ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

তামিলনাড়ুতে কিংমেকার ছোট দলগুলো, জোট রাজনীতির নতুন সমীকরণ

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৭ মে ২০২৬, ১৮:২৩
ছবি: সংগৃহীত

বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ুতে কোনো দলই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তাই পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এই অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার যাওয়ার একমাত্র উপায় হিসেবে জোট গঠনের সম্ভাবনাকে খতিয়ে দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

তামিলনাড়ু রাজ্যে সরকার গঠন করতে চায় জনপ্রিয় অভিনেতা থালাপতি বিজয়য়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজগম (টিভিকে)। দুই দফায় রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের ইচ্ছার কথা জানান বিজয়। তবে তিনি সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কারণ, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘ম্যাজিক ফিগার’ তার কাছে নেই। যদিও কংগ্রেস প্রকাশ্যেই বিজয়ের দলকে সমর্থন জানিয়েছে। তারপরও সরকার গড়তে গেলে যে আসন সংখ্যার প্রয়োজন, তার থেকে কয়েকটা কম রয়েছে। সূত্র মতে, টিভিকের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, রাজ্যপাল আরলেকারের কাছে কংগ্রেসসহ ১১২ জন সমর্থক বিধায়কের তালিকা জমা দেওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনও বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ জানাননি। রাজ্যপালের সঙ্গে দুবার দেখা করা সত্ত্বেও বিজয়কে তামিলনাড়ু সরকার গঠনের আমন্ত্রণ না জানানোয় টিভিকে কর্মীরা লোকভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেছেন।

ডিএমকে, ভিসিকে, সিপিআই ও সিপিআই(এম) নেতারা রাজ্যপালকে একক বৃহত্তম দলনেতা হিসেবে বিজয়কে আমন্ত্রণ জানাতে এবং আস্থা ভোটের অনুমতি দিতে বলেছেন। অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এআইএডিএমকের সমর্থন নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।

২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় টিভিকে ১০৮টি আসন জিতেছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে তাদের আরও ১০টি আসন প্রয়োজন। বিধানসভা নির্বাচনে জেতা দুটি আসনের মধ্যে একটি থেকে বিজয় সরে দাঁড়ানোয় বিধানসভায় টিভিকের কার্যকর আসন সংখ্যা হবে ১০৭। কংগ্রেসের সমর্থন পেয়ে বিজয়ের পক্ষে থাকছেন ১১৩ সাংসদ।

কিন্তু সরকার গঠনের জন্য দরকার আরও পাঁচ সাংসদের সমর্থন। এ অবস্থায় জোটসঙ্গীর খোঁজে সিপিআই, সিপিএম ও ভিসিকের মতো দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বিজয়। এই দলগুলোর সমর্থন পেয়ে গেলে টিভিকে সরকার গঠনের জন্য মোট ১১৯ বিধায়কের সমর্থন পেয়ে যাবে।

এ ছাড়া বিরোধী ডিএমকে ও এআইএডিএমকে জোট করতে হলেও সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় আসন তাদের হাতে নেই। নির্বাচনে ডিএমকে ৫৯টি আসন এবং এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি। তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে এই দুই দলকে একসঙ্গেও ছোট দলগুলোর সমর্থনের প্রয়োজন হবে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাদের কাছে আসা তথ্যের বরাতে জানিয়েছে, বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য দুই মাস সময় চেয়েছেন। বিজয় বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভোরে দ্বিতীয় বারের মতো লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন।

এদিন তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে যে, সরকার লোকভবনের লনে নয়, বরং বিধানসভায় নির্ধারিত হয়।

একটি খোলা চিঠিতে দলের বিধায়ক রাজেশকুমার, টিভিকেকে সমর্থন করার কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে লিখেছেন, ‘তামিলনাড়ুর জনগণের কল্যাণ ও রাজ্যের শান্তির কথা বিবেচনা করে, সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা অপরিহার্য। এই ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি মাথায় রেখেই সমর্থনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

আরলেকারের জেদের কারণে বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের মধ্যে দ্রুত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের টিভিকের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। এই অনুষ্ঠানে বিজয় ও তার তিন-চারজন প্রবীণ সহকর্মী শপথ নেওয়ার পর বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য দুই সপ্তাহ সময় চাইতেন।

