দু-একদিন পরই আকাশে উঠবে শাওয়াল মাসের আলো ঝলমলে বাঁকা চাঁদ। শাওয়ালের চাঁদে ভর করে আসবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর। আমাদের দেশে ঈদকে ঘিরে সালামিতে নতুন টাকা দেওয়ার প্রচলন আছে। নতুন টাকা মূলত বড়রা ‘ঈদ সালামি’ হিসেবে ছোটদের দিয়ে থাকেন।
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর গুলিস্তানসহ দেশের নানা জায়গায় নতুন টাকা বিক্রি করা হয়। ঈদ ছাড়াও নতুন টাকা কেনাবেচা হয়। নতুন টাকা কিনতে হয় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে। নতুন ১০ টাকা নোটের ১ হাজার টাকার বান্ডিল বিক্রি হয় ৩০০ টাকা বা কমবেশি লাভে। এভাবে প্রতিটি নতুন টাকার বান্ডিল অতিরিক্ত দামে কেনাবেচা হয়। জানার বিষয় হলো, অতিরিক্ত দামে নতুন টাকা কেনাবেচা জায়েজ হবে কি না?
ইসলামি বিধান মতে, টাকার বিনিময়ে টাকা কমবেশি করে কেনাবেচা করা জায়েজ নেই। ইসলামি গবেষকরা বলেন, একই প্রকারের দুটি জিনিস কমবেশি করে কেনাবেচা করা নাজায়েজ। এ রকম করা সুদের অন্তর্ভুক্ত। তাই এ ধরনের ব্যবসায় জড়িত হওয়া কোনোভাবেই জায়েজ হবে না। কারণ টাকা কোনো পণ্য নয়। ইসলাম এ নিয়ে ব্যবসা করার অনুমোদন দেয় না। এখানে অতিরিক্ত অংশটি বা লভ্যাংশটি সুদ হবে। (আদদুররুল মুখতার, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৭১-১৭২)
এক দেশের কারেন্সির বিনিময়ে অন্য দেশের কারেন্সি কমবেশি করে কেনাবেচা করা জায়েজ আছে। তবে সেক্ষেত্রেও বৈঠকেই কমপক্ষে একপক্ষকে টাকাটি হস্তগত করে নিতে হবে। যদিও একজনের তাদের বিনিময়কৃত কারেন্সি হস্তগত না করে, তাহলে ক্রয়-বিক্রয়টি জায়েজ হবে না। (জাদিদ ফিকহি মাসায়িল, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২৮)
সুতরাং অতিরিক্ত দামে নতুন টাকা কেনাবেচা করা জায়েজ হবে না। এটা হারাম হবে। তবে একান্ত অপারগ হলে নতুন টাকা সংগ্রহ করার শ্রমের কারণে পারিশ্রমিক হিসেবে অতিরিক্ত টাকা দেওয়া যাবে। নতুন টাকার মূল্য হিসেবে দেওয়া যাবে না। পারিশ্রমিকও হতে হবে পরিশ্রম অনুযায়ী। এ বিষয়ে ইসলামি গবেষকরা বলেন, স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিতে হবে যে, অতিরিক্ত টাকা দেওয়া হচ্ছে নতুন টাকা সংগ্রহের পারিশ্রমিক হিসেবে, নতুন টাকার মূল্য হিসেবে নয়।
হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘সমান পরিমাণ ছাড়া তোমরা স্বর্ণের বদলে স্বর্ণ বিক্রি করবে না। একটি আরেকটি থেকে কমবেশি করবে না। সমান ছাড়া তোমরা রুপার পরিবর্তে রুপা বিক্রি করবে না ও একটি আরেকটি থেকে কমবেশি করবে না। আর নগদ মুদ্রার বিনিময়ে বাকি মুদ্রা বিক্রি করবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২১৭৭)। কমবেশি করে এমন জিনিস কেনাবেচা করা সুদ হিসেবে গণ্য, যা হারাম। (ইবনু আব্দিল বার, আত-তামহিদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৮৩)
পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের সম্পদ বাড়ানোর জন্য তোমরা যে সুদ দিয়ে থাক, আল্লাহর কাছে তা সম্পদ বৃদ্ধি করে না। কিন্তু তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে জাকাত দাও (তা বৃদ্ধি পায়), তারাই দ্বিগুণ প্রতিদান লাভ করে।’ (সুরা রুম, আয়াত: ৩৯)
আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা সুদ খেও না ক্রমবর্ধিতভাবে, আল্লাহকে ভয় করো, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’(সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩০)
মনে রাখতে হবে, যেকোনো বস্তুর ক্ষেত্রের একই জিনিস কমবেশি করে কেনাবেচা করা জায়েজ নেই। করলে বর্ধিত অংশটি সুদ হয়ে যায়, যা হারাম।




