ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
নির্বাচন সর্বশেষ
Live Icon ●LIVE

কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ করতে চান শিক্ষামন্ত্রী

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক

  ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৩
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি : সংগৃহীত

কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ করার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘দেশে-বিদেশে সবকিছুর লাইসেন্স ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ব্যাঙের ছাতার মতো কোচিং সেন্টার খুলবেন, এগুলো কি আইনের আওতায় আসবে না মনে করেন? সব আস্তে আস্তে হবে।’

পরিবর্তন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে কুমিল্লা অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা, প্রতিটি কেন্দ্র সচিব ও সংশ্লিষ্ট অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তিনি বলেন, ‘চিহ্নিত করতে হবে কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে দুর্বল। সেভাবে শিক্ষকদের ব্যবস্থা নিতে হবে। এভাবে কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ করতে হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে শিক্ষায় দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা অনেক কাজ করেছি। কিন্তু স্বপ্ন একটি, তারেক রহমানের আগামীর বাংলাদেশ গড়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর দশটা মন্ত্রণালয়ের মতো না। এখানে যারা কাজ করছেন তারা সবাই সদকায়ে জারিয়াহ পাবেন।’

শিক্ষকদের উদ্দেশে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আপনারা যদি সত্যিকার অর্থে ছাত্রদের লেখাপড়া শেখান তাহলে সদকায়ে জারিয়া পাবেন। আমি বলেছিলাম শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমার ইবাদতখানা। এখানে আপনি অজু ছাড়া ঢুকতে পারবেন না। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে থেকে অসৎ কাজ করা যায় না। এই মন্ত্রণালয়কে আমি পবিত্র করেছিলাম। সেখানে আপনারা কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা আবার না জিজ্ঞেস করেন শিক্ষাব্যবস্থায় ধস নামবে কি না? তাই সবাইকে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিগত বছরগুলোর সঙ্গে মেলাতে হবে, জানতে হবে। জেন-জিরা আমাদের সত্য কথা বলতে শিখিয়েছে, তাদের কমিটমেন্ট থাকতে হবে শিক্ষকদের সহায়তা করবেন।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নকলে সহায়তা করেছিলেন শিক্ষকরা। আবার ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালে আমি নকলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলাম। পরে আমরা সরে গেলাম, আবার সেই একই অবস্থা। তার মানে যেভাবে সরকার চায়, আপনারা সেভাবে কাজ করবেন। এবার আমরা এসেছি, আমরা নকল চাই না।’

