বাংলাদেশ হজ অফিসের পরিচালক যুগ্ম সচিব মো. লোকমান হোসেন। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাত্রা এবং হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক ও সমন্বয়মূলক দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এবারের হজ ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রায়হান রাশেদ
এশিয়া পোস্ট: এক বছরের বেশি সময় হলো হজ অফিসে পরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন। হাজিরা আল্লাহর মেহমান। তাদের নিয়ে কাজ করতে কেমন লাগে?
লোকমান হোসেন: আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। এটা আমি পুণ্যময় কাজ ও আল্লাহর ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করি। আলহামদুলিল্লাহ—আমি খবুই খুশি, আল্লাহ আমাকে এ সেবা করার তাওফিক দিয়েছেন।
এশিয়া পোস্ট: হজযাত্রীদের সেবা নির্বিঘ্ন করতে গিয়ে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে?
লোকমান হোসেন: চ্যালেঞ্জ আছে, তবে সেটা আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে না নিয়ে ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাত্রা হিসেবে বিবেচনা করছি। হজ ক্যাম্পে যত ধরনের সেবা রয়েছে, পরেরবার কীভাবে আগেরবারের চেয়ে ভালো ও উন্নতি করা যায়—সেই উন্নয়নটাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।
এশিয়া পোস্ট: সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ ১০ বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আগে লাগত ৩ লাখ টাকার মতো, এখন লাগছে ৭ লাখ টাকার মতো। সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচও প্রায় ৫ লাখ টাকা। মানুষের গড় আয় তো এই সময়ে দ্বিগুণ হয়নি। এই খরচ বৃদ্ধির পেছনে কারণ কী?
লোকমান হোসেন: হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে সরকার সবসময় আন্তরিক। গত বছরের হজের প্যাকেজ আগের বছরের হজের প্যাকেজের তুলনায় কম ছিল। এ বছরের হজ প্যাকেজ গত বছরের চেয়ে আরও কমানো হয়েছে। হজযাত্রীদের জন্য হজযাত্রা সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে সরকার খুবই আন্তরিক ও নিবেদিতপ্রাণ। সাশ্রয়ী খরচে হজ করাতে সরকারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
একটা বিষয় আমাদের মানতে হচ্ছে, সৌদি সরকারের নির্ধারিত ফি অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। বাংলাদেশ থেকে যে টাকা পাঠানো হয়, সেটাকে তারা সৌদি রিয়ালের হিসাবে বিবেচনা করে। ফলে রিয়াল এবং টাকার এক্সচেঞ্জ রেটের যে পার্থক্য, এটাও মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটা ফ্যাক্ট।
একটা প্যাকেজের মোট খরচের ৭৫ শতাংশ সৌদিতে খরচ হয়ে যায়। বাংলাদেশ পর্বে খুব কম টাকা খরচ হয়। প্ল্যান ভাড়াটাই এখানে প্রধান খরচ। ব্যবস্থাপনা খরচ সব মিলিয়ে পাঁচ হাজারেরও কম। পুরো খরচটাই সৌদি পর্বে হয়ে যায়। বাড়ি ভাড়া, তাঁবু ব্যবস্থাপনা—এসব সৌদি সরকার করেন। এসব খরচের সঙ্গে সাড়ে সতেরো পার্সেন্ট ভ্যাট আছে। এখানে আমাদের করার কিছুই থাকে না। সৌদি পর্বের কারণেই খরচ বাড়ে। তবে গত দুই বছরের তুলনায় এ বছর খরচ অনেক কমেছে।
এশিয়া পোস্ট: বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে ভর্তুকি দিয়ে নাগরিকদের কম খরচে হজ পালনে সহায়তা করছে। বাংলাদেশে এমন উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব?
লোকমান হোসেন: হজ সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ফরজ ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানরাই হজ করবেন। সামাজিক অবস্থা ও অন্যান্য প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকার প্রতিবছর হজের খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। গত বছরের তুলনায় হজ ফ্লাইটের ভাড়া এবার আরও কমানো হয়েছে। এ বছর সরকারি একটা হজ প্যাকেজ আছে—যেটি কোরবানিসহ ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
এশিয়া পোস্ট: হজের খরচ কমাতে সরকারের তরফ থেকে ভর্তুকি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা কী আছে?
