ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

সঠিকভাবে এসি ব্যবহারের টিপস এবং বিদ্যুৎ বিল কমানোর উপায়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৫

গরমে স্বস্তি পেতে এয়ার কন্ডিশনার এখন অনেক ঘরেই অপরিহার্য। কিন্তু এসি চালালেই মাসের শেষে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তা শুরু হয়। একটু সচেতন হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এসি সঠিকভাবে ব্যবহার করলে যেমন ঘর ঠান্ডা থাকে, তেমনি বিদ্যুৎ খরচও কম হয়। এসি ব্যবহারে আরাম ও সাশ্রয় দুটোই পেতে নিচের সহজ বিষয়গুলো মেনে চলা যেতে পারে। টিসিএল

নিয়মিত এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করুন: এসি ভালো কাজ করার পেছনে এয়ার ফিল্টারের ভূমিকা অনেক। ফিল্টার ময়লা হলে বাতাস ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। এতে এসিকে বেশি সময় ও শক্তি খরচ করে ঠান্ডা করতে হয়।

প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করা ভালো। পরিষ্কার ফিল্টার এসির কার্যকারিতা বাড়ায় এবং বিদ্যুৎ খরচ ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সাহায্য করে। যাদের বাসায় পোষা প্রাণী আছে বা ধুলাবালির সমস্যা বেশি, তাদের আরও ঘন ঘন ফিল্টার পরীক্ষা করা দরকার।

স্মার্ট বা প্রোগ্রামেবল থার্মোস্ট্যাট ব্যবহার করুন: স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট ব্যবহার করলে এসির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী এসি চালু বা বন্ধ করা যায়।

ঘরে কেউ না থাকলে এসি নিজে থেকেই বন্ধ বা কম শক্তিতে চলে যায়। আবার ঘরে ফেরার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হতে পারে। প্রোগ্রামেবল থার্মোস্ট্যাট একটু পুরোনো হলেও ঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বেশ কার্যকর।

দরজা ও জানালা খোলা রাখবেন না: গরমের সময় অনেকেই দরজা জানালা খোলা রাখেন। এতে বাইরে থেকে গরম বাতাস ঘরে ঢুকে পড়ে এবং এসির ওপর চাপ বাড়ে। ফলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।

এসি চালু থাকলে দরজা-জানালা বন্ধ রাখাই ভালো। প্রয়োজনে সামান্য ফাঁক রাখা যেতে পারে, তবে পুরোপুরি খোলা রাখা উচিত নয়।

তাপমাত্রা ঠিকভাবে সেট করুন: ঘরের জন্য আদর্শ এসি তাপমাত্রা প্রায় ৭৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এই তাপমাত্রা শরীরের জন্য আরামদায়ক এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়েও সহায়ক।

ইকো বা এনার্জি সেভার মোড ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমে। রাতে বা বাইরের তাপমাত্রা কম থাকলে তাপমাত্রা সামান্য বাড়িয়েও ভালো ফল পাওয়া যায়।

ঘরের আকার অনুযায়ী এসি ব্যবহার করুন: ঘরের তুলনায় বেশি ক্ষমতার এসি ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ অকারণে বেড়ে যায়। আবার কম ক্ষমতার এসি হলে ঘর ঠিকমতো ঠান্ডা হয় না।

ঘরের আয়তন বুঝে সঠিক টন বা ক্ষমতার এসি বেছে নেওয়া জরুরি। বড় বাসায় একটি বড় এসির বদলে প্রয়োজনে একাধিক ছোট এসি ব্যবহার করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

বাসায় না থাকলে এসি বন্ধ রাখুন: কেউ ঘরে না থাকলে এসি চালু রাখার দরকার নেই। অফিস বা স্কুল থেকে ফেরার সময়ের কিছু আগে এসি চালু হওয়ার মতো করে সেটিং করলে ঘরে ফিরেই ঠান্ডা পাওয়া যায়।

দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে বা ভ্রমণের সময় এসি পুরোপুরি বন্ধ রাখা সবচেয়ে ভালো। এতে বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কমে আসে।

রাতে স্লিপ মোড ব্যবহার করুন: ঘুমের সময় এসির স্লিপ মোড ব্যবহার করলে আরাম ও সাশ্রয় দুটোই মেলে। এই মোডে এসি ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ায় এবং ফ্যানের গতি সামঞ্জস্য করে। এতে ঘুমে ব্যাঘাত হয় না এবং বিদ্যুৎ খরচও কম হয়।

এসি ব্যবহারে সামান্য সচেতনতা থাকলেই বড় অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল এড়ানো সম্ভব। নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার, সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ, ঘরের আকার অনুযায়ী এসি নির্বাচন এবং প্রয়োজন ছাড়া এসি চালু না রাখা- এ অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে ভালো সাশ্রয় এনে দেয়। গরমের দিনে আরাম পেতে ও খরচ কম রাখতে এখনই এসব সহজ নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে।

