অর্থনীতিবিদ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার এমপ্লয়মেন্ট সেক্টরের প্রাক্তন বিশেষ উপদেষ্টা। সংস্থাটির বিভিন্ন বিভাগে পরিচালক ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অতিথি বক্তা ও ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে অধ্যাপনা ও গবেষণা করেছেন। অধ্যাপনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। ড. রিজওয়ানুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং লন্ডন স্কুল অব ইকনমিক্স থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি শিক্ষাজীবনের সব স্তরে প্রথম স্থান অর্জন করার বিরল কৃতিত্বের অধিকারী।
উন্নয়ন অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয়ে তিনি বই লিখেছেন এবং সম্পাদনা করেছেন। তার গবেষণামূলক রচনা প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের প্রথম শ্রেণির গবেষণামূলক সাময়িকীগুলোয় এবং বিভিন্ন গ্রন্থে। তার বই ফুল অ্যান্ড প্রডাকটিভ এমপ্লয়মেন্ট ইন ডেভেলপিং ইকোনমিজ এবং (ইয়ানাতুল ইসলামের সাথে যুগ্মভাবে রচিত) এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট লন্ডনের রাউটলেজ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে। বাংলায় লেখা তার বই করোনাঘাতে অর্থনীতি ও শ্রমবাজার (বাতিঘর), উন্নয়নের অর্থনীতি (দ্বিতীয় সংস্করণ) এবং উন্নয়ন ভাবনায় কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার (ইউপিএল) সুধী সমাজে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে।
প্রশ্ন: আপনার গবেষণায় আপনি দেখিয়েছেন যে, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সম্পর্ক স্বয়ংক্রিয় নয়—এটি নির্ভর করে প্রবৃদ্ধির ধরনের উপর, অর্থাৎ কোন খাত নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং উৎপাদন কতটা শ্রমঘন। বাংলাদেশে গত দুই দশকের প্রবৃদ্ধির গঠন বিশ্লেষণ করলে কি বলা যায় যে, আমরা এমপ্লয়মেন্ট ইলাস্টিক গ্রোথ পাথ থেকে সরে এসেছি?
রিজওয়ানুল ইসলাম: আপনি ঠিকই বলেছেন, আমি অনেক বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছি এবং আমার গবেষণায় দেখা যায় যে কর্মসংস্থানের জন্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রাথমিক শর্ত হলেও সেটা যথেষ্ট নয়। কী হারে কর্মসংস্থান বাড়বে তা নির্ভর করে প্রবৃদ্ধির ধরনের ওপর, অর্থাৎ কোন কোন খাতে প্রবৃদ্ধি বেশি হচ্ছে আর সে খাতগুলো উচ্চ হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক কি না।
বাংলাদেশের জন্য দুই দশকের বেশি সময়ের উপাত্ত আমরা বিশ্লেষণ করেছি। তাতে দেখা যায় যে, ২০১০ সালের পর থেকে প্রবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট হওয়া কর্মসংস্থানের পরিমাণ এবং বাড়ার হার ক্রমেই কমছে। ২০০০ থেকে ২০১০ সময়কালে প্রতি ১ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি থেকে কর্মসংস্থান বাড়ত তার অর্ধেক, অর্থাৎ ০.৫ শতাংশ। ২০১০ থেকে ২০১৬ সময়ে সেটা কমে ০.৩-এর নিচে নেমে যায়। তারপরেও এই সংখ্যাটি ০.৪-এর নিচেই রয়ে গিয়েছে। একদিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে (কিছুটা অতিরঞ্জনের সম্ভাবনা স্বীকার করলেও) আর অন্যদিকে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার কমেছে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৫ থেকে ১৭ লাখ মানুষ নতুন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করে। ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৬-১৭ এই এক বছরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় ১৩ লাখ; ২০২২ থেকে ২০২৩ সালে তা কমে মাত্র ৫ লাখে দাঁড়ায়। আর তার পরের বছর কমেছে ৯ লাখ। এই সংখ্যাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, প্রবৃদ্ধির সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্পর্ক সরল রেখার মতো নয়।
প্রশ্ন: আর্থার লুইসের দ্বৈত অর্থনীতির মডেল অনুযায়ী উদ্বৃত্ত শ্রম শিল্পে স্থানান্তর হলে মজুরি বাড়ে এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। কিন্তু বাংলাদেশে এই ক্লাসিক্যাল ট্রান্সজিশন কার্যত আটকে গেছে—শ্রম কৃষি ছেড়েছে কিন্তু উৎপাদনশীল শিল্পে যায়নি, গেছে অনানুষ্ঠানিক সেবা খাতে। আপনি কি মনে করেন লুইস টার্নিং পয়েন্ট বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একটি মিথ হয়ে যাচ্ছে?