বুধবার কংগ্রেস রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের জন্য টিভিকেকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে এবং তামিলনাড়ুতে ডিএমকের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে দিয়েছে। তবে, সরকার গঠনের জন্য এটি যথেষ্ট নয়, কারণ কংগ্রেসের মাত্র পাঁচজন বিধায়ক রয়েছেন।

এদিকে প্রয়োজনীয় সংখ্যা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা জোরদার করতে টিভিকে তাদের বিধায়কদের মামাল্লাপুরমের একটি ব্যক্তিগত বিলাসবহুল রিসোর্টে সরিয়ে নিয়েছে। ৫০ জনেরও বেশি বিধায়ক বর্তমানে পুঞ্জেরির একটি হোটেলে অবস্থান করছেন এবং আরও অনেকের আসার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

টিএনসিসি প্রধান কে সেলভাপেরুনথাগাইসহ কংগ্রেস নেতারাও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে প্রবীণ নেতা কেসি ভেনুগোপাল নিশ্চিত করেছেন যে, বিজয় সমর্থনের জন্য যোগাযোগ করেছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।

বিজয়ের টিভিকের সঙ্গে জোট করার কংগ্রেসের অবস্থানকে সমর্থন করে সাংসদ ক্রিস্টোফার তিলক বলেছেন, যেহেতু বিজয় ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিতে সম্পূর্ণ বিশ্বাসী, তাই তার দল টিভিকেকে সরকার গঠনে সমর্থন করেছে। সাম্প্রতিক রাজ্যসভা নির্বাচনে ডিএমকের সমর্থনে তিলক সাংসদ হয়েছেন। তিলক বলেন, এখন টিভিকের ঘোষণা করার সময় এসেছে যে তারা ‘হিন্দুত্ববাদী শক্তির’ সঙ্গে জোট করবে না।

সংবাদমাধ্যম এএনআই সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, বিজয় বিজেপির সমর্থন চাইতে আগ্রহী ছিলেন না এবং রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি নীলাঙ্কারাইয়ে তার বাসভবনে দলের সিনিয়র নেতা ও আইনি উপদেষ্টাদের সঙ্গে পরামর্শ করেন।

সূত্রটি আরও জানায়, দলের শীর্ষ নেতারা সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য টিভিকেকে পরামর্শ দিয়েছেন। টিভিকের কিছু নেতা পুননির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন।

এদিকে ভিসিকে নেতা থোল থিরুমাভালাভান বলেছেন যে, তার দল টিভিকের কাছ থেকে সমর্থনের জন্য একটি অনুরোধ পেয়েছে। বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দলকে সরকার গঠনে সমর্থন করা হবে কি না, সে বিষয়ে তার দলের উচ্চ স্তরের কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।

পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে হেনস্তা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের সমর্থক থেকে শুরু করে ভিন্ন মতের লোকজনকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে টেনেহিঁচড়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। জোর করে দেওয়ানো হয় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনে পরোটা বিক্রেতা রাজুকে একদল টানাহেঁচড়া করছে। ওই সময় তার পরনে ছিল কালো টি-শার্ট। একটা পর্যায়ে তার টি-শার্টটিও খুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। ওই সময় রাজুকে ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দেখা যায়।  শুভ কর্মকার নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। আরও কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের পর রাজুকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। হামলাকারীদের অভিযোগ, রাজু মন্দিরের পাশে বসে আমিষ জাতীয় খাবার খেয়েছেন। জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছেন। তাদের মতে, রাজুর জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া উচিত ছিল।    বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজু স্লোগান দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি উল্টো জয় বাংলা স্লোগান দেন। এতে তিনি তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন বলে ধারণা হামলাকারীদের। স্থানীয়দের বরাতে জানা য়ায়, ব্যক্তিগতভাবে রাজু রাজনীতিতে সক্রিয় না। তবে তিনি সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা জানিয়েছিলেন। এই রেশ ধরে নির্বাচনের পর তাকে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।  এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে যাত্রীবাহী ট্রেনের ভেতর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হলো। 
পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে হেনস্তা
এবারও নিজের পদ ধরে রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের আসাম রাজ্যে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পথে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। রোববার (১০ মে) বৃহত্তম শহর গুয়াহাটিতে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ফলে দ্বিতীয় বারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে যাচ্ছেন তিনি। রাজ্যের গভর্নর বা রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হিমন্ত শর্মা নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাজ্যপালের সম্মতি মিললে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। নতুন এনডিএ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরেও জোর প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন। আসাম বিজেপির সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া জানান, রোববারই রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের কাছে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবে বিজেপি। তিনি বলেন, আজ বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর এনডিএ বিধায়কদের বৈঠক হবে। পরে আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানাব। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি এবং এনডিএর শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। বিজেপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কমলাক্ষ্যা দে পুরকায়স্থ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠনের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, আসামের মানুষ চান হিমন্ত বিশ্ব শর্মাই আবার মুখ্যমন্ত্রী হোন। শুধু আসাম নয়, গোটা দেশই তাকে আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির ১২৬ আসনে ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৪ মে প্রকাশিত ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৮২টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ১০২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এ ছাড়া বোডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) ও আসাম গণপরিষদ (এজিপি) ১০টি করে আসনে জয়ী হয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আসামে এনডিএ জোটের তৃতীয় বারের মতো জয়। রাজ্যটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভ করেছে বিজেপি। এই বড় জয়ে শুধু বিজেপিই নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বেশিরভাগ আসনে এনডিএ জিতেছে, যেখানে মূল ভোটার ছিলেন অসমীয়া, আদিবাসী ও বাঙালি-হিন্দু জনগোষ্ঠী। শুধু দুটি আসনে তারা হেরেছে। এর মধ্যে একটি পেয়েছে কংগ্রেস এবং অন্যটি তাদের মিত্র রায়জোর দল। ২০১৬ ও ২০২১ সালে দলটি এককভাবে ৬০টি আসন পেয়ে তার মিত্র এজিপি’র সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করেছিল। ২০১৬ সালে বিপিএফ ও ২০২১ সালে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেলের (ইউপিপিএল) সঙ্গে জোট বেঁধে দলটি যথাক্রমে ৮৬ এবং ৭৫ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার
এবারও নিজের পদ ধরে রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
শপথ নেওয়ার পর প্রথম ঘোষণায় চমক দিলেন বিজয়
