হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনার অধিপতি। পুরো দেশ তাঁর হাতের মুঠোয়। কিন্তু নিজে থাকতেন খেজুরপাতায় ছাওয়া সামান্য একটি ঘরে। এদিকে উটের পর উট বোঝাই সম্পদ জমা হচ্ছে তাঁর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। অথচ তাঁর ঘরে খাবার নেই। চুলায় নিয়মিত আগুন জ্বলছে না। তাঁর কাছে আসা মেহমানকে কখনো পাঠাতে হচ্ছে কোনো সাহাবির ঘরে। তিনি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা দিনভর খেয়ে আছেন সামান্য পানি আর খেজুর।
মহানবীর (সা.) সাধারণ জীবনযাপনের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে উমর (রা.) বলেন, ‘আমি দেখলাম, তাঁর পিঠে চাটাইয়ের দাগ পড়ে গেছে। এ অবস্থা দেখে আমি কেঁদে ফেললাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কাঁদছ কেন?’ বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল, কাইসার ও কিসরা কত আরামে আছে! অথচ আপনি আল্লাহর রাসুল।’ তিনি বলেন, ‘তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও, তাদের জন্য দুনিয়া এবং আমাদের জন্য আখেরাত।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৭৯)
বর্তমান রাষ্ট্রপতি তো দূরে থাক, সাধারণ সরকারি কর্মকর্তাদের কথাই ভাবুন। আধুনিক যাবতীয় সুবিধার কোনো কমতি নেই তাদের। পনের শ বছর আগের তৎকালীন পারস্য ও রোম সম্রাটরাও আলিশান জীবন যাপন করেছে। সাধারণ জীবনযাপন করেছেন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)।
বর্তমান বিশ্বে দেশের একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য থেকে শুরু করে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তরা অবৈধভাবে আলিশান জীবনযাপন করেন। কারও ব্যাংক অ্যাকউন্টে হাজারো কোটি টাকা। কারও সুরম্য ইমরাতের একাধিক আবাসন। দেশের বাইরেও রয়েছে অনেকের বিলাসবহুল বাড়ি ও ব্যাংক-ব্যালেন্স। প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব খবর প্রায়শই শোনা যায়।
সুদ-ঘুষ খেয়ে সম্পদশালী হওয়া বা দুনিয়াবিমুখ হওয়া অথবা বৈধ-অবৈধ রোজগার করা—এসব নির্ভর করে জীবনের লক্ষ্যের ওপর। যে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাতকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তার দ্বারা হারাম উপার্জন হওয়া একেবারেই অসম্ভব। সে সুদ-ঘুষ নেবে না। কারও ওপর জুলুম করে বাড়তি টাকা-পয়সা আদায় করবে না। এ ক্ষেত্রে তার ধ্যানে থাকবে—আল্লাহ সব কিছু দেখছেন। তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
আল্লাহমুখী ব্যক্তির প্রতিটি কাজের সময় তার পবিত্র মনে উদয় হবে, এই কাজ করে লাভ কী? এই কাজ কি আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে?
জীবনের লক্ষ্য যদি হয়, দুনিয়া ও শয়তানের অনুসরণ, তাহলে অবৈধ উপার্জন ও গুনাহ তার কাছে স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে উঠবে। সে যে কোনো কিছুর বিনিময়ে চাইবে প্রাচুর্যময় জীবন।
সুতরাং প্রতিটি কাজ করার আগে একবার ভাবুন, এই কাজ আপনি কেন করছেন? এই কাজের সঙ্গে আল্লাহর সন্তুষ্ট জড়িয়ে আছে কি না? আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি করবে কি না। সেটা হতে পারে আপনার খাবার, ঘুম, হাঁটা, মানুষের সঙ্গে আচার-ব্যবহার, পরিবার, রোজগার, নামাজসহ জীবনের প্রতিটি কাজ।