বিস্ফোরণ এড়াতে এসির যত্ন যেভাবে নেবেন
বাংলাদেশে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এয়ার কন্ডিশনার বা এসির ব্যবহারও। কিন্তু স্বস্তি দিতে গিয়ে এই যন্ত্রই কখনও কখনও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে এসিতে আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে অনেকের মধ্যে।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, বৈদ্যুতিক ত্রুটি কিংবা ভুল ব্যবহারের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। তাই নিরাপদে এসি ব্যবহার করতে হলে কিছু বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। এসি বিস্ফোরণের সাধারণ কারণ নিয়মিত পরিষ্কার না করা: এসি ফিল্টার ও কনডেনসারে ধুলা জমে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এতে মেশিনে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং কম্প্রেসর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। ভোল্টেজ ওঠানামা: বাংলাদেশে লো-ভোল্টেজ বা হঠাৎ উচ্চ ভোল্টেজ খুব সাধারণ সমস্যা। এতে এসির বৈদ্যুতিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি বাড়ে। গ্যাস লিক: রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিক করলে তা দাহ্য উপাদানের সংস্পর্শে এসে আগুন লাগাতে পারে। ভুল গ্যাস ব্যবহার করলেও ঝুঁকি তৈরি হয়। একটানা দীর্ঘ সময় চালানো: অনেকেই দিনের পর দিন বিরতি ছাড়া এসি চালান। এতে যন্ত্রের ভেতরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয় এবং ওভারহিটিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে। নিম্নমানের ইনস্টলেশন: ভুলভাবে এসি বসানো, নিম্নমানের তার ব্যবহার বা আলাদা সার্কিট না থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। নিরাপদ রাখতে এসির যত্ন যেভাবে নেবেন নিয়মিত সার্ভিসিং করান: বছরে অন্তত এক বা দুইবার দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি সার্ভিস করানো উচিত। এতে কম্প্রেসর, গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সংযোগ ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করা যায়। ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন: প্রতি মাসে অন্তত একবার এসির ফিল্টার পরিষ্কার করুন। এতে ঠান্ডা করার ক্ষমতা বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচও কম হয়। স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন: ভোল্টেজ ওঠানামা থেকে সুরক্ষার জন্য ভালো মানের স্ট্যাবিলাইজার বা সার্জ প্রোটেক্টর ব্যবহার করা জরুরি। সঠিকভাবে ইনস্টল করুন: এসি সবসময় অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে ইনস্টল করানো উচিত। আউটডোর ইউনিটে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জায়গা থাকতে হবে। একটানা চালানো এড়িয়ে চলুন: দীর্ঘ সময় এসি চালালে মাঝে মাঝে কিছু সময় বন্ধ রাখুন। এতে যন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়ে। এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহার করবেন না: এসি সবসময় আলাদা লাইনে সরাসরি সংযুক্ত থাকা উচিত। এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহার করলে অতিরিক্ত লোড তৈরি হতে পারে। অস্বাভাবিক কিছু দেখলেই সতর্ক হোন: পোড়া গন্ধ, অদ্ভুত শব্দ, পানি পড়া বা লাইট ফ্লিকার করলে সঙ্গে সঙ্গে এসি বন্ধ করে টেকনিশিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বজ্রপাত বা ঝড়ের সময় এসি বন্ধ রাখুন দরজা-জানালা বন্ধ রেখে এসি চালান নিম্নমানের বা নকল এসি কেনা এড়িয়ে চলুন ঘরের আকার অনুযায়ী সঠিক টনের এসি ব্যবহার করুন এসি বিস্ফোরণ খুব ঘনঘন না ঘটলেও, একবার ঘটলে ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে একটু সচেতনতা ও নিয়মিত যত্ন নিলেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই শুধু ঠান্ডা বাতাস নয়, নিরাপত্তার কথাও মাথায় রেখে এসি ব্যবহার করুন। সূত্র: প্রযুক্তি
বিস্ফোরণ এড়াতে এসির যত্ন যেভাবে নেবেন
মাকে ভালোবাসি বলার দিন আজ
আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর বিশেষ এই দিনটি প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয়। সে হিসেবে এ বছর দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ, ১০ মে। মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও অবদানকে স্মরণ করতেই বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিনটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মা দিবস উপলক্ষে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক আয়োজন করা হয়েছে। কেউ মাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কেউ উপহার দিচ্ছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন। মা শুধু একজন অভিভাবক নন, সন্তানের প্রথম শিক্ষক, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় এবং জীবনের প্রতিটি ধাপে অনুপ্রেরণার উৎস। জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভিত্তি গড়ে তুলতে মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই মায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন না হলেও, বিশ্ব মা দিবস সেই অনুভূতিকে আরও গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯০৮ সালে আন্না জার্ভিস প্রথমবারের মতো নিজের মায়ের স্মৃতির উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় মা দিবস পালন করেন। পরে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাদার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে মা দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে শুধু একটি দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিনেই মায়ের প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশ করা প্রয়োজন। বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের সুস্থতা, সুখ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে থাকেন সন্তানেরা। প্রতিদিনের ভালোবাসাকে আরও বিশেষভাবে প্রকাশ করার সুযোগ এনে দেয় এই দিনটি।
মাকে ভালোবাসি বলার দিন আজ
১০ মে: ইতিহাসের পাতায় দেখুন আজকের দিনটি
সময় তার নিজস্ব গতিতে অবিরাম এগিয়ে চলে, আর সেই স্রোতের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয় মানবসভ্যতা। নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রজ্ঞাবান মনীষী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জন্ম ও মৃত্যু—সব মিলিয়েই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ইতিহাসের দীর্ঘ অধ্যায়। প্রতিটি দিনই তাই বয়ে আনে নতুন গল্প, উন্মোচন করে অজানা সম্ভাবনার দুয়ার। আজ রোববার, ১০ মে ২০২৬। এই দিনেই ঘটেছে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জন্ম নিয়েছেন কিংবা পৃথিবী ছেড়েছেন এমন অনেক আলোচিত ও স্মরণীয় ব্যক্তি। ঘটনাবলি ১৫০৩ - ক্রিস্টোফার কলম্বাস স্যানে আইল্যান্ড ভ্রমণ করেন। ১৫২৬ - পানিপথের যুদ্ধ জয় করে মোগল সম্রাট বাবর আগ্রায় প্রবেশ করেন। ১৬১২ - মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের সঙ্গে মমতাজ মহলের বিয়ে হয়। ১৭৭৩ - গ্রেট ব্রিটেনের সংসদে চা আইন পাস হয়। ১৭৭৪ - লুইস ফ্রান্সের রাজা এবং মেরি অ্যাস্টোইলেট রানি হন। ১৮২৪ - লন্ডনে জাতীয় গ্যালারি জনগণের জন্য খুলে দেয়া হয়। ১৮৫৭ - ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী বিপ্লবের সূচনা হয়। ১৮৭২ - ভিক্টোরিয়া উডহল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী, যিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। ১৯৩৩ - বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নাৎসিরা পঁচিশ হাজার বই পুড়িয়ে দেয়। ১৯৪০ - জার্মানি নেদারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়াম দখল করে নেয়। ১৯৪১ - ব্যাপক বোমা বর্ষণের ফলে লন্ডনের হাউস অব কমন্স ধ্বংস হয়। ১৯৭২ - বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মেক্সিকো। ১৯৯৪ - দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নেলসন ম্যান্ডেলা। জন্ম ১০০২ - খতিব বাগদাদী, ইরাকি ইসলামী ইতিহাসবিদ। ১৬৬১ - জাহানদার শাহ, মুঘল সম্রাট। ১৭৬০ - ক্লদ জোসেফ রুজে দ্য লিল, ফরাসি জাতীয় সংগীতের লেখক। ১৮৮২ - গুরুসদয় দত্ত, লোকসাহিত্য গবেষক ও বাংলার ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৮৯৯ - ফ্রেড অ্যাস্টেয়ার, মার্কিন নৃত্যশিল্পী, গায়ক, অভিনেতা, নৃত্য পরিচালক ও টেলিভিশন উপস্থাপক। ১৯০২ - ডেভিড ও. সেলৎসনিক, মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও স্টুডিও নির্বাহী। ১৯০৫ - পঙ্কজ কুমার মল্লিক, ভারতীয় বাঙালি কণ্ঠশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা। ১৯০৮ - বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের পত্নী প্রমিলা দেবী। ১৯২৭ - নয়নতারা সায়গল, ভারতীয় লেখিকা ও ঔপন্যাসিক। ১৯৩০ - জর্জ এলউড স্মিথ, মার্কিন বিজ্ঞানী, নোবেল বিজয়ী। ১৯৫৫ - মার্ক ডেভিড চ্যাপম্যান, মার্কিন বীট্‌ল্‌স শিল্পী জন লেননের আততায়ী। ১৯৬০ - বোনো, আইরিশ গায়ক, গীতিকার, সুরকার, ভেঞ্চার পুঁজিবাদী, ব্যবসায়ী। মারলিন অটি, বিখ্যাত স্লোভেনীয় প্রমিলা অ্যাথলেট। ১৯৬৬ - ডেভিড ম্যাকেন্‌জি, স্কটল্যান্ডীয় চলচ্চিত্র পরিচালক। ১৯৬৯ - ডেনিস বের্গকাম্প, ওলন্দাজ ফুটবলার। ১৯৭২ - স্টুয়ার্ট কার্লাইল, জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার। ১৯৭৪ - সিল্‌ভ্যাঁ উইল্টর্ড, ফরাসি ফুটবলার। ১৯৮৩ - গুস্তাভ ফ্রীদোলিন, সুয়েডীয় রাজনীতিবিদ। ১৯৮৭ - তৌসিফ আহমেদ, বাংলাদেশি সুরকার, গীতিকার ও সংগীতশিল্পী। ১৯৯৫ - শিহান মাদুশঙ্কা, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। মৃত্যু ১৮৪৯ - হোকুসাই, জাপানি চিত্রশিল্পী। ১৯৬২ - অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী। ১৯৭৭ - জোন ক্রফোর্ড, মার্কিন অভিনেত্রী। ১৯৮৩ - জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি রসায়ন বিজ্ঞানী। ১৯৮৫ - প্রমথনাথ বিশী, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক। ১৮৮৯ - সৌরীন্দ্র মিত্র, ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্রগবেষক ও প্রাবন্ধিক। ১৯৯৯ - শেল সিলভারস্টেইন, মার্কিন সাহিত্যিক, যিনি কার্টুন, কবিতা ও শিশুতোষ বইয়ের জন্য বিখ্যাত। ২০০২ - কাইফি আজমি, ভারতীয় প্রথিতযশা উর্দু কবি, সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। রবি নিয়োগী, বাংলাদেশি বামপন্থি রাজনীতিবিদ। ২০০৪ - এরশাদ শিকদার, বাংলাদেশি অপরাধী ও সিরিয়াল কিলার। ২০১৩ - আবদুল মালেক চুন্নু, বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়। ২০২০ - হরিশঙ্কর বাসুদেবন, ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক। আনোয়ারুল কবির তালুকদার, বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। ২০২২ - প্রখ্যাত ভারতীয় সন্তুর বাদক শিবকুমার শর্মা। ২০২৫ - মুস্তাফা জামান আব্বাসী, একুশে পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সংগীতজ্ঞ, সংগীত বিষয়ক অধ্যাপক ও গবেষক।
