ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

মা-বাবা যেভাবে সন্তানের জান্নাত ও জাহান্নাম

রায়হান রাশেদ

  ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৩
প্রতীকী ছবি

সন্তানের মুখে উচ্চারিত প্রথম শব্দ আম্মা-আব্বা বা মা-বাবা। সন্তানের প্রথম প্রভাত থেকে আম্মা-আব্বাই সঙ্গী। তারাই জীবনের প্রথম ও সেরা শিক্ষক। তাদের কাছে সন্তান শেখে—কীভাবে বসতে হয়, হাঁটতে হয়, খাওয়ার ধরন, পোশাক-পরিচ্ছদ পরার স্টাইল, পাঠশালায় যাওয়া ও পড়াশোনার প্রয়োজনীয়তা। সর্বোপরি জীবনের প্রয়োজনীয় সবকিছুই মানুষ শেখে তার পরিবার থেকে। আর এর উত্তম শিক্ষক মাতা-পিতা।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সন্তানের জন্য মায়ার ভান্ডার সঞ্চিত থাকে প্রতিটি মায়ের মনে। বাবার হৃদয়জুড়ে আছে অফুরন্ত শুভকামনা। আম্মা-আব্বা নির্ভয় ও নির্ভরতার আশ্রয়স্থল। পবিত্রতার পরশে বেড়ে ওঠার আঁতুড়ঘর। তাদের কোমল স্পর্শ আর ছায়ায় সন্তানের আত্মা পরিতৃপ্ত হয়। তাদের ছায়ার মতো এত পবিত্র, নির্মল, বিশ্বাসী ছায়া পৃথিবীতে আর একটিও নেই। এ ছায়া নিঃস্বার্থ, ভালোবাসার, দয়া-মায়ার, ভরসার, সৌভাগ্যের, কল্যাণ ও প্রার্থনার।

সন্তান গর্ভধারণের সঙ্গে সঙ্গে মায়ের কষ্ট শুরু হয়ে যায়। পর্যায়ক্রমে কষ্ট বাড়তে থাকে। বেদনা, ভয় ও উৎকণ্ঠা মায়ের সবকিছু বিপন্ন করে রাখে। সন্তান জন্মদানের সময় কষ্টের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। কষ্টের তীব্রতায় প্রতিটি মা ভাবেন, এরপর আর সন্তান নেবেন না। কিন্তু সন্তানের নিষ্পাপ মুখ দেখে মা সব ভুলে যান। শত কষ্ট সত্ত্বেও মা হওয়ার মধ্যেই লুক্কায়িত আছে বিপুল সুখ। মা হওয়ার জন্য প্রতিটি নারীর কী অদম্য আগ্রহ। ডাক্তার-কবিরাজের কাছে নিঃসন্তান নারীদের কত দৌড়ঝাঁপ।

এদিকে প্রসবের সময় মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবসংক্রান্ত জটিলতায় বিশ্বজুড়ে প্রতি দুই মিনিটে একজন নারীর মৃতু হয়। তবে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিতে তা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

মায়ের কষ্টের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে তার আম্মা-আব্বার সঙ্গে (সদাচরণের) নির্দেশ দিয়েছি। তার আম্মা কষ্ট ভোগ করতে করতে তাকে গর্ভধারণ করে। তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে। সুতরাং আমার শুকরিয়া ও তোমার আম্মা-আব্বার শুকরিয়া আদায় করো।’ (সুরা লোকমান, আয়াত: ১৪)

বাবার জীবনে সন্তান আগমনের শুভসংবাদ তাকে অন্যরকম মানুষে রূপান্তরিত করে। তার জীবনে যুক্ত হয় নতুন অধ্যায়। যেন বুক তার সন্তানের হৃদয়। সন্তানকে ঘিরেই তার পৃথিবী সাজে। তার চিন্তার দিগন্ত খোলে। নিজের শখ-আহ্লাদ এমনকি জরুরি প্রয়োজনগুলোও হয়ে যায় একেবারেই গৌণ। পরিশ্রমটা আগের চেয়ে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেন শুধু সন্তানের ভাবনায়। নিজস্বী বিসর্জন দিয়ে বাবা হয়ে যান কেবলই সন্তানের। সন্তানের ইচ্ছে ও স্বপ্নগুলোই তখন বাবার কাছে সবচেয়ে বড়ো বিষয় হয়ে ওঠে।

সন্তানের জন্য আম্মা-আব্বা আমৃত্যু একজন যোদ্ধা হয়ে বেঁচে থাকেন। যৌবনে যেমন পাঁজর শক্ত করে সন্তানের বেড়ে ওঠায় ছায়া হয়ে মিশে থাকেন, তেমনি শেষ বয়সে সর্বোচ্চটুকু উজাড় করে দিয়েই পাশে থাকেন। সন্তানকে দুধে-ভাতে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা তাদের। আম্মা-আব্বার চেয়ে বড়ো যোদ্ধা পৃথিবীতে আর কে থাকতে পারে? আম্মা-আব্বা স্নেহ, আদর, ভালোবাসা ও কল্যাণকর শাসনে সন্তানকে ভালো মানুষ হিসেবে নির্মাণ করতে আমৃত্যু সাধনা করেন।

মাম-বাবার প্রতিও রয়েছে সন্তানের কিছু দায়িত্ব। মা-বাবার অসুস্থতা, বার্ধক্য ও বেদনার দিনগুলোতে ভালোবাসা, আদর ও সেবার ব্রত নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা শুধুই দায়িত্ব নয়, রয়েছে বিশেষ সওয়াবও। তাদের দেখাশোনা করা ইবাদত।

