
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার পেতে যাচ্ছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার রাজনৈতিক গুরু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি। চলতি সপ্তাহে তৃণমূল কংগ্রেসকে চমকে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীকে সহায়তার জন্য দুজন উপমুখ্যমন্ত্রীও যোগ হতে পারে এবারের সরকারে।
শুক্রবার (৮ মে) বিজেপির অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারে গত দুই দশকে কোনো উপমুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। জ্যোতি বসুর সরকারে এই পদে দায়িত্ব পালন করা সর্বশেষ ব্যক্তি ছিলেন প্রয়াত সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ১৯৭৭ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত একটানা ২৩ বছর জ্যোতি বসু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই ছিলেন তার জীবদ্দশায় ভারতের দীর্ঘতম মেয়াদের মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্র মতে, রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রীর দুই পদের একটি সম্ভবত একজন নারী নেত্রীর হাতে যাবে। আর এই তালিকার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিধানসভা নির্বাচনে আসানসোল দক্ষিণ থেকে নির্বাচিত বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি রাজ্যের প্রথম নারী উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন।
সূত্রটি আরও জানায়, আরেকজন উপমুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন উত্তরবঙ্গ থেকে। জল্পনা চলছে যে, শিলিগুড়ি থেকে বিজয়ী প্রার্থী শংকর ঘোষকে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কলকাতায় পাল ও ঘোষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদগুলো।
প্রকৃতপক্ষে যিনি মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তাকে সরকারি দলের নেতা হিসেবে বেছে নিতে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বিজেপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বৈঠক হবে। সূত্র জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সভাপতি সমিক ভট্টাচার্য সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করতে পারেন। পরে ‘হ্যাঁ’ ভোটে তা অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জমকালো শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা এবং বিজেপির শীর্ষ নেতাদের এতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের অভাবনীয় সাফল্যের পর এটি একটি শক্তি প্রদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