১০ মে: ইতিহাসের পাতায় দেখুন আজকের দিনটি
আজ মনের গভীরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার দিন
প্রতিদিনের জীবনে ছোট-বড় অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমাদের। কখনও দীর্ঘ চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিই, আবার কখনও হঠাৎ মনে হওয়া এক অনুভূতির ওপর ভরসা করি। সেই অন্তর্দৃষ্টি বা মনের গভীরের অনুভূতিকেই গুরুত্ব দিতে পালিত হয় নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাস করার দিন বা ট্রাস্ট ইওর ইনটুইশন ডে (Trust your Intuition day)। আজকের এ দিনটি মানুষকে নিজের ভেতরের অনুভূতির ওপর আস্থা রাখতে উৎসাহিত করে। অনেক সময় যুক্তি বা বিশ্লেষণের আগেই আমাদের মন পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদেরকে ইঙ্গিত দেয়। সেই অনুভূতিকেই বলা হয় ইনটুইশন বা অন্তর্দৃষ্টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে নিজের অন্তর্দৃষ্টি বোঝা গেলে তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জীবনের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ করে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিন অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাস করার দিনটি মূলত আত্মসচেতনতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিলে মানসিক চাপ কমতে পারে, আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক মনোবিজ্ঞানী মনে করেন, মানুষের অবচেতন মন অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। ফলে কখনও কখনও অন্তর্দৃষ্টি বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ দিনটির ইতিহাস অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাস করার দিন চালু করা হয় মানুষকে নিজের অনুভূতির ওপর আস্থা রাখতে উৎসাহ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।  এই দিবসটির সঙ্গে আধ্যাত্মিক শিক্ষক, লেখক ও পরামর্শক সোনিয়া চোকুয়েটের নাম জড়িয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। ২০২৪ সালে প্রথমবার এই দিবস উদযাপনের উল্লেখ পাওয়া যায়। অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে কিছু চমকপ্রদ তথ্য গাট ফিলিংয়ের (Gut Feelings) পেছনেও আছে বিজ্ঞান মানুষ যাকে গাট ফিলিং বলে, তার পেছনে শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়াও কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের শরীরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন যেমন হৃদস্পন্দন বেশি ভালোভাবে বুঝতে পারেন, তারা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অন্তর্দৃষ্টির ওপর বেশি কার্যকরভাবে নির্ভর করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের ইনটুইশন আসে অভিজ্ঞতা থেকে অগ্নিনির্বাপণ, চিকিৎসা বা সামরিক বাহিনীর মতো পেশায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়। গবেষকরা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে ইনটুইশন আসলে বহু বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া দ্রুত প্যাটার্ন চিনে নেওয়ার ক্ষমতা। মনোবিজ্ঞানী গ্যারি ক্লেইনের গবেষণায় দেখা গেছে, অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা অনেক সময় বিশ্লেষণ ছাড়াই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কারণ তারা অবচেতনভাবে আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিস্থিতির মিল খুঁজে পান। কিছু জটিল সিদ্ধান্তে ইনটুইশন বিশ্লেষণের চেয়েও কার্যকর হতে পারে গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক তথ্য বা বিকল্পের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ কখনও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অবচেতন মন তথ্যগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে একত্র করতে পারে। মানুষের চিন্তায় কাজ করে দুটি ব্যবস্থা নোবেলজয়ী মনোবিজ্ঞানীড্যানিয়েল কাহনেম্যান মানুষের চিন্তাকে দুটি অংশে ব্যাখ্যা করেছেন। একটি দ্রুত ও স্বতঃস্ফূর্ত, অন্যটি ধীর ও বিশ্লেষণধর্মী। দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ব্যবস্থাটি বড় ভূমিকা রাখে। প্রাচ্য দর্শনে অন্তর্দৃষ্টির গুরুত্ব বহু পুরোনো আধুনিক মনোবিজ্ঞানের বহু আগে থেকেই প্রাচ্যের বিভিন্ন দর্শনে অন্তর্দৃষ্টিকে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান হিসেবে দেখা হতো। বৌদ্ধ ও জেন দর্শনে ধ্যানের মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি অর্জনের কথা বলা হয়েছে। সংস্কৃতিভেদেও বদলায় ইনটুইশনের গুরুত্ব গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন সংস্কৃতিতে অন্তর্দৃষ্টির গুরুত্ব ভিন্ন। পশ্চিমা সমাজে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও পূর্ব এশিয়ার অনেক সংস্কৃতিতে পরিস্থিতি ও অনুভূতিনির্ভর সিদ্ধান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই প্রস্তুতি নেয় মস্তিষ্ক নিউরোসায়েন্সের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই মস্তিষ্ক সেই সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। অর্থাৎ, হঠাৎ মনে হওয়া কোনো অনুভূতির পেছনে অবচেতন মনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব পরিস্থিতিতে শুধুই অন্তর্দৃষ্টির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। তবে অভিজ্ঞতা, যুক্তি ও অনুভূতির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারলে সিদ্ধান্ত আরও কার্যকর হতে পারে।
