বিএনপি এখন সুবিধাবাদ ও দ্বিচারিতার রাজনীতি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের (বিকেএম) আমির মাওলানা মামুনুল হক।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা জাতীয় সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। এ সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
মামুনুল হক বলেন, ৭০ শতাংশ ভোটার গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। বিএনপি এ রায় নিয়ে টালবাহানা করছে। বর্তমানে বিএনপির রাজনীতি দুটি মৌলিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি সুবিধাবাদের রাজনীতি, আরেকটি দ্বিচারিতার রাজনীতি।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্বিচারিতা করে একবার নদী পার হতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে আপনারা জাতির কাঠগড়ায় আসামি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যাবেন। সুবিধাবাদের রাজনীতি বাদ দিন। গণভোটের রায় কার্যকর করুন।
সংবিধান সংশোধনের ওইসব ‘বোঝ’ বাংলার মানুষ আর বুঝতে চায় না মন্তব্য করে মামুনুল হক বলেন, ১৭টি সংবিধানের সংশোধনী বাংলাদেশে হয়েছে। কিন্তু ওই সংশোধনগুলো টেকসই হয়নি। এবার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে, সংসদের গাঠনিক ক্ষমতার মাধ্যমে সংবিধানের আমূল সংস্কার মানুষ দেখতে চেয়েছে। জুলাই সনদ নিয়ে আপনারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। আপনার জুলাই সনদের স্প্রিরিট বাস্তবায়ন করতে চান না। এভাবে টালবাহানা ও পাঁয়তারা চলতে থাকলে জুলাই যোদ্ধা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমরা আবার রাজপথে নামব। আমি থাকব রাজপথের সম্মুখ সাঁরিতে।
৫ আগস্টের পর বিএনপি জুলাই শহীদদের কৃতিত্বকে খাটো করে দেখার পাঁয়তারা শুরু করেছে জানিয়ে বিকেএমের আমির বলেন, কারাগারে এবং কোর্টের গারদগুলোতে বিএনপির ডজনখানেক নেতার সঙ্গে আমাদের দেখা হতো। ২০২৪ এর জানুয়ারিতে যখন নির্বাচন হয়ে গেল, এই বিএনপির নেতারাও হতাশায় মুষড়ে পড়েছিল। ২০৪০ সালের আগে শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে কোনো দিন বাংলাদেশের ক্ষমতার পরিবর্তন হবে—এই স্বপ্ন বিএনপি দেখত না। কিন্তু জুলাই বিপ্লবে আমাদের বীর শহীদরা রক্ত দিয়ে যে মুক্তি এনেছে, যে স্বাধীনতা এনেছে—৫ আগস্টের পর বিএনপি জুলাই শহীদদের কৃতিত্বকে খাটো করে দেখার পাঁয়তারা শুরু করেছে।
জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং ইসলামি অঙ্গন ও আলেমসমাজের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ২০২১ সালে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে দেড় হাজারের বেশি আলেমকে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার গ্রেপ্তার করেছিল। এর মধ্যে তাদের জন্য সবচেয়ে আতঙ্কজনক আসামির নাম ছিল মামুনুল হক। তিন বছর পর্যন্ত আমাকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৩ মে আমাকে মুক্তি দিয়েছিল। সেটা ছিল বাহ্যিক মুক্তি। মুক্তি দেওয়ার আগে তারা আমার নাকে রশি বেঁধে আমাকে নিয়ে তামাশা করেছে। ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু নাকের মধ্যে রশি বাঁধা ছিল।




