দেশে এইডসে আক্রান্ত সমকামীদের প্রায় অর্ধেকই ২৫ পেরিয়েছেন। বাকিরা আরও কম বয়সি। এর মধ্যে ২১ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে, ৩১ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছর।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এসটিডি) তথ্য বলছে, আক্রান্ত সমকামীদের ৮০ ভাগই শিক্ষার্থী। তালিকায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, এমনকি মেডিকেলের শিক্ষার্থীও আছেন।
১৯৮৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দেশে এইডসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩১৩। এর মধ্যে মারা গেছেন দুই হাজার ৬৬৬ জন। বর্তমানে ১৬টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আট হাজার ৫০০ জন। তাদের প্রায় অর্ধেকই সমকামী।
২০২১ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭২৯। গত বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৯১-তে। ২০২৪ সালে শনাক্ত হয়েছিলেন এক হাজার ৪৩৮ জন। তবে রোগী বাড়লেও মৃত্যু কমেছে। ২০২৪ সালে মারা যান ৩২৬ জন, ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কমে ২৫৪-তে নেমে এসেছে।
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. আমানতুল্লাহ বলেন, আগে অনেকে আক্রান্ত হলেও আসত না। এখন আসছে, ফলে রোগী বাড়ছে। ডায়াগনোসিসের হার যত বাড়বে, রোগীও তত বাড়বে।
দেশে সর্বোচ্চ এইচআইভি শনাক্ত হয় রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। গত বছর এই কেন্দ্রে শনাক্ত হয়েছিলেন ২৯৩ জন। চলতি বছর প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০টি পরীক্ষা হচ্ছে, যার মধ্যে ২৮ থেকে ৩০ জনের সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের ৭০ শতাংশই সমকামী।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্তকরণ কেন্দ্র মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৫ শয্যার আলাদা চিকিৎসা ইউনিট রয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২২ জন চিকিৎসাধীন। প্রতিদিন ছয় থেকে ১০ জন আসছেন। ২০২৫ সালে এই কেন্দ্রে দুই হাজার ৯২টি পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ২৭২ জন, যার মধ্যে পুরুষ সমকামী ১১৭ জন। হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
হাসপাতালের পরামর্শক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. লিটন খান বলেন, এক সময় যৌনকর্মী ও মাদকসেবীদের মাঝে আক্রান্তের হার বেশি থাকলেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যাচ্ছে সমকামীদের মাঝে। তাদের বড় অংশই শিক্ষার্থী, এটি উদ্বেগজনক। অনেকে হয়তো এখনও লক্ষণ নিয়ে গোপনে রয়েছেন। পরিবেশ না পাওয়ায় অনেকে বলার সাহস পান না। এমনকি কাছের মানুষের সঙ্গেও আলোচনা করতে ভয় পান কেউ কেউ। কারণ, এইডসে আক্রান্ত জানলেই সামাজিকভাবে একধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়।




