ইরানের যুদ্ধ ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন থেকে বিশ্বের নজর সরিয়ে নিয়েছে বলে মনে করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “ইরানের সংঘাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করা যাবে না, এমনটা ভাবা ঝুঁকিপূর্ণ। ইউক্রেন ইস্যুকে ‘পরে দেখা যাবে’ বলে ফেলে রাখার সুযোগ নেই।”
সিএনএনে প্রকাশিত খবরে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জানানো হয়, ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কারিগরি আলোচনা চললেও, ইরান ইস্যু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।
জেলেনস্কি একটি বিশেষ চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের নেতৃত্বাধীন একই আলোচনার দল বর্তমানে ইরান ও ইউক্রেন, উভয় সংকট নিয়েই কাজ করছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের যুদ্ধের দিকে বেশি মনোযোগী, যা স্বাভাবিক। তবে ইউক্রেনকে ভুলে যাওয়া চলবে না, কারণ সেখানে এখনো ভয়াবহ লড়াই চলছে। আমাদের এমন পথ খুঁজে বের করতে হবে যাতে সমান্তরালভাবে (ইরান ও ইউক্রেন) উভয় সংকট মোকাবিলা করা যায়।’
জেলেনস্কি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে ইউক্রেনের জন্য জরুরি কিছু সমরাস্ত্র সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইলের সংকট দেখা দিয়েছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে এর উৎপাদন ক্ষমতা সীমিত এবং বর্তমান চাহিদার তুলনায় সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরো ঋণের অনুমোদন দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় জেলেনস্কি সিএনএনের সাথে কথা বলেন। তিনি এই অর্থ প্রাপ্তিকে তার দেশের জন্য ‘বেঁচে থাকার প্রশ্ন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।’
উল্লেখ্য, হাঙ্গেরির সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর আরবানের বাধায় এই ঋণ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। আরবান দাবি করেছিলেন যেন ইউক্রেন ইউরোপে রাশিয়ার তেল সরবরাহ পুনরায় চালু করে। গত সপ্তাহে হাঙ্গেরির নির্বাচনে আরবানের পরাজয়ের পর এই বাধা দূর হয়। গত বুধবার ইইউ রাষ্ট্রদূতরা ঋণের বিষয়ে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন।




