বিএনপি প্রতিটি বিষয়ে পতিত ও পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিবাদের পথ ধরে হাঁটা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। এ সমাবেশের আয়োজন করে তার দল জামায়াতে ইসলামী।
বিএনপির উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা একসঙ্গে মজলুম ছিলাম। বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই, হাজার চেষ্টা করেন ওই আওয়ামী লীগ হতে পারবেন না। দুর্বল আওয়ামী লীগ হতে পারবেন। আওয়ামী লীগ জাতিকে নিয়ে বিরোধীদলকে নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রেুাপ করত। আজকে তারা কোথায়! আপনারা এদের কাজ শুরু করেছেন।
বিএনপি ৫১ শতাংশ ভোটের রায় মানেন, কিন্তু ৭০ শতাংশ মানেন না—এমনটি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সংসদের ভেতরে সরকারি দল-বিরোধীদলের এমপিরা যখন কথা বলেন, তখন সবাই জুলাই যোদ্ধাদের কথা বলেন। কেউ শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কথাও বলেন। একটা ভোটের রায় বিএনপির পক্ষে গিয়েছে, সেখানে ৫১ শতাংশ ভোট তাদের পক্ষে পড়েছে—সেটা তারা মেনে নিয়েছে। কিন্তু ৭০ শতাংশ গণভোটের পক্ষে পড়েছে। সেটা তারা মানেন না। তারা ৫১ শতাংশ মানেন, কিন্তু ৭০ শতাংশ মানেন না। এটা লজ্জা ও দুঃখজনক। ওই ৭০ শতাংশের রায় যেদিন বাস্তবায়ন হবে, সেদিন দেশ থেকে সত্যিকারার্থে স্বৈরতন্ত্র বা ফ্যাসিবাদ বিদায় হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের পোষ্য ও তাদের লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে সমাজের প্রত্যেকটা জায়গায় তাদের কর্তৃত্ব কায়েম করেছিল, সে আওয়ামী লীগের পাশে তাদের দুঃখের দিনে কোনো লাঠিয়াল বাহিনী এসে দাঁড়াতে পারেনি।
বিএনপি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা করছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের মৌলিক যেসব জায়গায় পরিবর্তন দরকার—সুশাসন কায়েমের জন্য, সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ জনগণকে দেওয়ার জন্য—প্রত্যেকটি বিষয়ে বিএনপি বিরোধিতা করে চলছে। এটি জাতির সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। তারা তাদের নিজেদের ইশতেহারের বিরোধিতা করছে। আমার বোধহয়, তারা যে বিরোধিতা করছে, এই জ্ঞানটাও তারা হারিয়ে ফেলেছে।
তিনি বলেন, প্রিয় বিএনপি, ভুলে যাবেন না। এই জুলাই না হলে—এই মায়েদের এই বাবাদের এই ভাইদের এই বোনদের—সন্তান, স্বামী, ভাই, বোন জীবন না দিলে আপনারা ক্ষমতার তাখত ইনজয় করতে পারতেন না। তখতে বসে সব ভুলে গেছেন।
৫ আগস্টের পর বিএনপি জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, শহীদ পরিবার যখন বুকে কষ্ট নিয়ে কান্নাকাটি করছিল, শহীদ পরিবারের কাছে আপনাদের ছুটে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। আপনার ৫ আগস্টের পর ৭ আগস্ট বললেন, আমাদের নির্বাচন দাও। আমরা ক্ষমতায় বসতে চাই।




