কুমিল্লায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইতোমধ্যে হাম আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া জেলায় অন্তত ২১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন।
সোমবার (৩০ মার্চ) কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত শিশুদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর অবস্থায় থাকা কয়েকজনকে ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ শিশুর মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হওয়াসহ হামের সাধারণ উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি আশপাশের শিশুদের সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগ জেলায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করেছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাবঞ্চিত শিশুদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
স্থানীয় চিকিৎসক ডা. নাজমুল হাসান বলেন, সময়মতো টিকা না দিলে হামের মতো সংক্রামক রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এজন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির বলেন, আক্রান্ত শিশুদের বেশিরভাগই ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি। তাদের মধ্যে অনেকে টিকাবঞ্চিত অথবা নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করেনি। ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। হাম প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। তাই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কোনো শিশুর জ্বর বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসুন।




