ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

বৈশাখে মঞ্চ মাতাবেন জেমস-ইমরান-ঐশী

এশিয়া পোস্ট বিনোদন

  ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৬
জেমস-ইমরান-ঐশী। ছবি: কোলাজ

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে উৎসবের আমেজে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো দেশ। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজন করা হয়েছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট। এরই ধারাবাহিকতায় পাবনাতেও থাকছে বর্ণিল আয়োজন। শহরের এডওয়ার্ড কলেজ মাঠে সকাল ৯টা থেকে শুরু হবে বৈশাখী গানের আসর।

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এই অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চ মাতাবেন নগরবাউল খ্যাত জেমস। তার সঙ্গে আরও পারফর্ম করবেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ইমরান মাহমুদুল ও ঐশী। এ ছাড়া ‘ম্যাজিক বাউলিয়ানা ২০২৫’-এর সেরা তিন কণ্ঠশিল্পীও গান পরিবেশন করবেন। গানের পাশাপাশি থাকবে নৃত্য পরিবেশন।

এতে অংশ নেবেন মন্দিরা চক্রবর্তী এবং সোহাগ ড্যান্স ট্রুপ। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করবেন আলিফ এবং প্রযোজনায় থাকছেন অজয় পোদ্দার।
জানা গেছে, অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে মাছরাঙা টেলিভিশন, ফলে ঘরে বসেই দর্শকরা উপভোগ করতে পারবেন বৈশাখের এই বর্ণিল আয়োজন।

বিশ্বকাপে ঝড় তুলবেন ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা
আর মাত্র কয়েকটি দিন। আগামী মাসে বিশ্ব মাতবে ফুটবল উন্মাদনায়। আর সেই উন্মাদনার পারদ আরও উঁচুতে তুলতে ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের লাইনআপে যোগ দিলেন ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথভাবে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এবারের আয়োজনে উত্তর, মধ্য ও ক্যারিবিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (কনকাকাফ) ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসার পারফর্ম করার কথা ঘোষণা করেছে। আগেই জানানো হয়েছিল, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে একজন কে-পপ শিল্পী পারফর্ম করবেন। আর সেই একজন হবেন নারী কে-পপ শিল্পী। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠবেন লিসা। এর আগে বিটিএসের জাংকুক ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অফিসিয়াল সাউন্ডট্র্যাক ‘ড্রিমার্স’ পরিবেশন করেছিলেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সহযোগী ও ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, লিসা আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে একটি পারফরম্যান্স চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। যেহেতু এবারের বিশ্বকাপ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো—এই তিনটি দেশ আয়োজন করবে, তাই উদ্বোধন অনুষ্ঠানকেও তিনটি ভাগে উপস্থাপন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচের আগে ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম মাতাবেন। লিসার পাশাপাশি সেই অনুষ্ঠানে কেটি পেরি, ফিউচার এবং ডিজে স্নেকের মতো শিল্পীরাও পারফর্ম করবেন। কানাডার টরন্টোর অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন মাইকেল বুলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং অ্যালেসিয়া কারা। আর মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে থাকবেন রক ব্যান্ড মানা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা এবং তাইলা। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতিটি মঞ্চের জন্য ১৩ মিনিটের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে মেক্সিকোর মঞ্চটি চলবে ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
