
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ১৫৪ নম্বর বুড়ন গোয়ালপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া ও পিলারে ফাটল দেখা দেওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষকরা। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাশে দোকানঘরে চলছে পাঠদান। এতে উদ্বেগ বেড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ভবনের প্রায় সব পিলারেই বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের বিভিন্ন অংশ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। গত দেড় মাসে অন্তত তিনবার পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।
শনিবার (৯ মে) বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা অসিত কুমার বর্মন। তিনি বলেন, পরিদর্শনের সময় তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর হাতে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এরপর শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে ভয় পাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে। শিক্ষকরা পর্যন্ত অবসর সময়ে ভবনের বাইরে অবস্থান করছেন। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ ও নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে তিনি ৫ মে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিদ্যালয়টির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের আবেদন সুপারিশসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