লোকমান হোসেন: এ মুহূর্তে এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য হজ সহজ করতে সরকার প্রতিনিয়তই চেষ্টা করছে। বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও হজকে সহজলভ্য করার কথা বলা আছে। সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক। আগামী হজ প্যাকেজ বর্তমান সরকারের অধীনে হবে, তখন এর সুফল আমরা দেখতে পাব।
এশিয়া পোস্ট: সরকারি যে প্যাকেজের কথা বললেন—সেখানে কী হাজিদের খাবারের খরচও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে?
লোকমান হোসেন: প্রতিবছর কোরবানি হজ প্যাকেজের বাইরে রাখা হতো। এ বছর প্যাকেজের ভেতর রাখা হয়েছে। তবে এর মধ্যে খাবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। খাবারের খরচ আলাদাভাবে হাজিকেই বহন করতে হবে।
এশিয়া পোস্ট: বাংলাদেশ থেকে এবার ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে অনেকে সৌদি পৌঁছেছেন। এ বছর হাজিদের যাত্রা আরামদায়ক করতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
লোকমান হোসেন: আল্লাহর মেহমানদের হজযাত্রা প্রশান্তিময় ও স্বস্তিদায়ক করতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। হজক্যাম্পকে সুচারুরূপে প্রস্তুত করেছি। বিশেষ করে মহিলা হজযাত্রীদের জন্য নামাজ, আলাদা ওয়াশরুম ও অজুখানা এবং দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর মহিলা হজযাত্রীদের জন্য পৃথক ওয়াশরুম এবং অজুখানা করেছি। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় মহিলাদের নামাজের জায়গা আছে, কিন্তু সেখানে তাদের জন্য ওয়াশরুম বা অজুর ব্যবস্থা ছিল না। ওয়াশরুম ব্যবহার বা অজুর জন্য ইমিগ্রেশন এলাকায় যেতে হতো। ইমিগ্রেশন এলাকায় সবসময় হজযাত্রীদের যাতায়াত থাকে। সেসব ডিঙিয়ে মহিলাদের জন্য সেখানে যাওয়া চ্যালেঞ্জের বিষয় ছিল। তাদের জন্য সেবা সহজ করতে সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গায় ওয়াশরুম ও অজুখানা করেছি।
আমি যোগদানের প্রথম বছরই দর্শনার্থীদের জন্য টয়লেট করেছি। সে বছর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থা করেছিলাম। এ বছর দর্শনার্থী পুরুষ-মহিলার জন্য আলাদা সেমিপাকা টয়লেট করেছি।
এ ছাড়া হজ ক্যাম্পে হাজিদের খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেদিকে যত্নবান রয়েছি। এখানে মেডিকেল ক্যাম্প আছে। মানি এক্সচেঞ্জ সুবিধা আছে। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন থেকে দুটি ক্যান্টিন চালু রাখা হয়েছে। যাতে হজযাত্রীরা মানসম্মত খাবার খেতে পারেন।
একইসঙ্গে হজযাত্রীরা বিনামূল্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডরমিটরিতে অবস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। মোবাইল রুমিং ও হজ প্রিপেইড কার্ড নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। রোড টু মক্কা সার্ভিসের আওতায় হজযাত্রীরা বাংলাদেশ পর্বের ইমিগ্রেশন ক্যাম্পেই সম্পন্ন করতে পারছেন। সৌদি আরবের অন-অ্যারাইভল ইমিগ্রেশনও হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে সৌদি আরবের বিমানবন্দরে তাদেরকে ইমিগ্রেশনের জন্য দাঁড়াতে হচ্ছে না। এছাড়া হজ ক্যাম্পের মসজিদে প্রতি নামাজের পর হজের মাসয়ালা, বিধিবিধান ও নিয়ম-কানুন নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। শেখানো হচ্ছে ইহরাম পরার নিয়মও।
এশিয়া পোস্ট: হজ ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে সাম্প্রতিক সময়ে অভিনব নানা উদ্যোগ নিচ্ছে সৌদি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে তারা। আমাদের হাজিরা প্রযুক্তিগত এসব বিষয়ে যেন মানিয়ে নিতে পারেন সে জন্য তাদের কোনো প্রশিক্ষণ দিয়েছেন?
