পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান, শয়তান যেন তোমাদের কিছুতেই ফেতনায় ফেলতে না পারে, যেমনভাবে তোমাদের মা-বাবাকে (আদম ও হাওয়া) জান্নাত থেকে বের করেছিল। সে তাদের পরস্পরকে লজ্জাস্থান দেখানোর জন্য তাদের দেহ থেকে পোশাক খুলিয়ে ফেলেছিল। সে আর তার সাথিরা তোমাদের এমনভাবে দেখতে পায় যে, তোমরা তাদের দেখতে পাও না। যারা ইমান আনে না, তাদের জন্য আমি শয়তানকে অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ২৭)
এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, জিনরা মানুষদের দেখতে পায়, কিন্তু মানুষ জিনদের দেখতে পায় না। মূল বেশে তাদের কখনো দেখা যায় না। দেখলে মানুষ ভীত হতো। ভয় পেত।
তবে তারা অদেখা অবস্থায় উপস্থিত হয়, কথা বলে—এটা সত্য। হজরত মুহাম্মদের (সা.) যুগেও একদল জিন তাঁর কোরআন তেলাওয়াত শুনেছিল। তারা তাঁর ওপর ইমান এনেছিল। তাঁর সময়ে এক জিন সদকার সম্পদ চুরি করতে এসেছিল।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মোরগের ডাক শুনলে তোমরা আল্লাহর কাছে রহমতের দোয়া করবে, কারণ মোরগ ফেরেশতাদের দেখতে পায়। আর গাধার ডাক শুনলে আল্লাহর কাছে শয়তানের কবল থেকে আশ্রয় চাইবে, কারণ গাধা শয়তানকে দেখতে পায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৩০৩)
গাধা ও কুকুর জিনদের দেখতে পায়। পশুপাখিরা জিন ও ফেরেশতাদের দেখতে পায়। আল্লাহ তাআলা প্রাণীদের এমন অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন, যা মানুষদের দেননি। নির্দিষ্ট প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করে ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নির্ণয় করা হয়। ভূমিকম্পের আগমন টের পেলে এসব প্রাণী খুব দ্রুত পালিয়ে বেড়ায়। বিপদ খুব কাছে চলে এলে তারা কান পেতে তা শোনে। তারা এমন সব আওয়াজ শোনে—যা আমরা শুনতে পাই না।
আল্লাহ পশুপাখিদের বিশেষ সক্ষমতা দিয়েছেন, তাই তারা জিন ও ফেরেশতাদের দেখতে পায়। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই। ইমাম বুখারি মুসয়াব ইবনে উমাইরের (রা.) ঘটনা উল্লেখ করেছেন, তার ঘোড়া রাতে কোরআন তেলাওয়াতের সময় যে ছোটাছুটি করছিল, তা মূলত ফেরেশতাদের দেখার কারণে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসয়াবকে (রা.) বলেন, ‘তারা ছিল ফেরেশতা, তোমার সুমধুর তেলাওয়াতের শুনতে তারা জড়ো হয়েছিল। যদি তুমি তেলাওয়াত করতেই থাকতে, সকালে মানুষ তাদের দেখতে পেত। তারাও মানুষদের থেকে আড়াল হত না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৮)




