ইসলামে সালাম পারস্পরিক ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মুসলমানরা একে অপরের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এটি শুধু সামাজিক শিষ্টাচার নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবিদের মধ্যে সাক্ষাৎ হলে পরস্পরকে সালাম দিতেন তারা। প্রয়োজনে মুসাফাহা (করমর্দন) বা কোলাকুলি করতেন।
আমাদের সমাজে বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান প্রদর্শনের জন্য পা ছুঁয়ে সালাম করা বা হাত ধরে ঝুঁকে পড়ার একটি রীতি দেখা যায়। বিশেষ করে ঈদের দিন নামাজের আগে বা পরে এর প্রবণতা বেশি দেখা যায়। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। অধিকাংশ আলেমের মতে, কাউকে সম্মান দেখাতে গিয়ে পা ধরা বা অতিরিক্তভাবে ঝুঁকে পড়া ইসলামের আদবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পা ছুঁয়ে বা হাত ধরে সালাম করা শরিয়ত সম্মত নয়। কারণ ইসলামে অতিরঞ্জিত সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে সংযত ও শালীন আচরণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
আনাস (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি যখন তার কোনো ভাই বা বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাত করবে, তখন সে কি মাথা ঝুঁকাবে বা তাকে জড়িয়ে ধরবে বা চুমু খাবে? তিনি বললেন, না। লোকটি বলল, তাহলে কি শুধু হাত ধরবে ও মুসাফাহ করবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হ্যাঁ।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ৪৬৮০)
অন্যদিকে কিছু আলেম বলেন, যদি শুধু সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশে পিতা-মাতা, শিক্ষক বা বয়োজ্যেষ্ঠদের পা ছুঁয়ে সালাম বা হাত ধরে চুম্বন করা হয় এবং এতে কোনো ইবাদতের ভাব বা সিজদার মতো নত হওয়ার বিষয় না থাকে, তবে তা সীমিত পরিসরে গ্রহণযোগ্য হতে পারে। তবে এটিকে ধর্মীয় বিধান বা সুন্নত মনে করা ঠিক নয়।
উত্তম পন্থা হলো, সাক্ষাতে সালাম দেওয়া। প্রয়োজনে মুসাফাহ করা। বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি বিনয়, শ্রদ্ধা ও সদাচরণ প্রদর্শন করা। ইসলামের শিক্ষা হলো ভারসাম্য, শালীনতা ও সংযম। তাই এমন আচরণ উচিত নয়, যা অতিরঞ্জিত সম্মান প্রদর্শনের ধারণা সৃষ্টি করে। বরং ইসলামের সুন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করেই পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করা একজন মুসলমানের জন্য শ্রেয়।




