
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। ২৯৩ আসনের বিপরীতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে।
ভোট গণনার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কলকাতার ভবানীপুর আসনে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায় এগিয়ে রয়েছেন। মমতার সব থেকে বিশ্বস্ত আসন হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর। একে তার রাজনৈতিক ‘দুর্গ’ বলা হয়।
এশিয়া পোস্টের কলকাতা প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য মতে, প্রথম রাউন্ডের ভোট গণনায় মমতার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৬৬৬।
অন্যদিকে এ আসনে পিছিয়ে আছেন মমতার প্রতিদ্বন্দ্বী বিধানসভার বিরোধীদলীয় তথা বিজেপির নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার প্রাপ্ত ভোট ১ হাজার ৬৭০।
তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের ফলাফরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এই রাউন্ডে ৬ হাজার ৩৮০ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন শুভেন্দু। আর ৪ হাজার ৮২২ ভোট পেয়ে পিছিয়ে আছেন মমতা।
সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান তুলে তিনি ৩৪ বছরের টানা বামফ্রন্ট শাসনের অবসান ঘটান। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ওেই বছরের ২০ মে তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তখন তিনি সাংসদ ছিলেন, পরে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে উপনির্বাচনে জিতে বিধায়ক হন।
২০১৬ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট জোট বেঁধে লড়লেও মমতার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। ২১১টি আসনে জিতে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হন। তখনও তিনি নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই জয়ী হন।
২০২১ সালের নির্বাচনও ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই। বিজেপির তীব্র চ্যালেঞ্জের মুখেও তিনি ২১৩টি আসন নিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেন। ওই সময় তিনি নিজের আসন ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে লড়তে গিয়েছিলেন, সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন। তবে পরবর্তীতে ভবানীপুর আসনের বিজয়ী তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করে আসনটি ছেড়ে দিলে উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেকর্ড ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে জিতে পুনরায় এই আসনের বিধায়ক হন।