আম্মা-আব্বাই সন্তানের জান্নাত-জাহান্নাম। সন্তানের জান্নাত-জাহান্নাম নির্ধারণ হয় আম্মা-আব্বার খুশি-অখুশির ওপর। জান্নাতের স্বপ্ন দেখে মানুষ তখনই তৃপ্তি পাবে, যখন তার ঘরের জান্নাত আম্মা-আব্বা তার ওপর সন্তুষ্ট। ঘরের জান্নাত অসন্তুষ্ট কিংবা তাদের মনে কষ্টে দিয়ে কেউ জান্নাতের অধিবাসী হতে পারবে না। আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পিতা-মাতাই তোমার জান্নাত ও জাহান্নাম। অর্থাৎ তুমি ইচ্ছা করলে তাদের খেদমত করে উত্তম আচরণের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারো; আবার ইচ্ছা করলে অবাধ্যতার ফলস্বরূপ জাহান্নামে প্রবেশ করতে পারো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪২১)

আম্মা-আব্বার চেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ পৃথিবীতে আর কী আছে? তাদের মতো এত যত্ন নিয়ে, মায়া-মমতার সঙ্গে নিখুঁত ও নির্ভেজাল ভালোবাসা আর কে দিতে পারে?

আমরা আমাদের জীবনসঙ্গিনী ও প্রেমিককে নানাভাবে ভালোবাসা বোঝানোর চেষ্টা করি। কারও প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে বর্ণিল আয়োজন করি। মনকাড়া সুন্দর সুন্দর উপহার দিই। খুব যতনে বুকের তুরঙ্গে তুলে রাখি ভালোবাসার অনবদ্য ৭০০ কবিতা। এনে দিতে চাই ১০৮টা নীলপদ্ম। শহরের দেয়াল ছেয়ে দিতে চাই প্রণয়ের পোস্টারে। কিন্তু কখনোও কি খুব আয়োজন করে আম্মা-আব্বাকে বলেছি, ভালোবাসি। গভীর রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর কখনো কি ইচ্ছে হয়েছে, আম্মা-আব্বার দরজায় কড়া নেড়ে বলি, ভালোবাসি।

আমরা বোধহয় জীবনে সবচেয়ে বেশি ভুল করি আম্মা-আব্বার সঙ্গে। জীবনে সবচেয়ে বেশি জ্বালাতন করি তাদের। অথচ কোনো দিন বলা হয় না, ‘সরি, আমার ভুল হয়েছে। আমাকে ক্ষমা করো।’ আর ওই মানুষগুলো সন্তানের জন্য দুঃখ পুষে রাখেন না। দুঃখকে বড়ো করেন না। সন্তান শত কষ্ট দিলেও প্রভুর কাছে প্রতিটি সেজদায় বলেন, ‘আমার নাড়িছেঁড়া ধনকে তুমি ভালো রেখ আল্লাহ।’

জীবনে কত মানুষের প্রশংসা করেছি এবং কতজনের প্রশংসা করছি, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। এদিকে যে আম্মা-আব্বা এত যতনে আমাদের ভালোবাসেন, এক জীবনে তাদের প্রশংসা করা হয় না।

চলুন, চোখ বন্ধ করি। মনে করি আম্মা-আব্বাকে। তাদের স্মৃতিগুলো। তাদের ভালোবাসা, আদর, যত্ন আর ত্যাগসমূহ। তাদের জন্য জীবন সাজাই। তাদের মুখে হাসি ফোটাই। তারা খুশি হয়, এমন কাজ করি। হৃদয়ের গভীর থেকে পাঠ করি—

رَبِّ ٱرۡحَمۡهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرٗا

উচ্চারণ: রব্বির হাম হুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগিরা।

অর্থ: হে আল্লাহ, আম্মা-আব্বা আমাদের যেভাবে আদর করেছেন, যত্ন করেছেন, আগলে রেখেছেন, তুমি তাদের সেভাবে রেখো।

