ঘুম আল্লাহর অনুগ্রহ ও নেয়ামত। ঘুমের মাধ্যমে মানুষের ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হয়। নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি জোগায়। সঠিক ও নিয়মতান্ত্রিক ঘুম মানুষের স্বাস্থ্য সুস্থ রাখে। আল্লাহর হুকুম ও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নত মোতাবেক ঘুমালে এটি ইবাদতও হয়।
ঘুমের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময় রাত। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি। তোমাদের জন্য রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ। দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য।’ (সুরা নাবা, আয়াত: ৯-১১)
ঘুমের মধ্যে মানুষ স্বপ্ন দেখে। মানুষ ঘুমের ভেতর যেসব স্বপ্ন দেখে, এর কিছু সত্য হয় আবার কিছু মিথ্যা। আবার কিছু মানুষের স্বপ্ন বেশি সত্য হয় এবং কিছু মানুষের স্বপ্ন বেশির ভাগই মিথ্যা হয়। প্রশ্ন হলো, কোন সময়ের স্বপ্ন সত্য হয়।
ইসলামে মানুষের স্বপ্নের বিশেষ গুরুত্ব আছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) সত্য স্বপ্নকে নবুওয়তের অংশ বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের স্বপ্ন ৪৬ ভাগের এক ভাগের সমান।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০১৮)
ঘুমের ভেতর যেসব স্বপ্ন দেখা যায়, তা তিন প্রকার। যথা—
এক. আল্লাহর পক্ষ থেকে দেখানো স্বপ্ন, যার অর্থ সত্য হয়।
দুই. শয়তানের পক্ষ থেকে দেখানো স্বপ্ন, যা দেখে মানুষ মানসিক কষ্ট পেয়ে থাকে।
তিন. মানুষ যা বেশি ভালোবাসে বা ভয় করে অথবা কল্পনা করে তারই প্রতিচ্ছায়া মানসপটে ঘুমের মধ্যে দেখতে পায়। শেষোক্ত দুই প্রকার স্বপ্ন অর্থহীন।
মোটাদাগে স্বপ্নকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো কল্যাণকর ও সত্য স্বপ্ন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ বা সতর্কতা হিসেবে আসে। আরেকটি হলো দুঃস্বপ্ন—এটি আসে শয়তানের পক্ষ থেকে।
কোন সময়ের স্বপ্ন সত্য হয়?
দিন ও রাতে যে কোনো সময়ের স্বপ্ন সত্য হতে পারে। কোনো সময়কে সত্য স্বপ্নের জন্য নির্ধারণ করা হয়নি। তবে রাতের স্বপ্ন দিনের স্বপ্নের তুলনায় অধিক শক্তিশালী। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এমন কিছু সময় উল্লেখ করেছেন, যে সময়ের স্বপ্ন অধিক সত্য হয়। যথা—
এক. যখন দিন ও রাতের ব্যাপ্তি বা সময় কাছাকাছি হয়, তখন মুমিনের স্বপ্ন সত্য হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সময় যখন কাছাকাছি হবে, তখন মুসলিমের স্বপ্ন মিথ্যা হবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০১৯)। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম বাগাভি (রহ.) বলেন, ‘বসন্ত ও শরৎকালের স্বপ্ন অধিক সত্য হয়। যখন গাছে ফল আসে ও তা পরিপক্ক হয়। কেননা তখন সময় নিকটবর্তী থাকে এবং দিন-রাতের পরিধি সমান থাকে।’ (তাজিলুস সুকয়া ফি তাবিরির রুয়া, পৃষ্ঠা: ১৩)
দুই. ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, রাতের শেষ অর্ধাংশের স্বপ্ন বেশি সত্য হয়। চাই তা ফজরের আগে হোক বা পরে। কারণ, এ সময় আল্লাহ পৃথিবীর আসমানে অবতরণ করেন এবং এটা ফেরেশতাদের ছড়িয়ে পড়ার সময়। আর প্রথম অর্ধাংশের স্বপ্ন বেশির ভাগ মিথ্যা হয়। কেননা এটা শয়তানের বিচরণের সময়। (তাজিলুস সুকয়া ফি তাবিরির রুয়া, পৃষ্ঠা: ১৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শেষ রাতের স্বপ্ন অধিক সত্য হয়।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২২৭৪)
তিন. কেয়ামতের আগে মুমিনের স্বপ্ন অধিক পরিমাণে সত্য হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কেয়ামতের সময় নিকটবর্তী হবে, তখন মুমিনের স্বপ্ন খুব কমই মিথ্যা হবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২২৭০)
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ঘুম কিছুটা পাতলা থাকলে সে সময়ের স্বপ্ন সত্য হয়। ফজরের আগে দেখা স্বপ্নও সত্য হয়। দুঃস্বপ্ন, অর্থহীন ও আজগুবি স্বপ্ন দেখায় শয়তান। সত্য স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে। যে স্বপ্ন দেখার পর মনে হয়, এর অর্থ আছে বা নিজের মধ্যে এক ধরনের সচেতনতাবোধ তৈরি হয়, সেটা সত্য স্বপ্ন হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বপ্ন দেখাও সত্য স্বপ্ন। কেউ যদি স্বপ্নে মহানবীকে দেখে, তাহলে সে তাঁকেই দেখেছে। এর মধ্যে কোনো সন্দেহ থাকে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে সত্যই আমাকেই দেখল।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে আমাকে স্বপ্নে দেখবে, সে কখনও জাহান্নামে যাবে না।