বিশ্বকাপে ঝড় তুলবেন ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা
মায়েরা কখনো ক্লান্ত হন না—এমন না
আজ বিশ্ব মা দিবস, কিন্তু আমার কাছে ‘মা দিবস’ কোনো এক দিনের অনুভূতি নয়, এটা প্রতিদিনের শ্বাস, প্রতিদিনের বেঁচে থাকা, প্রতিদিনের প্রার্থনা। আমি যত বড় হচ্ছি, তত বুঝতে শিখছি, একজন মা শুধু সন্তান জন্ম দেন না, তিনি নিজের স্বপ্ন, নিজের ঘুম, নিজের আনন্দ ধীরে ধীরে বিসর্জন দিয়ে একটি মানুষের জীবন গড়ে তোলেন। মায়েরা কখনো ক্লান্ত হন না—এমন না। তারা শুধু ক্লান্তিটাকে লুকিয়ে রাখেন, যেন সন্তানের চোখে কোনো ভয় না জন্মায়। আমার মা সেই মানুষ, যিনি তার জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ বিসর্জন দিয়ে আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। নিজে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে থেকেও আমাদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, আমাদের দুই ভাইয়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। নিজের কষ্টকে হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখে আমাদের সামনে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আমি আজ যা কিছু, আমার প্রতিটি অর্জনের পেছনে আমার মায়ের নীরব কান্না, অগণিত দোয়া আর অসীম ত্যাগ জড়িয়ে আছে। আর আমার বাবা, তিনি পরিবারের সেই বৃক্ষ, যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে আমরা ঝড় থেকে বেঁচে থাকি। একজন বাবা হয়তো খুব কম কথা বলেন, কিন্তু তার নীরবতা ভেতরে ভেতরে হাজার দায়িত্বের গল্প বহন করে। আমার বাবা তার জীবনের সুখ, স্বপ্ন, ইচ্ছেগুলোকে ধীরে ধীরে মুছে দিয়েছেন শুধুমাত্র আমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার জন্য। অনেক রাত আছে, যখন আমরা ঘুমিয়ে পড়েছি নিশ্চিন্তে, কিন্তু বাবা তখনও জেগে থেকেছেন পরিবারের চিন্তায়। এই মানুষটা আমাকে আমি হতে শিখিয়েছেন। জীবন যে কত সুন্দর তা বাবার থেকেই পাওয়া। আব্বা যা করতে পারেনি সরকারি চাকরি করার সুবাদে, তা আমাদের দুই ভাইকে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যেন আমরা ভালো থাকি। আর আমার বুবু…তিনি শুধু আমার বড় বোন নন, তিনি আমার জীবনের আরেকটি আশ্রয়। অনেক সময় মা যেমন নিঃস্বার্থভাবে আগলে রাখেন, ঠিক তেমনভাবেই তিনি আমাকে আগলে রেখেছেন। জীবনের কঠিন সময়ে তার সাহস, স্নেহ আর ভালোবাসা আমাকে অনেকবার ভেঙে পড়া থেকে বাঁচিয়েছে। একজন বড় বোন অনেক সময় নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখেন, শুধু ছোট ভাইবোনদের হাসিমুখ দেখার জন্য। আজ মা দিবসে আমি শুধু আমার মায়ের প্রতি নয়, আমার বাবা ও বুবু মায়ের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ পরিবার শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, এটা ত্যাগের নাম, নীরব ভালোবাসার নাম, একে অপরের জন্য নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার নাম। এই পৃথিবীতে আমরা প্রায়ই সফলতার গল্প বলি, কিন্তু সেই সফলতার পেছনে যে মায়ের চোখের পানি, বাবার ঘাম, আর পরিবারের মানুষের অদৃশ্য ত্যাগ থাকে, সেগুলোর কথা খুব কমই বলা হয়। আজ আমি মাথা নত করে বলি, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ কোনো অর্থ বা খ্যাতি নয়, আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ আমার মা, আমার বাবা, আর আমার বুবু। পৃথিবীর সকল মা-বাবা ও বড় বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা। যাদের ভালোবাসা ছাড়া কোনো মানুষ সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।  লেখক: সংগীতশিল্পী
মায়েরা কখনো ক্লান্ত হন না—এমন না
পথচলার ২৫ বছর / নেমেসিসের বিশেষ আয়োজন—‘এত দিনের পরেও যে’