রিজওয়ানুল ইসলাম: নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ আর্থার লুইসের যে তত্ত্বটির কথা আপনি বললেন সেটি হচ্ছে এরকম। যেসব দেশে উদ্বৃত্ত শ্রম আছে সেসব দেশে আধুনিক খাতে, বিশেষ করে শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়লে প্রকৃত মজুরি না বাড়িয়েই শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া যায়। কারণ কৃষিতে অনেক উদ্বৃত্ত শ্রম থাকে এবং সেখান থেকে একটি অংশ শিল্পে স্থানান্তরিত হতে পারে। কৃষির উদ্বৃত্ত শ্রম শেষ হওয়ার পর শিল্প খাতে শ্রমিকের মজুরি বাড়াতে হয়।
বাংলাদেশেও এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কৃষিতে কর্মসংস্থানের অংশ কমার বদলে বাড়ছে। এমনকি মোট সংখ্যাও বাড়ছে। অর্থাৎ শিল্প এবং সেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অনেকই আবার কৃষিমুখী হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, প্রকৃত মজুরিও কমছে। সুতরাং দেখা যায়, লুইসের বর্ণনা করা কাঠামোগত রূপান্তরের প্রক্রিয়া থমকে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্ন: ড্যানি রডরিক তার প্রিম্যাচুর ডিইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন তত্ত্বে দেখিয়েছেন যে, অনেক উন্নয়নশীল দেশ শিল্পায়নের সুফল সম্পূর্ণ না পেতেই শিল্প থেকে সেবা খাতে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশ কি সেই ফাঁদে পড়ার ঝুঁকিতে আছে, বিশেষত যখন অটোমেশন ও কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তা পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করছে?
রিজওয়ানুল ইসলাম: বাংলাদেশে ২০১৬-১৭ সাল পর্যন্ত শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের অংশ বাড়ছিল এবং ১৪.৪২ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল। আমার সে সময়কার লেখায় বলেছিলাম যে, ড্যানি রডরিকের প্রিম্যাচিউর ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন এখনও শুরু হয়নি। কিন্তু এরপরের উপাত্ত থেকে দেখা যায়, শিল্প খাতে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। এটি বিশেষ করে ঘটছে দেশের প্রধান শিল্প তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে। এই খাতে কেন কর্মসংস্থান তেমনভাবে বাড়ছে না সেটি একটি গবেষণার বিষয়। বড় আকারের কারখানাগুলোতে শ্রম সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়। তবে খাতটিতে সামগ্রিকভাবে কী হচ্ছে সে বিষয়ে উপাত্তভিত্তিক বিশ্লেষণ করা দরকার।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের প্রকৃত মজুরির প্রবৃদ্ধি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়—বিশেষত পোশাকশিল্পে। আইএলওর গবেষণায় দেখা গেছে, এই মজুরি-উৎপাদনশীলতার ব্যবধান উন্নয়নশীল দেশে সামষ্টিক চাহিদা সংকট তৈরি করে। বাংলাদেশে কি এই প্যাটার্নটি অভ্যন্তরীণ বাজার সংকোচনের একটি কারণ হয়ে উঠছে?
