ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে রোববার (১২ এপ্রিল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পাড়ি জমিয়েছেন অনন্তলোকে। গায়িকার মৃত্যুতে সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন।
সাবিনা ইয়াসমিন তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে আর নেই, এটি ভাবতেই পারছি না। তাকে সেই ছোটবেলা থেকে চিনতাম। সামনাসামনি দুবার দেখার সুযোগ হয়েছিল, যা এখনও আমার মনে দাগ কেটে আছে। কলকাতায় ‘অন্যায় অবিচার’ সিনেমার গানের রেকর্ডিংয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে তিনি আমার গান শুনে এত প্রশংসা করেছিলেন যে, আমি লজ্জা পেয়েছিলাম। স্টুডিওতে থাকা বরেণ্য সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণকে তিনি বলেছিলেন, সাবিনা ইয়াসমিন অনেক ভালো গেয়েছে।
এ গায়িকা আরও বলেন, কাজটিতে কিশোর কুমারের সঙ্গে একটি দ্বৈত গান এবং একটি একক গান করেছিলাম। হিন্দি ও বাংলা দুই ভাষাতেই কাজ করেছি। তার মতো এত ভালো মানুষ খুব কম দেখেছি আমি। এত বড় শিল্পী হয়েও ছিলেন একেবারে মাটির মানুষ, যা তার সন্নিধ্যে না এলে বোঝা সম্ভব নয়।
সাবিনা ইয়াসমিন রাজধানী ঢাকায় আশা ভোসলের সঙ্গে আরেকটি স্মরণীয় সাক্ষাতের কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, একবার ঢাকায় এসেছিলেন। তখন তৎকালীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আমি তার গান শুনতে গিয়েছিলাম। সামনে বসে গানগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। পরে পেছনের মঞ্চে তার সঙ্গে দেখা হলে বললেন―তোমাদের গান খুব শোনার সুযোগ পাই না, কিন্তু কিছু গান শুনেছি, ভালো লেগেছে। তোমার কিছু গান শ্রোতার মুখেও শোনা যায়। তিনি আমার প্রশংসা করে যাচ্ছিলেন। আমি মনে করি, এত প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য নই আমি।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোসলে। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে আগের দিন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
যুগের পর যুগ আশা ভোসলের কণ্ঠ থেকে ধ্বনিত হয়েছে মনোমুগ্ধকর সব গান। মাত্র ১০ বছর বয়সে কিংবদন্তি শিল্পী বড় বোন লতা মুঙ্গেশকরের সঙ্গে শুরু হয় তার সংগীতে পথচলা। সেই থেকে তিনি গেয়ে চলেছেন অবিরাম। ছয় যুগেরও বেশি সময় তিনি হিন্দি, উর্দু, বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন। বহুমুখী প্রতিভার কারণে গণমাধ্যমে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী সংগীতশিল্পী হিসেবে গণ্য করা হয়।



