সামর্থ্যবানদের ওপর জাকাত আদায় করা ফরজ। যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা কিংবা সমপরিমাণ ব্যবসায়ী পণ্য বা নগদ অর্থ আছে, তাকে জাকাত দিতে হবে। জাকাত দিতে হয় অভাবী ও মিসকিনকে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজ আদায় করো, জাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৩)
আল্লাহ কোরআনে ৮২ বার জাকাতের কথা বলেছেন। আল্লাহ জাকাতকে এত গুরুত্ব দিয়েছেন এ জন্য যে, জাকাত ব্যক্তির সম্পদকে পবিত্র করে। দারিদ্র্য দূরীকরণে সঠিক ভূমিকা রাখে।
আল্লাহ তাআলা সুরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাদের জাকাত দেওয়া যাবে, তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। যেমন—এক. গরিব ব্যক্তি, যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। দুই. মিসকিন, যার মালিকানায় কোনো সম্পদ নেই। তিন. ইসলামি সরকারের পক্ষ থেকে জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তি। চার. ইসলামের দিকে চিত্ত আকর্ষণের জন্য জাকাত দেওয়া। পাঁচ. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। ছয়. নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ দাস-দাসী। সাত. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী। আট. মুসাফির—সফর অবস্থায় অভাবগ্রস্ত মানুষ।
আমাদের দেশে যে নিয়মে জাকাত আদায় করা হয়, এতে কোনো পরিবার বা লোক সচ্ছল হতে পারছে না। জাকাতের মূল উদ্দেশ্যই সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা। জাকাত এমনভাবে দেওয়া উচিত, পরবর্তী বছর যাতে জাকাত গ্রহীতা জাকাত আদায় করতে পারে। এ বিষয়ে ওমর ফারুক (রা.) বলেন, ‘যখন তোমরা ফকির-মিসকিনদের কোনো কিছু দেবে, তখন তাকে ধনী বানিয়ে দাও।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, খণ্ড: ৬, পৃষ্ঠা: ৫১৮)
ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ফকির বা মিসকিনদের এতটুকু পরিমাণ সম্পদ দিতে হবে, যাতে তারা অভাবের গ্লানি থেকে মুক্তি পায় এবং ধনী ব্যক্তির পর্যায়ে এসে উপনীত হয়। এই মতের ওপর সব ইমাম ঐকমত্য হয়েছেন।
আমাদের দেশে অনেককে শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে জাকাত আদায় করতে দেখা যায়। বিভিন্ন দোকানে ‘জাকাতের শাড়ি বা লুঙ্গি’ নামে কাপড়ও বিক্রি হয়। ইসলামি স্কললাররা বলেন, শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে জাকাত আদায় করলে জাকাত হয়ে যাবে। তবে টাকা দিয়েই জাকাত আদায় করা উত্তম। যাতে জাকাত গ্রহীতা প্রয়োজন মতো টাকা খরচ করতে পারেন।
শাড়ি বা লুঙ্গি দিয়ে জাকাত দিতে চাইলে দুটি বিষয় অব্যশই নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, কাপড়ের সঠিক বাজারমূল্য জাকাতের সমপরিমাণ হতে হবে। দ্বিতীয়ত, কাপড়ের মান ভালো হতে হবে।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে ‘শাড়ি-লুঙ্গি দিয়ে জাকাত দেওয়া যাবে কি না’ প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘জাকাত হিসেবে নগদ অর্থ দেওয়া উত্তম। ব্যক্তি তার প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা খরচ করবেন। আপনি কারও কাছ থেকে টাকা পাওনা থাকলে, সে যদি টাকার পরিবর্তে আপনাকে চাল-ডাল বা ফল দেয়, আপনি তো মানবেন না। তাহলে জাকাত কেন শাড়ি দিয়ে দিচ্ছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘জাকাত দেওয়ার নামে তামাশা করা যাবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করে জাকাত দিতে হবে। তবে কেউ যদি জাকাত হিসেবে শাড়ি-লুঙ্গি দেয়, তাহলে তার জাকাত আদায় হয়ে যাবে। তবে জাকাত হিসেবে শাড়ি-লুঙ্গি না দেওয়ায় উচিত। টাকা দেওয়া প্রয়োজন। যেন ব্যক্তি তার প্রয়োজন পূরণ করতে পারে।’