বাংলাদেশের রক সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড নেমেসিস উদযাপন করতে যাচ্ছে তাদের সংগীতযাত্রার ২৫ বছর। আন্ডারগ্রাউন্ড মিউজিক সার্কিট থেকে শুরু করে দেশের মূলধারার রক সংগীতের শীর্ষ সারিতে উঠে আসা এই ব্যান্ডের দীর্ঘ পথচলাকে ঘিরে আগামী ২২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ আয়োজন— ‘এত দিনের পরেও যে’। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা-এর উইন্টার গার্ডেনে। যার টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ‘গেটসেটরক’ ওয়েবসাইটে। স্বপ্ন থেকে শুরু ১৯৯৯ সালের গ্রীষ্মে কয়েকজন তরুণের স্বপ্ন থেকেই শুরু হয় নেমেসিসের যাত্রা। সদ্য স্কুলজীবন শেষ করা সাবের ও রিশাদ একত্র করেন মাহের খান ও ইয়াওয়ার মেহবুবকে। পরে মাহের তার ভাই সাবিনকে নিয়ে গড়ে তোলেন তিন সদস্যের একটি ব্যান্ড। নতুন বছরের এক ছাদ পার্টিতে প্রথমবার একসঙ্গে পারফর্ম করার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাদের সংগীতযাত্রা। সেখানেই পরিচয় হয় জোহাদের সঙ্গে, যিনি পরে ব্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন। ২০০০ সালের শুরুতে সাবিন ব্যান্ড ছেড়ে দিলে ইয়াওয়ার নিয়ে আসেন নন্দিতো ও রাতুলকে। সেই সময় থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ‘নেমেসিস’ নামে। শুরুতে তারা মূলত কভার গান পরিবেশন করলেও ধীরে ধীরে নিজেদের মৌলিক সংগীত নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০০৩ সালে মিক্সড কম্পাইলেশন অ্যালবাম ‘আগন্তুক টু’-এ প্রকাশিত হয় নেমেসিসের প্রথম সিঙ্গেল ‘অবচেতন’। গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললে ব্যান্ডটি তাদের প্রথম অ্যালবামের জন্য জি-সিরিজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম অ্যালবাম ‘অন্বেষণ’। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় জনপ্রিয় গান ‘ধূসর ভাবনা’, ‘জয়ধ্বনি’ ও ‘মৃত্যুছায়া’; যা রেডিও ফুর্তির টপ চার্টে জায়গা করে নেয়। এই সময় থেকেই নেমেসিস দেশের মূলধারার রক শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। সামাজিক সচেতনতা থেকে মূলধারার সাফল্য সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয় ছিল নেমেসিস। ‘সেই নো টু ড্রাগস’, ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’, ‘স্ট্যান্ড আপ অ্যাগেইনস্ট পোভার্টি’ এবং ‘ভোট ফর সুন্দরবন’-এর মতো সচেতনতামূলক কনসার্টে অংশ নিয়ে তারা তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে। এছাড়াও ব্যান্ডটি অংশ নিয়েছে ‘বাংলালিংক মিউজিক ফেস্টিভ্যাল’সহ অসংখ্য বড় মাপের কনসার্ট ও ট্রিবিউট শোতে। ‘তৃতীয় যাত্রা’ ও নতুন অধ্যায় প্রথম অ্যালবামের ছয় বছর পর, ২০১১ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘তৃতীয় যাত্রা’। অ্যালবামের গান ‘কবে’ প্রকাশের পরই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। একই বছর মুক্তি পায় গানটির মিউজিক ভিডিও। এই অ্যালবাম সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে ‘বেস্ট ব্যান্ড’, ‘বেস্ট সাউন্ডিং অ্যালবাম’ ও ‘বেস্ট মিউজিক ভিডিও’ বিভাগে মনোনয়ন পায়। ২০১৩ সালে নেমেসিস জিতে নেয় সমালোচক পছন্দের ‘বেস্ট ব্যান্ড’ পুরস্কার। পরবর্তী সময়ে ব্যান্ডের সদস্য পরিবর্তন হলেও থেমে থাকেনি তাদের পথচলা। নতুন সদস্যদের নিয়ে নেমেসিস প্রকাশ করে ‘ঘুড়ি’র মতো জনপ্রিয় গান। কঠিন সময় পেরিয়ে ‘গণজোয়ার’ ২০১৭ সালের ১০ মে প্রকাশিত হয় নেমেসিসের তৃতীয় অ্যালবাম ‘গণজোয়ার’। তবে এর পরের বছরই ব্যান্ডটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়, যখন ড্রামার ডিও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ব্যান্ডের কার্যক্রম। পরে জেফরি অভিজিৎ (ওভি) ড্রামার হিসেবে যোগ দিলে নেমেসিস আবার লাইভ পারফরম্যান্সে ফিরে আসে। যদিও ডিও নিয়মিত লাইভে অংশ নেননি, তিনি এখনও রেকর্ডিং ও ব্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যুক্ত আছেন। ভিআইপি: নতুন সময়ের প্রতিচ্ছবি দীর্ঘ আট বছর পর, ২০২৫ সালের ২৩ মে প্রকাশিত হয় নেমেসিসের চতুর্থ স্টুডিও অ্যালবাম ‘ভিআইপি’। ১০ ট্র্যাকের এই অ্যালবামে উঠে এসেছে বৈশ্বিক মহামারির পর সামাজিক বাস্তবতা, ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং সময়ের পরিবর্তনের নানা প্রতিচ্ছবি। অ্যালবাম প্রকাশের আগেই ‘ঘোর’ ও ‘ভাঙা আয়না’ সিঙ্গেল দুটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। অ্যালবাম প্রকাশের পর দেশজুড়ে ট্যুর শুরু করে ব্যান্ডটি এবং নতুন, আরও পরিণত সাউন্ড নিয়ে আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করে বাংলাদেশের রক সংগীতের শীর্ষ সারিতে। বর্তমানে ব্যান্ডের সদস্যরা হলেন— জোহাদ রেজা চৌধুরী — ভোকাল ও গিটার, সুলতান রাফসান খান — লিড গিটার, ইফাজ আবরার রেজা — গিটার, রকিবুন নবী রাতুল — বেজ, জেফরি অভিজিৎ ঘোষ — ড্রামস। ২৫ বছরের উত্তরাধিকার উদযাপন আন্ডারগ্রাউন্ড মঞ্চ থেকে শুরু করে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া নেমেসিস এখন বাংলাদেশের রক সংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাদের গান, সংগ্রাম ও যাত্রা জড়িয়ে আছে হাজারো শ্রোতার স্মৃতির সঙ্গে। সেই দীর্ঘ পথচলার উদযাপনেই আসছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘এত দিনের পরেও যে’।  
নেমেসিসের বিশেষ আয়োজন—‘এত দিনের পরেও যে’
‘সোনা বন্ধের গায়’ নিয়ে আসছেন তানজিল মিসবাহ
ভালোবাসার মানুষের রূপ যেন খাঁটি সোনার মতো উজ্জ্বল। সেই সৌন্দর্যের মায়ায় ডুবে প্রেমিকের হৃদয়ে জন্ম নেয় অদ্ভুত এক আলোড়ন। প্রিয় মানুষের এমন মোহময় সৌন্দর্য ও প্রেমের অনুভূতিকে কেন্দ্র করেই নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন এই সময়ের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী তানজিল মিসবাহ। ‘সোনা বন্ধের গায়’ শিরোনামের এই নতুন গানটির কথা, সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন তানজিল মিসবাহ নিজেই। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন শোভন রায়। ড্যান্স ঘরানার এ গানের ভিডিও নির্মাণ করেছেন হাসান রনি। ভিডিওতে জুটি বেঁধে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেতা সোয়েব আক্তার শান্ত ও অভিনেত্রী অলংকার চৌধুরীকে। এ ছাড়াও বিশেষ উপস্থিতিতে থাকছেন তানজিল মিসবাহ নিজেও। গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন রোহান বিল্লাল। নতুন গান প্রসঙ্গে তানজিল মিসবাহ বলেন, ‘আমি সাধারণত বিরহের গান বেশি করি। এবার পুরোপুরি ভিন্নধর্মী একটি কাজ করেছি। শ্রোতাদের জন্য নাচে-গানে ভরপুর নতুন কিছু উপহার দিতে চেয়েছি। আশা করছি গানটি সবার ভালো লাগবে।’ জানা গেছে, আগামী ১৪ মে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাবে ‘সোনা বন্ধের গায়’ গানের ভিডিও। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মিউজিক প্ল্যাটফর্মেও গানটি উন্মুক্ত করা হবে। গত ঈদুল ফিতরে প্রকাশ পাওয়া তানজিল মিসবাহ’র ‘চাঁদ বদনে’ গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। গানটি ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়েও জায়গা করে নেয়। মাত্র তিন মাসে ১৫ মিলিয়নের বেশি দর্শক-শ্রোতা উপভোগ করেছেন গানটি।  
‘সোনা বন্ধের গায়’ নিয়ে আসছেন তানজিল মিসবাহ
ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে রোমানের সংগীতে কনার গান
