মানুষ সামাজিক জীব। মানুষ একা বাস করতে পারে না। সমাজ জীবনে বাঁচতে হলে মানুষকে ক্ষমা ও ছাড় দিয়েই চলতে হবে। আল্লাহ ক্ষমাশীলদের ভালোবাসেন। তিনি নিজে ক্ষমাশীল। তিনি বান্দাদের ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। তাই মুমিনকে এ গুণে গুণান্বিত হতে হবে। আল্লাহ হজরত মুহাম্মদকে (সা.) এই গুণ অর্জনের আদেশ দিয়ে বলেন, ‘আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং মানুষকে ভালো বিষয়ের আদেশ করুন। আর মুর্খদের উপেক্ষা করুন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ১৯৯)
মানুষকে ক্ষমা করা মহৎ গুণ। এতে আল্লাহ খুশি হন। পরকালীন জীবনে সুখে থাকা যায়। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে ধাবিত হও, যার প্রশস্ততা আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীর মতো। যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে মুত্তাকিদের জন্য। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থায় ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী আর মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল। আল্লাহ নেককারদের ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩-১৩৪)
মুহাম্মদ (সা.) চাইতেন, মুসলিম সমাজ সবসময় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ থাকবে। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ সমাজের মূল উপাদান হলো ক্ষমা করা। ক্ষমা মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা তৈরি করে। আল্লাহ ক্ষমাকারীর সম্মান বাড়িয়ে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সদকা করলে অর্থসম্পদে ঘাটতি হয় না। যে ক্ষমা করবে আল্লাহ তার সম্মান বাড়িয়ে দেবেন। যে আল্লাহর জন্য নম্রতা অবলম্বন করবে, আল্লাহ তার মর্যাদা উঁচু করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫৮৮)
বাস্তবে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি, অনাচার ও ভুলভ্রান্তি মাফ করাই হলো ক্ষমা করা। ক্ষমা করার প্রবৃত্তি সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বিধানের নিশ্চয়তা দেয়। অপরদিকে কেউ যদি নিজের শতভাগ অধিকার আদায় করতে উঠে পড়ে লেগে যায়, তাহলে তার মাধ্যমে সমাজে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমা করার ব্যাপারে সবাইকে উৎসাহ দিতে গিয়ে বারবার কীভাবে ক্ষমা করতে হয়, তার কিছু উদাহরণ টেনেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘এক লোক নবীর (সা.) কাছে এসে জানতে চাইল, হে আল্লাহর রাসুল, গোলামকে আমি কতবার ক্ষমা করব?’ নবী (সা.) চুপ রইলেন। এরপর সে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি কতবার ক্ষমা করব?’ এবার রাসুলুল্লাহ (সা.) উত্তরে বললেন, ‘প্রতিদিন ৭০ বার।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৯৪৯)
একজন গোলাম তো প্রতিদিন আর ৭০ বার ভুল করতে পারে না। ৭০ বারের কথা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বারবার ক্ষমা করা বুঝানোর জন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমা করতে পছন্দ করতেন। এটি সুন্নত। ক্ষমায় সমাজে শান্তি ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়।
মানুষ ক্ষমা করে দেওয়াটা তাকওয়া বা আল্লাহভীতির পথ মসৃণ করে। ক্ষমা তাকওয়ার নিকটবর্তী গুণ। আল্লাহ বলেন, ‘ক্ষমা করে দেওয়াই তাকওয়ার নিকটতম।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৩২৭)