আজ মনের গভীরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার দিন
৩ মাসে ১৮ কেজি ওজন কমালেন পুষ্টিবিদ, জানুন কীভাবে
ওজন কমাতে অনেকেই কঠোর ডায়েট বা না খেয়ে থাকার পথ বেছে নেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন কমাতে দরকার নিয়মিত ভালো অভ্যাস গড়ে তোলা। সেই বার্তাই আবারও সামনে এনেছেন ফিটনেস কোচ ও পুষ্টিবিদ রীত কৌর। মাত্র ১২ সপ্তাহে ১৮ কেজি ওজন কমিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন তিনি। ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানিয়েছেন, কীভাবে না খেয়ে থেকেও স্বাস্থ্যকর উপায়ে এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। রীত কৌরের ভাষায়, ওজন কমানোর যাত্রা শুরু করার পর কিছু অভ্যাস তার জন্য জাদুর মতো কাজ করেছে। খাবার বাদ দেবেন না বরং ভালো খাবার যোগ করুন রীতের মতে, ডায়েট থেকে সবকিছু বাদ দেওয়ার চেয়ে প্রোটিন, ফাইবার ও প্রাকৃতিক খাবার বাড়ানো বেশি কার্যকর। এতে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়। বেশি পরিমাণে কিন্তু স্বাস্থ্যকর খাবার খান তিনি বলেন, সবজি, লিন প্রোটিন ও বেশি পানি রয়েছে এমন খাবার বেশি খেলে পেট ভরে খাওয়া যায়, কিন্তু ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণেও থাকে। ফলে ক্ষুধা কম লাগে এবং ওজন কমানো সহজ হয়। কঠিন কার্ডিও নয়, হাঁটুন  প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার কদম হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন রীত। তার মতে, অতিরিক্ত কঠিন ব্যায়ামের চেয়ে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি শরীরের জন্য বেশি উপকারী হতে পারে। না খেয়ে থাকার বদলে স্ট্রেংথ ট্রেনিং সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ দিন ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে শরীরের গঠন ভালো থাকে এবং মেটাবলিজমও সক্রিয় থাকে বলে জানান তিনি। চিট ডে নয় অনেকেই ডায়েটের মাঝে এক দিন ইচ্ছেমতো খাবার খান। তবে রীতের পরামর্শ, প্রিয় খাবারের স্বাস্থ্যকর সংস্করণ তৈরি করুন। এতে বঞ্চিত লাগবে না এবং ডায়েটও ভাঙবে না। ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ জরুরি পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ তার ওজন কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এতে আবেগতাড়িত হয়ে বেশি খাওয়া ও রাতের খাবারের আকাঙ্ক্ষা কমে যায়। পছন্দের খাবারই খান, তবে বুঝে রীত জানান, তিনি কোনো খাবার পুরোপুরি বাদ দেননি। বরং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং কম ক্যালোরির স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আলাদা ডায়েট মেনে চলার বদলে তিনি সাধারণত বাসায় রান্না হওয়া খাবারই খান। শুধু সেই খাবারগুলোকে সুষমভাবে সাজিয়ে নেন। এতে আলাদা রান্নার ঝামেলা কমে এবং সময়ও বাঁচে। তার খাদ্যতালিকায় মূল গুরুত্ব থাকে সবজি, লিন প্রোটিন ও জটিল শর্করার ওপর। এ ছাড়া কোমল পানীয়, ফ্রাপে ও অতিরিক্ত ঘন মিল্কশেক এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সুস্থভাবে ওজন কমাতে প্রতি সপ্তাহে ১ কেজির কম ওজন কমানোই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি। তাই অবাস্তব লক্ষ্য না রেখে ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে চলাই ভালো ফল পাওয়ার মূল চাবিকাঠি। সূত্র: এনডিটিভি
৩ মাসে ১৮ কেজি ওজন কমালেন পুষ্টিবিদ, জানুন কীভাবে
বিস্ফোরণ এড়াতে এসির যত্ন যেভাবে নেবেন
বিস্ফোরণ এড়াতে এসির যত্ন যেভাবে নেবেন
বাংলাদেশে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এয়ার কন্ডিশনার বা এসির ব্যবহারও। কিন্তু স্বস্তি দিতে গিয়ে এই যন্ত্রই কখনও কখনও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক সময়ে এসিতে আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে অনেকের মধ্যে।