জান্নাতে আল্লাহর পাশে ঘর চেয়েছেন যে নারী 
ফেরাউন ছিল মিসরের বাদশাহদের উপাধি। হজরত ইসার (আ.) জন্মের তিন হাজার বছর আগ থেকে বাদশাহ সিকান্দারের যুগ পর্যন্ত ফেরাউনের একত্রিশতম বংশ মিসরের ওপর রাজত্ব করে আসছে। মুসার (আ.) জন্মের সময় মিসরের বাদশাহ ছিল দ্বিতীয় রিমসিস বা রামেসিস। সে মিসরের শাসকদের উনবিংশ বংশধর। তারই কাছে মুসা (আ.) বেড়ে উঠেন। (কাসাসুল কোরআন, মূল: মাওলানা হিফজুর রহমান, অনুবাদ: আব্দুস সাত্তার আইনী, মাকতাবাতুল ইসলাম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১২-১৫) আসিয়া বিনতে মুজাহিম মিসরের ফেরাউন দ্বিতীয় রিমসিসের স্ত্রী। আসিয়া ধনী পরিবারের ভদ্র, শালীন ও জ্ঞানী মেয়ে। তিনি এক আল্লাহ বিশ্বাস করতেন। মানুষ ভালোবাসতেন, মানুষের প্রতি দয়া করতেন। অসহায়ের পাশে দাঁড়াতেন।  স্বামী ফেরাউন নিজেকে স্রষ্টা দাবি করত। সে ছিল অত্যাচারী ও বদমেজাজি বাদশাহ। অহংকার, দম্ভ ও অহমিকায় পরিপূর্ণ ছিল তার মসনদ।  ফেরাউন বনি ইসরায়েলিদের পছন্দ করত না। অত্যাচার করত। ফেরাউন স্বপ্নের ব্যাখ্যায় জানতে পেরেছিল, বনি ইসরায়েলের এক ছেলেসন্তান তার মসনদ ধ্বংস করে দেবে। সে বনি ইসরায়েলে জন্ম নেওয়া পুত্রসন্তানদের হত্যার আদেশ জারি করেছিল। এ সময় মুসার (আ.) জন্ম হয়। আল্লাহ মুসাকে (আ.) ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন।  আল্লাহর আদেশে শিশু মুসার মা তাঁকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কাঠের সিন্দুকে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন। এই সিন্দুক ফেরাউনের স্ত্রী আল্লাহবিশ্বাসী আসিয়ার হাতে পড়ে। শিশু মুসার অপূর্ব সুন্দর চেহারা আসিয়ার মনে দাগ কাটে। তাঁর প্রতি মায়া জন্মায়। মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা প্রবলভাবে জেগে ওঠে আসিয়ার মনে। তিনি তাকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন।  ছেলেসন্তান দেখে ফেরাউন চটে যায়। কিন্তু স্ত্রীর ব্যক্তিত্বের কাছে হেরে যায় সে। আসিয়ার কাছে রাজকীয় সুখানন্দে মুসা লালিত-পালিত হতে থাকেন, বড় হতে থাকেন। আসিয়া লাভ করেন মুসার (আ.) পালকমাতা হওয়ার গৌরব। পবত্রি কোরআনে এরশাদ এসেছে, ‘ফেরাউনের স্ত্রী বলল, এ শিশু আমার ও তোমার চোখ শীতলকারী। তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। অথচ তারা উপলব্ধি করতে পারেনি।’  (সুরা কাসাস, আয়াত: ৯)  আসিয়া ফেরাউনের স্ত্রী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু ফেরাউনের দুশ্চরিত্রের কোনো স্বভাব তাকে গ্রাস করতে পারেনি। অত্যাচারীর ঘরে থেকেও তিনি ছিলেন মানবতাবাদী ও মানুষের হিতৈষী।  আসিয়া তখন অবিশ্বাসী। তার স্বামী ফেরাউনই খোদা। একদিন নারীদের অন্দরমহলে বসে আছেন আসিয়া। ফেরাউনের অন্য স্ত্রী, মেয়ে ও দাসীরাও আছেন সেখানে। প্রাসাদের কোষাধ্যক্ষের স্ত্রী ফেরাউনের এক মেয়ের চুল বিনুনি করছিল। হঠাৎ তার হাত থেকে চিরুনি পড়ে গেল। সে বলল, ‘আল্লাহ অবিশ্বাসীরা ধ্বংস হোক’। ফেরাউনের মেয়ে এ কথা শুনে চমকে গেল। বলল, ‘আমার বাবা ছাড়াও কি কোনো রব আছে।’ তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমার রব, আপনার আব্বারও রব, দুনিয়ার সবকিছুর পালনকর্তা।’ ফেরাউনের মেয়ে তার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। বিষয়টি জানাল বাবাকে।  ফেরাউন তাকে ডেকে পাঠাল। তার রব এবং ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। সে বলল, ‘আমি আমার রব, আপনার রব এবং প্রত্যেক বস্তুর রবের ইবাদত করি। শুধু তাঁরই ইবাদত করব।’ ফেরাউন জ্বলে উঠল। তাকে নানাবিধ শাস্তি দিল। তাঁর হাত-পায়ে পেরেক মেরে দিল। সাপ ছেড়ে দিল তাঁর ওপর। তবুও সে ঈমানে অবিচল রইল। আল্লাহপ্রেমে ডুবে রইল।  ফেরাউন বলল, ‘তুমি নিবৃত্ত না হলে তোমার ছেলেকে জবাই করব।’  সে বলল, ‘তোমার যা ইচ্ছা করো, আমার রব শুধু তিনিই।’  ফেরাউন তার চোখের সামনে এক ছেলেকে জবাই করে ফেলল। ছেলের আত্মা তাকে সুসংবাদ দিল। আল্লাহর প্রতিদানের কথা বলল। বিশ্বাসী নারী ধৈর্য ধরল। ঈমানের ওপর অবিচল রইল। ফেরাউন আরেকদিন এসে তাকে আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার প্রস্তাব করল। বিশ্বাসী নারী আল্লাহপ্রেমে মজে রইল। ফেরাউন তার আরেক ছেলেকে চোখের সামনে জবাই করে দিল। এই ছেলের আত্মা আগের ছেলের মতো সুসংবাদ দিল। আল্লাহর প্রতিদানের কথা স্মরণ করাল।  একদিন বিশ্বাসী নারীকেও জবাই করল ফেরাউন। তার আত্মাও জান্নাতের নেয়ামত ও আল্লাহর প্রতিদানের কথা সগৌরবে বলল। বিশ্বাসী নারী এবং তার দুই সন্তানের আত্মার কথা শুনে ঈমান আনেন ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া। (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১১৪)   নিজের স্ত্রী অন্যের উপাসনা করে—এমন খবর জানতে পেরে ফেরাউন স্ত্রীকে বোঝাতে থাকে। নিজের বিশাল সাম্রাজ্য ও প্রজাদের কথা বলে। কিন্তু আসিয়া সত্য ধর্মের ওপর পাহাড়ের মতো অবিচল, অটল থাকে। ফেরাউন দেখল, কাজ হয় না। স্ত্রী ফিরে আসছে না তার দলে। সে বিশেষ লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করে আসিয়াকে হত্যার আদেশ দেয়।   