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় মুখ তিনি। সিনেমার অ্যাকশন সিনে যেমন তার চমক থাকে, এবার তেমনই চমক দেখালেন বাস্তব জীবনে। সিনেমার রঙিন পর্দা ছেড়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে একের পর এক চমক দিয়ে যাচ্ছেন। দুই বছর আগে দল গঠন করে দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দিয়েছেন। অবশেষে রোববার (১০ মে) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন চন্দ্রশেখর যোসেফ (থালাপতি) বিজয়। তামিলগা ভেট্রি কাজাগামের (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম আদেশেই বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাদক সমস্যা মোকাবিলার জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি হেল্পলাইনসহ বিশেষ বাহিনী গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে পূর্ণ মনোযোগ রাখব। কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে। সবকিছু ভালো হবে। বিজয় বলেন, একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে এখন মুখ্যমন্ত্রী। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা চিনি, আমি রাজপরিবার থেকে আসিনি। আমি অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, অনেকেই আমাকে অপমান করেছে। আমি আপনাদের ছেলের মতো, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে আপনাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন। কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিজয় বলেন, ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার খালি করেছে। আমরা ১০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা জনগণের তহবিল থেকে এক পয়সাও নেব না এবং কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না। ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সামাজিক ন্যায়বিচারের এক নতুন যুগের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রবীণ চক্রবর্তী, বামদের ‘মা বেবি’ এবং সকল মিত্রকে ধন্যবাদ জানান। তামিলনাড়ুতে তার দলের সরকার গঠন নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী অনিশ্চয়তার পর বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হলো। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলটি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১১৮ আসনের কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর টিভিকে পাঁচটি আসন থাকা কংগ্রেস ও দুটি করে আসন থাকা সিপিআই ও সিপিআই(এম)-এর সমর্থন লাভ করে। শনিবার পর্যন্ত চলা এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অবসান ঘটে সন্ধ্যায়। কারণ দুজন করে বিধায়ক থাকা ভিসিকে ও আইইউএমএল তাকে সমর্থন জানায়। ফলে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য সংখ্যা ১২০-এ পৌঁছায়। এখন বিজয়ের সামনে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় আস্থা ভোটে পাস করা। ১৩ মে’র আগেই তাকে নিজের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। সূত্র: এনডিটিভি
শপথ নেওয়ার পর প্রথম ঘোষণায় চমক দিলেন বিজয়
পশ্চিমবঙ্গে কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী দেয়নি বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নেয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তাকে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করে বিজেপি। দেশভাগের পর রাজ্যটিতে সরকার গঠন করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় থাকা দলটি। তবে মমতার মতো তুখোড় নারী নেতৃত্বকে পরজিত করা বিজেপি রাজ্যে কেন কোনো নারীকে সরকারপ্রধান হিসেবে বেছে নিল না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অবশ্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তার নামও আলোচনায় ছিল। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এবারের মুখ্যমন্ত্রী তার কাজে সহায়তার জন্য দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রী পেতে পারেন। তাদের মধ্যে একজন নারী থাকবেন এবং আরেকজন পুরুষ। নারী হিসেবেও অগ্নিমিত্রা পালের নাম আলোচনায় ছিল। তালিকায় আরেক নাম ছিল শিলিগুড়ি থেকে বিজয়ী প্রার্থী শংকর ঘোষ। রাজ্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতার মসনদ দখলে রাখা মমতার বিপরীতে বিজেপি কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিল না—এর জবাবে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা একান্তই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমাদের রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা (শপথ পূববর্তী সংসদের) শুভেন্দু অধিকারী অবশ্যই, এখন তিনিই মুখ্যমন্ত্রী... মানুষের নানা মতামত থাকবে। যদি একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী হন, তাহলে তারা বলবেন যে, পরিবর্তনের জন্য হলেও একজন পুরুষ মন্ত্রীকে বেছে নেওয়া উচিত ছিল। তাই আমার মনে হয়, এমন একজনকে প্রয়োজন যার গত ৩০ বছরের রাজনীতির অভিজ্ঞতা আছে, যিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন... আমার মনে হয় না শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে ভালো আর কেউ হতে পারতেন। বিজেপির এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যে জবাব পেয়ে গেছেন। তিনি অনেক কথা বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের রায় দিয়েছেন, এবং তার এটা বোঝা উচিত যে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি ভারতের সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন, এমনকি তিনি ঈশ্বরও নন। তার সহকর্মীরা, সংসদ সদস্যরা সম্ভবত তাকে ‘মা সারদা’ বলে খুশি করার চেষ্টা করেছেন। মা সারদা আমাদের ঈশ্বর। এবং সম্ভবত তিনি খুব খুশিও হয়েছিলেন। মমতা তাদের থামাতে কখনও চেষ্টা করেননি। তাই তাকে আমার কিছু বলার নেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সবকিছু বলে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন সরকারের অগ্রাধিকার কী কী হওয়া উচিত, সে বিষয়েও কথা বলেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, প্রথমত আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে রাজনীতিকরণ করা পুলিশ প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করতে হবে...। দ্বিতীয়ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এখানে পানি নেই, বাসস্থান নেই, শৌচাগার নেই, রাস্তা নেই, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই, তাই অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। তৃতীয়ত কর্মসংস্থান। আমাদের যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেছে, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুই দফার বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন বিরোধীদল বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহচর শুভেন্দু অধিকারী তার হিন্দুত্ববাদী ও অনুপ্রবেশ-বিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে বিজেপির প্রচারাভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু। অগ্নিমিত্র পাল ছাড়াও দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়াও তার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। জমকালো শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়।
পশ্চিমবঙ্গে কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী দেয়নি বিজেপি
মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন যোসেফ (থালাপতি) বিজয়। তার সঙ্গে শপথ নেন তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) দলের আরও ৯ জন মন্ত্রী। শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। রোববার (১০ মে) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। সরকার গঠন নিয়ে কয়েক দিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন থালাপতি বিজয়। এর মাধ্যমে রাজ্যে একটি নতুন সরকার গঠিত হলো। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীসহ রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে টিভিকে প্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান। এ সময় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন টিভিকের আরও ৯ সংসদ সদস্য। তারা হলেন এন. আনন্দ, আধব অর্জুন, ডা. কে. জি. অরুণরাজ, কে এ সেঙ্গোট্টাইয়ান, পি ভেঙ্কটারমানন, আর. নির্মলকুমার, রাজমোহন, ডা. টি.কে. প্রভু ও সেলভি এস. কীর্তনা। মাত্র দুই বছর আগে গঠিত টিভিকে এবারের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই বড় চমক দেখায়। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় দলটি ১০৮টি আসন জিতে রাজ্যের সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক ধরে চলা ডিএমকে ও এআইএডিএমকের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দেয় টিভিকে। তবে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০ আসন পিছিয়ে থাকায় সরকার গঠনের পথ সহজ ছিল না। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে গত বুধবার তামিলনাড়ুর গভর্নর রাজেন্দ্র আরলেকারের সঙ্গে দেখা করেন বিজয় এবং সরকার গঠনের দাবি জানান। তবে তখন তাকে আরও সমর্থন জোগাড়ের পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই (এম), ভিসিকে ও আইইউএমএলের সমর্থন পাওয়ার পর টিভিকের পক্ষে সমর্থনকারী বিধায়কের সংখ্যা ১২১ জনে পৌঁছায়, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের চেয়ে বেশি। টানা পাঁচ দিনের আলোচনা, গভর্নরের সঙ্গে চার দফা বৈঠক এবং জোট গঠনের জটিল সমীকরণের পর অবশেষে সরকার গঠনের পথ পরিষ্কার হয়েছে। কংগ্রেসের পাঁচজন, বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) দুইজন, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) ও ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্কসবাদী) (সিপিএম) দুইজন করে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) দুই বিধায়কের সমর্থন নিয়ে ৫১ বছর বয়সী বিজয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিলেন থালাপতি বিজয়
পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে হেনস্তা
পশ্চিমবঙ্গে ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে হেনস্তা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের সমর্থক থেকে শুরু করে ভিন্ন মতের লোকজনকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে উগ্রপন্থিদের বিরুদ্ধে।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ভাইরাল পরোটা বিক্রেতা রাজুকে টেনেহিঁচড়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। জোর করে দেওয়ানো হয় ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত ট্রেনে পরোটা বিক্রেতা রাজুকে একদল টানাহেঁচড়া করছে। ওই সময় তার পরনে ছিল কালো টি-শার্ট। একটা পর্যায়ে তার টি-শার্টটিও খুলে নেওয়া হয়। পরে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে জোরপূর্বক ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়। ওই সময় রাজুকে ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দেখা যায়।  শুভ কর্মকার নামের এক ব্যক্তির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। আরও কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের পর রাজুকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়। হামলাকারীদের অভিযোগ, রাজু মন্দিরের পাশে বসে আমিষ জাতীয় খাবার খেয়েছেন। জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছেন। তাদের মতে, রাজুর জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া উচিত ছিল।    বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাজু স্লোগান দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তিনি উল্টো জয় বাংলা স্লোগান দেন। এতে তিনি তৃণমূলকে সমর্থন করেছেন বলে ধারণা হামলাকারীদের। স্থানীয়দের বরাতে জানা য়ায়, ব্যক্তিগতভাবে রাজু রাজনীতিতে সক্রিয় না। তবে তিনি সদ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা জানিয়েছিলেন। এই রেশ ধরে নির্বাচনের পর তাকে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে।  এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে যাত্রীবাহী ট্রেনের ভেতর শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হলো। 
