চট্টগ্রামের তিন হাসপাতালে হাম ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে মোট ৩২ শিশু ভর্তি আছে। যাদের মধ্যে ছয়জন আইসিইউতে। এ ছাড়া তিন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে হাম ও নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হওয়া পাঁচ শিশু মারা গেছে।
চিকিৎসকরা এসব শিশুকে ক্লিনিক্যালি হামজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বললেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, তাদের মধ্যে মাত্র দুজন হামে আক্রান্ত ছিল, বাকিরা নিউমোনিয়ায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের জটিলতা নিয়ে শিশু ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে হাম ও হামজনিত নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে বর্তমানে ১৮ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৫ মাস বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালটিতে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত পুরোনো কর্নারটিকে এখন হাম কর্নার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে দুই শিশু এবং চট্টগ্রামের বেসরকারি মা ও শিশু হাসপাতালে আইসিইউতে ৮ শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪ জন। বেসরকারি দুই হাসপাতালে গত এক সপ্তাহে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, পিসিভি টিকা শিশুকে অনেক ধরনের মারাত্মক নিউমোনিয়া থেকে বাঁচালেও হামের ভাইরাসের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না। তাই যদি শিশু হামে আক্রান্ত হয়, তবে তার ফুসফুসে জটিলতা বা নিউমোনিয়া হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়ে যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হামের কারণে যত শিশুর মৃত্যু হয়, তার একটি বড় অংশের পেছনে দায়ী থাকে এই শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা বা নিউমোনিয়া।
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোখসানা বলেন, এই শিশুদের কেউ হামের টিকা পায়নি। তাদের বয়স ৫ থেকে ১৪ মাসের মধ্যে। ভর্তি হওয়ার প্রধান কারণ ছিল নিউমোনিয়া, কিছু ক্ষেত্রে ডায়রিয়া বা ইউটিআই। ক্লিনিক্যালি তাদের মধ্যে হামজনিত নিউমোনিয়ার সব লক্ষ্মণ আছে।
তিনি বলেন, ১০ জনের মধ্যে ৫ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছে, ৪ জনের চিকিৎসা চলমান এবং ১ জন মারা গেছে। এই রোগীদের মধ্যে ৫ জনকে পিআইসিইউ সাপোর্ট লেগেছে, আর বাকি রোগীদের পেডিয়াট্রিক আইসোলেশন ব্লকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মিশু তালুকদার বলেন, ৬ শয্যার আইসিইউ ও ৬ শয্যার নরমাল বেডের আলাদা ইউনিট করা হয়েছে হামজনিত নিউমোনিয়ায় আক্রান্তদের জন্য। এই মুহূর্তে আমাদের হাসপাতালের ওই ইউনিটে ৮ শিশু ভর্তি আছে। এদের ৬ জন আইসিইউতে। এখন পর্যন্ত তিনজন মারা গেছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম কর্নার পরিদর্শন করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সম্প্রতি যে পাঁচজন মারা গেছে, তারা মূলত সেকেন্ডারি নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা গেছে, হামের কারণে নয়। নিউমোনিয়া গুরুতর হলে তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, হাটহাজারী ও বোয়ালখালীতে ইতোমধ্যে দুজনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।