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে নতুন গান ‘নান নান নান না’। গানটির কথা ও সুর করেছেন গীতিকার ও সুরকার মাহবুবুল খালিদ। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী দিলশাদ নাহার কনা। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন রোমান রহমান। ‘নান নান নান না’ গানটি প্রকাশিত হয়েছে ‘খালিদ সংগীত’ শিরোনামের সংগীতভিত্তিক ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও গানটি ছড়িয়ে পড়েছে এবং শ্রোতাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হলেও গানটি শুধুই খেলার আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়। এতে ফুটবলকে দেখানো হয়েছে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার প্রতীক হিসেবে। ‘মানি না কালা সাদা, মানি না বর্ণের বাধা’—এমন কথার মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে সাম্য, মানবতা ও বৈষম্যবিরোধী বার্তা। গানের প্রতিটি পঙক্তিতে ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিভেদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রতিবাদ তুলে ধরা হয়েছে। একইসঙ্গে গানের দৃশ্যপটেও রয়েছে বিশ্বজনীনতার ছাপ। মেক্সিকো, কানাডা, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, ফুটবল এমন এক ভাষা যা মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করায়। এখানে ‘দাসের ছেলে আর মালিকের ছেলে’ একই মাঠে একসঙ্গে খেলে—যেখানে ফুটবল মাঠ হয়ে ওঠে বৈশ্বিক মানবতার প্রতীক। মাহবুবুল খালিদ দীর্ঘদিন ধরেই তার গানের মাধ্যমে সমাজের নানা বাস্তবতা তুলে ধরছেন। নির্যাতিত শিশু গৃহকর্মীকে নিয়ে ‘আদুরি’, সীমান্তে নিহত কিশোরীকে ঘিরে ‘ফেলানীরে করল গুলি’ কিংবা আলোচিত ‘মাগুরার ফুল’—প্রতিটি গানেই সময়ের নির্মম সত্য সাহসিকতার সঙ্গে উঠে এসেছে। শুধু দেশীয় প্রেক্ষাপট নয়, ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও তার গান মানবতার পক্ষে কথা বলেছে। সম্প্রতি তার লেখা ও সুরে প্রকাশিত দীর্ঘ সময়ের ‘ঘুম থেরাপি এনথেম’ গানটিও ভিন্নধর্মী উদ্যোগ হিসেবে শ্রোতাদের নজর কাড়ে। সংগীতকে থেরাপি হিসেবে ব্যবহারের সৃজনশীল চিন্তা তার কাজকে আরও স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে।  
ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে রোমানের সংগীতে কনার গান
বিশ্বকাপে ঝড় তুলবেন ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা
বিশ্বকাপে ঝড় তুলবেন ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা
আর মাত্র কয়েকটি দিন। আগামী মাসে বিশ্ব মাতবে ফুটবল উন্মাদনায়। আর সেই উন্মাদনার পারদ আরও উঁচুতে তুলতে ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের লাইনআপে যোগ দিলেন ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসা। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথভাবে এবারের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আয়োজন করতে যাচ্ছে। এবারের আয়োজনে উত্তর, মধ্য ও ক্যারিবিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (কনকাকাফ) ব্ল্যাকপিঙ্কের লিসার পারফর্ম করার কথা ঘোষণা করেছে। আগেই জানানো হয়েছিল, বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে একজন কে-পপ শিল্পী পারফর্ম করবেন। আর সেই একজন হবেন নারী কে-পপ শিল্পী। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবারের বিশ্বকাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের মঞ্চে উঠবেন লিসা। এর আগে বিটিএসের জাংকুক ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অফিসিয়াল সাউন্ডট্র্যাক ‘ড্রিমার্স’ পরিবেশন করেছিলেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সহযোগী ও ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, লিসা আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে একটি পারফরম্যান্স চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। যেহেতু এবারের বিশ্বকাপ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো—এই তিনটি দেশ আয়োজন করবে, তাই উদ্বোধন অনুষ্ঠানকেও তিনটি ভাগে