রিজওয়ানুল ইসলাম: প্রকৃত মজুরির ওপর নির্ভর করে শ্রমিকের আয়, যা তার জীবনযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থনীতির জন্যও এর গুরুত্ব আছে, কারণ মানুষের আয় থেকেই সৃষ্টি হয় পণ্য ও সেবার চাহিদা। আর বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিতে বৈদেশিক চাহিদার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদাও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার করতে পারে। কিন্তু কয়েক বছর ধরেই শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে। তার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের অন্যদের আয়ও মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে এক ধরনের চাহিদা সংকট সৃষ্টি হতেই পারে।
প্রশ্ন: আপনি আপনার লেখায় শোভন কাজের ধারণাটির বহুমাত্রিকতার উপর জোর দিয়েছেন। শুধু কর্মসংস্থান নয়, মজুরি, নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং সংলাপের অধিকার। কিন্তু বাংলাদেশে এই চারটি মাত্রার মধ্য কোনটি সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত এবং নতুন সরকার কোন মাত্রাটি দিয়ে শুরু করলে সবচেয়ে দ্রুত ফল পেতে পারে?
রিজওয়ানুল ইসলাম: শোভন কাজের চারটি স্তম্ভ আছে—কর্মসংস্থান, শ্রমিকের/কর্মীর অধিকার, সামাজিক সুরক্ষা এবং সামাজিক সংলাপের (অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনার) সুযোগ। কেউ কেউ বলে থাকেন যে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে কাজের সুযোগই সীমাবদ্ধ, সেখানে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত কর্মসংস্থানকে। কথাটি একেবারে ভিত্তিহীন তা বলব না। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য যদি হয় ভালো মানের কাজ, তাহলে বিষয়টিকে দেখতে হবে একটি সামগ্রিক কাঠামোতে। সেখান একটি টেবিলের কথা ভাবা যেতে পারে, যা চারটি পায়ার ওপর দাঁড়ায়। তার কোনো একটি বা দুটি বাদ দিলে টেবিল দাঁড়াতে পারে না। শোভন কাজের ধারণাটি সেরকমই। গোড়ার কথা কর্মসংস্থান হলেও অন্য দিকগুলোর কথা ভুললে চলবে না।
প্রশ্ন: অনানুষ্ঠানিক খাতকে সাধারণত ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আইএলও গবেষণা পর্যন্ত একটি বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি আছে যে, অনানুষ্ঠানিক খাত দারিদ্র্য ও বেকারত্বের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন দৃষ্টিভঙ্গিটি বেশি বাস্তবসম্মত এবং নীতিনির্ধারকদের অনানুষ্ঠানিক খাতকে কি চোখে দেখা উচিত?
রিজওয়ানুল ইসলাম: বাংলাদেশে এখনও মোট কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক খাতে। বহুদিন ধরে এ অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন দেখছি না। আর শিগগির তেমন পরিবর্তন হবে বলেও মনে করার বিশেষ কারণ নেই। সেই অবস্থায় এই খাতকে কীভাবে দেখা হবে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মনে রাখতে হবে যে, আনুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বাড়ছে না বলেই অনানুষ্ঠানিক খাতে বাড়ছে। আর জীবিকার জন্য এ ধরনের কর্মসংস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং নীতিমালা প্রণয়নে আমাদের দুই ফ্রন্টে কাজ করতে হবে। একদিকে সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে শিল্প ও সেবা খাতের আনুষ্ঠানিক অংশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। আর অন্যদিকে অনানুষ্ঠানিক খাতের অবস্থা কীভাবে উন্নত করা যায় সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে সেখানে নিয়োজিতদের আয় বাড়ে এবং কাজের গুণগত মান ও পরিবেশ ভালো হয়।
প্রশ্ন: সামাজিক সুরক্ষার দুটি মূল দর্শন আছে—একটি হলো লক্ষ্যভিত্তিক স্থানান্তর যেখানে শুধু দরিদ্রতম শ্রেণিকে সহায়তা দেওয়া হয়, অন্যটি হলো সর্বজনীন বেসিক সেবা যেখানে সবার জন্য ন্যূনতম সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। ফ্যামিলি কার্ড মূলত একটি লক্ষ্যভিত্তিক হস্তক্ষেপ। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে দারিদ্র্যের সীমারেখা অত্যন্ত তরল এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা দুর্বল, সেখানে লক্ষ্যভিত্তিকের ব্যয় কি সুবিধার চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে?
