ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

শাপলা চত্বরে গণহত্যা

১৩ বছরেও অজানা হতাহতের সংখ্যা, বিচারও অধরা

রায়হান রাশেদ

  ০৫ মে ২০২৬, ০৯:৫৩
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। ওই অভিযানকে কেন্দ্র করে বহু হতাহতের অভিযোগ ওঠে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনাসহ তার মন্ত্রিসভার প্রভাবশালী সদস্যদের বিরুদ্ধে শাপলা চত্বরে গণহত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা হয়। তবে ওই হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পরও অজানা রয়ে গেছে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা। বিচার পাননি শহীদ পরিবারের সদস্য ও ভুক্তভোগীরা।
হেফাজত নেতাদের অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে বিচার চাওয়াও তাদের জন্য সহজ ছিল না। বিচার চাইতে গিয়ে হামলা, মামলা, জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন অনেকে। তাদের মধ্যে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী এমনকি মানবধিকার কর্মীরাও রয়েছেন। এমনকি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

পবিত্র কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদসহ ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে ‘ঢাকা অবরোধ’ নামের ওই কর্মসূচির ডাক দেয় হেফাজতে ইসলাম। আলেম সমাজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ সারা দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ এতে অংশ নেয়। ঢাকা অবরোধ শেষে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা।

হেফাজতের কর্মসূচি ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছিল সেখানে। সেদিন সন্ধ্যার আগেই দুজনের মরদেহ আনা হয় শাপলা চত্বরে নির্মাণ করা অস্থায়ী মঞ্চের সামনে। মধ্যরাতে সমাবেশে আসা আলেম ও মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলে পড়ে যৌথ বাহিনী। গুলি, টিয়ারশেল আর সাউন্ড গ্রেনেডের মুখে খালি হয়ে যায় পুরো এলাকা। হতাহত হন অনেকে।

ঢাকায় নিহত ৩২ জনের পরিচয় শনাক্ত
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গত ৩ মে সাংবাদিকদের বলেন, জানান, শাপলা চত্বরের ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৫৭ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ঢাকায় নিহত ৩২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ জন এবং চট্টগ্রামে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে নিহতদের শনাক্তের কাজ করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

এর আগে ২০২৫ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে নিহতদের মধ্যে ৯৩ জনের পরিচয় প্রকাশ করে হেফাজতে ইসলাম। তখন বলা হয়েছিল, এটি প্রাথমিক তালিকা। যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তারও আগে ২০২১ সালের ১০ জুন মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান অনুসন্ধানের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তারা শাপলা চত্বরে নিহত ৬১ জনের নাম সংগ্রহ করেছে। এর এক মাস পর সংস্থাটির সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৪ সালে শাপলায় নিহত ৪১ জনকে নিয়ে ‘শহীদনামা’ নামে বই লিখেন হাবীবুল্লাহ সিরাজ।

উল্লিখিত তিন প্রতিবেদন এবং শহীদনামা বইয়ে নিহতের সংখ্যা নিয়ে চার ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। অবশ্য কেউ এটিকে চূড়ান্ত তালিকা বলছেন না। সেদিনের ঘটনায় প্রাণহানির পাশাপাশি হাত-পা কিংবা চোখ হারিয়ে পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন অনেকে। তাদের নিয়েও পূর্ণাঙ্গ কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না।

শহীদের তালিকা নিয়ে কাজ করছে হেফাজত
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘শহীদের সংখ্যা ৯৩ নয়, আরও বেশি হবে। গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পেরেছি, জুরাইনে অনেক বেওয়ারিশ লাশ দাফন করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর ময়লার স্তূপে মানুষের হাড় পাওয়া গেছে। বিভিন্ন মিডিয়া, মানবধিকার সংস্থা ও গোয়েন্দা সংস্থা বলেছে, এগুলো হেফাজতের লাশ। বিশেষ করে আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম ২০১৩ সালের মে মাসে প্রায় ৫০০ বেওয়ারিশ লাশ দাফন করেছে। এগুলো তো দাফন হয়ে গেছে। পরিবারও জানে না, এগুলো কার লাশ।’ শহীদের সঠিক সংখ্যা নির্ণয়ে হেফাজতে ইসলাম কাজ করছে বলে জানান আজিজুল হক।

এক যুগের বেশি সময় পার হওয়ার পরও হেফাজত কর্তৃক শহীদদের তালিকা প্রকাশ করতে না পারাকে চরম ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ গ্রিন পার্টির সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, ‘তালিকা করা শহীদ পরিবারের দায়িত্ব নয়। এই দায়িত্ব হেফাজতের। ১৩ বছরেও তারা চূড়ান্ত তালিকা করতে পারেনি। আহতদেরও খোঁজ নেয় না কেউ।’

শহীদনামার লেখক হাবীবুল্লাহ সিরাজ বলেন, ‘বই প্রকাশ করতে গিয়ে নানা ঝামেলায় পড়তে হয়েছে। মাঝপথে ছাপা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমার বইয়ে ৪১ জনের কথা আছে। তাদের পরিবার ও নিকটাত্মীয়দের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে লিখেছি।’

শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
শাপলা চত্বরে গণহত্যার ১৩ বছর পার হলেও বিচার পায়নি ভুক্তভোগীদের পরিবার। আওয়ামী লীগ আমলে সে বাস্তবতাও ছিল না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরপরই হেফাজতের পক্ষে বাদী হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। এতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারের নাম উল্লেখ করে ৫৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়।

আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক তিন আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ, এ কে এম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ‘তৎকালীন সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, মন্ত্রী-এমপিরা জেলে আছেন। বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাক্ষী সংগ্রহ করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী জালিমদের বিচারের মুখোমুখি করতে পারব।’

শাপলা চত্বরের সেদিনের স্মৃতি জিইয়ে রাখতে মাওলানা মামুনুল হককে চেয়ারম্যান করে ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কামালুদ্দীন বলেন, ‘বিগত ১২ বছর শাপলা স্মৃতি সংসদ করা সম্ভব হয়নি। সরকারের কাছে বিচার চাইব। আমরা সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত।’

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
নেত্রকোণার পূর্বধলার একটি মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা খায়রুল ইসলাম। ২০১৩ সালে নরসিংদীর বেলাবরের কাঙ্গালিয়া মাদ্রাসায় শরহে বেকায়া (এসএসসি সমমান) পড়তেন তিনি। ৫ মে হেফাজতের কর্মসূচিতে যোগ দিতে ৪ মে সন্ধ্যায় মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকার সাইনবোর্ড এলাকায় এক মাদ্রাসায় অবস্থান নেন। সকালে মহাসড়কে হাজারো মানুষের সঙ্গে মিছিলে অংশ নেন। দুপুরে রওনা করেন শাপলা চত্বরের দিকে।

খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বিকাল ৩টায় জানতে পারি, বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষ হয়েছে। দুই তিনজনের শহীদ হওয়ারও খবর পাই। সন্ধ্যায় দুজনের মরদেহ শাপলা চত্বরে আনার খবরে খুবই মর্মাহত হই, ভয়ও পাই। আওয়ামী লীগের এক নেতা শাপলা চত্বর ছেড়ে যেতে হুমকি দেয়। হেফাজত নেতা মামুনুল হকও মঞ্চ থেকে পাল্টা হুমকি দেন।’

রাত ৯টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকসংলগ্ন কোনো উঁচু জায়গা থেকে প্রথম সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ পান খায়রুল। রাত ১১টার পর কিছুটা সময় তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। হঠাৎ ভয়ার্ত মানুষের চিৎকারের শব্দে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে চারদিকে অন্ধকার দেখতে পান। মানুষ ছোটাছুটি করছে। গুলি আর সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
শাপলা চত্বর থেকে বায়তুল মোকাররমের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন খায়রুল। ব্যারিকেড দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতিহতের চেষ্টা করেন। হঠাৎ দেখেন, পাশে দুজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অন্যদিকে যৌথ বাহিনীর ধেয়ে আসছে। একসময় কমলাপুরের দিকে দৌড়াতে থাকেন। পেছনে তাড়া করতে থাকে ভয়ংকর শব্দ। তার ভাষায়, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াল রাত ছিল এটি।’

৫ মে রাতে শাপলা চত্বরের একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এশিয়া পোস্টকে জানান, দিনব্যাপী ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় আলেম, মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মুসল্লিদের ওপর হামলা চালায় যৌথ বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যায় কয়েকজন শহীদ হন। রাতভর শাপলা চত্বরে উত্তেজনা চলতে থাকে। হেফাজত নেতাদের অনেকে ভাষণ দেন। মধ্যরাতের দিকে হঠাৎই চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। শুরু হয় গুলি, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ। চারপাশে শুধু গুলির শব্দ। যৌথ বাহিনীর আক্রমণের মুখে মানুষ দিশেহারা হয়ে এদিক-সেদিক ছুটতে থাকে। অনেকে আহত হন। শহীদদের মরদেহ পড়ে থাকে রাস্তার ধারে।

অপারেশন ফ্লাশ আউট
সরকার উৎখাতের আন্দোলনের অভিযোগে ৫ মে সন্ধ্যার আগে শাপলা চত্বর ছাড়তে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। অন্যদিকে দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান নেয় হেফাজত। পরে সরকারের নির্দেশে রাতভর ‘অপারেশন ফ্লাশ আউট’ নামের অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী।

পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযানের নাম দেওয়া হয় অপারেশন সিকিউরড শাপলা। অপারেশন ক্যাপচার শাপলা নাম দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয় সমাবেশে যোগ দেওয়া ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের। সূর্যোদয়ের আগেই রাতের অন্ধকারে খালি করে ফেলা হয় শাপলা চত্বর।