উপস্থাপন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচের আগে ব্ল্যাকপিঙ্ক তারকা লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম মাতাবেন। লিসার পাশাপাশি সেই অনুষ্ঠানে কেটি পেরি, ফিউচার এবং ডিজে স্নেকের মতো শিল্পীরাও পারফর্ম করবেন। কানাডার টরন্টোর অনুষ্ঠানে পারফর্ম করবেন মাইকেল বুলে, অ্যালানিস মরিসেট এবং অ্যালেসিয়া কারা। আর মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে থাকবেন রক ব্যান্ড মানা, আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা এবং তাইলা। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতিটি মঞ্চের জন্য ১৩ মিনিটের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে মেক্সিকোর মঞ্চটি চলবে ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
মায়েরা কখনো ক্লান্ত হন না—এমন না
মায়েরা কখনো ক্লান্ত হন না—এমন না
আজ বিশ্ব মা দিবস, কিন্তু আমার কাছে ‘মা দিবস’ কোনো এক দিনের অনুভূতি নয়, এটা প্রতিদিনের শ্বাস, প্রতিদিনের বেঁচে থাকা, প্রতিদিনের প্রার্থনা। আমি যত বড় হচ্ছি, তত বুঝতে শিখছি, একজন মা শুধু সন্তান জন্ম দেন না, তিনি নিজের স্বপ্ন, নিজের ঘুম, নিজের আনন্দ ধীরে ধীরে বিসর্জন দিয়ে একটি মানুষের জীবন গড়ে তোলেন। মায়েরা কখনো ক্লান্ত হন না—এমন না। তারা শুধু ক্লান্তিটাকে লুকিয়ে রাখেন, যেন সন্তানের চোখে কোনো ভয় না জন্মায়। আমার মা সেই মানুষ, যিনি তার জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দ বিসর্জন দিয়ে আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। নিজে না খেয়ে, না ঘুমিয়ে থেকেও আমাদের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন, আমাদের দুই ভাইয়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। নিজের কষ্টকে হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখে আমাদের সামনে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছেন। আমি আজ যা কিছু, আমার প্রতিটি অর্জনের পেছনে আমার মায়ের নীরব কান্না, অগণিত দোয়া আর অসীম ত্যাগ জড়িয়ে আছে। আর আমার বাবা, তিনি পরিবারের সেই বৃক্ষ, যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে আমরা ঝড় থেকে বেঁচে থাকি। একজন বাবা হয়তো খুব কম কথা বলেন, কিন্তু তার নীরবতা ভেতরে ভেতরে হাজার দায়িত্বের গল্প বহন করে। আমার বাবা তার জীবনের সুখ, স্বপ্ন, ইচ্ছেগুলোকে ধীরে ধীরে মুছে দিয়েছেন শুধুমাত্র আমাদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার জন্য। অনেক রাত আছে, যখন আমরা ঘুমিয়ে পড়েছি নিশ্চিন্তে, কিন্তু বাবা তখনও জেগে থেকেছেন পরিবারের চিন্তায়। এই মানুষটা আমাকে আমি হতে শিখিয়েছেন। জীবন যে কত সুন্দর তা বাবার থেকেই পাওয়া। আব্বা যা করতে পারেনি সরকারি চাকরি করার সুবাদে, তা আমাদের দুই ভাইকে ব্যবস্থা করে দিয়েছেন যেন আমরা ভালো থাকি। আর আমার বুবু…তিনি শুধু আমার বড় বোন নন, তিনি আমার জীবনের আরেকটি আশ্রয়। অনেক সময় মা যেমন নিঃস্বার্থভাবে আগলে রাখেন, ঠিক তেমনভাবেই তিনি আমাকে আগলে রেখেছেন। জীবনের কঠিন সময়ে তার সাহস, স্নেহ আর ভালোবাসা আমাকে অনেকবার ভেঙে পড়া থেকে বাঁচিয়েছে। একজন বড় বোন অনেক সময় নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখেন, শুধু ছোট ভাইবোনদের হাসিমুখ দেখার জন্য। আজ মা দিবসে আমি শুধু আমার মায়ের প্রতি নয়, আমার বাবা ও বুবু মায়ের প্রতিও গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ পরিবার শুধু রক্তের সম্পর্ক নয়, এটা ত্যাগের নাম, নীরব ভালোবাসার নাম, একে অপরের জন্য নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার নাম। এই পৃথিবীতে আমরা প্রায়ই সফলতার গল্প বলি, কিন্তু সেই সফলতার পেছনে যে মায়ের চোখের পানি, বাবার ঘাম, আর পরিবারের মানুষের অদৃশ্য ত্যাগ থাকে, সেগুলোর কথা খুব কমই বলা হয়। আজ আমি মাথা নত করে বলি, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ কোনো অর্থ বা খ্যাতি নয়, আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ আমার মা, আমার বাবা, আর আমার বুবু। পৃথিবীর সকল মা-বাবা ও বড় বোনদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও অফুরন্ত ভালোবাসা। যাদের ভালোবাসা ছাড়া কোনো মানুষ সত্যিকারের মানুষ হয়ে উঠতে পারে না।  লেখক: সংগীতশিল্পী
