বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হচ্ছেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদী। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের জন্য নরেন্দ্র মোদির সরকার তাকে নিয়োগ দিয়েছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সংসদ সদস্য দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাই কমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। এর ফলে দীর্ঘ সময় পর প্রতিবেশী কোনো দেশে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিলো ভারত।
মোদি সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে দিনেশ ত্রিবেদী বর্তমান কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন। অপরদিকে প্রণয় ভার্মা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এখন বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ত্রিবেদীর নিয়োগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি চাওয়া হবে। ৭৫ বছর বয়সী একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে দূত হিসেবে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের কূটনীতিকদের কাছে এক প্রকার ‘জবাবদিহিতার’ বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ত্রিবেদী এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে ইউপিএ আমলে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০২১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিয়ে ৬ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন।
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক যখন একটি কঠিন সময় পার করছে, ঠিক তখনই এই রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়টি সামনে এলো। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।
তবে দিনেশ ত্রিবেদীর এই নিয়োগ স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের দূত হিসেবে পাঠাতে মোদি সরকার দ্বিধাবোধ করছে না। এটি একটি সংকেত যে, এই উচ্চপর্যায়ের পদগুলো কেবল ইন্ডিয়ান ফরেন সার্ভিস (আইএফএস) কর্মকর্তাদের জন্যই সংরক্ষিত নয়। এর আগে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ ২০১৯-২০২২ সাল পর্যন্ত সেশেলসে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দেয় যে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভারত এখন থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের পাঠাবে।



