ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নিয়মিত ডায়েট মেনে চলছেন এবং ব্যায়ামও করছেন, তারপরও ওজন আর কমছে না? এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘ওজন কমার স্থবিরতা’ বা প্ল্যাটো। বিষয়টি হতাশাজনক হলেও এটি খুবই সাধারণ একটি অভিজ্ঞতা অনেকের জন্য।
অনেকেই মনে করেন, কম খাওয়া আর বেশি নড়াচড়া করলেই ওজন কমবে। কিন্তু বাস্তবে আমাদের শরীর এতটা সহজভাবে কাজ করে না। অনেক সময় কিছু অদৃশ্য কারণ আপনার ওজন কমার প্রক্রিয়াকে ধীর বা বন্ধ করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক লংজেভিটি বিশেষজ্ঞ থমাস পালোস্কি জানান, ওজন নিয়ন্ত্রণ শুধু ডায়েট ও ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করে না। বরং ঘুম, হরমোন, খাবারের ধরন, দৈনন্দিন চলাফেরা, ওষুধ এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া - সবকিছু মিলেই এর ওপর প্রভাব ফেলে।
অজান্তেই কমে যায় দৈনন্দিন নড়াচড়া : অনেক সময় আমরা ব্যায়াম করলেও দিনের বাকি সময়ে কম নড়াচড়া করি। হাঁটা, দাঁড়িয়ে থাকা বা ছোটখাটো কাজ কমে গেলে মোট ক্যালরি খরচও কমে যায়।
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া : ঘুম কম হলে ক্ষুধা ও খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, কম ঘুম দৈনিক গড়ে প্রায় ৩০০ ক্যালরি বেশি খাওয়ার দিকে ঠেলে দেয়।
অতিরিক্ত প্রসেসড খাবার : অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, মেটাবলিজম ও চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। ফলে ওজন কমার গতি থেমে যেতে পারে।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স : ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স হলে শরীর ঠিকভাবে শক্তি ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে পেটের চর্বি, ফ্যাটি লিভার ও রক্তে চর্বির মাত্রা বাড়তে পারে।
পিসিওএস ও মেনোপজ : নারীদের ক্ষেত্রে পিসিওএস (Polycystic Ovary Syndrome ) ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও শরীরে চর্বি জমার ধরণ বদলে যায়। ফলে আগের ডায়েট বা ব্যায়াম কাজ নাও করতে পারে।
কিছু ওষুধের প্রভাব : কিছু ওষুধ ওজন কমাতে বাধা দিতে পারে। যেমন - কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, ডায়াবেটিসের ওষুধ বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ।
কোষের শক্তি উৎপাদনে সমস্যা : শরীরের কোষে থাকা মাইটোকন্ড্রিয়া শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলোর কার্যকারিতা কমে গেলে মেটাবলিজম ধীর হয়ে যেতে পারে। ফলে ওজন কমতে পারে না বা ধীর হয়ে যায়।
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু ক্যালরি বা ব্যায়ামের ওপর নির্ভর না করে পুরো জীবনযাত্রার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। যেমন— পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা, প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো, নিয়মিত হালকা নড়াচড়া বাড়ানো এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।
ওজন কমা বন্ধ হয়ে গেলে অনেকেই আরও বেশি পরিমানে ডায়েট বা ব্যায়াম শুরু করেন। কিন্তু সবসময় সেটাই সমাধান নয়। অনেক সময় সমস্যার মূল কারণ থাকে শরীরের ভেতরের জৈবিক প্রক্রিয়ায়। তাই জোর করে নয়, বরং সঠিক কারণ খুঁজে তা ঠিক করার দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত। তাহলেই ধীরে হলেও টেকসইভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
সূত্র : এনডিটিভি




