রাজধানী বেইজিংয়ে ড্রোন ও এর প্রধান যন্ত্রাংশ বিক্রি, ভাড়া দেওয়া বা নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করল চীন। আগামী ১ মে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। তবে বর্তমানে যাদের ড্রোন আছে, তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার থেকে স্থানীয় পুলিশের কাছ থেকে ড্রোনের নিবন্ধন নিতে হবে। তা না হলে ড্রোন বিক্রি কিংবা ওড়ার দায়ে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিবিসি জানায়, নতুন নিয়ম অনুযায়ী, চীনের বেইজিংয়ে ড্রোন বিক্রি নিষিদ্ধ। ডিভাইসগুলো ওড়ানোর জন্য সরকারের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। মূলত জননিরাপত্তার কথা বিবেচনার দেশটির সরকার এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। আর নতুন এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে আগামী ১ মে থেকে।
বেইজিংয়ে ড্রোন আনা-নেওয়ার আগে অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে। আর ব্যবহারকারীরা যদি মেরামতের জন্য তাদের ড্রোন শহরের বাইরে পাঠান, তবে ডেলিভারির পরিবর্তে তাদের নিজেদেরই ডিভাইসটি সংগ্রহ করতে হবে।
গত মার্চ মাসে পাস হওয়া ড্রোন নীতিমালা অনুসারে, বেইজিংয়ে বাইরে সব ধরনের ড্রোন ওড়ানোর জন্য আগে থেকে অনুমতির প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া ড্রোন ব্যবহারকারীদের অনলাইন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পাশপাশি ড্রোন বিধিমালা বিষয়ক পরীক্ষায় পাস করা আবশ্যক।
তবে এই নিয়মের ব্যতিক্রম হলো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে সন্ত্রাসবাদ দমন ও দুর্যোগে ত্রাণের মতো উদ্দেশ্যে ড্রোন কেনা ও মজুত করা যেতে পারে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন দেশে ড্রোন ব্যবহারের নিয়মকানুন বারবার কঠোর করেছে।
ড্রোন আর উড়ন্ত ট্যাক্সি ‘নিম্ন-উচ্চতার অর্থনীতি’র অংশ। চীনের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি আয় হতে পারে। কিন্তু চীনের কিছু শহরে ড্রোন একটি সাধারণ দৃশ্য। কারণ খাদ্র সরবরাহ, ডেলিভারি, কৃষিকাজ ও ভবন পরিষ্কারের কাজে এই প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেশি।
চীনা কোম্পানিগুলোও বিশ্বব্যাপী ড্রোন বাজারে আধিপত্য বিস্তার বজায় রেখেছে। কিন্তু ড্রোন ওড়ানোর জন্য দেশটি অন্যতম কঠিন জায়গা হয়ে উঠছে। গত বছর বেইজিংয়ের সমগ্র আকাশসীমাকে ড্রোনমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয় ও ড্রোন ওড়ানোর জন্য বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
সাম্প্রতিক ব্যাপক বিধিমালাগুলো চীনের বিশাল ড্রোন বাজারকে নাড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী ৩০ লাখের বেশি নিবন্ধিত ড্রোন রয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজেআই-সহ প্রধান প্রধান ড্রোন কোম্পানিগুলোর সদর দপ্তর চীনে অবস্থিত। নতুন বিধিনিষেধের কারণে বেইজিংয়ের ডিজেআই দোকানগুলো তাদের তাক থেকে ড্রোন ও সংশ্লিষ্ট পণ্য সরিয়ে নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
বেইজিং মিউনিসিপ্যালপিপলস কংগ্রেসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শিয়ং জিংহুয়া বলেছেন, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার মধ্যে ‘সর্বোত্তম ভারসাম্য স্থাপন করাই’ এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য।