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, বৈদ্যুতিক ত্রুটি কিংবা ভুল ব্যবহারের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। তাই নিরাপদে এসি ব্যবহার করতে হলে কিছু বিষয়ে বাড়তি সতর্ক থাকা জরুরি। এসি বিস্ফোরণের সাধারণ কারণ নিয়মিত পরিষ্কার না করা: এসি ফিল্টার ও কনডেনসারে ধুলা জমে গেলে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এতে মেশিনে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং কম্প্রেসর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। ভোল্টেজ ওঠানামা: বাংলাদেশে লো-ভোল্টেজ বা হঠাৎ উচ্চ ভোল্টেজ খুব সাধারণ সমস্যা। এতে এসির বৈদ্যুতিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শর্ট সার্কিটের ঝুঁকি বাড়ে। গ্যাস লিক: রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিক করলে তা দাহ্য উপাদানের সংস্পর্শে এসে আগুন লাগাতে পারে। ভুল গ্যাস ব্যবহার করলেও ঝুঁকি তৈরি হয়। একটানা দীর্ঘ সময় চালানো: অনেকেই দিনের পর দিন বিরতি ছাড়া এসি চালান। এতে যন্ত্রের ভেতরে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয় এবং ওভারহিটিংয়ের ঝুঁকি বাড়ে। নিম্নমানের ইনস্টলেশন: ভুলভাবে এসি বসানো, নিম্নমানের তার ব্যবহার বা আলাদা সার্কিট না থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়। নিরাপদ রাখতে এসির যত্ন যেভাবে নেবেন নিয়মিত সার্ভিসিং করান: বছরে অন্তত এক বা দুইবার দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে এসি সার্ভিস করানো উচিত। এতে কম্প্রেসর, গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সংযোগ ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করা যায়। ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন: প্রতি মাসে অন্তত একবার এসির ফিল্টার পরিষ্কার করুন। এতে ঠান্ডা করার ক্ষমতা বাড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচও কম হয়। স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করুন: ভোল্টেজ ওঠানামা থেকে সুরক্ষার জন্য ভালো মানের স্ট্যাবিলাইজার বা সার্জ প্রোটেক্টর ব্যবহার করা জরুরি। সঠিকভাবে ইনস্টল করুন: এসি সবসময় অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান দিয়ে ইনস্টল করানো উচিত। আউটডোর ইউনিটে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জায়গা থাকতে হবে। একটানা চালানো এড়িয়ে চলুন: দীর্ঘ সময় এসি চালালে মাঝে মাঝে কিছু সময় বন্ধ রাখুন। এতে যন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়ে। এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহার করবেন না: এসি সবসময় আলাদা লাইনে সরাসরি সংযুক্ত থাকা উচিত। এক্সটেনশন বোর্ড ব্যবহার করলে অতিরিক্ত লোড তৈরি হতে পারে। অস্বাভাবিক কিছু দেখলেই সতর্ক হোন: পোড়া গন্ধ, অদ্ভুত শব্দ, পানি পড়া বা লাইট ফ্লিকার করলে সঙ্গে সঙ্গে এসি বন্ধ করে টেকনিশিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বজ্রপাত বা ঝড়ের সময় এসি বন্ধ রাখুন দরজা-জানালা বন্ধ রেখে এসি চালান নিম্নমানের বা নকল এসি কেনা এড়িয়ে চলুন ঘরের আকার অনুযায়ী সঠিক টনের এসি ব্যবহার করুন এসি বিস্ফোরণ খুব ঘনঘন না ঘটলেও, একবার ঘটলে ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ হতে পারে। তবে একটু সচেতনতা ও নিয়মিত যত্ন নিলেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তাই শুধু ঠান্ডা বাতাস নয়, নিরাপত্তার কথাও মাথায় রেখে এসি ব্যবহার করুন। সূত্র: প্রযুক্তি
মাকে ভালোবাসি বলার দিন আজ
মাকে ভালোবাসি বলার দিন আজ
আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর বিশেষ এই দিনটি প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার পালন করা হয়। সে হিসেবে এ বছর দিবসটি পালিত হচ্ছে আজ, ১০ মে। মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও অবদানকে স্মরণ করতেই বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে দিনটি। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মা দিবস উপলক্ষে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক আয়োজন করা হয়েছে। কেউ মাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন, কেউ উপহার দিচ্ছেন, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করছেন। মা শুধু একজন অভিভাবক নন, সন্তানের প্রথম শিক্ষক, সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় এবং জীবনের প্রতিটি ধাপে অনুপ্রেরণার উৎস। জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, মূল্যবোধ ও মানবিকতার ভিত্তি গড়ে তুলতে মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই মায়ের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশের জন্য আলাদা কোনো দিনের প্রয়োজন না হলেও, বিশ্ব মা দিবস সেই অনুভূতিকে আরও গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশ্ব মা দিবসের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯০৮ সালে আন্না জার্ভিস প্রথমবারের মতো নিজের মায়ের স্মৃতির উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় মা দিবস পালন করেন। পরে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মাদার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা দেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে মা দিবস শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তবে শুধু একটি দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিনেই মায়ের প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশ করা প্রয়োজন। বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের সুস্থতা, সুখ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে থাকেন সন্তানেরা। প্রতিদিনের ভালোবাসাকে আরও বিশেষভাবে প্রকাশ করার সুযোগ এনে দেয় এই দিনটি।
১০ মে: ইতিহাসের পাতায় দেখুন আজকের দিনটি
১০ মে: ইতিহাসের পাতায় দেখুন আজকের দিনটি
