
সুস্থ থাকতে দিনে কতবার খাবার খাওয়া উচিত, এ নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত। কেউ বলেন ৩ বেলা, কেউ বলেন অল্প অল্প করে ৫ থেকে ৬ বার খাওয়া ভালো আবার অনেকে মনে করেন দিনে একবেলা খেলেই চলবে। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, সবার জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য নয়, এ বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তির শরীর, জীবনযাপন ও প্রয়োজনের ওপর।
পুষ্টিবিদ লোবনিত বার্তা এবং রাশি চৌধুরী এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। চলুন জেনে নেয়া যাক।
সাধারণভাবে সকালের নাশতা, দুপুর ও রাত - এই তিন বেলা খাবারই প্রচলিত। পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, যদি এই তিন বেলার খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণ হয়, তাহলে সেটিই যথেষ্ট।
তবে বাস্তবতা হলো, খাবারের সংখ্যা সবার জন্য একরকম নয়। নিজের শরীরের চাহিদা, ক্ষুধা ও হজমের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড বা ডায়েট ফ্যাশন অনুসরণ না করে শরীরের সংকেত শুনতে বলেন বিশেষজ্ঞরা।
বয়স: শিশুদের বেশি এনার্জি দরকার, তাই তারা বেশি খেতে পারে; বয়স্কদের কম প্রয়োজন হতে পারে।
লিঙ্গ ও কাজের ধরন: যারা বেশি শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাদের বেশি খাবার দরকার।
অ্যাক্টিভিটি লেভেল: নিয়মিত ব্যায়াম করলে খাবারের পরিমাণ বাড়াতে হয়।
স্বাস্থ্যগত অবস্থা: ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ থাকলে আলাদা খাদ্য পরিকল্পনা প্রয়োজন।
লোবনিত বার্তা বলেন, ‘বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে ৩ বেলা সুষম খাবারই ভালো কাজ করে। এতে বারবার অপ্রয়োজনীয় নাস্তার দরকার পড়ে না।’
এর সুবিধা হলো, এ অভ্যাস সহজে অনুসরণ করা যায়, নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী খাওয়ার অভ্যাস তৈরি হয় এবং এটি রক্তে শর্করা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
কাদের জন্য উপযোগী? যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন এবং যাদের ব্লাড সুগার স্থিতিশীল।
দিনে কয়েকবার অল্প অল্প করে খাওয়া কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ও অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক কমাতে সাহায্য করে।
তবে পরিকল্পনা ছাড়া খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হতে পারে ও বারবার ইনসুলিন ওঠানামা করে, ফলে শক্তি কমে যেতে পারে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, শুধু কয়বার খাচ্ছেন তা নয়। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো খাবারের গুণগত মান, পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাওয়া, নিয়মিত সময় মেনে খাওয়া ও সচেতনভাবে (mindful) খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করা।
রাশি চৌধুরী বলেন, ‘বারবার খাওয়া সবসময় ভালো নয়। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে, তারা বেশি নাস্তা করলে আরও অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।’
দিনে ৩ বেলা বা ৫ - ৬ বেলা খাওয়া, কোনোটিই সবার জন্য চূড়ান্ত নিয়ম নয়। নিজের শরীর, জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যের ওপর ভিত্তি করে খাদ্যাভ্যাস ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো। তাই, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেন্ড নয়,টেকসই ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।
সূত্র: এনডিটিভি