রিজওয়ানুল ইসলাম: সামাজিক সুরক্ষার জন্য নগদ দেওয়া আর তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা একটি ভালো এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে এই কর্মসূচি থেকে সুফল কতটা পাওয়া যাবে তা নির্ভর করবে এর সঠিক বাস্তবায়নের ওপর। আর সেখানে রয়েছে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, ঠিকভাবে উপকারভোগী চিহ্নিত করা যাতে যারা যোগ্য তারা সবাই সাহায্য পেতে পারে আর যারা যোগ্য নয় তারা এতে অন্তর্ভুক্ত না হয়। এটা নিশ্চিত করবার জন্য সঠিক উপাত্ত যেমন দরকার, তেমনি প্রক্রিয়াটিকে রাজনীতিমুক্ত রাখাও জরুরি।
দ্বিতীয়ত, সঠিক প্রাপকের হাতে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দরকার প্রশাসনিক দক্ষতা এবং তাকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করতে পারলে একদিকে যেমন নৈপুণ্য বাড়ানো যাবে, অন্যদিকে দুর্নীতির সম্ভাবনাও কমানো যাবে।
তৃতীয়ত, সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোর মধ্যে দরিদ্রদের জন্য যেসব কর্মসূচি রয়েছে তাদের কোনো কোনোটির উপকারভোগী হয়তো নতুন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। সেক্ষেত্রে আগেরগুলো চালু রাখা হবে না কি নতুনটির সঙ্গে একীভূত করে একটি সমন্বিত কাজকর্ম চালু করা যায় সেটি দেখা দরকার।
চতুর্থত, নতুন কর্মসূচির জন্য কত অর্থের প্রয়োজন হবে এবং জাতীয় বাজেটে তার প্রভাব কী হতে পারে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায় যে, সম্পূর্ণ কর্মসূচির জন্য বাজেটের শতকরা ৩ শতাংশ লাগবে। পরিমাণটি তেমন বিশাল মনে না হলেও কম নয়।
পঞ্চমত, সামাজিক সুরক্ষার জন্য হলেও এ ধরনের কর্মসূচিকে উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় কি না তা ভাবা যেতে পারে। কোনো কোনো দেশে এটি করা হয় এবং ভালো ফল পাওয়া গেছে। উদাহরণস্বরূপ, নগদ সহায়তার সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সেবার সংযোগ ঘটাতে পারলে একদিকে স্বল্পমেয়াদি সহায়তা যেমন দেওয়া হবে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে ভূমিকা রাখা যাবে।
প্রশ্ন: সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে যে, সরাসরি নগদ হস্তান্তর প্রায়ই পণ্য-ভিত্তিক ভর্তুকির চেয়ে বেশি কার্যকর। কারণ এটি উপকারভোগীর সিদ্ধান্ত-স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পণ্য সরবরাহের বদলে ডিজিটাল ক্যাশ ট্রান্সফারের মডেল কি বাংলাদেশে কার্যকর হতে পারে এবং বিকাশের মতো বিদ্যমান অবকাঠামো এটিকে কতটা সহজ করতে পারে?
রিজওয়ানুল ইসলাম: নগদ সহায়তা এবং পণ্য সহায়তার তুলনামূলক সুবিধা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে ঠিকই, তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার সুযোগ এখনও আসেনি। ফ্যামিলি কার্ড ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে নগদ সহায়তা সঠিক উপকারভোগীর হাতে ঠিকমতো পৌঁছাতে পারলে সামাজিক সুরক্ষার মূল লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে। কিন্তু মূল্যস্ফীতির ফলে নগদের ক্রয়ক্ষমতা ক্রমেই কমতে থাকবে। সুতরাং এটিকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেদিক থেকে দেখলে পণ্য সহায়তার গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই।
প্রশ্ন: আইএলও ও ইউএন যুক্তি দেয় যে, একটি ন্যূনতম সুরক্ষার স্তর স্থাপন করলে তা শুধু দারিদ্র্য কমায় না, বরং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়িয়ে প্রবৃদ্ধিকেও সহায়তা করে। বাংলাদেশে ফ্যামিলি কার্ডকে কি এই বৃহত্তর social protection floor-এর একটি উপাদান হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ আছে?