লোকমান হোসেন: সব সেবার ক্ষেত্রেই তথ্য-প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। হজ ব্যবস্থাপনাও প্রায় পুরোপুরি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক। একজন হজযাত্রী চাইলে ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে তার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন। এমনকি আমরা একটি মোবাইল অ্যাপস তৈরি করেছি। সেই অ্যাপসের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের আওতাধীন হজযাত্রীকে তার পরিবারের সদস্যরা ট্র্যাক করতে পারবেন। তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন। অনলাইনে হজের সব সেবা রয়েছে। যারা শিক্ষিত আছেন, তারা নিজেরই অ্যাপস ব্যবহার করতে পারেন। যারা পারেন না, তাদের আমরা সহযোগিতা করি।
এশিয়া পোস্ট: কয়েক বছর আগেও হজের নিবন্ধন শুরুর পরপরই বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা পূরণ হয়ে যেত। কিন্তু এ বছরের চিত্র একেবারে আলাদা। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮টি কোটার বিপরীতে নিবন্ধন করেছেন ৭৮ হাজার ৫০০ জন। অর্থাৎ নির্ধারিত কোটার ৪৪ শতাংশ পূরণ হয়নি। এর কারণ কী?
লোকমান হোসেন: এর অনেক প্রেক্ষাপট রয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একটা সময় আমাদের দেশের হজযাত্রীরা হজে যাওয়ার ঠিক আগে নিবন্ধন সম্পন্ন করতেন। নিবন্ধন শেষে তারা খুব দ্রুত হজে যেতেন। সৌদি সরকারের বর্তমান যে রোডম্যাপ আছে, এতে দেখা যায়—হজ শেষ হলেই পরের বছরের হজ কার্যক্রম শুরু করেন। গত বছরের তুলনায় এ বছরের হজ নিবন্ধনের সময় দুই মাসেরও অধিক এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের হাজিদের প্রস্তুতি গ্রহণের আগেই হজ নিবন্ধনের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু প্রতি বছরই সৌদি সরকার নতুন নতুন সিদ্ধান্ত জানায়, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের দেশের হজযাত্রীরা পুরোপুরি সামঞ্জস্য হওয়ার আগেই নিবন্ধনের সময় শেষ হয়ে যায়। তবে এসব নিয়মের সঙ্গে হজযাত্রীরা অভ্যস্ত হয়ে গেলে সমস্যা হবে না। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের প্যাকেজের মূল্য কম। কিন্তু ২০২৩ সালে অনেক হজযাত্রী ছিল—১ লাখ ২৭ হাজারের মতো ছিল।
এশিয়া পোস্ট: আমাদের দেশে প্রতি বছর অনেক হাজি এজেন্সির মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসব প্রতারণা ঠেকাতে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
লোকমান হোসেন: হজযাত্রীরা যেন কোনোভাবেই প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রত্যেক বছর হজ মৌসুমের শুরুতেই পত্রিকা এবং অন্যান্য মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। সেখানে নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্নের পদ্ধতি বলে দেওয়া হয়। প্রতারক থেকে সাবধান থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। মধ্যস্বত্যভোগীদের মাধ্যমে নিবন্ধন করে সরাসরি এজেন্সিতে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এজেন্সির সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করা হবে, সেটিও বলা হয়।
আমাদের হজ পোর্টাল আছে। পোর্টালে প্রত্যেক এজেন্সির বিস্তারিত তথ্য আছে। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। কোনো এজেন্সির নামে মামলা আছে কি না, তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে কি না, সেটিরও উল্লেখ আছে সেখানে। একজন হজযাত্রী কোনোভাবেই যেন প্রতারণার শিকার না হন, সেজন্য সব তথ্য সহজলভ্য করা হয়েছে। লাব্বাইক অ্যাপসের মাধ্যমে সব তথ্য এখন জানা যাচ্ছে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে হজযাত্রী সব তথ্য পেয়ে যাচ্ছেন।
এশিয়া পোস্ট: অনেক এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা সৌদি নেওয়ার পর হাজিদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেবা দেয় না। এমন এজেন্সির বিষয়ে সরকারের অবস্থান কী?