নেমেসিসের বিশেষ আয়োজন—‘এত দিনের পরেও যে’
পথচলার ২৫ বছর / নেমেসিসের বিশেষ আয়োজন—‘এত দিনের পরেও যে’
বাংলাদেশের রক সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড নেমেসিস উদযাপন করতে যাচ্ছে তাদের সংগীতযাত্রার ২৫ বছর। আন্ডারগ্রাউন্ড মিউজিক সার্কিট থেকে শুরু করে দেশের মূলধারার রক সংগীতের শীর্ষ সারিতে উঠে আসা এই ব্যান্ডের দীর্ঘ পথচলাকে ঘিরে আগামী ২২ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ আয়োজন— ‘এত দিনের পরেও যে’। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা-এর উইন্টার গার্ডেনে। যার টিকিট পাওয়া যাচ্ছে ‘গেটসেটরক’ ওয়েবসাইটে। স্বপ্ন থেকে শুরু ১৯৯৯ সালের গ্রীষ্মে কয়েকজন তরুণের স্বপ্ন থেকেই শুরু হয় নেমেসিসের যাত্রা। সদ্য স্কুলজীবন শেষ করা সাবের ও রিশাদ একত্র করেন মাহের খান ও ইয়াওয়ার মেহবুবকে। পরে মাহের তার ভাই সাবিনকে নিয়ে গড়ে তোলেন তিন সদস্যের একটি ব্যান্ড। নতুন বছরের এক ছাদ পার্টিতে প্রথমবার একসঙ্গে পারফর্ম করার মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাদের সংগীতযাত্রা। সেখানেই পরিচয় হয় জোহাদের সঙ্গে, যিনি পরে ব্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন। ২০০০ সালের শুরুতে সাবিন ব্যান্ড ছেড়ে দিলে ইয়াওয়ার নিয়ে আসেন নন্দিতো ও রাতুলকে। সেই সময় থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় ‘নেমেসিস’ নামে। শুরুতে তারা মূলত কভার গান পরিবেশন করলেও ধীরে ধীরে নিজেদের মৌলিক সংগীত নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০০৩ সালে মিক্সড কম্পাইলেশন অ্যালবাম ‘আগন্তুক টু’-এ প্রকাশিত হয় নেমেসিসের প্রথম সিঙ্গেল ‘অবচেতন’। গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেললে ব্যান্ডটি তাদের প্রথম অ্যালবামের জন্য জি-সিরিজের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০০৫ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম অ্যালবাম ‘অন্বেষণ’। এরপর একে একে প্রকাশিত হয় জনপ্রিয় গান ‘ধূসর ভাবনা’, ‘জয়ধ্বনি’ ও ‘মৃত্যুছায়া’; যা রেডিও ফুর্তির টপ চার্টে জায়গা করে নেয়। এই সময় থেকেই নেমেসিস দেশের মূলধারার রক শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। সামাজিক সচেতনতা থেকে মূলধারার সাফল্য সংগীতের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগেও সক্রিয় ছিল নেমেসিস। ‘সেই নো টু ড্রাগস’, ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’, ‘স্ট্যান্ড আপ অ্যাগেইনস্ট পোভার্টি’ এবং ‘ভোট ফর সুন্দরবন’-এর মতো সচেতনতামূলক কনসার্টে অংশ নিয়ে তারা তরুণদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে। এছাড়াও ব্যান্ডটি অংশ নিয়েছে ‘বাংলালিংক মিউজিক ফেস্টিভ্যাল’সহ অসংখ্য বড় মাপের কনসার্ট ও ট্রিবিউট শোতে। ‘তৃতীয় যাত্রা’ ও নতুন অধ্যায় প্রথম অ্যালবামের ছয় বছর পর, ২০১১ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘তৃতীয় যাত্রা’। অ্যালবামের গান ‘কবে’ প্রকাশের পরই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। একই বছর মুক্তি পায় গানটির মিউজিক ভিডিও। এই অ্যালবাম সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে ‘বেস্ট ব্যান্ড’, ‘বেস্ট সাউন্ডিং অ্যালবাম’ ও ‘বেস্ট মিউজিক ভিডিও’ বিভাগে মনোনয়ন পায়। ২০১৩ সালে নেমেসিস জিতে নেয় সমালোচক