান সংকট সমাধানের একমাত্র পথ। সংস্কার দেড়-দুই মাসের মধ্যে করা সম্ভব মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে। নির্বাচন আয়োজনে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি, বরং উনারা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, বিএনপি গত ১৯ মে থেকে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাতের চেষ্টা করেও পায়নি। সরকারের ভেতরের আওয়ামী দোসর এবং উচ্চাভিলাষী কেউ কেউ বিএনপিকে প্রতিপক্ষ ভাবে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম বলেছেন, বিএনপির আন্দোলনের চাপে ড. ইউনূস পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সালাহউদ্দিন বলেন, বিএনপি ড. ইউনূসের পদত্যাগের জন্য আন্দোলন করেনি। মেয়র হিসেবে রায় পাওয়ার পরও ইশরাককে কেন শপথ পড়ানো হচ্ছে না, সেই কারণে ঢাকাবাসী আন্দোলন করেছে। এ বিষয়টি অন্য দৃষ্টিতে নেওয়ার কিছু নেই। রাস্তায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনগণকে নামতে হলো কেন?
আবেগের বশে পদত্যাগ করলে বিকল্প বেছে নেবে জাতি
সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি
সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে বিএনপি। দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, রাজপথে গত এক সপ্তাহে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি সরকারকে একটি বার্তা মাত্র। নির্বাচন নিয়ে কোনো টালবাহানা হলে আগামী দিনে যে কোনো সময় একই ধরনের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। বিএনপি চায় না, সেই ধরনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক। দলটির নেতারা বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বেই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে বলে এখনো প্রত্যাশা করেন তারা। তারা এ-ও মনে করেন, বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন, সংস্কার এবং আওয়ামী লীগের বিচার ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবে। তবে তারা বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সংসদ নির্বাচন না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা বিএনপির জন্য কঠিন হবে। নির্বাচন নিয়ে এটিও সরকারের প্রতি বিএনপির এক ধরনের বার্তা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের যৌক্তিকতার বিষয়টি বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরছে, আগামী আরও বেশ কিছুদিন ঠিক একইভাবে তা অব্যাহত রেখে সরকারের ওপর চাপ বজায় রাখবে। জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে বিভাগীয় শহরে তারুণ্যের সমাবেশ চলছে। আগামী ২৮ মে ঢাকায় বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশ থেকে জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণের দাবিতে বিএনপির অবস্থান আরও স্পষ্ট করা হবে। এ ছাড়া ঈদুল আজহার পর দলটির সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিও থাকবে। সেখান থেকেও নির্বাচনের জোরালো দাবি তুলে ধরা হবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এটা ক্রমেই বাড়বে। অবশ্য দলটি মনে করছে, আগামী জুলাই নাগাদ সরকারের তরফ থেকে নির্বাচনের দিনক্ষণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হতে পারে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত বুধবার ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে অফিসার্স অ্যাড্রেসে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত বলে নিজের মতামত জানান। নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার অবস্থান আগের মতোই। দেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণের অধিকার একটি নির্বাচিত সরকারেরই রয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সেনাপ্রধান তার যে অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন, সেটিকে যৌক্তিক বলছে বিএনপি। সরকার এটিও আমলে নেবে বলে মনে করে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বৃহস্পতিবার এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি জাতীয় সংসদ গঠনের জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি। এই জনআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়াটাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান এজেন্ডা হওয়া উচিত বলে জনগণ মনে করে। এর অন্যথা হলে জনগণের দল হিসেবে বিএনপির পক্ষে এই সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। গত সপ্তাহে অন্তত দুটি ইস্যুতে বিএনপিকে হার্ডলাইনে দেখা গেছে। ঢাকার দক্ষিণে মেয়র পদে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের শপথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে দলটির নেতাকর্মীরা। নির্বাচন নিয়ে