রিজওয়ানুল ইসলাম: ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ সহায়তা দিতে পারলে তা অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পণ্যের সরবরাহ না বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাবও পড়তে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ প্রক্রিয়া এখনো মূলত রাজনৈতিক দর-কষাকষির ওপর নির্ভরশীল—এতে না আছে কোনো systematic productivity linkage, না আছে inflation indexation। আইএলওর অভিজ্ঞতায় কোন দেশগুলো এই প্রক্রিয়াকে সবচেয়ে কার্যকরভাবে সংস্কার করেছে এবং বাংলাদেশ কি এখন সেই পথে হাঁটার রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখাচ্ছে?
রিজওয়ানুল ইসলাম: ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতির ভালো উদাহরণ পাওয়া যায় পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশ (যেমন—ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, সুইডেন) এবং যুক্তরাজ্য থেকে। তবে উন্নয়নশীল বিশ্বেও ভালো উদাহরণ পাওয়া যায়। সে প্রসঙ্গে ভারত, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ার কথা উল্লেখ করা যায়। এই দেশগুলোতে ত্রিপক্ষীয় অর্থাৎ সরকার, মালিক এবং শ্রমিক এই তিন পক্ষের সম্মিলিত আলোচনার মাধ্যমে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া চালু আছে। তাছাড়া প্রতি দুবছরে মজুরি হালনাগাদের ব্যবস্থাও আছে।
প্রশ্ন: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন নিয়ে দুটি বিপরীত মত আছে—একটি পক্ষ বলছে এটি উন্নয়নশীল দেশের শ্রম-সুবিধাকে নষ্ট করবে, অন্য পক্ষ বলছে নতুন প্রযুক্তি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে। বাংলাদেশের শ্রমবাজারের গঠন ও দক্ষতার স্তর বিবেচনায় আপনি কোন দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত এবং প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এখনই কী করা উচিত?
রিজওয়ানুল ইসলাম: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের ফলে কর্মসংস্থানের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য স্বল্প মেয়াদের বা কোনো বিশেষ খাতের ওপর দৃষ্টি সীমাবদ্ধ না রেখে দীর্ঘ মেয়াদের কথা ভাবতে হবে এবং অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্রের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। এর কারণ এই যে, কোনো কোনো খাতে এটি ব্যবহার করা হলে সেখানে কিছু কাজ করার জন্য মানুষের প্রয়োজন কমে যেতে পারে। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের কাজ সৃষ্টি হয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। তাছাড়া অর্থনীতির সব খাতেই সমানভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে মেককিনজি কোম্পানির এক জরিপে দেখেছে যে, পরের তিন বছরে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ কোম্পানি চাকরি কমে যাওয়ার কথা বলছে। আমাজন কোম্পানি বলছে, তারা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছাঁটাই করলেও সার্বিকভাবে কর্মী নিয়োগ করতেই থাকবে। সুইজারল্যান্ডের নীতিনির্ধারকরা ২০২৫ সালে বলেছেন যে, বেকারত্ব সামান্য বাড়লেও সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে হয়নি।
মোদ্দা কথা হচ্ছে এই যে, মানবসভ্যতার ইতিহাস প্রযুক্তিগত উন্নতির ইতিহাস। কিন্তু তার ফলে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান কমেনি বরং বেড়েছে।
বাংলাদেশের দিকে তাকালে দেখা যায়, শতকরা ৮৫ ভাগই এখনো অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। বাকি অংশের অতি অল্পসংখ্যক ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের সুযোগ হবে। তার ফলে কিছু চাকরি হয়তো থাকবে না। কিন্তু নতুন ধরনের চাকরি সৃষ্টি হবে—যদিও তাদের জন্য অন্য ধরনের যোগ্যতা এবং দক্ষতার প্রয়োজন হবে। সুতরাং এখানে মূল চ্যালেঞ্জ হবে শ্রমবাজারে সে ধরনের যোগ্যতা/দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী সরবরাহের ব্যবস্থা করা।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষাধিক কর্মী বিদেশে যাচ্ছেন এবং রেমিট্যান্স জিডিপির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এই শ্রম অভিবাসনের একটি অদৃশ্য ব্যয় আছে—দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের দেশত্যাগ দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা কমাচ্ছে। মাইগ্রেশন এবং অভ্যন্তরীণ শ্রম বাজার উন্নয়নের মধ্যে কীভাবে একটি সুচিন্তিত ভারসাম্য আনা যায়?