একদিন ফেরাউনের সৈন্য-সামন্তরা আসিয়ার চার হাত-পায়ে পেরেক মেরে বুকের ওপর ভারী পাথর রেখে উত্তপ্ত সূর্যের নিচে ফেলে দেয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, ফেরাউন একটি ভারী পাথর তাঁর মাথার ওপর ফেলে দেয়। (তাফসিরে মাজহারির সূত্রে তাফসিরে মারেফুল কোরআন, মূল: মুফতি মুহাম্মাদ শফি, অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, পৃষ্ঠা: ১৩৮৯) আসিয়ার দেহ রক্তাক্ত হয়। শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়। তবু তিনি মুখে জারি রাখেন আল্লাহর নাম। অন্তরে জাগিয়ে রাখেন প্রভুপ্রেমের স্বাদ। জীবনের বিনিময়ে ঈমানকে রক্ষা করেন। দুনিয়ার রাজপ্রাসাদের বিনিময়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন জান্নাতে আল্লাহর পাশে একটি ঘর।  তাঁর প্রার্থনার কথা কোরআনে এসেছে এভাবে—‘হে আমার প্রতিপালক, আমার জন্য আপনার কাছে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করুন। আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন। আমাকে মুক্তি দিন অত্যাচারী সম্প্রদায় থেকে।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ১১) 
জান্নাতে আল্লাহর পাশে ঘর চেয়েছেন যে নারী 
নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে?
আমরা হয়তো মোবাইলে ব্যস্ত বা পড়াশোনা করছি কিংবা সামান্য কাজে লেগে আছি, কিন্তু ওই দিকে মা আমাদের ডাকছেন—তখন অনেকেই বলি, ‘একটু পরে আসছি’। সাধারণত নিজেদের ব্যস্ততা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কখনো আবার ইচ্ছে করে না শোনার ভান করে থাকি বা সাড়া না দিয়ে এড়িয়ে যাই। আমাদের কারও কারও কাছে শিক্ষকের আহ্বান, বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা, খেলাধুলা মায়ের ডাকের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। তাদের ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো সময় থাকে না। মনে রাখতে হবে, মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া, তার কথামতো চলা, তাকে সময় দেওয়া সওয়াবের কাজ। আপনি নফল নামাজ পড়ছেন, ওই দিকে আপনার মা ডাকছেন। ভাবছেন, এদিকে আমার নামাজ, ওই দিকে মা ডাকছেন—এ অবস্থায় কী করতে পারি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ের সমাধান দিয়েছেন।  প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোলনায় শুধু তিন ব্যক্তিই কথা বলেছে। মরিয়মের ছেলে ইসা (আ.) ও জুরাইজের সঙ্গী। জুরাইজ ছিল একজন ইবাদতকারী ও আল্লাহভীরু মানুষ। সে একটি গির্জা নির্মাণ করেছিল। এক দিন গির্জায় নামাজরত ছিল। এমন সময় তার মা এসে ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ তখন মনে মনে ভাবতে লাগল, ‘হায় আল্লাহ! একদিকে আমার মা আরেক দিকে নামাজ।’ সে নামাজে মন দিল। তার মা ফিরে গেলেন। পরদিন মা আবার এলেন। তখনও জুরাইজ নামাজে। মা ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ মনে মনে ভাবল, হায় আল্লাহ! আমার মা আমার নামাজ...।’ তারপর সে নামাজে মনোযোগী হলো। মা চলে গেলেন। পরের দিন যথারীতি তিনি আবার এলেন। জুরাইজ তখনও নামাজে মশগুল। মা ডাকলেন—জুরাইজ।’ জুরাইজ মনে মনে বলল, হে আল্লাহ, আমার মা একদিকে অন্যদিকে আমার নামাজ...।’ (আমি কোন দিকে যাব!) এই ভেবে সে নামাজে মন দিল। তখন মা বললেন, হে আল্লাহ, কোনো বারাঙ্গনার মুখ না দেখা পর্যন্ত ওর মৃত্যু দিয়ো না।’ বনি ইসরায়েলের মধ্যে জুরাইজের ইবাদত-বন্দেগি বিপুল চর্চা পেল। মানুষের মুখে মুখে জুরাইজ। এদিকে এক গণিকা নারী ছিল প্রবাদতুল্য সুন্দরী। সে বলল, তোমরা চাইলে আমি জুরাইজকে পরীক্ষায় ফেলে দিতে পারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এরপর সেই গণিকা জুরাইজের কাছে এলো। জুরাইজ তার দিকে তাকাল না। এদিকে গির্জায় এক রাখালের যাতায়াত ছিল। অপরাধিনী তার কাছে গেল। তাকে পাপ কাজের সুযোগ দিল। রাখাল তার সঙ্গে মিলিত হলো। এরপর সে গর্ভধারণ করল। সন্তান প্রসব করে বলে বেড়াল, এটা জুরাইজের সন্তান। গণিকার এ কথা শুনে বনি ইসরায়েলের লোকেরা ছুটে এল। জুরাইজকে গির্জা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামাল। গির্জা ভেঙে ফেলল। মারধর করল। বিস্মিত জুরাইজ জানতে চাইল, ‘তোমাদের কী হয়েছে?’ লোকেরা বলল, তুমি এই বারাঙ্গনার সঙ্গে পাপ কাজ করেছো। সে তোমার সন্তান প্রসব করেছে। জুরাইজ জিজ্ঞেস করল, প্রসবিত সেই শিশুটি কোথায়? তারা শিশুকে নিয়ে এলো। জুরাইজ বলল, আমাকে নামাজ পড়তে দাও। সে নামাজ আদায় করল। এরপর শিশুটির কাছে এসে পেটে খোঁচা দিয়ে বলল, ‘এই খোকন, তোমার বাবা কে?’ শিশুটি রাখালের নাম বলল। এরপর সবাই ছুটে এলো জুরাইজের দিকে। তার কপালে চুমো খেল। তাকে ছুঁয়ে বরকত নিতে নিতে বলল, ‘আমরা সোনা দিয়ে তোমার গির্জাঘরটি বানিয়ে দিই।’ জুরাইজ বলল, ‘না, মাটির ছিল, মাটি দিয়েই বানিয়ে দাও।’ তারা তাই করল।’ তৃতীয়জন বনি ইসরায়েলের এক শিশু। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৩৬) মনীষী মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির (রহ.) বলেন, ‘আপনি নামাজ (নফল) পড়াবস্থায় যদি আপনার মা-বাবা ডাক দেন, তাহলে নামাজ ছেড়ে তার ডাকে সাড়া দেবেন।