বিএনপির যে শঙ্কা সেটিই মূলত দলটিকে হঠাৎ করে রাজপথে এমন সিদ্ধান্ত নিতে কিংবা তাদেরকে এই পথে ঠেলে দিয়েছে বলে দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপি এই অবস্থান নিয়েছিল। বিএনপি মনে করে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। এমন অবস্থায় দলটির পক্ষ থেকে বার বার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের দাবি জানানো হলেও সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। একইসঙ্গে নানান ধরনের শঙ্কা, গুজব সামনে চলে আসায় সরকারকে একটি বার্তা দেওয়ার জন্য রাজপথে তাদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করে দলটি। নেতারা বলছেন, এই সরকার ব্যর্থ হোক, সেটা তারা চান না। তারা শুরু থেকেই সরকারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে আসছেন। তবে তাদের নির্বাচনের দিনক্ষণের দাবি বারবার উপেক্ষিত হওয়ায় রাজপথে হঠাৎ বিশাল জমায়েতে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা সরকারকে এই বার্তা দিতে চেয়েছে যে, বিএনপি চাইলে সরকারকে যে কোনো সময়ই অসহযোগিতা করতে পারে। জানা গেছে, রাজপথে এমন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা বিএনপির সিদ্ধান্ত নয়। কারণ, তারা এই সরকারকে কোনোভাবেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চায় না। সর্বশেষ গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ইস্যুতে তারা কমপক্ষে আরও দুই মাস সরকারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সময় পরে নির্বাচন নিয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো সুস্পষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা না হলে কিংবা নির্বাচন প্রলম্বিত করার কোনো লক্ষণ স্পষ্ট হলে তখন রাজপথের কর্মসূচির কথা ভাববে বিএনপি। এদিকে এই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, ঐক্যের স্বার্থে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কথা ছিল। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে, কোনো কোনো মহলের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই যেন সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের সাম্প্রতিক কিছু কর্মকাণ্ডে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার নানান বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড সরকারের নির্দলীয়-নিরপেক্ষ পরিচিতিকে যেমন ক্রমাগত প্রশ্নবিদ্ধ করে চলেছে, তেমনি সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগের দাবি তুলেছে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, দেশে বিদ্যমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে শিগগির সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। এমনটা না হলে বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারে। সেখানে এই বিষয়গুলো তারা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। একই সঙ্গে নির্বাচন নিয়ে দলের ‘ক্লিয়ার-কাট’ অবস্থানের কথাও জানাবে। বিএনপি মনে করে, আগামী নির্বাচনের জন্য ডিসেম্বর একটি কাটঅফ টাইম। দলটি এই ব্যাপারে এখন আরও বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। বিএনপি মনে করে, অন্তর্বর্তীকালীন অস্থায়ী সরকারের একমাত্র ম্যান্ডেট হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। কিন্তু সরকারকে এই দায়িত্ব থেকে অন্যদিকে ডাইভার্ট করতে সরকারের ভেতরেরই কোনো কোনো শক্তি কিংবা ভেতরের একটি মহল কাজ করছে বলে মনে করে দলটি। বিএনপি এও মনে করছে, নির্বাচন বিলম্বিত করতে অথবা দেশকে গণতন্ত্রে উত্তোরণের পথ ঠেকিয়ে রাখতে কিংবা নতুন কোনো রাজনৈতিক ‘খায়েশ’ পূরণের জন্য যদি সরকার বিকল্প চিন্তা করে থাকে, সেটা বিপদ ডেকে আনবে।
বড় হচ্ছে দেশীয় খেলনার বাজার
বড় হচ্ছে দেশীয় খেলনার বাজার
বাংলাদেশের দেশীয় খেলনা শিল্প এখন আর শুধু শিশুর বিনোদনের খাত নয়, এটি রূপ নিয়েছে একটি সম্ভাবনাময় শিল্প খাতে। দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে যেমন দেশীয় খেলনার চাহিদা বাড়ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি খেলনার জন্য তৈরি হচ্ছে বিস্তৃত সুযোগ। একসময় দেশের খেলনার বাজারে চীনের একচেটিয়া আধিপত্য থাকলেও দৃশ্যপট বদলেছে। আনুমানিক ৭ হাজার কোটি টাকার বাজারের মধ্যে দেশীয় নির্মাতাদের দখলে রয়েছে ৪ হাজার কোটি টাকার বাজার। রাজধানী ঢাকার আশপাশে গড়ে ওঠা ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৪৭টি কারখানা এখন দেশের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ পূরণ করছে। এর মধ্যে অধিকাংশই কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, ইসলামবাগ, চকবাজার, গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, পুরান ঢাকা, ইপিজেড ও ইজেড এলাকায়। বর্তমানে দেশেই এক হাজারেরও বেশি ধরনের খেলনা উৎপাদন হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে— শিক্ষামূলক খেলনা, প্রাণীর রঙিন মডেল, প্যাডেল কার, ট্রাইসাইকেল, রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, বৈদ্যুতিক পুতুল, প্লাস্টিক দোলনা ও দেয়াল। নতুন সংযোজিত খেলনার মধ্যে রয়েছে—কিবোর্ড, গিটার, ড্রামস, মিনি গাড়ি, অস্ত্র ও গোলাবারুদের প্রতিরূপ। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৩ সালে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ যখন খেলনা উৎপাদনে আসে, তখন এ খাতের পেশাদারিত্বে নতুন ধারা সূচিত হয়। তাদের ‘প্লেটাইম’ ব্র্যান্ডের আওতায় এখন পাওয়া যায় শতাধিক ধরনের শিক্ষামূলক খেলনা, যেমন—পাজল, বর্ণমালা বোর্ড, গাণিতিক গেমস। আর ‘জিম অ্যান্ড জলি’ ব্র্যান্ডের অধীনে তৈরি হচ্ছে বিগ টয় ক্যাটাগরির পণ্য, যেমন—বেবি ওয়াকার, রাইডিং কার, স্লাইডার ও ট্রাইসাইকেল। আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় খেলনা: বর্তমানে বাংলাদেশের খেলনা রপ্তানি হচ্ছে ভারতের সেভেন সিস্টার্স, নেপাল, ভুটান ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, সিঙ্গাপুর, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্সসহ ইউরোপ ও অন্যান্য উন্নত দেশে। ভবিষ্যতে লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বাজারেও প্রবেশের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশি খেলনার মান, নিরাপত্তা ও মূল্য সংযোজনের দিকটি ক্রমেই উন্নত হওয়ায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে এর চাহিদা বেড়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, চাহিদা আরও বাড়ানো সম্ভব, যদি সরকার রপ্তানি প্রণোদনা, কাঁচামালে শুল্ক ছাড় ও মান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা দেয়। চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা: যদিও খেলনা শিল্পের সম্ভাবনা বিশাল, তবুও উদ্যোক্তাদের সামনে রয়েছে কিছু প্রতিবন্ধকতা। কাঁচামাল আমদানিতে প্রায় ৩৭ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া আধুনিক ছাঁচ নির্মাণ প্রযুক্তি, নিরাপত্তা পরীক্ষার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে খেলনা সনদায়নের সুযোগ এখনো সীমিত। শিল্প মালিকরা বলছেন, খেলনা শিল্পকে এগিয়ে নিতে হলে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, বিশ্বমানের প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, কমপ্লায়েন্স ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা এবং গার্মেন্টস শিল্পের মতো সুবিধা প্রদান জরুরি। উদ্যোক্তারা বলছেন, খেলনা শিল্পকে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের উপযোগী করতে হলে সরকারকে সহজ শর্তে ঋণ, অবকাঠামোগত সহায়তা এবং কার্যকর নীতিমালার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মতে, ভবিষ্যতে পেট্রোকেমিক্যাল, সাইক্লিং, অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিকস শিল্পে প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়বে, যা এই খাতের সম্ভাবনাকে আরও প্রসারিত করবে। তবে গার্মেন্টস খাতের মতো সুবিধা এখনো প্লাস্টিক খেলনা শিল্প পাচ্ছে না। শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য সহায়ক নীতি ও সরকারি সহায়তা অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ভূমিকা: দেশীয় খেলনার বাজারকে পুনরুজ্জীবিত করতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা শুধু ঐতিহ্যবাহী খেলনা তৈরি করছেন না, বরং সেগুলোকে আধুনিক নকশা এবং ধারণার সঙ্গে মিশিয়ে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করছেন, যা শহুরে ক্রেতাদেরও আকৃষ্ট করছে। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং দারাজ, ইভ্যালির মতো ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলো দেশীয় খেলনার প্রচার ও বিক্রির জন্য শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে উৎপাদকরা সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছতে পারছেন, যা তাদের পণ্য বিপণন এবং বাজার সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা বিদেশি খেলনার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার জন্য তাদের পণ্যের গুণগত মান বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। রঙের স্থায়িত্ব, কারুকার্যের সূক্ষ্মতা এবং উপকরণের দৃঢ়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সোহান টয়ের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী কালবেলাকে বলেন, দেশীয় খেলনার বাজার ক্রমশ বড় হচ্ছে এবং এর ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। সঠিক পরিকল্পনা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তা-ভাবনা এই শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারেও দেশীয় খেলনার প্রচার ও প্রসারে নজর দিতে হবে। আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণ এবং অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগলাইন ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড তৈরি করতে হবে। এই শিল্পকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত করে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। সহজ শর্তে ঋণ, কর মওকুফ এবং অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে এই খাতের উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা উচিত।’ ছোট খেলনার বাজারও বড় হচ্ছে: দেশের অন্যান্য খেলনার পাশাপাশি ছোট খেলনার বাজারও বড় হচ্ছে। এই ছোট খেলনার বাজারে এমন কয়েক ডজন প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা বছরে অর্ধশত কোটি টাকার বেশি বিক্রি করে। এগুলো গত এক দশকে ছোট কারখানা থেকে বড় শিল্পকারখানায় রূপ নিয়েছে। দেশে এমন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আছে এ আর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ এন্টারপ্রাইজ, আমরোজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আজিজ প্লাস্টিক টয় ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকাইয়া টয় ইন্ডাস্ট্রিজ এবং এভারেস্ট টয় ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দেশে উৎপাদনের ফলে খেলনার দাম অনেক কমেছে গত কয়েক বছরে। কম দামে ভালো খেলনা মিলছে। আগে যা বিদেশ থেকে আনতে হতো, তা এখন দেশেই বানানো হচ্ছে। চীন থেকে ধারণা নিয়ে দেশে এসব তৈরি হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশ টয় মার্চেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক জাহিদ কালবেলাকে বলেন, দেশের খেলনা বাজারের উদ্ভব বেশিদিন হয়নি। এই বাজার বছর দশেক আগেও চীনের দখলে ছিল। যেটা এখন আমরা দেশে তৈরি করেছি। বাজারটি ভালোভাবে ধরতে পারায় দ্রুত এ খাতের বিকাশ হয়েছে। জাহিদুল হক বলেন, ‘দেশীয় খেলনা উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে মোট বাজারের ৮০ শতাংশ দখল করে নিয়েছে। বিশেষ করে প্লাস্টিকের খেলনা চাহিদার পুরোটাই দেশে উৎপাদন হয়। এ ছাড়া বাইরে বিভিন্ন মেটাল, কাপড়ের বা পুরো যন্ত্র টাইপের খেলনা আমদানি হচ্ছে।’ দেশে উৎপাদনের ফলে গত কয়েক বছরে খেলনার দাম অনেক কমেছে জানিয়ে এই উদ্যোক্তা বলেন, ‘কম দামে ভালো খেলনা মিলছে। আগে যা বিদেশ থেকে আনতে হতো, তা এখন আমরাই বানাচ্ছি। চীন থেকে ধারণা নিয়ে দেশে এসব তৈরি হচ্ছে। একসময় দেশে এ খেলনা আমদানির প্রয়োজন থাকবে না। উল্টো দেশের এসব কোম্পানি রপ্তানি করবে বহুগুণ। খেলনা হবে দেশের আয়ের বড় উৎস। কারণ আমাদের খেলনা অনেক দেশের তুলনায় অনন্য।’ যা বলছে বিপিজিএমইএ: রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়ে গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে দুই দিনের প্লাস্টিক খেলনা প্রদর্শনী মেলা। মেলাটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্প। বিপিজিএমইএর সভাপতি শামিম আহমেদ বলেন, সেভেন সিস্টার্স এলাকায় পণ্য পাঠাতে হলে ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিবহনে বেশি খরচ হয়। ফলে সেখানে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি পণ্য পাঠানো ছিল অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। কিন্তু এখন যদি ঘুরপথে পণ্য পাঠাতে হয়, তাহলে রপ্তানিতে লাভ থাকবে না। ভারতে পণ্য রপ্তানি নিয়ে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেটি তারা মেনে নেবেন। সদ্য সমাপ্ত দুই দিনের প্লাস্টিক খেলনা প্রদর্শনী মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে শামিম আহমেদ বলেন, ‘এই মেলা পেশাদার ক্রেতা ও খেলনা শিল্পের সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সোর্সিং প্ল্যাটফর্ম। পাশাপাশি এটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং ও প্রাসঙ্গিক তথ্য বিনিময়ের সুযোগ করে দেবে। বাংলাদেশে তৈরি খেলনার রপ্তানি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০৩০ সাল নাগাদ খেলনা রপ্তানির প্রবৃদ্ধি হবে ২৪ শতাংশ। সরকারের নীতিসহায়তা ও কাঁচামাল আমদানিতে কর সুবিধা পেলে দেশের খেলনা শিল্প এগিয়ে যাবে।’
আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে
নাহিদ ইসলাম / আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে
দেশকে বিভাজিত করে আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিকে সব ধরনের আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত করে স্বাধীন ও সার্বভৌমভাবে পরিচালনা করাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশকে বারবার বিভাজিত করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করা হয়েছে বাংলাদেশকে দুর্বল করে রাখার লক্ষ্যে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর থেকে আবারও দিল্লি থেকে ছক আঁকা হচ্ছে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার, দেশকে বিভাজিত করার। গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বাধাগ্রস্ত করে আরেকটি এক-এগারোর বন্দোবস্ত করার পাঁয়তারা চলছে।’ এনসিপির এই নেতা ফেসবুকে লেখেন, ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক, বাংলাদেশপন্থি ও ধর্মপ্রাণ ছাত্র-জনতাকে সার্বভৌমত্ব, সংস্কার ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশপ্রেমিক সেনা অফিসার ও সৈনিকদের সার্বভৌমত্ব ও বাংলাদেশ রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি লেখেন, ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জনগণকে দেওয়া সংস্কার, বিচার ও ভোটাধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। উনাকে দায়িত্বে থেকেই রাজনৈতিকভাবে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দিতে হবে। ঘোষিত টাইমফ্রেমের মধ্যেই নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কারের জুলাই সনদ রচিত হবে। নির্বাচনের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হবে এবং বিচারের রোডম্যাপ আসতে হবে। নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ ও আইনসভার নির্বাচন একই সঙ্গে দিতে হবে।’ এদিকে সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হোটেলে এনসিপির যুব উইং জাতীয় যুবশক্তির সারা দেশের সংগঠকদের নিয়ে পরিচিতি ও সাধারণ সভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি বাস্তবায়নে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র বাস্তবায়নের পথে যত বড় শক্তিই বাধা হয়ে দাঁড়াক, আমরা তার মোকাবিলা করব। জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র শহীদ ও আহতদের উপহার হিসেবে দিতে যুবশক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান নাহিদ।
পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
ফরহাদ মজহার / পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে ‘ভুল করেছেন’ মন্তব্য করে কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ‘পদত্যাগ করা হবে ড. ইউনূসের ব্যর্থতা, তার জন্য আত্মঘাতী। কোনো ব্যক্তি বা দল নয়, তার উচিত জনগণের ঐতিহাসিক অভিপ্রায়কে সম্মান করা, কোনো দল বা গোষ্ঠীর চাপে বিভ্রান্ত না হয়ে জনগণের ওপর আস্থা রাখা।’ গতকাল শুক্রবার ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এমন মন্তব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নয়, রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূসকে নির্বাচিত করেছে বলে পোস্টে মন্তব্য করেন ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘তাকে (ড. ইউনূস) অবশ্যই খুনিদের বিচার করতে হবে, নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়নের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, খোলাবাজার ব্যবস্থার জবরদস্তি দ্বারা বৈশ্বিক করপোরেট দখলদারি কায়েমের বিপরীতে গণবান্ধব ও বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং কার্যকর করতে হবে, সর্বোপরি দিল্লি, মিয়ানমারসহ শত্রু দেশের বিরুদ্ধে লড়ে জেতার ক্ষমতাসম্পন্ন শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করতে হবে; কারণ রোহিঙ্গাদের তাদের নিজের দেশে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং তাদের পুনর্বাসনের হিম্মত বাংলাদেশকেই অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশের সৈনিকরা এ দেশের সন্তান, বাংলাদেশের জনগণের সামষ্টিক ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের সঙ্গে তারা অঙ্গাঙ্গি জড়িত। জনগণের স্বার্থ তাদেরও স্বার্থ। কারণ, তারাও জনগণের অংশ—আমরা কেউই মঙ্গলগ্রহ থেকে আসিনি।’ ফরহাদ মজহার বলেন, ‘এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য জনগণ চায় প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ড. ইউনূসের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হোক। নির্বাচন অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব হতে হবে, কিন্তু কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে সেনাপ্রধান তার এখতিয়ারের বাইরে নির্বাচন নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা লুটেরা ও মাফিয়াশ্রেণিকে আবার ক্ষমতায় বসানোর যুক্তি। গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী জনগণ তা মেনে নেবে না। দেশকে বিভিন্ন শক্তির ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতার ময়দান ও গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার দায় তখন সেনাপ্রধানের ওপর বর্তাবে।’