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করলেই চলবে না, বরং তাদের ডিজিটাল লিটারেসির (সাক্ষরতা) পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।  তিনি বলেন, তরুণদের মনোজগতে নৈতিকতার মজবুত ভিত্তি না থাকলে মেধা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর ড্যাফোডিল টাওয়ার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ দর্শন বাস্তবায়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার ও শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমাজ ও অর্থনীতি দ্রুত ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত সংযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য—সবই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। তবে দেশের অনেক কাঠামো এখনও সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রকে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল চরিত্রে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়ক কনটেন্ট প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির যদি নৈতিক মানদণ্ড ঠিক না থাকে, তবে তার পরিণতি ভালো হয় না।  তিনি বলেন, জন্মগতভাবে মানুষের মধ্যে যে পাশবিক প্রবৃত্তি থাকে, তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য শৈশব থেকেই সুকুমার বৃত্তির চর্চা প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিকুলামে এ ধরনের নৈতিক শিক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা ছোটবেলা থেকেই একটি উন্নত মনস্তত্ত্ব নিয়ে বড় হতে পারে। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, অতীতে দেশে এমন এক দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি ছিল যেখানে ভালো কোনো উদ্যোগ বা সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরিবেশ ছিল না। বর্তমানে সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে এবং মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নৈতিক সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।  অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা প্রফেসর মো. মঈনউদ্দিন খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। সেমিনার শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন।
তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
পদত্যাগ করেছেন ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ। রোববার (১০ মে) উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। সাইফুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সবকিছু একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় এসেছে। এবার আমি আমার পরিবারকে একটু সময় দিতে চাই। তাই প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। ইতোমধ্যে পদত্যাগ জমা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তিনি গত ২০ মাস প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে পারা তার জন্য সম্মানের ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের পর পরবর্তী প্রক্টর হিসেবে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ।
পদত্যাগ করেছেন ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ
উচ্চশিক্ষাকে রপ্তানিযোগ্য ‘সফট পাওয়ার’ করার আহ্বান / আফ্রিকায় অফশোর ক্যাম্পাস স্থাপনে ড. আসিফ মিজানের গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি শক্তিশালী ‘সফট পাওয়ার’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সোমালিয়াসহ আফ্রিকার উদীয়মান শিক্ষা বাজারে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অফশোর’ বা আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা-কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব। এই ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত সুযোগকে কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক সংহতি প্রদানের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সোমালিয়ার মোগাদিসুস্থ দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি) আয়োজিত ‘৪র্থ এইউবিআইসি-২০২৬ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স’ -এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  ‘গুড গভর্ন্যান্স, জাস্টিস অ্যান্ড এথিক্যাল লিডারশিপ’ শীর্ষক এই উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা ভাইসচ্যান্সেলর এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবুল হাসান এম সাদেক। ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের সেতুবন্ধন ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রা প্রফেসর ড. আসিফ মিজান তার বক্তব্যে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, সোমালিয়ায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী ও পেশাজীবীদের অনবদ্য অবদানের ফলে সেখানে বাংলাদেশের প্রতি একটি গভীর আস্থা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদ্যমান। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আফ্রিকার শিক্ষা-প্রশাসনে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব প্রদান আমার জন্য গৌরবের। আমি এই বিদ্যমান সুসম্পর্ককে দুই দেশের মধ্যে ‘অ্যাকাডেমিক সিনার্জি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি হিসেবে রূপান্তরের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত তিনি জানান, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম ও মানদণ্ডের প্রতি সোমালিয়ার শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। এই চাহিদা পূরণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি ‘দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের’ মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব উভয় দেশের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং ‘আন্তঃসীমান্ত শিক্ষাগত মিথস্ক্রিয়া’ নিশ্চিত করবে। নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা ও সফট পাওয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. মিজান আরও বলেন, সোমালিয়ার অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার বিপুল চাহিদাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সেখানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি)-র একটি অফশোর ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। সরকার যদি যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক দ্রুত অনুমতি প্রদান করে, তবে এটি হবে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মেধা ও শিক্ষাগত শ্রেষ্ঠত্ব রপ্তানির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর মাধ্যমে আফ্রিকান মহাদেশে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ ও কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত হবে। অনুষ্ঠানে কীনোট স্পিকার প্রফেসর ড. আবুল হাসান এম সাদেকের দূরদর্শী ও নৈতিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। বক্তারা উল্লেখ করেন, তার প্রবর্তিত নৈতিক শিক্ষার আদর্শ শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশি স্কলারদের সফলতার পথ প্রশস্ত করেছে। সেমিনারে দেশ-বিদেশের বরেণ্য গবেষক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সুশাসন, নৈতিক নেতৃত্ব এবং আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ রূপান্তরের আশাবাদের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সটির সমাপ্তি ঘটে।