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন মসজিদে নববিতে বসে আছেন। এক সাহাবি মা-বাবাকে কাঁদিয়ে তাঁর কাছে এলেন। উদ্দেশ্য বাইয়াত নেবেন। নবী (সা.) জানতে পারলেন, লোকটি তার মা-বাবাকে কাঁদিয়ে এসেছে। তিনি বললেন, ‘তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও। তাদের যেভাবে কাঁদিয়েছো, সেভাবে গিয়ে হাসাও।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫২৮)   আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘নফল নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া না দিলে গোনাহ হবে কি না’ এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মা যদি স্বাভাবিকভাবে ডাকেন—যে ডাকে বোঝা যায়, খুব দরকারে তিনি ডাকছেন না—এমনি ডাকছেন, তাহলে নামাজ শেষ করে মায়ের ডাকে সাড়া দিলে কোনো গুনাহ হবে না। তবে তিনি যদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা জটিল কোনো বিষয়ের জন্য ডাকেন—বারবার ডাকেন—তাহলে নফল নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দিতে হবে।’
নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে?
সৌদি পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী
পবিত্র হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট ১৩০টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা। রোববার (১০ মে) ঢাকা হজ অফিস থেকে পাঠানো সবশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬০টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছান ২৩ হাজার ৯৬০ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৮টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪৮৮ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গিয়ে ১২ হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত যেসব হজযাত্রী মারা গেছেন তাদের মধ্যে দশজন পুরুষ ও দুজন নারী। এদের মধ্যে দশজন পবিত্র মক্কায় ও দুজন মদিনায় মারা গেছেন। বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি যাত্রা করে ১৮ এপ্রিল। ওই দিন ৪১৮ হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।   এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা শেষ হবে ১ জুলাই।
সৌদি পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। জামাতে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের সঙ্গে তুলনীয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরেও ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আছে। নামাজ আদায়কারী আল্লাহর প্রিয়। তার জন্য রয়েছে বহু পুরস্কার। নামাজ পড়া ছাড়া কোনো মুসলিম পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না। কোরআনের অনেক জায়গায় নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নামাজের আদেশ করা হয়েছিল পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও। তাই সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ইমানি দায়িত্ব। রোববার (১০ মে), ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা, ২১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময় তুলে ধরা হলো— জোহর-১১:৫৬ মিনিট আসর-৪:৩২ মিনিট মাগরিব-৬:৩৪ মিনিট এশা-৭:৫৩ মিনিট ফজর (সোমবার)-৩:৫৬ মিনিট অন্যান্য বিভাগে নামাজের সময়সূচিতে কয়েক মিনিট যোগ/বিয়োগ করতে হবে। বিয়োগ চট্টগ্রাম : ৫ মিনিট সিলেট : ৬ মিনিট যোগ খুলনা : ৩ মিনিট রাজশাহী : ৭ মিনিট রংপুর : ৮ মিনিট বরিশাল : ১ মিনিট
আজকের নামাজের সময়সূচি
একসঙ্গে তিনজন থাকলে যেভাবে কথা বলতে নিষেধ করেছেন মহানবী (সা.)
কোনো আড্ডা বা বৈঠকে তিনজন একসঙ্গে থাকলে একজনকে পাশ কাটিয়ে দুজন পরস্পর কানাঘুষা করা যাবে না। এ রকম করতে নিষেধ করেছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। একজনকে পাশ কাটিয়ে কানাঘুষা শুরু করলে তৃতীয় ব্যক্তি নিজেকে অনুপ্রবেশকারী ভাববে। এ রকম আচরণ তাকে আতঙ্কিত করবে। সে কষ্ট পাবে। চিন্তিত হবে। সে নিজেকে একা ও নিঃসঙ্গ অনুভব করবে। এ কারণেই হাদিসে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে।  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোথাও তোমরা তিনজন থাকো, তখন একজনকে বাদ দিয়ে দুজনে কানে কানে কথা বলবে না। এতে তার মনে দুঃখ হবে। তবে তোমরা মানুষের মধ্যে মিশে গেলে তা করতে দোষ নেই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৯৩২) আরেক হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তিনজন আলাপরত থাকলে একজনকে পাশ কাটিয়ে দুজন কানাঘুষায় লিপ্ত হয়ো না।’ হাদিসটি বর্ণনা করে সুফিয়ান (রহ.) বলেন, ‘একজনকে বাদ রেখে দুজনে কানাকানি করলে তৃতীয়জনের মনে দুঃখ লাগে।’ কানাঘুষা করলে তৃতীয় ব্যক্তি কষ্ট পায়। কাউকে কষ্ট দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। মানুষকে কষ্ট দেওয়া আল্লাহর পছন্দ নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একজনকে বাদ রেখে দুজন পরস্পর আলাপে লিপ্ত হবে না। কারণ এতে তার মনে কষ্ট লাগবে। আর মুমিনকে কষ্ট দেওয়া আল্লাহ তাআলার পছন্দ নয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৮২৫) ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তৃতীয়জনকে বাদ রেখে দুজনে আলাপচারিতায় মেতে উঠবে না। কারণ এতে তৃতীয়জন কষ্ট পায়। বর্ণনাকারী আবু সালেহ বলেন, ‘আমি ইবনে উমরকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলাম, যদি চারজন থাকে? উত্তরে তিনি বললেন, ‘তাহলে সমস্যা নেই।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৫২)    পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যে কথাই মানুষ উচ্চারণ করে (তা সংরক্ষণের জন্য) তার কাছে একজন সদা তৎপর প্রহরী আছে।’ (সুরা কাফ, আয়াত: ১৮)। আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা লোকের সঙ্গে উত্তমভাবে কথা বলবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮৩)
একসঙ্গে তিনজন থাকলে যেভাবে কথা বলতে নিষেধ করেছেন মহানবী (সা.)
জান্নাতে আল্লাহর পাশে ঘর চেয়েছেন যে নারী 
জান্নাতে আল্লাহর পাশে ঘর চেয়েছেন যে নারী 
ফেরাউন ছিল মিসরের বাদশাহদের উপাধি। হজরত ইসার (আ.) জন্মের তিন হাজার বছর আগ থেকে বাদশাহ সিকান্দারের যুগ পর্যন্ত ফেরাউনের একত্রিশতম বংশ মিসরের ওপর রাজত্ব করে আসছে। মুসার (আ.) জন্মের সময় মিসরের বাদশাহ ছিল দ্বিতীয় রিমসিস বা রামেসিস। সে মিসরের শাসকদের উনবিংশ বংশধর। তারই কাছে মুসা (আ.) বেড়ে উঠেন। (কাসাসুল কোরআন, মূল: মাওলানা হিফজুর রহমান, অনুবাদ: আব্দুস সাত্তার আইনী, মাকতাবাতুল ইসলাম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১২-১৫) আসিয়া বিনতে মুজাহিম মিসরের ফেরাউন দ্বিতীয় রিমসিসের স্ত্রী। আসিয়া ধনী পরিবারের ভদ্র, শালীন ও জ্ঞানী মেয়ে। তিনি এক আল্লাহ বিশ্বাস করতেন। মানুষ ভালোবাসতেন, মানুষের প্রতি দয়া করতেন। অসহায়ের পাশে দাঁড়াতেন।  স্বামী ফেরাউন নিজেকে স্রষ্টা দাবি করত। সে ছিল অত্যাচারী ও বদমেজাজি বাদশাহ। অহংকার, দম্ভ ও অহমিকায় পরিপূর্ণ ছিল তার মসনদ।  ফেরাউন বনি ইসরায়েলিদের পছন্দ করত না। অত্যাচার করত। ফেরাউন স্বপ্নের ব্যাখ্যায় জানতে পেরেছিল, বনি ইসরায়েলের এক ছেলেসন্তান তার মসনদ ধ্বংস করে দেবে। সে বনি ইসরায়েলে জন্ম নেওয়া পুত্রসন্তানদের হত্যার আদেশ জারি করেছিল। এ সময় মুসার (আ.) জন্ম হয়। আল্লাহ মুসাকে (আ.) ফেরাউনের কবল থেকে রক্ষা করেছিলেন।  আল্লাহর আদেশে শিশু মুসার মা তাঁকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় কাঠের সিন্দুকে ভরে নীল নদে ভাসিয়ে দেন। এই সিন্দুক ফেরাউনের স্ত্রী আল্লাহবিশ্বাসী আসিয়ার হাতে পড়ে। শিশু মুসার অপূর্ব সুন্দর চেহারা আসিয়ার মনে দাগ কাটে। তাঁর প্রতি মায়া জন্মায়। মাতৃত্বের আকাঙ্ক্ষা প্রবলভাবে জেগে ওঠে আসিয়ার মনে। তিনি তাকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেন।  ছেলেসন্তান দেখে ফেরাউন চটে যায়। কিন্তু স্ত্রীর ব্যক্তিত্বের কাছে হেরে যায় সে। আসিয়ার কাছে রাজকীয় সুখানন্দে মুসা লালিত-পালিত হতে থাকেন, বড় হতে থাকেন। আসিয়া লাভ করেন মুসার (আ.) পালকমাতা হওয়ার গৌরব। পবত্রি কোরআনে এরশাদ এসেছে, ‘ফেরাউনের স্ত্রী বলল, এ শিশু আমার ও তোমার চোখ শীতলকারী। তাকে হত্যা করো না। এ আমাদের উপকারে আসতে পারে অথবা আমরা তাকে সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। অথচ তারা উপলব্ধি করতে পারেনি।’  (সুরা কাসাস, আয়াত: ৯)  আসিয়া ফেরাউনের স্ত্রী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু ফেরাউনের দুশ্চরিত্রের কোনো স্বভাব তাকে গ্রাস করতে পারেনি। অত্যাচারীর ঘরে থেকেও তিনি ছিলেন মানবতাবাদী ও মানুষের হিতৈষী।  আসিয়া তখন অবিশ্বাসী। তার স্বামী ফেরাউনই খোদা। একদিন নারীদের অন্দরমহলে বসে আছেন আসিয়া। ফেরাউনের অন্য স্ত্রী, মেয়ে ও দাসীরাও আছেন সেখানে। প্রাসাদের কোষাধ্যক্ষের স্ত্রী ফেরাউনের এক মেয়ের চুল বিনুনি করছিল। হঠাৎ তার হাত থেকে চিরুনি পড়ে গেল। সে বলল, ‘আল্লাহ অবিশ্বাসীরা ধ্বংস হোক’। ফেরাউনের মেয়ে এ কথা শুনে চমকে গেল। বলল, ‘আমার বাবা ছাড়াও কি কোনো রব আছে।’ তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমার রব, আপনার আব্বারও রব, দুনিয়ার সবকিছুর পালনকর্তা।’ ফেরাউনের মেয়ে তার গালে থাপ্পড় বসিয়ে দিল। বিষয়টি জানাল বাবাকে।  ফেরাউন তাকে ডেকে পাঠাল। তার রব এবং ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। সে বলল, ‘আমি আমার রব, আপনার রব এবং প্রত্যেক বস্তুর রবের ইবাদত করি। শুধু তাঁরই ইবাদত করব।’ ফেরাউন জ্বলে উঠল। তাকে নানাবিধ শাস্তি দিল। তাঁর হাত-পায়ে পেরেক মেরে দিল। সাপ ছেড়ে দিল তাঁর ওপর। তবুও সে ঈমানে অবিচল রইল। আল্লাহপ্রেমে ডুবে রইল।  ফেরাউন বলল, ‘তুমি নিবৃত্ত না হলে তোমার ছেলেকে জবাই করব।’  সে বলল, ‘তোমার যা ইচ্ছা করো, আমার রব শুধু তিনিই।’  ফেরাউন তার চোখের সামনে এক ছেলেকে জবাই করে ফেলল। ছেলের আত্মা তাকে সুসংবাদ দিল। আল্লাহর প্রতিদানের কথা বলল। বিশ্বাসী নারী ধৈর্য ধরল। ঈমানের ওপর অবিচল রইল। ফেরাউন আরেকদিন এসে তাকে আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার প্রস্তাব করল। বিশ্বাসী নারী আল্লাহপ্রেমে মজে রইল। ফেরাউন তার আরেক ছেলেকে চোখের সামনে জবাই করে দিল। এই ছেলের আত্মা আগের ছেলের মতো সুসংবাদ দিল। আল্লাহর প্রতিদানের কথা স্মরণ করাল।  