‘পার্টটাইম জব’ অফারে খোয়া গেল লাখ লাখ টাকা
রাজধানীর কলাবাগান এলাকার গৃহিণী নিগার সাবিহা (ছদ্মনাম)। অবসরে ফেসুবক স্ক্রল করছিলেন। নজরে এলো একটি লোভনীয় বিজ্ঞাপন—ঘরে বসে টাকা আয়ের সুযোগ। বিজ্ঞাপনদাতাদের ভাষায় যেটা ‘অনলাইনে পার্টটাইম জব’। কৌতূহল থেকে সাবিহা যোগাযোগ করলেন। জানতে পারলেন—বিনিয়োগের মাধ্যমে কয়েকটি ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করলে আসবে বিপুল অঙ্কের টাকা। লোভ সমলাতে পারলেন না সাবিহা। শুরু করেন বিনিয়োগ ও ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করা। ১৩ মার্চ থেকে শুরু; ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করেন দুই লাখ আট হাজার ৮৬০ টাকা। ২৬ মার্চ পর্যন্ত তিনি এই টাকা বিনিয়োগ করেন। শেষ দিকে বিনিয়োগের বিপরীতে তাকে লভ্যাংশ দেওয়া হচ্ছিল না। কোনো টাস্কও সম্পন্ন করতে বলা হচ্ছিল না। বিজ্ঞাপনদাতারা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেন। উপায় না পেয়ে সাবিহা দ্বারস্থ হন পুলিশের। অভিযোগ দেন কলাবাগান থানায়। রহস্য উদঘাটনে নেমে পড়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রাজধানী টু মেহেরপুর নেটওয়ার্ক তদন্তে উঠে আসে, বিজ্ঞাপনদাতাদের নেটওয়ার্ক ঢাকা থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু তারা কারা, কেন এই লোভনীয় বিজ্ঞাপন এবং উদ্দেশ্য কী—এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল বিজ্ঞাপনদাতারা জানেন। তাদেরকে কবজায় নিতে অভিযান শুরু করে ডিবি। ঢাকা থেকে প্রথমে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) ধরা পড়েন দুইজন। তারা হলেন—সাঈদ মোহাম্মদ হাসানু জোহা ও নুরজাহান খাতুন। তাদের দেওয়া তথ্যে একই দিন ঢাকা থেকে আরও পাঁচজনকে ধরা হয়। তারা হলেন—হৃদয় হাসান, মোহাম্মদ রাকিব, মো. রাশেদ, এমআই খাইরুল ও সাদিত হোসেন। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ডিবিকে আরও কয়েকজনের কথা জানান, যারা থাকেন মেহেরপুর। ডিবির একটি দল গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। স্থানীয় সূত্র ধরে পরদিন শুক্রবার (৮ মে) খুঁজে বের করা হয় ওই সাতজনের তিন সহযোগীকে। তারা হলেন—মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের রোহান আলী ওরফে রাকেশ, ফয়সাল আহমেদ ও সদর উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের মো. রনি মিয়া। এই তিনজনকে ধরার পর উন্মোচন হয় মূল রহস্য। তারা ডিবির কাছে স্বীকার করেন—খণ্ডকালীন চাকরির (পার্টটাইম জব) বিজ্ঞাপন হলো তাদের প্রতারণার হাতিয়ার। তারা সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে এই প্রতারণা করে আসছিলেন। তারা মূলত ফেসবুকে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। আগ্রহীদের টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করে ‘অনলাইন টাস্ক’ সম্পন্নের নামে ধাপে ধাপে টাকা বিনিয়োগে বাধ্য করেন। শুরুতে টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তাদের প্রতারণার কৌশল।  ডিবি জানায়, গত শুক্রবার মেহেরপুর থেকে রোহান ওরফে রাকেশের বাড়ি থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা নগদ ১৭ হাজার ৪৪০ টাকা ও তিনটি গ্রামীণফোনের সিম জব্দ করা হয়।  এ বিষয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ডিবির একটি টিম তাদের তদন্তাধীন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে মেহেরপুরে অভিযান পরিচালনা করেছিল। অভিযানে মেহেরপুর জেলা পুলিশের ডিবি সদস্যরা তাদের সহযোগিতা করেছে। সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটে দম্পতি ডিবি সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ধরা পড়া সাঈদ মোহাম্মদ হাসানু জোহা ও নুরজাহান খাতুন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। মিরপুর ডিওএইচএস থেকে আটক হওয়া এই দম্পতির গ্রামের বাড়ি মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপির চাঁদবিল এলাকায়। ঢাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্র। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে একই কৌশলে প্রতারণা করে আসছিলেন। চক্রটির বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া উইং জানায়, তিন ধাপে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের কাছ থেকে প্রতারণা চক্রের আরও সদস্য, অর্থ লেনদেনের উৎস এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এজন্য গত শুক্রবার মেহেরপুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত প্রত্যেকের এক দিন করে মোট তিন দিনের রিমান্ড দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির (ঢাকা দক্ষিণ) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, অনলাইনে পার্টটাইম চাকরি, বিনিয়োগ ও দ্রুত লাভ দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদেরকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত রিমান্ড দেন। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
‘পার্টটাইম জব’ অফারে খোয়া গেল লাখ লাখ টাকা
পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ, পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবাদ
পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন জারিসংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। রোববার (১০ মে) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি বিদেশ যাওয়ায় পুলিশ পদকের জিও করা সম্ভব হয়নি’ মর্মে প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ ধরনের বক্তব্য দেননি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন জারিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন জারির আগে কোনো কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে যথাযথ তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।
পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ, পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবাদ
তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করলেই চলবে না, বরং তাদের ডিজিটাল লিটারেসির (সাক্ষরতা) পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।  তিনি বলেন, তরুণদের মনোজগতে নৈতিকতার মজবুত ভিত্তি না থাকলে মেধা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর ড্যাফোডিল টাওয়ার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ দর্শন বাস্তবায়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার ও শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমাজ ও অর্থনীতি দ্রুত ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত সংযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য—সবই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। তবে দেশের অনেক কাঠামো এখনও সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রকে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল চরিত্রে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়ক কনটেন্ট প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির যদি নৈতিক মানদণ্ড ঠিক না থাকে, তবে তার পরিণতি ভালো হয় না।  তিনি বলেন, জন্মগতভাবে মানুষের মধ্যে যে পাশবিক প্রবৃত্তি থাকে, তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য শৈশব থেকেই সুকুমার বৃত্তির চর্চা প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিকুলামে এ ধরনের নৈতিক শিক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা ছোটবেলা থেকেই একটি উন্নত মনস্তত্ত্ব নিয়ে বড় হতে পারে। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, অতীতে দেশে এমন এক দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি ছিল যেখানে ভালো কোনো উদ্যোগ বা সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরিবেশ ছিল না। বর্তমানে সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে এবং মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নৈতিক সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।  অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা প্রফেসর মো. মঈনউদ্দিন খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। সেমিনার শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন।
তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
চা দোকানি শেফালী হত্যার অন্তরালের রক্তাক্ত গল্প
গাজীপুরের পূবাইল থানার মেঘডুবি এলাকার ছোট্ট এক টিনশেড বাড়িতে সন্ধ্যা নামত চায়ের গন্ধে। দোকানের বেঞ্চে বসে মানুষ গল্প করত, কেউ হাসত, কেউ দিনের ক্লান্তি ভুলে এক কাপ চায়ে একটু শান্তি খুঁজত। আর সেই দোকানের মাঝখানে ব্যস্ত হাতে চা বানাতেন ৪০ পেরোনো শেফালী বেগম কুলসুম। স্বামীকে ছেড়ে, একা হাতে সংসার টেনে নেওয়া এই নারীর স্বপ্ন খুব বড় ছিল না। ছোট্ট দোকানটা চলবে, কয়েকটি ভাড়া রুমের টাকায় সন্তানদের মুখে খাবার উঠবে—এতটুকুই ছিল তার চাওয়া। কিন্তু সেই নিরীহ স্বপ্নকেও রেহাই দিল না মানুষের লোভ। ২৬ এপ্রিলের সন্ধ্যায় মেঘডুবির সেই ঘরে নেমে আসে মৃত্যু। রাত বাড়লেও দোকানের দরজা খোলেননি শেফালী। আত্মীয়রা ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা যে দৃশ্য দেখেন, তা আজও ভুলতে পারেননি কেউ। বিছানার ওপর কম্বল ঢাকা নিথর দেহ। মুখ, হাত, পেট—শরীরের প্রতিটি অংশে ধারালো অস্ত্রের নির্মম কোপ। যেন একজন মানুষকে নয়, ঘাতকরা কুপিয়েছে একজন মায়ের স্বপ্ন, এক নারীর সংগ্রাম, বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টাকে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে। স্থানীয়রা জানায়, শেফালী বেগম ছিলেন পরিশ্রমী ও দৃঢ়চেতা নারী। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় এক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। এরপর তিনি মেঘডুবির কড়ইটেক এলাকায় একাই বসবাস করতেন। ছোট্ট একটি দোকান আর কয়েকটি রুম ভাড়ার আয়ে চলত সংসার। মেয়ে ময়না আক্তার স্মৃতি মাঝে মধ্যে কালীগঞ্জ থেকে এসে মাকে দেখে যেতেন। বড় ছেলে ও সাবেক স্বামী ঢাকায় খিলক্ষেতে আলাদা থাকতেন। বিচ্ছেদের পরও শেফালী নিজের জীবনটাকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই একাকিত্বই শেষ পর্যন্ত তাকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর ফাঁদে। ঘটনার দিন ২৬ এপ্রিল দুপুরে মেয়ে স্মৃতি ফোন করে মায়ের খোঁজখবর নেন। তখনও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানতে পারেন, শেফালীর বাড়ির গেট ভেতর থেকে বন্ধ, ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া মিলছে না। তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন, ঘরের বিছানায় কম্বল ঢাকা অবস্থায় পড়ে আছে শেফালীর নিথর দেহ। মুখ ও শরীরজুড়ে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। খবর পেয়ে পূবাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন নিহতের মেয়ে ময়না আক্তার স্মৃতি বাদী হয়ে পূবাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পূবাইল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় ছায়া তদন্তে নামে পিবিআই গাজীপুর জেলা। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণ মিলিয়ে তদন্তকারীরা দ্রুত সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করেন। অবশেষে ৮ মে দিবাগত রাতে রংপুরের গঙ্গাচড়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. কামরুজ্জামান (৩৫), মো. আমজাদ হোসেন (৩০) ও মো. আফজাল হোসেন (৩৩) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার পুরো ছক। রোববার (১০ মে) পিবিআই সদর দপ্তর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই স্থানীয় একটি পলিমার কারখানার শ্রমিক। তারা প্রায়ই শেফালীর দোকান থেকে বাকিতে কেনাকাটা করতেন। পুলিশ জানায়, আসামি কামরুজ্জামানের কাছে এক হাজার ৬৪৫ টাকা, মনোয়ারের কাছে এক হাজার টাকা ও আমজাদের কাছে এক হাজার ১১৬ টাকা পাওনা ছিল। এই টাকা নিয়ে শেফালীর সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। পিবিআই জানায়, হত্যাকারীদের ধারণা ছিল, শেফালী একা থাকেন। সুদের কারবারও আছে, ফলে তার কাছে হয়তো টাকা-স্বর্ণালংকার রয়েছে। সেই লোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তরা। ঘটনার আগের দিন ২৫ এপ্রিল রাতে আসামি মনোয়ার শেফালীর দোকানে গিয়ে জানায়, পরদিন তার এক ‘গার্লফ্রেন্ড’ আসবে। কিছু সময় কাটানোর জন্য একটি রুমে জায়গা দিতে অনুরোধ করে। শেফালী সরল বিশ্বাসে রাজি হন। পরদিন দুপুরে মনোয়ার ফল, বিস্কুট, চানাচুর ও কোমল পানীয় ‘স্পিড’ নিয়ে বাসায় যায়। সঙ্গে ছিল ঘুমের ওষুধ। পরে কৌশলে পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শেফালীকে খাওয়ানো হয় বলে জবানবন্দিতে জানায় আসামিরা। প্রায় আধাঘণ্টা পর মনোয়ার ফোন করে কামরুজ্জামানকে ভেতরে ডাকে। তখনও শেফালী ঘোরের মধ্যে ছিলেন। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, কামরুজ্জামান ঘরে ঢুকে একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে শেফালীর মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি চিৎকার দিলে মনোয়ার পাশের ঘর থেকে ধারালো দা এনে খাটের ওপর উঠে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মুখ, হাত, পেট— কোনো অংশই বাদ যায়নি। হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর তারা ঘর তছনছ করে নগদ ৩ হাজার ২৫০ টাকা ও কিছু গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বাথরুমে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা ধুয়ে রেখে যায়। ঘটনার পর আসামিরা রংপুরে নিজ এলাকায় পালিয়ে যায়। পরদিন বিকেলে তারা লুট করা গহনা বিক্রির জন্য রংপুর পুরাতন টার্মিনাল এলাকার একটি স্বর্ণের দোকানে যায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারে, গহনাগুলো আসল স্বর্ণ নয়—সেগুলো ছিল সিটিগোল্ড। এই তথ্য শুনে হতাশ হয়ে পড়ে অভিযুক্তরা। পরে গহনাগুলো নিয়ে তারা বাড়িতে ফিরে যায়। মামলা দায়েরের পর পূবাইল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও সমান্তরালে ছায়া তদন্ত চালায় পিবিআই গাজীপুর জেলা। পিবিআই প্রথমে কামরুজ্জামানকে রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে আমজাদ ও আফজালকেও আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর কামরুজ্জামান ও আমজাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা ও বাঁশের লাঠি উদ্ধার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তথ্য ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। এমন নৃশংস অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মেঘডুবির সেই ছোট্ট চা দোকান এখন বন্ধ। নেই শেফালীর কণ্ঠ, নেই সন্ধ্যার ব্যস্ততা। শুধু রক্তাক্ত স্মৃতি হয়ে আছে তার টিনশেড ঘরটি। যে নারী জীবনভর সংগ্রাম করে সন্তানদের জন্য বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠলেন লোভ আর নিষ্ঠুরতার শিকার।
চা দোকানি শেফালী হত্যার অন্তরালের রক্তাক্ত গল্প
পুলিশের যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার কাজ করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশকে একটি জনকল্যাণমুখী, আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় পুলিশের যৌক্তিক দাবিসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতিবঞ্চিত পুলিশ সদস্যদের জন্য অনারারি পদোন্নতির ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা প্রদানের বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে চিন্তাভাবনা করছে। রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কল্যাণ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মো. আলী হোসেন ফকির এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক পুলিশ কনস্টেবল ৪০ বছর চাকরি করেও কোনো পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যান। এ বাস্তবতা বিবেচনায় বিশেষ নীতিমালা ও সন্তোষজনক চাকরির রেকর্ডের ভিত্তিতে অবসরের সময় কিছু সংখ্যক সদস্যকে অনারারি পদোন্নতি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় কনস্টেবল থেকে অনারারি এএসআই, এএসআই থেকে অনারারি এসআই ও এসআই থেকে অনারারি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদস্যদের অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা ও দায়িত্বের চাপ বিবেচনায় ওভারটাইম ভাতা চালুর বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইন্সপেক্টর পদ থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সদস্যদের