আফ্রিকায় অফশোর ক্যাম্পাস স্থাপনে ড. আসিফ মিজানের গুরুত্বারোপ
শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ (সিসিএস) আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশের রাউন্ড টেবিল অন গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।  শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করে গড়ে তোলা। সেই সেতুর মূল উপকরণ কী হবে, সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। এই সেতুবন্ধনের মূল উপকরণ কংক্রিট, সিমেন্ট, বা রড নয়। বরং এই সেতুবন্ধনের মূল উপাদান হবে শিক্ষা।  বাংলাদেশ ও চীনের সুসম্পর্কের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ সম্পর্ক বিনির্মাণে জোর দিয়েছিলেন। এ সম্পর্ক আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে চীন আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আমরা যদি এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারি তাহলে দেশকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে সক্ষম হব। এ জন্য আমাদের কারিগরি সেক্টরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও বৈশ্বিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা ও কারিগরি খাতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সিসিএস অ্যাকাডেমিক বোর্ডের চেয়ারম্যান চেন ডংশিয়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক আ স ম রিদওয়ানুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী
দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও লম্বা ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী স্কুল ও কলেজে টানা ১৬ দিন এবং মাদ্রাসায় ২১ দিনের ছুটি থাকছে। এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সাত দিনের ছুটি নির্ধারণ করেছে সরকার। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে, যা চলবে ৪ জুন পর্যন্ত। ছুটির আগে ও পরে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টানা ১৬ দিনের ছুটি মিলবে।  যদিও কলেজ পর্যায়ে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। তবে ঈদুল আজহার মূল ছুটি ১২ দিনের হলেও সাপ্তাহিক বন্ধ যুক্ত হয়ে কলেজ শিক্ষার্থীদের মোট ছুটি হবে ১৬ দিন। অন্যদিকে মাদ্রাসাগুলোয় গ্রীষ্মকালীন অবকাশ ও ঈদের ছুটি শুরু হবে ২৪ মে থেকে, আর শেষ হবে আগামী ১১ জুন। এর সঙ্গে আগের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা টানা ২১ দিনের ছুটি পাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিন সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে। তবে সরকারি অফিসের ছুটিতে পরিবর্তন এলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির সিদ্ধান্ত হয়।
দীর্ঘ ছুটিতে যাচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির যুগে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কেবল প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ করলেই চলবে না, বরং তাদের ডিজিটাল লিটারেসির (সাক্ষরতা) পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।  তিনি বলেন, তরুণদের মনোজগতে নৈতিকতার মজবুত ভিত্তি না থাকলে মেধা ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রোববার (১০ মে) রাজধানীর ড্যাফোডিল টাওয়ার মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ দর্শন বাস্তবায়নে নৈতিক শিক্ষার ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার ও শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমাজ ও অর্থনীতি দ্রুত ডিজিটালাইজড হয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগত সংযোগ থেকে শুরু করে ব্যবসা বাণিজ্য—সবই এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর। তবে দেশের অনেক কাঠামো এখনও সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। তিনি বলেন, আমাদের রাষ্ট্রকে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল চরিত্রে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণদের মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়ক কনটেন্ট প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, একজন রাষ্ট্রনায়ক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তির যদি নৈতিক মানদণ্ড ঠিক না থাকে, তবে তার পরিণতি ভালো হয় না।  তিনি বলেন, জন্মগতভাবে মানুষের মধ্যে যে পাশবিক প্রবৃত্তি থাকে, তাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য শৈশব থেকেই সুকুমার বৃত্তির চর্চা প্রয়োজন। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কারিকুলামে এ ধরনের নৈতিক শিক্ষার প্রতিফলন থাকতে হবে যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা ছোটবেলা থেকেই একটি উন্নত মনস্তত্ত্ব নিয়ে বড় হতে পারে। জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, অতীতে দেশে এমন এক দুর্বৃত্তায়নের সংস্কৃতি ছিল যেখানে ভালো কোনো উদ্যোগ বা সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরিবেশ ছিল না। বর্তমানে সেই রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি থেকে দেশ মুক্ত হয়েছে এবং মুক্ত আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি নৈতিক সমাজ গঠনে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল লতিফ মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।  অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা প্রফেসর মো. মঈনউদ্দিন খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। সেমিনার শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন।
পদত্যাগ করেছেন ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ
পদত্যাগ করেছেন ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ। রোববার (১০ মে) উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। সাইফুদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সবকিছু একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় এসেছে। এবার আমি আমার পরিবারকে একটু সময় দিতে চাই। তাই প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। ইতোমধ্যে পদত্যাগ জমা দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তিনি গত ২০ মাস প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে পারা তার জন্য সম্মানের ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের পর পরবর্তী প্রক্টর হিসেবে কে দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ।