রিজওয়ানুল ইসলাম: বাংলাদেশ থেকে কাজের জন্য অভিবাসন আসলে নেতিবাচক অবস্থা থেকে শুরু হয়েছে। দেশে যথেষ্ট পরিমাণে কাজ পাওয়া যায় না বলেই মানুষ বিদেশে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবশ্য আয় বেশি হবে সে আশায়ও যায়। অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকি নিয়েও মানুষ বিদেশে যায়। এরকম অবস্থায় কিন্তু আপনি যা বললেন– দক্ষ মানবসম্পদ হারানোর নেতিবাচক প্রভাব– সেটি তেমন প্রযোজ্য নয়। আমি বরং অন্য কিছু সমস্যাকে বড় মনে করি। সে কথায় আসার আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার।
নেতিবাচক অবস্থা থেকে সৃষ্টি হলেও অভিবাসী কর্মীদের পাঠানো অর্থ এখন আমাদের দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে দেশে থেকে যাওয়া পরিবারের ভরণপোষণ এবং অন্যান্য খরচের জন্য ব্যবহার হয় বিদেশ থেকে আসা অর্থ। অন্যদিকে সে অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার আকারে আসে বলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে তার ভূমিকা হয়ে উঠেছে অপরিহার্য।
সমস্যাগুলোর দিকে তাকালে আমার মতে মূল সমস্যাগুলো হলো উচ্চ ব্যয়, ঝুঁকি, অন্যায় আচরণ, প্রতারণা ও শোষণ। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অভিবাসী কর্মীদের অনেক বেশি খরচ করতে হয়। তাছাড়া অনেক সময় তারা দুদিক থেকেই (নিজের এবং যে দেশে যায় সেখানে) অন্যায় আচরণের শিকার হন। আর এটি বেশি হয় স্বল্পশিক্ষিত অদক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে। অনেক দিন ধরে বলা হলেও বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য তাদের শিক্ষা ও দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হলেও অবস্থার তেমন হেরফের হয়নি।
অর্থনৈতিক দিক থেকে বিদেশে কর্মসংস্থান এত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর সঙ্গে জড়িত সমস্যাগুলো এত গুরুতর যে, সবদিক আমলে নিয়ে একটি সমন্বিত কর্মকৌশল গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে অর্থনৈতিক নীতির একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হলো 'implementation gap'—নীতি প্রণয়ন ভালো কিন্তু বাস্তবায়ন দুর্বল। মুস্তাক খানের রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তত্ত্ব অনুযায়ী এই ব্যর্থতা মূলত ক্ষমতার কাঠামোর ফল, শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতার নয়। নতুন সরকারের রাজনৈতিক বাস্তবতায় কি এই implementation gap কমানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
রিজওয়ানুল ইসলাম: বাংলাদেশে নীতিমালা বাস্তবায়নের দুর্বলতা অবশ্যই একটি বড় সমস্যা। কিন্তু নীতিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া থেকেই সমস্যার সৃষ্টি হয়, কারণ শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলো সেখানেই প্রভাব বিস্তার করে, যার ফলে নীতি কাঠামোই হয়ে যায় বিকৃত। প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়াতে সরকার ও এসব গোষ্ঠীর মধ্যে একটি ‘বন্দোবস্ত’ কাজ করে। আর তাতে বলি হয় প্রকৃত উন্নয়ন। সম্প্রতি নির্বাচিত সংসদের সদস্যদের অর্থনৈতিক, পেশাগত ও সামাজিক পটভূমির দিকে তাকালে ক্ষমতার কাঠামোতে আগের তুলনায় তেমন বড় কোনো পার্থক্য দেখা যায় না। সুতরাং যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি হচ্ছে সেখানে খেলোয়াড় বদল ছাড়া খেলার নিয়মকানুন বদলের কোনো সম্ভাবনা আছে কি না তা দেখার অপেক্ষায় থাকতে হবে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশে প্রতিটি নতুন সরকার নতুন সামাজিক কর্মসূচি চালু করে, কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের কর্মসূচিগুলো মূল্যায়ন না করে বাতিল বা উপেক্ষা করে। ফলে institutional memory নষ্ট হয় এবং একই ভুল বারবার হয়। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কোনো প্রক্রিয়া কি দৃশ্যমান?