একদিন বিশ্বাসী নারীকেও জবাই করল ফেরাউন। তার আত্মাও জান্নাতের নেয়ামত ও আল্লাহর প্রতিদানের কথা সগৌরবে বলল। বিশ্বাসী নারী এবং তার দুই সন্তানের আত্মার কথা শুনে ঈমান আনেন ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া। (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ১১৪)   নিজের স্ত্রী অন্যের উপাসনা করে—এমন খবর জানতে পেরে ফেরাউন স্ত্রীকে বোঝাতে থাকে। নিজের বিশাল সাম্রাজ্য ও প্রজাদের কথা বলে। কিন্তু আসিয়া সত্য ধর্মের ওপর পাহাড়ের মতো অবিচল, অটল থাকে। ফেরাউন দেখল, কাজ হয় না। স্ত্রী ফিরে আসছে না তার দলে। সে বিশেষ লোকদের সঙ্গে পরামর্শ করে আসিয়াকে হত্যার আদেশ দেয়।   একদিন ফেরাউনের সৈন্য-সামন্তরা আসিয়ার চার হাত-পায়ে পেরেক মেরে বুকের ওপর ভারী পাথর রেখে উত্তপ্ত সূর্যের নিচে ফেলে দেয়। কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, ফেরাউন একটি ভারী পাথর তাঁর মাথার ওপর ফেলে দেয়। (তাফসিরে মাজহারির সূত্রে তাফসিরে মারেফুল কোরআন, মূল: মুফতি মুহাম্মাদ শফি, অনুবাদ: মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, পৃষ্ঠা: ১৩৮৯) আসিয়ার দেহ রক্তাক্ত হয়। শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়। তবু তিনি মুখে জারি রাখেন আল্লাহর নাম। অন্তরে জাগিয়ে রাখেন প্রভুপ্রেমের স্বাদ। জীবনের বিনিময়ে ঈমানকে রক্ষা করেন। দুনিয়ার রাজপ্রাসাদের বিনিময়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন জান্নাতে আল্লাহর পাশে একটি ঘর।  তাঁর প্রার্থনার কথা কোরআনে এসেছে এভাবে—‘হে আমার প্রতিপালক, আমার জন্য আপনার কাছে জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করুন। আমাকে ফেরাউন ও তার দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার করুন। আমাকে মুক্তি দিন অত্যাচারী সম্প্রদায় থেকে।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ১১) 
নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে?
নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া যাবে?
আমরা হয়তো মোবাইলে ব্যস্ত বা পড়াশোনা করছি কিংবা সামান্য কাজে লেগে আছি, কিন্তু ওই দিকে মা আমাদের ডাকছেন—তখন অনেকেই বলি, ‘একটু পরে আসছি’। সাধারণত নিজেদের ব্যস্ততা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কখনো আবার ইচ্ছে করে না শোনার ভান করে থাকি বা সাড়া না দিয়ে এড়িয়ে যাই। আমাদের কারও কারও কাছে শিক্ষকের আহ্বান, বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা, খেলাধুলা মায়ের ডাকের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। তাদের ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো সময় থাকে না। মনে রাখতে হবে, মায়ের ডাকে সাড়া দেওয়া, তার কথামতো চলা, তাকে সময় দেওয়া সওয়াবের কাজ। আপনি নফল নামাজ পড়ছেন, ওই দিকে আপনার মা ডাকছেন। ভাবছেন, এদিকে আমার নামাজ, ওই দিকে মা ডাকছেন—এ অবস্থায় কী করতে পারি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ের সমাধান দিয়েছেন।  প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোলনায় শুধু তিন ব্যক্তিই কথা বলেছে। মরিয়মের ছেলে ইসা (আ.) ও জুরাইজের সঙ্গী। জুরাইজ ছিল একজন ইবাদতকারী ও আল্লাহভীরু মানুষ। সে একটি গির্জা নির্মাণ করেছিল। এক দিন গির্জায় নামাজরত ছিল। এমন সময় তার মা এসে ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ তখন মনে মনে ভাবতে লাগল, ‘হায় আল্লাহ! একদিকে আমার মা আরেক দিকে নামাজ।’ সে নামাজে মন দিল। তার মা ফিরে গেলেন। পরদিন মা আবার এলেন। তখনও জুরাইজ নামাজে। মা ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ মনে মনে ভাবল, হায় আল্লাহ! আমার মা আমার নামাজ...।’ তারপর সে নামাজে মনোযোগী হলো। মা চলে গেলেন। পরের দিন যথারীতি তিনি আবার এলেন। জুরাইজ তখনও নামাজে মশগুল। মা ডাকলেন—জুরাইজ।’ জুরাইজ মনে মনে বলল, হে আল্লাহ, আমার মা একদিকে অন্যদিকে আমার নামাজ...।’ (আমি কোন দিকে যাব!) এই ভেবে সে নামাজে মন দিল। তখন মা বললেন, হে আল্লাহ, কোনো বারাঙ্গনার মুখ না দেখা পর্যন্ত ওর মৃত্যু দিয়ো না।’ বনি ইসরায়েলের মধ্যে জুরাইজের ইবাদত-বন্দেগি বিপুল চর্চা পেল। মানুষের মুখে মুখে জুরাইজ। এদিকে এক গণিকা নারী ছিল প্রবাদতুল্য সুন্দরী। সে বলল, তোমরা চাইলে আমি জুরাইজকে পরীক্ষায় ফেলে দিতে পারি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এরপর সেই গণিকা জুরাইজের কাছে এলো। জুরাইজ তার দিকে তাকাল না। এদিকে গির্জায় এক রাখালের যাতায়াত ছিল। অপরাধিনী তার কাছে গেল। তাকে পাপ কাজের সুযোগ দিল। রাখাল তার সঙ্গে মিলিত হলো। এরপর সে গর্ভধারণ করল। সন্তান প্রসব করে বলে বেড়াল, এটা জুরাইজের সন্তান। গণিকার এ কথা শুনে বনি ইসরায়েলের লোকেরা ছুটে এল। জুরাইজকে গির্জা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামাল। গির্জা ভেঙে ফেলল। মারধর করল। বিস্মিত জুরাইজ জানতে চাইল, ‘তোমাদের কী হয়েছে?’ লোকেরা বলল, তুমি এই বারাঙ্গনার সঙ্গে পাপ কাজ করেছো। সে তোমার সন্তান প্রসব করেছে। জুরাইজ জিজ্ঞেস করল, প্রসবিত সেই শিশুটি কোথায়? তারা শিশুকে নিয়ে এলো। জুরাইজ বলল, আমাকে নামাজ পড়তে দাও। সে নামাজ আদায় করল। এরপর শিশুটির কাছে এসে পেটে খোঁচা দিয়ে বলল, ‘এই খোকন, তোমার বাবা কে?’ শিশুটি রাখালের নাম বলল। এরপর সবাই ছুটে এলো জুরাইজের দিকে। তার কপালে চুমো খেল। তাকে ছুঁয়ে বরকত নিতে নিতে বলল, ‘আমরা সোনা দিয়ে তোমার গির্জাঘরটি বানিয়ে দিই।’ জুরাইজ বলল, ‘না, মাটির ছিল, মাটি দিয়েই বানিয়ে দাও।’ তারা তাই করল।’ তৃতীয়জন বনি ইসরায়েলের এক শিশু। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৩৬) মনীষী মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির (রহ.) বলেন, ‘আপনি নামাজ (নফল) পড়াবস্থায় যদি আপনার মা-বাবা ডাক দেন, তাহলে নামাজ ছেড়ে তার ডাকে সাড়া দেবেন।’ রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন মসজিদে নববিতে বসে আছেন। এক সাহাবি মা-বাবাকে কাঁদিয়ে তাঁর কাছে এলেন। উদ্দেশ্য বাইয়াত নেবেন। নবী (সা.) জানতে পারলেন, লোকটি তার মা-বাবাকে কাঁদিয়ে এসেছে। তিনি বললেন, ‘তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও। তাদের যেভাবে কাঁদিয়েছো, সেভাবে গিয়ে হাসাও।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫২৮)   আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘নফল নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া না দিলে গোনাহ হবে কি না’ এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘মা যদি স্বাভাবিকভাবে ডাকেন—যে ডাকে বোঝা যায়, খুব দরকারে তিনি ডাকছেন না—এমনি ডাকছেন, তাহলে নামাজ শেষ করে মায়ের ডাকে সাড়া দিলে কোনো গুনাহ হবে না। তবে তিনি যদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বা জটিল কোনো বিষয়ের জন্য ডাকেন—বারবার ডাকেন—তাহলে নফল নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দিতে হবে।’
সৌদি পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী
সৌদি পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী
পবিত্র হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৫০ হাজার ৯০৪ হজযাত্রী। সরকারি-বেসরকারি মোট ১৩০টি ফ্লাইটে সৌদিতে পৌঁছান তারা। রোববার (১০ মে) ঢাকা হজ অফিস থেকে পাঠানো সবশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রোববার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৬০টি ফ্লাইটে সৌদি আরব পৌঁছান ২৩ হাজার ৯৬০ জন, সৌদি এয়ারলাইনসের ৪৮টি ফ্লাইটে ১৮ হাজার ৪৮৮ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২২টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৫৬ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছান। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এ বছর এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে গিয়ে ১২ হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত যেসব হজযাত্রী মারা গেছেন তাদের মধ্যে দশজন পুরুষ ও দুজন নারী। এদের মধ্যে দশজন পবিত্র মক্কায় ও দুজন মদিনায় মারা গেছেন। বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটটি যাত্রা করে ১৮ এপ্রিল। ওই দিন ৪১৮ হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।   এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে যাবেন ৫ হাজার ৫৬৫ জন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাবেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং তা শেষ হবে ১ জুলাই।
আজকের নামাজের সময়সূচি
আজকের নামাজের সময়সূচি
ইমানের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। নামাজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। জামাতে নামাজ আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা ওয়াজিবের সঙ্গে তুলনীয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বাইরেও ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আছে। নামাজ আদায়কারী আল্লাহর প্রিয়। তার জন্য রয়েছে বহু পুরস্কার। নামাজ পড়া ছাড়া কোনো মুসলিম পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না। কোরআনের অনেক জায়গায় নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নামাজের আদেশ করা হয়েছিল পূর্ববর্তী নবী-রাসুলদেরও। তাই সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ইমানি দায়িত্ব। রোববার (১০ মে), ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বাংলা, ২১ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি। ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময় তুলে ধরা হলো— জোহর-১১:৫৬ মিনিট আসর-৪:৩২ মিনিট মাগরিব-৬:৩৪ মিনিট এশা-৭:৫৩ মিনিট ফজর (সোমবার)-৩:৫৬ মিনিট অন্যান্য বিভাগে নামাজের সময়সূচিতে কয়েক মিনিট যোগ/বিয়োগ করতে হবে। বিয়োগ চট্টগ্রাম : ৫ মিনিট সিলেট : ৬ মিনিট যোগ খুলনা : ৩ মিনিট রাজশাহী : ৭ মিনিট রংপুর : ৮ মিনিট বরিশাল : ১ মিনিট