এই সুবিধার আওতায় আনার চিন্তাভাবনা চলছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মানসিক চাপ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালসমূহকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয়তা যাচাই সাপেক্ষে আরও উন্নত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের ভবন নির্মাণ, কার্যালয় সম্প্রসারণ ও আবাসন সংকট নিরসনে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত দুই মাসে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল করতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে অপরাধের ধরন ও মাত্রা পরিবর্তিত হয়েছে। সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধে যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘মব কালচার’ পুরোপুরি বন্ধে বিদ্যমান আইন সংশোধন ও সংযোজন করে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করা হবে। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের জনগণের প্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
পুলিশের যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার কাজ করছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘পার্টটাইম জব’ অফারে খোয়া গেল লাখ লাখ টাকা
‘পার্টটাইম জব’ অফারে খোয়া গেল লাখ লাখ টাকা
রাজধানীর কলাবাগান এলাকার গৃহিণী নিগার সাবিহা (ছদ্মনাম)। অবসরে ফেসুবক স্ক্রল করছিলেন। নজরে এলো একটি লোভনীয় বিজ্ঞাপন—ঘরে বসে টাকা আয়ের সুযোগ। বিজ্ঞাপনদাতাদের ভাষায় যেটা ‘অনলাইনে পার্টটাইম জব’। কৌতূহল থেকে সাবিহা যোগাযোগ করলেন। জানতে পারলেন—বিনিয়োগের মাধ্যমে কয়েকটি ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করলে আসবে বিপুল অঙ্কের টাকা। লোভ সমলাতে পারলেন না সাবিহা। শুরু করেন বিনিয়োগ ও ‘টাস্ক’ সম্পন্ন করা। ১৩ মার্চ থেকে শুরু; ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করেন দুই লাখ আট হাজার ৮৬০ টাকা। ২৬ মার্চ পর্যন্ত তিনি এই টাকা বিনিয়োগ করেন। শেষ দিকে বিনিয়োগের বিপরীতে তাকে লভ্যাংশ দেওয়া হচ্ছিল না। কোনো টাস্কও সম্পন্ন করতে বলা হচ্ছিল না। বিজ্ঞাপনদাতারা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন শুরু করেন। উপায় না পেয়ে সাবিহা দ্বারস্থ হন পুলিশের। অভিযোগ দেন কলাবাগান থানায়। রহস্য উদঘাটনে নেমে পড়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। রাজধানী টু মেহেরপুর নেটওয়ার্ক তদন্তে উঠে আসে, বিজ্ঞাপনদাতাদের নেটওয়ার্ক ঢাকা থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু তারা কারা, কেন এই লোভনীয় বিজ্ঞাপন এবং উদ্দেশ্য কী—এসব প্রশ্নের উত্তর কেবল বিজ্ঞাপনদাতারা জানেন। তাদেরকে কবজায় নিতে অভিযান শুরু করে ডিবি। ঢাকা থেকে প্রথমে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) ধরা পড়েন দুইজন। তারা হলেন—সাঈদ মোহাম্মদ হাসানু জোহা ও নুরজাহান খাতুন। তাদের দেওয়া তথ্যে একই দিন ঢাকা থেকে আরও পাঁচজনকে ধরা হয়। তারা হলেন—হৃদয় হাসান, মোহাম্মদ রাকিব, মো. রাশেদ, এমআই খাইরুল ও সাদিত হোসেন। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ডিবিকে আরও কয়েকজনের কথা জানান, যারা থাকেন মেহেরপুর। ডিবির একটি দল গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। স্থানীয় সূত্র ধরে পরদিন শুক্রবার (৮ মে) খুঁজে বের করা হয় ওই সাতজনের তিন সহযোগীকে। তারা হলেন—মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের রোহান আলী ওরফে রাকেশ, ফয়সাল আহমেদ ও সদর উপজেলার কামদেবপুর গ্রামের মো. রনি মিয়া। এই তিনজনকে ধরার পর উন্মোচন হয় মূল রহস্য। তারা ডিবির কাছে স্বীকার করেন—খণ্ডকালীন চাকরির (পার্টটাইম জব) বিজ্ঞাপন হলো তাদের প্রতারণার হাতিয়ার। তারা সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে এই প্রতারণা করে আসছিলেন। তারা মূলত ফেসবুকে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। আগ্রহীদের টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত করে ‘অনলাইন টাস্ক’ সম্পন্নের নামে ধাপে ধাপে টাকা বিনিয়োগে বাধ্য করেন। শুরুতে টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তাদের প্রতারণার কৌশল।  ডিবি জানায়, গত শুক্রবার মেহেরপুর থেকে রোহান ওরফে রাকেশের বাড়ি থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি স্মার্টফোন, প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা নগদ ১৭ হাজার ৪৪০ টাকা ও তিনটি গ্রামীণফোনের সিম জব্দ করা হয়।  এ বিষয়ে মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ডিবির একটি টিম তাদের তদন্তাধীন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করতে মেহেরপুরে অভিযান পরিচালনা করেছিল। অভিযানে মেহেরপুর জেলা পুলিশের ডিবি সদস্যরা তাদের সহযোগিতা করেছে। সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটে দম্পতি ডিবি সূত্রে জানা যায়, প্রথমে ধরা পড়া সাঈদ মোহাম্মদ হাসানু জোহা ও নুরজাহান খাতুন সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। মিরপুর ডিওএইচএস থেকে আটক হওয়া এই দম্পতির গ্রামের বাড়ি মেহেরপুর সদর উপজেলার আমঝুপির চাঁদবিল এলাকায়। ঢাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্র। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষকে একই কৌশলে প্রতারণা করে আসছিলেন। চক্রটির বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া উইং জানায়, তিন ধাপে গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাদের কাছ থেকে প্রতারণা চক্রের আরও সদস্য, অর্থ লেনদেনের উৎস এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এজন্য গত শুক্রবার মেহেরপুর থেকে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত প্রত্যেকের এক দিন করে মোট তিন দিনের রিমান্ড দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির (ঢাকা দক্ষিণ) ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, অনলাইনে পার্টটাইম চাকরি, বিনিয়োগ ও দ্রুত লাভ দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদেরকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত রিমান্ড দেন। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ, পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবাদ
পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ, পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিবাদ
পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন জারিসংক্রান্ত বিষয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। রোববার (১০ মে) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি বিদেশ যাওয়ায় পুলিশ পদকের জিও করা সম্ভব হয়নি’ মর্মে প্রকাশিত সংবাদ সঠিক নয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ পুলিশের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ ধরনের বক্তব্য দেননি। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে যে বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, পুলিশ পদকের প্রজ্ঞাপন জারিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ ছাড়া আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন জারির আগে কোনো কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রচার জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে যথাযথ তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।
তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করলেই চলবে না, বরং তাদের ডিজিটাল লিটারেসির (সাক্ষরতা) পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।  তিনি বলেন, তরুণদের মনোজগতে নৈতিকতার মজবুত ভিত্তি না থাকলে মেধা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর ড্যাফোডিল টাওয়ার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ দর্শন বাস্তবায়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার ও শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমাজ ও অর্থনীতি দ্রুত ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত সংযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য—সবই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। তবে দেশের অনেক কাঠামো এখনও সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রকে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল চরিত্রে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়ক কনটেন্ট প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির যদি নৈতিক মানদণ্ড ঠিক না থাকে, তবে তার পরিণতি ভালো হয় না।  তিনি বলেন, জন্মগতভাবে মানুষের মধ্যে যে পাশবিক প্রবৃত্তি থাকে, তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য শৈশব থেকেই সুকুমার বৃত্তির চর্চা প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিকুলামে এ ধরনের নৈতিক শিক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা ছোটবেলা থেকেই একটি উন্নত মনস্তত্ত্ব নিয়ে বড় হতে পারে। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, অতীতে দেশে এমন এক দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি ছিল যেখানে ভালো কোনো উদ্যোগ বা সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরিবেশ ছিল না। বর্তমানে সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে এবং মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নৈতিক সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।  অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা প্রফেসর মো. মঈনউদ্দিন খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। সেমিনার শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন।
চা দোকানি শেফালী হত্যার অন্তরালের রক্তাক্ত গল্প
চা দোকানি শেফালী হত্যার অন্তরালের রক্তাক্ত গল্প
গাজীপুরের পূবাইল থানার মেঘডুবি এলাকার ছোট্ট এক টিনশেড বাড়িতে সন্ধ্যা নামত চায়ের গন্ধে। দোকানের বেঞ্চে বসে মানুষ গল্প করত, কেউ হাসত, কেউ দিনের ক্লান্তি ভুলে এক কাপ চায়ে একটু শান্তি খুঁজত। আর সেই দোকানের মাঝখানে ব্যস্ত হাতে চা বানাতেন ৪০ পেরোনো শেফালী বেগম কুলসুম। স্বামীকে ছেড়ে, একা হাতে সংসার টেনে নেওয়া এই নারীর স্বপ্ন খুব বড় ছিল না। ছোট্ট দোকানটা চলবে, কয়েকটি ভাড়া রুমের টাকায় সন্তানদের মুখে খাবার উঠবে—এতটুকুই ছিল তার চাওয়া। কিন্তু সেই নিরীহ স্বপ্নকেও রেহাই দিল না মানুষের লোভ। ২৬ এপ্রিলের সন্ধ্যায় মেঘডুবির সেই ঘরে নেমে আসে মৃত্যু। রাত বাড়লেও দোকানের দরজা খোলেননি শেফালী। আত্মীয়রা ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি। পরে গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা যে দৃশ্য দেখেন, তা আজও ভুলতে পারেননি কেউ। বিছানার ওপর কম্বল ঢাকা নিথর দেহ। মুখ, হাত, পেট—শরীরের প্রতিটি অংশে ধারালো অস্ত্রের নির্মম কোপ। যেন একজন মানুষকে নয়, ঘাতকরা কুপিয়েছে একজন মায়ের স্বপ্ন, এক নারীর সংগ্রাম, বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টাকে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে। স্থানীয়রা জানায়, শেফালী বেগম ছিলেন পরিশ্রমী ও দৃঢ়চেতা নারী। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় এক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তার। এরপর তিনি মেঘডুবির কড়ইটেক এলাকায় একাই বসবাস করতেন। ছোট্ট একটি দোকান আর কয়েকটি রুম ভাড়ার আয়ে চলত সংসার। মেয়ে ময়না আক্তার স্মৃতি মাঝে মধ্যে কালীগঞ্জ থেকে এসে মাকে দেখে যেতেন। বড় ছেলে ও সাবেক স্বামী ঢাকায় খিলক্ষেতে আলাদা থাকতেন। বিচ্ছেদের পরও শেফালী নিজের জীবনটাকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই একাকিত্বই শেষ পর্যন্ত তাকে ঠেলে দেয় মৃত্যুর ফাঁদে। ঘটনার দিন ২৬ এপ্রিল দুপুরে মেয়ে স্মৃতি ফোন করে মায়ের খোঁজখবর নেন। তখনও সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিবেশী ও স্বজনরা জানতে পারেন, শেফালীর বাড়ির গেট ভেতর থেকে বন্ধ, ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া মিলছে না। তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন, ঘরের বিছানায় কম্বল ঢাকা অবস্থায় পড়ে আছে শেফালীর নিথর দেহ। মুখ ও শরীরজুড়ে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। খবর পেয়ে পূবাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরদিন নিহতের মেয়ে ময়না আক্তার স্মৃতি বাদী হয়ে পূবাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পরপরই পূবাইল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় ছায়া তদন্তে নামে পিবিআই গাজীপুর জেলা। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক বিশ্লেষণ মিলিয়ে তদন্তকারীরা দ্রুত সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করেন। অবশেষে ৮ মে দিবাগত রাতে রংপুরের গঙ্গাচড়া থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. কামরুজ্জামান (৩৫), মো. আমজাদ হোসেন (৩০) ও মো. আফজাল হোসেন (৩৩) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার পুরো ছক। রোববার (১০ মে) পিবিআই সদর দপ্তর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সবাই স্থানীয় একটি পলিমার কারখানার শ্রমিক। তারা প্রায়ই শেফালীর দোকান থেকে বাকিতে কেনাকাটা করতেন। পুলিশ জানায়, আসামি কামরুজ্জামানের কাছে এক হাজার ৬৪৫ টাকা, মনোয়ারের কাছে এক হাজার টাকা ও আমজাদের কাছে এক হাজার ১১৬ টাকা পাওনা ছিল। এই টাকা নিয়ে শেফালীর সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। পিবিআই জানায়, হত্যাকারীদের ধারণা ছিল, শেফালী একা থাকেন। সুদের কারবারও আছে, ফলে তার কাছে হয়তো টাকা-স্বর্ণালংকার রয়েছে। সেই লোভ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তরা। ঘটনার আগের দিন ২৫ এপ্রিল রাতে আসামি মনোয়ার শেফালীর দোকানে গিয়ে জানায়, পরদিন তার এক ‘গার্লফ্রেন্ড’ আসবে। কিছু সময় কাটানোর জন্য একটি রুমে জায়গা দিতে অনুরোধ করে। শেফালী সরল বিশ্বাসে রাজি হন। পরদিন দুপুরে মনোয়ার ফল, বিস্কুট, চানাচুর ও কোমল পানীয় ‘স্পিড’ নিয়ে বাসায় যায়। সঙ্গে ছিল ঘুমের ওষুধ। পরে কৌশলে পানীয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে শেফালীকে খাওয়ানো হয় বলে জবানবন্দিতে জানায় আসামিরা। প্রায় আধাঘণ্টা পর মনোয়ার ফোন করে কামরুজ্জামানকে ভেতরে ডাকে। তখনও শেফালী ঘোরের মধ্যে ছিলেন। তদন্ত সূত্রে জানা যায়, কামরুজ্জামান ঘরে ঢুকে একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে শেফালীর মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি চিৎকার দিলে মনোয়ার পাশের ঘর থেকে ধারালো দা এনে খাটের ওপর উঠে তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মুখ, হাত, পেট— কোনো অংশই বাদ যায়নি। হত্যা নিশ্চিত হওয়ার পর তারা ঘর তছনছ করে নগদ ৩ হাজার ২৫০ টাকা ও কিছু গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে বাথরুমে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা দা ধুয়ে রেখে যায়। ঘটনার পর আসামিরা রংপুরে নিজ এলাকায় পালিয়ে যায়। পরদিন বিকেলে তারা লুট করা গহনা বিক্রির জন্য রংপুর পুরাতন টার্মিনাল এলাকার একটি স্বর্ণের দোকানে যায়। সেখানে গিয়ে জানতে পারে, গহনাগুলো আসল স্বর্ণ নয়—সেগুলো ছিল সিটিগোল্ড। এই তথ্য শুনে হতাশ হয়ে পড়ে অভিযুক্তরা। পরে গহনাগুলো নিয়ে তারা বাড়িতে ফিরে যায়। মামলা দায়েরের পর পূবাইল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও সমান্তরালে ছায়া তদন্ত চালায় পিবিআই গাজীপুর জেলা। পিবিআই প্রথমে কামরুজ্জামানকে রংপুরের গঙ্গাচড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে আমজাদ ও আফজালকেও আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর কামরুজ্জামান ও আমজাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা ও বাঁশের লাঠি উদ্ধার করেছে তদন্তকারী সংস্থা। পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, এই নির্মম হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তথ্য ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে। এমন নৃশংস অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। মেঘডুবির সেই ছোট্ট চা দোকান এখন বন্ধ। নেই শেফালীর কণ্ঠ, নেই সন্ধ্যার ব্যস্ততা। শুধু রক্তাক্ত স্মৃতি হয়ে আছে তার টিনশেড ঘরটি। যে নারী জীবনভর সংগ্রাম করে সন্তানদের জন্য বেঁচে থাকার চেষ্টা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠলেন লোভ আর নিষ্ঠুরতার শিকার।