আফ্রিকায় অফশোর ক্যাম্পাস স্থাপনে ড. আসিফ মিজানের গুরুত্বারোপ
উচ্চশিক্ষাকে রপ্তানিযোগ্য ‘সফট পাওয়ার’ করার আহ্বান / আফ্রিকায় অফশোর ক্যাম্পাস স্থাপনে ড. আসিফ মিজানের গুরুত্বারোপ
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে একটি শক্তিশালী ‘সফট পাওয়ার’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার এক অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সোমালিয়াসহ আফ্রিকার উদীয়মান শিক্ষা বাজারে বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অফশোর’ বা আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষা-কূটনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব। এই ঐতিহাসিক ভূ-রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত সুযোগকে কাজে লাগাতে সরকারের প্রতি দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক সংহতি প্রদানের উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন সোমালিয়ার মোগাদিসুস্থ দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রখ্যাত বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আসিফ মিজান। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি) আয়োজিত ‘৪র্থ এইউবিআইসি-২০২৬ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স’ -এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  ‘গুড গভর্ন্যান্স, জাস্টিস অ্যান্ড এথিক্যাল লিডারশিপ’ শীর্ষক এই উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সম্মানিত সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিষ্ঠাতা ভাইসচ্যান্সেলর এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আবুল হাসান এম সাদেক। ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের সেতুবন্ধন ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রা প্রফেসর ড. আসিফ মিজান তার বক্তব্যে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, সোমালিয়ায় বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনী ও পেশাজীবীদের অনবদ্য অবদানের ফলে সেখানে বাংলাদেশের প্রতি একটি গভীর আস্থা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিদ্যমান। একজন বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে আফ্রিকার শিক্ষা-প্রশাসনে একটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব প্রদান আমার জন্য গৌরবের। আমি এই বিদ্যমান সুসম্পর্ককে দুই দেশের মধ্যে ‘অ্যাকাডেমিক সিনার্জি’ বা প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি হিসেবে রূপান্তরের নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা সহযোগিতার নতুন দিগন্ত তিনি জানান, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার কারিকুলাম ও মানদণ্ডের প্রতি সোমালিয়ার শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। এই চাহিদা পূরণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সম্প্রতি ‘দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং ‘এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের’ মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব উভয় দেশের মধ্যে জ্ঞান বিনিময়, যৌথ গবেষণা এবং ‘আন্তঃসীমান্ত শিক্ষাগত মিথস্ক্রিয়া’ নিশ্চিত করবে। নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজনীয়তা ও সফট পাওয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ড. মিজান আরও বলেন, সোমালিয়ার অ্যাকাডেমিক অঙ্গনে বাংলাদেশি শিক্ষার বিপুল চাহিদাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সেখানে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এইউবি)-র একটি অফশোর ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি। সরকার যদি যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাইপূর্বক দ্রুত অনুমতি প্রদান করে, তবে এটি হবে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের মেধা ও শিক্ষাগত শ্রেষ্ঠত্ব রপ্তানির এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। এর মাধ্যমে আফ্রিকান মহাদেশে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ ও কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত হবে। অনুষ্ঠানে কীনোট স্পিকার প্রফেসর ড. আবুল হাসান এম সাদেকের দূরদর্শী ও নৈতিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। বক্তারা উল্লেখ করেন, তার প্রবর্তিত নৈতিক শিক্ষার আদর্শ শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশি স্কলারদের সফলতার পথ প্রশস্ত করেছে। সেমিনারে দেশ-বিদেশের বরেণ্য গবেষক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সুশাসন, নৈতিক নেতৃত্ব এবং আন্তঃসীমান্ত শিক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ রূপান্তরের আশাবাদের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সটির সমাপ্তি ঘটে।
শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষাই হবে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের সেতুবন্ধন। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ (সিসিএস) আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশের রাউন্ড টেবিল অন গভর্নেন্স এক্সপেরিয়েন্স এক্সচেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।  শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সেতুবন্ধন আরও সুদৃঢ় করে গড়ে তোলা। সেই সেতুর মূল উপকরণ কী হবে, সেটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। এই সেতুবন্ধনের মূল উপকরণ কংক্রিট, সিমেন্ট, বা রড নয়। বরং এই সেতুবন্ধনের মূল উপাদান হবে শিক্ষা।  বাংলাদেশ ও চীনের সুসম্পর্কের বিষয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ সম্পর্ক বিনির্মাণে জোর দিয়েছিলেন। এ সম্পর্ক আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে চীন আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আমরা যদি এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে পারি তাহলে দেশকে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে সক্ষম হব। এ জন্য আমাদের কারিগরি সেক্টরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের বর্তমান প্রজন্মকে দক্ষ ও বৈশ্বিক মানের মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা ও কারিগরি খাতে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, সিসিএস অ্যাকাডেমিক বোর্ডের চেয়ারম্যান চেন ডংশিয়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মহাপরিচালক আ স ম রিদওয়ানুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।