
২০১৩ সালের ৫ মে সংঘটিত শাপলা গণহত্যার ইতিহাস কওমি মাদ্রাসার পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে শাপলা স্মৃতি সংসদ। একইসঙ্গে এ বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছে সংসদটি।
শাপলা স্মৃতি সংসদের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটি বেফাকের প্রধান পরিচালক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদবীর কাছে হস্তান্তর করেন সংসদের নির্বাহী সভাপতি মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী ও সহসভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হামিদী।
বুধবার (৬ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামুনুল হকের প্রেস সচিব আশরাফুল ইসলাম সাদ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা দেশের জাতীয় ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। এতে অসংখ্য নিরস্ত্র আলেম, ছাত্র ও সাধারণ মুসল্লি হতাহত হন। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি এখনও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ ও পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় শূন্যতা তৈরি করছে।
এতে আরও বলা হয়, ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইমান-আকিদা এবং মহানবীর (সা.) সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দাবিতে দেশব্যাপী ধর্মপ্রাণ মানুষ শাপলা চত্বরে সমবেত হয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারীদের কাছে এটি ছিল শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও নবীপ্রেমের বাস্তব বহিঃপ্রকাশ। পরে সংঘটিত ঘটনাবলি জাতীয় জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে, যার নিরপেক্ষ ও প্রামাণ্য মূল্যায়ন সময়ের দাবি।
শাপলা স্মৃতি সংসদ মনে করে, কওমি মাদ্রাসা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র নয়, বরং ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধ সংরক্ষণেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাই শাপলা গণহত্যার ইতিহাস পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঘটনার প্রেক্ষাপট, তাৎপর্য ও শিক্ষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করবে এবং তাদের মাঝে ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব বিকশিত হবে।
স্মারকলিপিতে দুটি প্রধান দাবি উত্থাপন করা হয়—
১. শাপলা গণহত্যার একটি নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও প্রামাণ্য ইতিহাস কওমি মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা।
২. প্রতি বছর মে মাসে দেশের সব কওমি মাদ্রাসায় আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন নিশ্চিত করা।




