আল্লাহ তাআলা প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। মানুষের মধ্যে যেমন নারী-পুরুষ আছে, তেমনি আছে জিনদের মধ্যেও। মানুষের মতো তাদেরও বিয়েশাদি হয়। তাদেরও রয়েছে বাচ্চা প্রজননের নির্ধারিত প্রক্রিয়া।
অধিকাংশ ইসলামি গবেষকদের মতে, জিনের সঙ্গে মানুষের বিয়েশাদি জায়েজ নেই। মানুষ ও জিন আলাদা জাতি। তাদের মৌলিক উপাদান ভিন্ন। মানুষ মাটির তৈরি আর জিনের সৃষ্টি আগুন থেকে।
আল্লাহ তাআলা পুরুষের জন্য নারী সৃষ্টি করেছেন। মানুষের মধ্যে থেকে মানুষের সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন। কোরআনে আছে, ‘আল্লাহর অন্যতম এক নিদর্শন হলো, তোমাদের থেকেই তিনি তোমাদের সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো। আর সুদৃঢ় করেছেন তোমাদের পরস্পরের মাঝে দয়া ও ভালোবাসা। নিশ্চয় এর মাঝে রয়েছে চিন্তাশীলদের জন্য বহু নিদর্শন।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)
অপর এক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তোমাদের থেকেই তোমাদের জোড়া তৈরি করেছেন।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৭২)
কোরআন বিশারদরা এই দুই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, সমগোত্রীয় এবং একই উপাদান থেকে আল্লাহ পুরুষের সঙ্গী হিসেবে নারী জাতিকে সৃষ্টি করেছেন।
সাহাবিরা মানুষ এবং জিনের বিয়েকে অপছন্দ করতেন। তারা এটা সমর্থন করতেন না। কারণ, তাদের মতে, এতে সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। আনাস ইবনে মালেক (রা.)-এর কাছে ইয়েমেনের এক সম্প্রদায় এলো। তারা বলল, ‘একটি পুরুষ জিন আমাদের গোত্রের এক নারীর বিষয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা ভেবেছিল এ ধরনের বিয়ে হালাল হবে। আমরা কি তা কবুল করব।’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি তা ভীষণ অপছন্দ করি। এর দ্বারা বরং ফেতনাই বৃদ্ধি পাবে। কারণ, যখন কোনো গর্ভবতী নারীকে জিজ্ঞাসা করা হবে এটা কার সন্তান? সে বলবে জিনের।’ (রুহুল মাআনি, আল্লাম আলুসি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১৮৪)
জালাল উদ্দিন সুয়ুতিসহ (রহ.) পরবর্তী সময়ের অনেকে বলেছেন, মানুষের সঙ্গে জিনের বিয়ে বৈধ নয়। কারণ, জিন ভিন্ন জাতি। তারা আগুনের সৃষ্টি।
অধিকাংশ আলেমদের বক্তব্য হচ্ছে, জিন ও মানুষের মধ্যে বিয়ে বৈধ নয়। এর মৌলিক কারণ হলো, সন্তান বা পরবর্তী প্রজন্মের বিষয়টি যথাযথ হবে না। বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্বিতীয় কারণ হলো, শারীরিক কারণে মানসিক যে প্রশান্তি রয়েছে, সে প্রশান্তিটুকু আসবে না।