সময় তার নিজস্ব গতিতে অবিরাম এগিয়ে চলে, আর সেই স্রোতের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত হয় মানবসভ্যতা। নানা ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রজ্ঞাবান মনীষী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জন্ম ও মৃত্যু—সব মিলিয়েই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ইতিহাসের দীর্ঘ অধ্যায়। প্রতিটি দিনই তাই বয়ে আনে নতুন গল্প, উন্মোচন করে অজানা সম্ভাবনার দুয়ার। আজ রোববার, ১০ মে ২০২৬। এই দিনেই ঘটেছে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, জন্ম নিয়েছেন কিংবা পৃথিবী ছেড়েছেন এমন অনেক আলোচিত ও স্মরণীয় ব্যক্তি। ঘটনাবলি ১৫০৩ - ক্রিস্টোফার কলম্বাস স্যানে আইল্যান্ড ভ্রমণ করেন। ১৫২৬ - পানিপথের যুদ্ধ জয় করে মোগল সম্রাট বাবর আগ্রায় প্রবেশ করেন। ১৬১২ - মুঘল সম্রাট শাহ জাহানের সঙ্গে মমতাজ মহলের বিয়ে হয়। ১৭৭৩ - গ্রেট ব্রিটেনের সংসদে চা আইন পাস হয়। ১৭৭৪ - লুইস ফ্রান্সের রাজা এবং মেরি অ্যাস্টোইলেট রানি হন। ১৮২৪ - লন্ডনে জাতীয় গ্যালারি জনগণের জন্য খুলে দেয়া হয়। ১৮৫৭ - ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সিপাহী বিপ্লবের সূচনা হয়। ১৮৭২ - ভিক্টোরিয়া উডহল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী, যিনি প্রেসিডেন্ট পদের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। ১৯৩৩ - বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নাৎসিরা পঁচিশ হাজার বই পুড়িয়ে দেয়। ১৯৪০ - জার্মানি নেদারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ ও বেলজিয়াম দখল করে নেয়। ১৯৪১ - ব্যাপক বোমা বর্ষণের ফলে লন্ডনের হাউস অব কমন্স ধ্বংস হয়। ১৯৭২ - বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মেক্সিকো। ১৯৯৪ - দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন নেলসন ম্যান্ডেলা। জন্ম ১০০২ - খতিব বাগদাদী, ইরাকি ইসলামী ইতিহাসবিদ। ১৬৬১ - জাহানদার শাহ, মুঘল সম্রাট। ১৭৬০ - ক্লদ জোসেফ রুজে দ্য লিল, ফরাসি জাতীয় সংগীতের লেখক। ১৮৮২ - গুরুসদয় দত্ত, লোকসাহিত্য গবেষক ও বাংলার ব্রতচারী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৮৯৯ - ফ্রেড অ্যাস্টেয়ার, মার্কিন নৃত্যশিল্পী, গায়ক, অভিনেতা, নৃত্য পরিচালক ও টেলিভিশন উপস্থাপক। ১৯০২ - ডেভিড ও. সেলৎসনিক, মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার ও স্টুডিও নির্বাহী। ১৯০৫ - পঙ্কজ কুমার মল্লিক, ভারতীয় বাঙালি কণ্ঠশিল্পী, সঙ্গীত পরিচালক ও অভিনেতা। ১৯০৮ - বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের পত্নী প্রমিলা দেবী। ১৯২৭ - নয়নতারা সায়গল, ভারতীয় লেখিকা ও ঔপন্যাসিক। ১৯৩০ - জর্জ এলউড স্মিথ, মার্কিন বিজ্ঞানী, নোবেল বিজয়ী। ১৯৫৫ - মার্ক ডেভিড চ্যাপম্যান, মার্কিন বীট্‌ল্‌স শিল্পী জন লেননের আততায়ী। ১৯৬০ - বোনো, আইরিশ গায়ক, গীতিকার, সুরকার, ভেঞ্চার পুঁজিবাদী, ব্যবসায়ী। মারলিন অটি, বিখ্যাত স্লোভেনীয় প্রমিলা অ্যাথলেট। ১৯৬৬ - ডেভিড ম্যাকেন্‌জি, স্কটল্যান্ডীয় চলচ্চিত্র পরিচালক। ১৯৬৯ - ডেনিস বের্গকাম্প, ওলন্দাজ ফুটবলার। ১৯৭২ - স্টুয়ার্ট কার্লাইল, জিম্বাবুয়ের সাবেক ক্রিকেটার। ১৯৭৪ - সিল্‌ভ্যাঁ উইল্টর্ড, ফরাসি ফুটবলার। ১৯৮৩ - গুস্তাভ ফ্রীদোলিন, সুয়েডীয় রাজনীতিবিদ। ১৯৮৭ - তৌসিফ আহমেদ, বাংলাদেশি সুরকার, গীতিকার ও সংগীতশিল্পী। ১৯৯৫ - শিহান মাদুশঙ্কা, শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার। মৃত্যু ১৮৪৯ - হোকুসাই, জাপানি চিত্রশিল্পী। ১৯৬২ - অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী। ১৯৭৭ - জোন ক্রফোর্ড, মার্কিন অভিনেত্রী। ১৯৮৩ - জ্ঞানেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি রসায়ন বিজ্ঞানী। ১৯৮৫ - প্রমথনাথ বিশী, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ও লেখক। ১৮৮৯ - সৌরীন্দ্র মিত্র, ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্রগবেষক ও প্রাবন্ধিক। ১৯৯৯ - শেল সিলভারস্টেইন, মার্কিন সাহিত্যিক, যিনি কার্টুন, কবিতা ও শিশুতোষ বইয়ের জন্য বিখ্যাত। ২০০২ - কাইফি আজমি, ভারতীয় প্রথিতযশা উর্দু কবি, সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব। রবি নিয়োগী, বাংলাদেশি বামপন্থি রাজনীতিবিদ। ২০০৪ - এরশাদ শিকদার, বাংলাদেশি অপরাধী ও সিরিয়াল কিলার। ২০১৩ - আবদুল মালেক চুন্নু, বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড়। ২০২০ - হরিশঙ্কর বাসুদেবন, ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক। আনোয়ারুল কবির তালুকদার, বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। ২০২২ - প্রখ্যাত ভারতীয় সন্তুর বাদক শিবকুমার শর্মা। ২০২৫ - মুস্তাফা জামান আব্বাসী, একুশে পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি সংগীতজ্ঞ, সংগীত বিষয়ক অধ্যাপক ও গবেষক।
আজ মনের গভীরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার দিন
আজ মনের গভীরের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার দিন