লোকমান হোসেন: হজ ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের জন্য ‘হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন’ রয়েছে। বিধিমালা আছে। যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণা বা হাজিদের ঠকানোর অভিযোগ পাওয়া যায়, যথাযথভাবে সেগুলো প্রতিকার করা হয়। প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। যারা গুরুতর অপরাধ করে, তাদের হজ লাইসেন্স স্থগিতসহ বিভিন্ন রকম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অনেক সময় জরিমানা করা হয়। প্রতারকদের প্রতারণা ঠেকাতে বিভিন্নরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বছরের হজযাত্রী এবং সম্ভাব্য যেসব হজযাত্রী আছেন, তাদের অনুরোধ করতে চাই, কোনো এজেন্সির মাধ্যমে হজে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে তার সঙ্গে অবশ্যই একটি লিখিত চুক্তিতে আবদ্ধ হবেন। চুক্তিতে কী মানের সেবা দেওয়া হবে, মক্কা-মদিনায় তারা কোথায় অবস্থান করবেন, খাবারের মান কী হবে, তাঁবুতে তারা কোন জোনে থাকবে—এগুলো উল্লেখ থাকবে। তাহলে কোনো এজেন্সি প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারবে না। আইন অনুযায়ী প্রত্যেক এজেন্সির জন্য অবশ্য কর্তব্য হলো, হাজিদের সঙ্গে লিখিত চুক্তি করা।
এশিয়া পোস্ট: লিখিত চুক্তি কার্যকর করতে আপনাদের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়?
লোকমান হোসেন: আইন এবং বিধিমালায় বলা আছে, এজেন্সিগুলো যেন লিখিত চুক্তি করে। প্রতি বছরই বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভা করা হয়। এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অনুরোধ জানানো হয়। এ বিষয়ে পরিপূর্ণ মনিটরিংয়ের জন্য হজযাত্রীদের সাক্ষাৎকার নিই। হজ পোর্টালে অভিযোগ ও ফিডব্যাক দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি। কোনো হজযাত্রী প্রতারণার শিকার হলে সেখানে অভিযোগ দিতে পারবেন। ফিডব্যাক দিতে পারবেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে সেসবের নিষ্পত্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এশিয়া পোস্ট: হজের সময় সৌদি রুটে ফ্লাইটের ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। এটা কেন হয়?
লোকমান হোসেন: ২০২৪ সালের হজ ফ্লাইটের ভাড়া ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। ২০২৫ এর হজে সেটি ১ লাখ ৬৭ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালে সেটি ১ লাখ ৫৪ হাজার নির্ধারণ করা হয়েছে। দুই বছরের ব্যবধানে অনেক ভাড়া কমেছে। হজের ফ্লাইট ভাড়া আরও কমাতে চাই।
হজের ফ্লাইটগুলো তো হজের জন্যই নির্ধারিত। হজের ফিরতি ফ্লাইটগুলো প্রায়ই যাত্রী শূন্য আসে। ফিরতি ফ্লাইটে যাত্রী পাওয়া যায় না, এদিকে খরচ কিন্তু কমছে না। তবে এ ভাড়াতে আমরা সন্তুষ্ট নয়। আমরা ফ্লাইট ভাড়া আরও কমাতে চাই।
এশিয়া পোস্ট: ইন্দোনেশিয়া-মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের কয়েকটি মুসলিম দেশে হজ সেন্টার আছে। যেখানে হজে গমনেচ্ছুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ওইসব দেশের হাজিদের সুশৃঙ্খল হজ পালনের প্রশংসাও করেন সৌদি কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশে উন্নতমানের হজ সেন্টার করার ব্যাপারে সরকারের কোনো পরিকল্পনা আছে?
লোকমান হোসেন: হজের মান উন্নয়ন এবং হজের বিধিবিধানগুলো সঠিকভাবে পালনের জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। হজগাইড এবং হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করছি আমরা। হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণের জন্য হজ সেন্টার থাকা অত্যন্ত সহায়ক। অধিকাংশ হজযাত্রী জীবনে একবারই হজে যান। সে যেন নির্ভুলভাবে হজ করতে পারে, সেজন্য দুয়েকদিনের প্রশিক্ষণ তার জন্য যথেষ্ট নয়। তাদেরকে বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ দেওয়া প্রয়োজন। মানসম্মত হজ প্রশিক্ষণ সেন্টার গড়ে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। সরকারকেও এ বিষয়ে অনুরোধ জানাব।
এশিয়া পোস্ট: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
লোকমান হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।



