জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৩)
জাকাত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের স্তম্ভ পাঁচটি—এক. আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোনো উপাস্য নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল; এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করা। দুই. নামাজ কায়েম করা। তিন. জাকাত আদায় করা। চার. হজ কর। পাঁচ. রমজানে রোজা রাখা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮)
ইসলামি বিধান মতে, যেসব আত্মীয়দের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব দেওয়া ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব, তাদের জাকাত দেওয়া যায় না। যেমন—বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, স্ত্রী, ছেলেমেয়ে, পৌত্র, প্রোপৌত্র। ভাইবোনকে জাকাত দেওয়া যাবে। কারণ, ভাইবোনের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আরেক ভাইয়ের ওপর ওয়াজিব নয়।
ইসলামি স্কলাররা বলেন, ভাইবোন জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাদের জাকাত দেওয়া যাবে। তাদের কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ কোনো সম্পদ (যেমন: টাকা-পয়সা, স্বর্ণ অলঙ্কার কিংবা প্রয়োজন অতিরিক্ত মূল্যবান অন্যান্য সম্পদ) না থাকলে তাকে জাকাত দিতে অসুবিধে নেই। তবে তাদের কাছে প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ (প্রয়োজন অতিরিক্ত সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা কিংবা সমপরিমাণ ব্যবসায়ী পণ্য বা নগদ অর্থের মালিক) কোনো সম্পদ থাকলে জাকাত দেওয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে নফল দান-সদকা দিয়ে সহায়তা করা নৈতিক দায়িত্ব। (বাদায়েউস সানায়ে, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১৬২)
সাধারণ গরিবকে জাকাত দেওয়ার চেয়ে নিকটাত্মীয় গরিবকে জাকাত দেওয়া উত্তম। এতে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। প্রথমত, জাকাত আদায়ের সওয়াব। দ্বিতীয় আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার সওয়াব।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাধারণ মিসকিনকে সদকা দিলে তা শুধু সদকা। আর অভাবী আত্মীয়কে দেওয়া একইসঙ্গে দুটি সৎ কাজ—সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২৫৮২)
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘দরিদ্র আপন ভাইবোনকে জাকাত দেওয়া যাবে। বরং আপন ভাইবোনকে জাকাত দেওয়া অন্য যে কোনো গরিবকে দেওয়ার চেয়ে উত্তম। এ ক্ষেত্রে দুটি সওয়াব পাওয়া যায়। একটি হলো জাকাত আদায়ের সওয়াব। অন্যটি আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার সওয়াব। তাই আপন ভাইবোন জাকাতের হকদার হলে তাদের জাকাত দেওয়া উত্তম।’