এবারও নিজের পদ ধরে রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
এবারও নিজের পদ ধরে রাখলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের আসাম রাজ্যে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পথে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)। রোববার (১০ মে) বৃহত্তম শহর গুয়াহাটিতে বিজেপি বিধায়ক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বৈঠকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। ফলে দ্বিতীয় বারের মতো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হতে যাচ্ছেন তিনি। রাজ্যের গভর্নর বা রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে হিমন্ত শর্মা নতুন সরকার গঠনের দাবি জানাবেন। রাজ্যপালের সম্মতি মিললে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। নতুন এনডিএ সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরেও জোর প্রস্তুতি চলছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন। আসাম বিজেপির সভাপতি দিলীপ সাইকিয়া জানান, রোববারই রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্যের কাছে সরকার গঠনের দাবি পেশ করবে বিজেপি। তিনি বলেন, আজ বিজেপি বিধায়ক দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। এরপর এনডিএ বিধায়কদের বৈঠক হবে। পরে আমরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানাব। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপির জাতীয় সভাপতি এবং এনডিএর শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। বিজেপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য কমলাক্ষ্যা দে পুরকায়স্থ বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠনের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, আসামের মানুষ চান হিমন্ত বিশ্ব শর্মাই আবার মুখ্যমন্ত্রী হোন। শুধু আসাম নয়, গোটা দেশই তাকে আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির ১২৬ আসনে ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৪ মে প্রকাশিত ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৮২টি আসনে জয়লাভ করেছে। ফলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ১০২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এ ছাড়া বোডোল্যান্ড পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) ও আসাম গণপরিষদ (এজিপি) ১০টি করে আসনে জয়ী হয়েছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আসামে এনডিএ জোটের তৃতীয় বারের মতো জয়। রাজ্যটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন লাভ করেছে বিজেপি। এই বড় জয়ে শুধু বিজেপিই নয়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের বেশিরভাগ আসনে এনডিএ জিতেছে, যেখানে মূল ভোটার ছিলেন অসমীয়া, আদিবাসী ও বাঙালি-হিন্দু জনগোষ্ঠী। শুধু দুটি আসনে তারা হেরেছে। এর মধ্যে একটি পেয়েছে কংগ্রেস এবং অন্যটি তাদের মিত্র রায়জোর দল। ২০১৬ ও ২০২১ সালে দলটি এককভাবে ৬০টি আসন পেয়ে তার মিত্র এজিপি’র সঙ্গে মিলে সরকার গঠন করেছিল। ২০১৬ সালে বিপিএফ ও ২০২১ সালে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি লিবারেলের (ইউপিপিএল) সঙ্গে জোট বেঁধে দলটি যথাক্রমে ৮৬ এবং ৭৫ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ইন্ডিয়া টুডে, আনন্দবাজার
শপথ নেওয়ার পর প্রথম ঘোষণায় চমক দিলেন বিজয়
শপথ নেওয়ার পর প্রথম ঘোষণায় চমক দিলেন বিজয়
দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় মুখ তিনি। সিনেমার অ্যাকশন সিনে যেমন তার চমক থাকে, এবার তেমনই চমক দেখালেন বাস্তব জীবনে। সিনেমার রঙিন পর্দা ছেড়ে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে একের পর এক চমক দিয়ে যাচ্ছেন। দুই বছর আগে দল গঠন করে দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের ডিএমকে ও এআইএডিএমকের রাজনৈতিক আধিপত্য ভেঙে দিয়েছেন। অবশেষে রোববার (১০ মে) তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন চন্দ্রশেখর যোসেফ (থালাপতি) বিজয়। তামিলগা ভেট্রি কাজাগামের (টিভিকে) প্রধান থালাপতি বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথম আদেশেই বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ, মাদক সমস্যা মোকাবিলার জন্য একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি হেল্পলাইনসহ বিশেষ বাহিনী গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানির মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে পূর্ণ মনোযোগ রাখব। কৃষক ও জেলেদের যত্ন নেওয়া হবে। সবকিছু ভালো হবে। বিজয় বলেন, একজন সহকারী পরিচালকের ছেলে এখন মুখ্যমন্ত্রী। আমি দারিদ্র্য ও ক্ষুধা চিনি, আমি রাজপরিবার থেকে আসিনি। আমি অনেক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, অনেকেই আমাকে অপমান করেছে। আমি আপনাদের ছেলের মতো, আপনাদের ভাইয়ের মতো। আপনারা আমাকে আপনাদের হৃদয়ে স্থান দিয়েছেন, গ্রহণ করেছেন। কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিজয় বলেন, ডিএমকে রাজ্যের কোষাগার খালি করেছে। আমরা ১০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমরা জনগণের তহবিল থেকে এক পয়সাও নেব না এবং কাউকে রাজ্য লুট করতে দেব না। ‘ধর্মনিরপেক্ষ, সামাজিক ন্যায়বিচারের এক নতুন যুগের’ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রবীণ চক্রবর্তী, বামদের ‘মা বেবি’ এবং সকল মিত্রকে ধন্যবাদ জানান। তামিলনাড়ুতে তার দলের সরকার গঠন নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী অনিশ্চয়তার পর বিজয়ের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হলো। বিধানসভা নির্বাচনের পর দলটি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় ১১৮ আসনের কোটা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর টিভিকে পাঁচটি আসন থাকা কংগ্রেস ও দুটি করে আসন থাকা সিপিআই ও সিপিআই(এম)-এর সমর্থন লাভ করে। শনিবার পর্যন্ত চলা এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের অবসান ঘটে সন্ধ্যায়। কারণ দুজন করে বিধায়ক থাকা ভিসিকে ও আইইউএমএল তাকে সমর্থন জানায়। ফলে টিভিকে-নেতৃত্বাধীন জোটের সদস্য সংখ্যা ১২০-এ পৌঁছায়। এখন বিজয়ের সামনে পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিধানসভায় আস্থা ভোটে পাস করা। ১৩ মে’র আগেই তাকে নিজের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে। সূত্র: এনডিটিভি
পশ্চিমবঙ্গে কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী দেয়নি বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গে কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী দেয়নি বিজেপি
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নেয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তাকে রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করে বিজেপি। দেশভাগের পর রাজ্যটিতে সরকার গঠন করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতায় থাকা দলটি। তবে মমতার মতো তুখোড় নারী নেতৃত্বকে পরজিত করা বিজেপি রাজ্যে কেন কোনো নারীকে সরকারপ্রধান হিসেবে বেছে নিল না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। অবশ্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তার নামও আলোচনায় ছিল। পরবর্তী এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এবারের মুখ্যমন্ত্রী তার কাজে সহায়তার জন্য দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রী পেতে পারেন। তাদের মধ্যে একজন নারী থাকবেন এবং আরেকজন পুরুষ। নারী হিসেবেও অগ্নিমিত্রা পালের নাম আলোচনায় ছিল। তালিকায় আরেক নাম ছিল শিলিগুড়ি থেকে বিজয়ী প্রার্থী শংকর ঘোষ। রাজ্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতার মসনদ দখলে রাখা মমতার বিপরীতে বিজেপি কেন নারী মুখ্যমন্ত্রী বেছে নিল না—এর জবাবে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটা একান্তই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই আমাদের বয়োজ্যেষ্ঠদের, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমাদের রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত। আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা (শপথ পূববর্তী সংসদের) শুভেন্দু অধিকারী অবশ্যই, এখন তিনিই মুখ্যমন্ত্রী... মানুষের নানা মতামত থাকবে। যদি একজন নারী মুখ্যমন্ত্রী হন, তাহলে তারা বলবেন যে, পরিবর্তনের জন্য হলেও একজন পুরুষ মন্ত্রীকে বেছে নেওয়া উচিত ছিল। তাই আমার মনে হয়, এমন একজনকে প্রয়োজন যার গত ৩০ বছরের রাজনীতির অভিজ্ঞতা আছে, যিনি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন... আমার মনে হয় না শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে ভালো আর কেউ হতে পারতেন। বিজেপির এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতোমধ্যে জবাব পেয়ে গেছেন। তিনি অনেক কথা বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু বাংলার মানুষ তাদের রায় দিয়েছেন, এবং তার এটা বোঝা উচিত যে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। তিনি ভারতের সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন, এমনকি তিনি ঈশ্বরও নন। তার সহকর্মীরা, সংসদ সদস্যরা সম্ভবত তাকে ‘মা সারদা’ বলে খুশি করার চেষ্টা করেছেন। মা সারদা আমাদের ঈশ্বর। এবং সম্ভবত তিনি খুব খুশিও হয়েছিলেন। মমতা তাদের থামাতে কখনও চেষ্টা করেননি। তাই তাকে আমার কিছু বলার নেই। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ সবকিছু বলে দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নতুন সরকারের অগ্রাধিকার কী কী হওয়া উচিত, সে বিষয়েও কথা বলেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, প্রথমত আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। পূর্ববর্তী সরকারের দ্বারা সম্পূর্ণরূপে রাজনীতিকরণ করা পুলিশ প্রতিষ্ঠানকে বন্ধ করতে হবে...। দ্বিতীয়ত অবকাঠামোগত উন্নয়ন। এখানে পানি নেই, বাসস্থান নেই, শৌচাগার নেই, রাস্তা নেই, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই, তাই অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। তৃতীয়ত কর্মসংস্থান। আমাদের যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা অন্য রাজ্যে কাজ করতে গেছে, তাদের সবাইকে ফিরিয়ে আনতে হবে। দুই দফার বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন বিরোধীদল বিজেপি ২০৭টি আসন জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয় পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহচর শুভেন্দু অধিকারী তার হিন্দুত্ববাদী ও অনুপ্রবেশ-বিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে বিজেপির প্রচারাভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদিসহ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু। অগ্নিমিত্র পাল ছাড়াও দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, ক্ষুদিরাম টুডু ও অশোক কীর্তনিয়াও তার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। জমকালো শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয়।