চাঁদের মহাকর্ষীয় প্রভাব বলয়ে প্রবেশ করেছেন নাসার আর্টেমিস ২ মিশনের নভোচারীরা। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম নভোচারীরা পৃথিবী থেকে এতটা দূরে গেলেন। আগামী ২৪ ঘণ্টায় চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ করার কথা রয়েছে তাদের। চাঁদের এই অংশে প্রদক্ষিণ মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থান প্রদক্ষিণের ঘটনা হতে যাচ্ছে বলে জানাচ্ছে নাসা। এর মাধ্যমে প্রথম চন্দ্র অভিযান অ্যাপোলো ১৩ এর দীর্ঘদিনের রেকর্ড ভাঙবে।
রয়টার্সের খবর জানায়, উড্ডয়নের ষষ্ঠ দিন, সোমবার (৬ এপ্রিল) আর্টেমিস ২ এর নভোচারীদের মার্কিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ঘুম থেকে জাগার কথা রয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটের মধ্যে তারা পৃথিবী থেকে তাদের মিশনের সর্বোচ্চ দূরত্ব, প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করবেন। এটি ৫৬ বছর আগে অ্যাপোলো ১৩ এর নভোচারীদের গড়া রেকর্ডের চেয়ে ৪ হাজার ১০২ মাইল বেশি।
আর্টেমিস ২ মিশনে অংশ নিচ্ছেন নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। চাঁদের ফার সাইড প্রদক্ষিণের সময় তারা বিপরীত দিক থেকে দেখবেন, চাঁদ কীভাবে পৃথিবীকে ঢেকে দিচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম জানায়, আর্টেমিস ২ নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রামের প্রথম মানুষবাহী পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন। কোটি কোটি ডলারের এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে চীনের আগে পুনরায় চাঁদে নভোচারী পাঠানো এবং পরবর্তী দশকে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করা। সেখানে একটি চন্দ্রঘাঁটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে নাসার, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহ মিশনের জন্য পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
চাঁদ প্রদক্ষিণের এই প্রক্রিয়াটি মার্কিন সময় দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে শুরু হবে। এই সময় নভোচারীরা অন্ধকারে নিমজ্জিত হবেন এবং সাময়িকভাবে পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন। চাঁদ যখন পৃথিবী এবং নভোচারীদের মাঝে চলে আসবে, তখন নাসার ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
এই প্রদক্ষিণ স্থায়ী হবে প্রায় ছয় ঘণ্টা। এই সময়ে নভোচারীরা ওরিয়ন মহাকাশযানের জানালা দিয়ে ক্যামেরার মাধ্যমে চাঁদের সূক্ষ্ম ছবি তুলবেন। তারা চাঁদের কিনারা দিয়ে সূর্যের আলো চলাচলের দৃশ্য দেখবেন।
এদিকে পৃথিবীতে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের সায়েন্স ইভালুয়েশন রুমে বিজ্ঞানীদের একটি দল নভোচারীদের বর্ণনা অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করবেন।