পছন্দের ‘বেস্ট ব্যান্ড’ পুরস্কার। পরবর্তী সময়ে ব্যান্ডের সদস্য পরিবর্তন হলেও থেমে থাকেনি তাদের পথচলা। নতুন সদস্যদের নিয়ে নেমেসিস প্রকাশ করে ‘ঘুড়ি’র মতো জনপ্রিয় গান। কঠিন সময় পেরিয়ে ‘গণজোয়ার’ ২০১৭ সালের ১০ মে প্রকাশিত হয় নেমেসিসের তৃতীয় অ্যালবাম ‘গণজোয়ার’। তবে এর পরের বছরই ব্যান্ডটি কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়, যখন ড্রামার ডিও হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় ব্যান্ডের কার্যক্রম। পরে জেফরি অভিজিৎ (ওভি) ড্রামার হিসেবে যোগ দিলে নেমেসিস আবার লাইভ পারফরম্যান্সে ফিরে আসে। যদিও ডিও নিয়মিত লাইভে অংশ নেননি, তিনি এখনও রেকর্ডিং ও ব্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে যুক্ত আছেন। ভিআইপি: নতুন সময়ের প্রতিচ্ছবি দীর্ঘ আট বছর পর, ২০২৫ সালের ২৩ মে প্রকাশিত হয় নেমেসিসের চতুর্থ স্টুডিও অ্যালবাম ‘ভিআইপি’। ১০ ট্র্যাকের এই অ্যালবামে উঠে এসেছে বৈশ্বিক মহামারির পর সামাজিক বাস্তবতা, ব্যক্তিগত উপলব্ধি এবং সময়ের পরিবর্তনের নানা প্রতিচ্ছবি। অ্যালবাম প্রকাশের আগেই ‘ঘোর’ ও ‘ভাঙা আয়না’ সিঙ্গেল দুটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। অ্যালবাম প্রকাশের পর দেশজুড়ে ট্যুর শুরু করে ব্যান্ডটি এবং নতুন, আরও পরিণত সাউন্ড নিয়ে আবারও নিজেদের অবস্থান শক্ত করে বাংলাদেশের রক সংগীতের শীর্ষ সারিতে। বর্তমানে ব্যান্ডের সদস্যরা হলেন— জোহাদ রেজা চৌধুরী — ভোকাল ও গিটার, সুলতান রাফসান খান — লিড গিটার, ইফাজ আবরার রেজা — গিটার, রকিবুন নবী রাতুল — বেজ, জেফরি অভিজিৎ ঘোষ — ড্রামস। ২৫ বছরের উত্তরাধিকার উদযাপন আন্ডারগ্রাউন্ড মঞ্চ থেকে শুরু করে প্রজন্মের পর প্রজন্মের শ্রোতার হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া নেমেসিস এখন বাংলাদেশের রক সংগীতের এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। তাদের গান, সংগ্রাম ও যাত্রা জড়িয়ে আছে হাজারো শ্রোতার স্মৃতির সঙ্গে। সেই দীর্ঘ পথচলার উদযাপনেই আসছে বিশেষ অনুষ্ঠান ‘এত দিনের পরেও যে’।  
‘সোনা বন্ধের গায়’ নিয়ে আসছেন তানজিল মিসবাহ
‘সোনা বন্ধের গায়’ নিয়ে আসছেন তানজিল মিসবাহ
ভালোবাসার মানুষের রূপ যেন খাঁটি সোনার মতো উজ্জ্বল। সেই সৌন্দর্যের মায়ায় ডুবে প্রেমিকের হৃদয়ে জন্ম নেয় অদ্ভুত এক আলোড়ন। প্রিয় মানুষের এমন মোহময় সৌন্দর্য ও প্রেমের অনুভূতিকে কেন্দ্র করেই নতুন গান নিয়ে হাজির হচ্ছেন এই সময়ের আলোচিত কণ্ঠশিল্পী তানজিল মিসবাহ। ‘সোনা বন্ধের গায়’ শিরোনামের এই নতুন গানটির কথা, সুর ও কণ্ঠ দিয়েছেন তানজিল মিসবাহ নিজেই। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন শোভন রায়। ড্যান্স ঘরানার এ গানের ভিডিও নির্মাণ করেছেন হাসান রনি। ভিডিওতে জুটি বেঁধে দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেতা সোয়েব আক্তার শান্ত ও অভিনেত্রী অলংকার চৌধুরীকে। এ ছাড়াও বিশেষ উপস্থিতিতে থাকছেন তানজিল মিসবাহ নিজেও। গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন রোহান বিল্লাল। নতুন গান প্রসঙ্গে তানজিল মিসবাহ বলেন, ‘আমি সাধারণত বিরহের গান বেশি করি। এবার পুরোপুরি ভিন্নধর্মী একটি কাজ করেছি। শ্রোতাদের জন্য নাচে-গানে ভরপুর নতুন কিছু উপহার দিতে চেয়েছি। আশা করছি গানটি সবার ভালো লাগবে।’ জানা গেছে, আগামী ১৪ মে ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ পাবে ‘সোনা বন্ধের গায়’ গানের ভিডিও। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মিউজিক প্ল্যাটফর্মেও গানটি উন্মুক্ত করা হবে। গত ঈদুল ফিতরে প্রকাশ পাওয়া তানজিল মিসবাহ’র ‘চাঁদ বদনে’ গানটি শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। গানটি ইউটিউব ট্রেন্ডিংয়েও জায়গা করে নেয়। মাত্র তিন মাসে ১৫ মিলিয়নের বেশি দর্শক-শ্রোতা উপভোগ করেছেন গানটি।