প্রতিদিনের জীবনে ছোট-বড় অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিতে হয় আমাদের। কখনও দীর্ঘ চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিই, আবার কখনও হঠাৎ মনে হওয়া এক অনুভূতির ওপর ভরসা করি। সেই অন্তর্দৃষ্টি বা মনের গভীরের অনুভূতিকেই গুরুত্ব দিতে পালিত হয় নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাস করার দিন বা ট্রাস্ট ইওর ইনটুইশন ডে (Trust your Intuition day)। আজকের এ দিনটি মানুষকে নিজের ভেতরের অনুভূতির ওপর আস্থা রাখতে উৎসাহিত করে। অনেক সময় যুক্তি বা বিশ্লেষণের আগেই আমাদের মন পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাদেরকে ইঙ্গিত দেয়। সেই অনুভূতিকেই বলা হয় ইনটুইশন বা অন্তর্দৃষ্টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে নিজের অন্তর্দৃষ্টি বোঝা গেলে তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং জীবনের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ করে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই দিন অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাস করার দিনটি মূলত আত্মসচেতনতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে। নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিলে মানসিক চাপ কমতে পারে, আত্মবিশ্বাস বাড়তে পারে এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। অনেক মনোবিজ্ঞানী মনে করেন, মানুষের অবচেতন মন অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। ফলে কখনও কখনও অন্তর্দৃষ্টি বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ দিনটির ইতিহাস অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাস করার দিন চালু করা হয় মানুষকে নিজের অনুভূতির ওপর আস্থা রাখতে উৎসাহ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।  এই দিবসটির সঙ্গে আধ্যাত্মিক শিক্ষক, লেখক ও পরামর্শক সোনিয়া চোকুয়েটের নাম জড়িয়ে আছে বলে ধারণা করা হয়। ২০২৪ সালে প্রথমবার এই দিবস উদযাপনের উল্লেখ পাওয়া যায়। অন্তর্দৃষ্টি নিয়ে কিছু চমকপ্রদ তথ্য গাট ফিলিংয়ের (Gut Feelings) পেছনেও আছে বিজ্ঞান মানুষ যাকে গাট ফিলিং বলে, তার পেছনে শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়াও কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেদের শরীরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন যেমন হৃদস্পন্দন বেশি ভালোভাবে বুঝতে পারেন, তারা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অন্তর্দৃষ্টির ওপর বেশি কার্যকরভাবে নির্ভর করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের ইনটুইশন আসে অভিজ্ঞতা থেকে অগ্নিনির্বাপণ, চিকিৎসা বা সামরিক বাহিনীর মতো পেশায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয়। গবেষকরা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে ইনটুইশন আসলে বহু বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া দ্রুত প্যাটার্ন চিনে নেওয়ার ক্ষমতা। মনোবিজ্ঞানী গ্যারি ক্লেইনের গবেষণায় দেখা গেছে, অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা অনেক সময় বিশ্লেষণ ছাড়াই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন কারণ তারা অবচেতনভাবে আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিস্থিতির মিল খুঁজে পান। কিছু জটিল সিদ্ধান্তে ইনটুইশন বিশ্লেষণের চেয়েও কার্যকর হতে পারে গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক তথ্য বা বিকল্পের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে অতিরিক্ত বিশ্লেষণ কখনও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অবচেতন মন তথ্যগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরভাবে একত্র করতে পারে। মানুষের চিন্তায় কাজ করে দুটি ব্যবস্থা নোবেলজয়ী মনোবিজ্ঞানীড্যানিয়েল কাহনেম্যান মানুষের চিন্তাকে দুটি অংশে ব্যাখ্যা করেছেন। একটি দ্রুত ও স্বতঃস্ফূর্ত, অন্যটি ধীর ও বিশ্লেষণধর্মী। দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম ব্যবস্থাটি বড় ভূমিকা রাখে। প্রাচ্য দর্শনে অন্তর্দৃষ্টির গুরুত্ব বহু পুরোনো আধুনিক মনোবিজ্ঞানের বহু আগে থেকেই প্রাচ্যের বিভিন্ন দর্শনে অন্তর্দৃষ্টিকে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান হিসেবে দেখা হতো। বৌদ্ধ ও জেন দর্শনে ধ্যানের মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি অর্জনের কথা বলা হয়েছে। সংস্কৃতিভেদেও বদলায় ইনটুইশনের গুরুত্ব গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন সংস্কৃতিতে অন্তর্দৃষ্টির গুরুত্ব ভিন্ন। পশ্চিমা সমাজে বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও পূর্ব এশিয়ার অনেক সংস্কৃতিতে পরিস্থিতি ও অনুভূতিনির্ভর সিদ্ধান্তকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই প্রস্তুতি নেয় মস্তিষ্ক নিউরোসায়েন্সের কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই মস্তিষ্ক সেই সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। অর্থাৎ, হঠাৎ মনে হওয়া কোনো অনুভূতির পেছনে অবচেতন মনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সব পরিস্থিতিতে শুধুই অন্তর্দৃষ্টির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। তবে অভিজ্ঞতা, যুক্তি ও অনুভূতির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করতে পারলে সিদ্ধান্ত আরও কার্যকর হতে পারে।