সামর্থ্যবানদের ওপর জাকাত আদায় করা ফরজ। যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা কিংবা সমপরিমাণ ব্যবসায়ী পণ্য বা নগদ অর্থ আছে, তাকে জাকাত দিতে হবে।
জাকাতের টাকা সবাইকে দেওয়া যায় না। আল্লাহ তাআলা সুরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাদের জাকাত দেওয়া যাবে, তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। যেমন—এক. গরিব—যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। দুই. মিসকিন—যার মালিকানায় কোনো সম্পদ নেই। তিন. ইসলামি সরকারের পক্ষ থেকে জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তি। চার. ইসলামের দিকে চিত্ত আকর্ষণের জন্য জাকাত দেওয়া। পাঁচ. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। ছয়. নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ দাস-দাসী। সাত. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী। আট. মুসাফির—সফর অবস্থায় অভাবগ্রস্ত মানুষ।
বাবা-মাকে জাকাতের টাকা বা সম্পদ দেওয়া যাবে না। কেননা সন্তান-সন্ততি ও তার সম্পদ বাবা-মায়ের জন্যই। এ ছাড়া সন্তানের ওপর একান্ত কর্তব্য হলো, তার সম্পদ থেকে বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ বহন করা।
ইসলামি স্কলাররা বলেন, ইসলামি বিধান মতে, সন্তানের দায়িত্ব হলো বাবা-মায়ের ভরণপোষণ দেওয়া। তাদের জাকাত দেওয়া যাবে না। কেননা তা নিজেকেই জাকাত দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত। (আল-মুগনি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৬৯)
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.), আমার সম্পদ ও সন্তান রয়েছে। আমার বাবা আমার সম্পদের মুখাপেক্ষী।’ তিনি বললেন, ‘তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার বাবার জন্য। তোমাদের সন্তানেরা তোমাদের উত্তম উপার্জন। সুতরাং তোমরা তোমাদের সন্তানদের উপার্জন থেকে ভক্ষণ করো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৩০)
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে ‘বাবা-মাকে জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে কি না’ প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বাবা-মাকে জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে না। নিজের সন্তানদেরও জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে না। বাবা-মাকে জাকাতের টাকা দিলে তো তাদের ভরণ-পোষণ দেওয়া হচ্ছে না। বাবা-মা জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত হওয়া মানে তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা নেই। সন্তানের দায়িত্ব হলো, তাদের ভরণপোষণ দেওয়া।’
তিনি বলেন, ‘যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব ব্যক্তির ওপর আবশ্যক নয়, তাদের জাকাত দেওয়া যাবে। প্রাপ্তবয়স্ক গরিব ভাইবোনকে জাকাত দেওয়া যাবে। জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে গরিব আত্মীয়স্বজনকেও।’
সাধারণ গরিবকে জাকাত দেওয়ার চেয়ে নিকটাত্মীয় গরিবকে জাকাত দেওয়া উত্তম। এতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। প্রথমত, জাকাত আদায়ের সওয়াব। দ্বিতীয়ত, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াব।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাধারণ মিসকিনকে সদকা দিলে তা শুধু সদকা। অভাবী আত্মীয়কে দেওয়া একইসঙ্গে দুটি সৎ কাজ—সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২৫৮২)