রিজওয়ানুল ইসলাম: অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, নতুন সরকার এসে আগের সরকারের প্রায় সব কর্মসূচি বাতিল করে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করে। কিন্তু বর্তমান সরকার সে পথেই হাঁটবে এটি বলা যায় না, কারণ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলা হচ্ছে যে, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলো চালু থাকবে। এর অবশ্য বিভিন্ন দিক রয়েছে। একদিকে এর যৌক্তিকতা রয়েছে, কারণ কোনো কোনো কর্মসূচি (যেমন ভিজিডি, ভিজিএফ) থেকে সীমিত হলেও দরিদ্ররা উপকৃত হয়েছেন। সম্পূর্ণ নতুন এবং নগদ-ভিত্তিক সহায়তায় যাওয়ার আগে সেগুলোকে বাদ দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। অন্যদিকে যুগপৎভাবে সব কর্মসূচি চালু রাখার ফলে সরকারি বাজেটের ওপর চাপ বেড়ে যাবে। পুরোনো ও নতুন মিলিয়ে সমন্বিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারলে দরিদ্র শ্রেণির জন্য যেমন ভালো হবে, তেমনি সরকারের বাজেটের ওপর চাপ কমানো সহজ হবে।
প্রশ্ন: আপনি দীর্ঘদিন আইএলওতে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন দেশের শ্রম ও উন্নয়ন নীতি কাছ থেকে দেখেছেন। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে— যেখানে একটি নতুন সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছে—আপনার দৃষ্টিতে সবচেয়ে জরুরি কিন্তু সবচেয়ে কম আলোচিত যে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার, সেটি কী?
রিজওয়ানুল ইসলাম: এখন কম আলোচিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর কথা বলতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে নতুন সরকারের পটভূমিতে। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকেই ঘটেছে উত্তরণ এবং পেয়েছি নতুন সরকার। কিন্তু বৈষম্যের কথা এখন আর বেশি শোনা যায় না। তবে এ প্রসঙ্গটির আলোচনায় আমি দুটি বিষয় আনব।
প্রথমত, বৈষম্য শুধু চাকরির ক্ষেত্রে নয়, অর্থনীতি ও সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও—যেমন ধনী-দরিদ্র, নারী-পুরুষ, গ্রাম-শহর ইত্যাদি ক্ষেত্রে রয়েছে। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে অসাম্য রয়েছে সেটিকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। আয়ের বণ্টনে অসাম্য বেড়ে এখন অনেক উঁচু পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে রয়েছে সুযোগের অসাম্য—যেমন ভালো মানের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে।
এই বহুমাত্রিক অসাম্য ও বৈষম্য কমানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে নতুন ধাঁচে সাজাতে না পারলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে না। আমরা এখন দেখার অপেক্ষায় আছি—নীতিমালা প্রণয়নে আগের মতো গোষ্ঠী তোষণের রীতিই চালু থাকবে, না কি সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে। গোষ্ঠীতোষণ ব্যবস্থায় নীতিমালা হয় ভ্রান্ত ও দুর্বল; ফল হয় অসম উন্নয়ন।
প্রশ্ন: কেমন আশা করছেন?
রিজওয়ানুল ইসলাম: আমি সবসময়ই আশাবাদী। আশা করছি সঠিক দিকে পরিবর্তনের। আশা করি আশাহত হব না।



